বিভাগ: স ফ ল ব্য ক্তি ত্ব

ছয় গ্রেডে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ল

nm shomikপোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরির কয়েকটি গ্রেডে আশানুরূপ মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় পোশাক শিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার গ্রেডগুলোর মজুরি সমন্বয় করেছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আজ রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মজুরি সমন্বয়ের এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিতি ছিলেন। এই বৈঠকে মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন কাঠামোতে চিকিৎসা, যাতায়াত,বাড়িভাড়া বাড়ানো ছাড়াও মূল মজুরির সঙ্গে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামো ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বাড়তি মজুরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী এখন থেকে সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের মজুরি ছিল ১৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৭ হাজার ৫১০ টাকা করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা ছিল।

তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা করা হয়েছিল।

চতুর্থ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ৬ হাজার ৪২০ টাকা এবং ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ৯ হাজার ২৪৫ টাকা করা হয়েছিল।

পঞ্চম গ্রেডে সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা করা হয়েছিল।

ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে তা ছিল ৫ হাজার ৬৭৮। আর ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা করা হয়েছিল ৮ হাজার ৪০৫ টাকা করা হয়েছিল।

আর সপ্তম গ্রেডের মজুরি সব মিলিয়ে গেজেটের মতোই আট হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ছিল ৫৩০০ টাকা।

বৈঠকে সংসদ সদস্য সালাম মুর্শিদী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক বিজিএমইএর প্রাক্তন সভাপতি আতিকুল ইসলাম, হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান একে আজাদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামছুন্নাহার ভূইয়া, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন, ইন্ড্রাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন এবং শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষসহ মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বৈঠকে অংশ নেন।

কৃত্রিম কিডনি তৈরি করলেন বাঙালি বিজ্ঞানী

bd-ptatidin-Sf-04-02-17-03আধুনিক লাইফস্টাইলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে নানা রোগের ডিপো। সেই তালিকায় রয়েছে কিডনি রোগও। বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। এই কিডনি সমস্যার সমাধানে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী। নতুন এই আবিষ্কারটির সফল পরীক্ষাও চালিয়েছেন তিনি। হয়তো ২০১৯ সাল নাগাদ বাজারে আসবে কৃত্রিম কিডনি।

কিছুদিন আগে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম কিডনি তৈরি করে ব্যাপক  হৈচৈ ফেলে দেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী শুভ রায়। তার আবিষ্কৃত এই কৃত্রিম কিডনি আসল অঙ্গের মতোই কাজ করতে সক্ষম। এই কিডনি রক্তের বিষাক্ত পদার্থ ছাঁকা থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ভিটামিন ডি তৈরি, সব কাজই করতে পারবে।

আধুনিক জীবন জেট গতির লাইফস্টাইল। ফাস্টফুডের প্রতি তীব্র ভালোবাসা। পরিণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর রোগের ডিপো। বারোটা বাজছে হার্ট, ফুসফুস, লিভার, কিডনির। ক্রনিক হচ্ছে কিডনির রোগ। ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এসব সমস্যার সমাধানই হলো কিডনি প্রতিস্থাপন। খুব শিগগিরই বাজারে আসছে বিজ্ঞানী শুভ রায়ের এই কৃত্রিম কিডনি। আকারে হাতের মুঠোর সমান। খরচ তুলনায়ও অনেকটাই কম। ২০১৯-এর মধ্যেই বাজারে আসার সম্ভাবনা এই কৃত্রিম কিডনির।

ইতিমধ্যে এই আবিষ্কারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন শুভ রায়। তিনি আশা করছেন, কয়েক বছরের মধ্যে এই কিডনি মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি দরকার। আপাতত সেই অনুমতির অপেক্ষায় আছে শুভ রায়ের দল।

এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে শুভ জানান, ১০ বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন সহকর্মীকে নিয়ে কৃত্রিম কিডনি তৈরির কাজ শুরু করেন তারা। এই প্রকল্প সফল হলে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় কিডনির চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুভর এই আবিষ্কারের খবর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে প্রকাশিত জার্নাল ‘টেকনোলজি রিভিউ’তে ছাপা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে এই খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়।

মনেপ্রাণে বাংলাদেশি শুভ

কিন্তু কিছু গণমাধ্যমে শুভকে ‘ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক’ উল্লেখ করায় খানিকটা চটেছেন এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। পড়াশোনা এবং কর্মজীবনে আমেরিকায় স্থায়ী হলেও মনেপ্রাণে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবেই গর্ববোধ করেন এই বিজ্ঞানী। শুভ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের ছেলে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গেছি। আমাকে কেন ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, এটা নিয়ে আমি বিব্রত।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শুভ। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন। এর আগে বাবার কর্মক্ষেত্রের সুবাদে উগান্ডায় বসবাস করেন অনেকদিন।

চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কৃত্রিম কিডনির সহ-আবিষ্কারক শুভ রায় জানান, আমেরিকায় তৈরি এই যন্ত্র আপাতত সেদেশের কয়েক হাজার রোগীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছে। শারীরিক সুরক্ষা ও সর্বাঙ্গীন সাফল্যের পরীক্ষায় উতরালে তা বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেবে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক এফডিএ।

যেভাবে কাজ করে কৃত্রিম কিডনি

এর উত্তরে শুভ রায় বলেন, যন্ত্রটি সহজেই পেটের ভিতরে স্থাপন করা যায়। স্বাভাবিক কিডনির মতো রক্ত শোধন করা ছাড়াও হরমোন উৎপাদন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। সাধারণ হিমোডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার মতো রক্ত থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বাদ দেওয়া ছাড়াও জীবন্ত কিডনি কোষ দিয়ে তৈরি বায়ো রিঅ্যাক্টর এবং সূক্ষ্ম পর্দার মাধ্যমে রক্ত শোধনের কাজ নিখুঁতভাবে করতে পারে কৃত্রিম কিডনি।

কম খরচ

কিডনি সমস্যায় বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস এবং হাই ব্লাড প্রেশারই তার অন্যতম কারণ। কিডনির ক্রনিক সমস্যা সমাধানে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ অনেক।

কৃত্রিম কিডনির সঠিক খরচের হিসাব এখনই না বললেও শুভ রায়ের দাবি, ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের চেয়ে অনেক কম খরচে বসানো যাবে কৃত্রিম কিডনি।

কাতারের প্রেসিডেন্ট মসজিদে বাংলাদেশি খতিব

c372705352ef82d5eab989cca038a34dকাতারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে প্রতি জুমায় খুতবা দেন একজন বাংলাদেশি খতিব। বাংলাদেশের জন্য এটি গৌরব ও আনন্দের বিষয়। একজন বাংলাদেশি হয়েও কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যেত পারলেন।

বাংলাদেশের এই কৃতি সন্তানের নাম হাফেজ কারি সাইফুল ইসলাম। তার সাফল্যের শুরু ২০০৫ সালে। সে বছর ‘দুবাই হলি কুরআন এ্যাওয়ার্ড’-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি।

এরপর ২০১০ সালে আসেও আরো বড় সাফল্য। জর্ডানে ৬০টি দেশের সম্মলিত তাফসিরুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করে তিনি কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন। তখনও তিনি পড়াশোনা করছিলেন দেশের একটি স্বনামধন্য কওমি মাদরাসায়। এরপর দাওরা হাদিস (মাস্টার্স সমমান) সম্পন্ন করার পাশাপাশি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে কাতার ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ লাভ করেন। ২০১২ থেকে চার বছর মেয়াদে সেখানে অনার্স সম্পন্ন করেন।

কীভাবে তিনি কাতার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খুতবা প্রদানের সৌভাগ্য অর্জন করেন, সে প্রসঙ্গ খুবই চমকপ্রদ ও ঈর্ষণীয়।  ২০০৪ সাল থেকে কাতারের রাজপরিবারের সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্ক। সে বছর ‘দুবাই হলি কুরআন অ্যাওয়ার্ড’ জয়ের পর থেকে রাজপরিবারের সদস্য আবদুল আজিজ বিন খালেদ আবদুল্লাহ আল-থানি তাকে নিয়মিত কাতারে আমন্ত্রণ করতেন। প্রতি বছর আসা-যাওয়ার টিকিট ও আনুসাঙ্গিক খরচসহ দুইবার তাকে কাতার নিয়ে যাওয়া হতো। প্রথমবার যেতেন মাত্র এক সপ্তাহের আনন্দভ্রমণে। মাদরাসায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিয়েই ছুটি কাটাতে ছুটে যেতেন কাতারে।

দ্বিতীয়বার যেতেন রমজান-মৌসুমে। সেখানে রাজপরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের তিনি তারাবির নামাজে ইমামতি করতেন। তারপর তাদের সঙ্গে সৌদিতে গিয়ে ওমরা পালন করে ঈদের দিন দেশে ফিরে আসতেন। তার এমন দারুাণ ও সুখময় আসা-যাওয়া ২০১২ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খতিবের দায়িত্বে যেভাবে

কাতারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খতিবের দায়িত্ব তিনি রাজপরিবারে কিছু সদস্যের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পাননি। বরং আল্লাহর মেহেরবানি ও করুণা এবং নিজের যোগ্যতায় পেয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৫ সালে কাতার ইউনিভার্সিটিতে অনার্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকবস্থায় একদিন দেখলেন, পার্শ্ববর্তী অভিজাত এলাকা দাফনার রমিলার সেনাবাহিনীর অফিসারদের ২০৭ নং মসজিদে খতিব চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইন্টারভিউ দেওয়ার মনে সাধ জাগে তার। কিন্তু বিষয়টি অতটা সহজ ছিল না। কারণ কাতারে ইমাম ও খতিবের নিয়োগ সরকারি পরিক্ষার মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক পরিশ্রম ও সাধনার পর খুতবা পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন। এরপর থেকে উক্ত মসজিদে টানা এক বছর খতিবের দায়িত্ব পালন করার পর তাকে কাতারের আমিরের প্রাসাদ মসজিদে ট্রান্সফার করা হয়। বর্তমানে তিনি এ মসজিদে খতিবের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-উবাইদিলি’ মসজিদে ইমাম এবং তারাবির দায়িত্বও পালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সেনাবাহিনীর মসজিদটিতে প্রদানকৃত তার খুতবাগুলো রাষ্ট্রের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের মনে ছুঁয়ে যায় বেশ। এরপর ২০১৭ সালের রমজানে হঠাৎ ফোন করে তাকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে জুমার খুতবা দিতে হবে। সেখানে কাতারের প্রেসিডেন্ট ও রাজপরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।

এমন গুরুভার দায়িত্ব সম্পর্কে ফোন পাওয়ার পর বেশ চিন্তায় পড়ে যান তিনি। মনে দ্বিধাদ্বন্ধ ও অজানা শঙ্কার ডালপালা গজাতে শুরু করে। কিন্তু জুমার দিন আগেভাগে কর্তৃপক্ষ গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পরে মনে আশার সঞ্চার হয়। আল্লাহর কাছে দোয়া-প্রার্থনা করা হয়।

এরপর ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই প্রথমবারের মতো খুতবা দিয়ে রাজপরিবারের মুসল্লি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মন জয় করেন। তখন থেকে তার এ গুরুদায়িত্ব এখনো বলবৎ রয়েছে। বাংলাদেশের সুনাম কুড়ানোর পাশাপাশি কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি দায়িত্বে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন।

হাফেজ সাইফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদরের নয়নপুর পৌরসভা এলাকায়। তার বাবার নাম বাবার নাম ডা. ওয়ালিউর রহমান। স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তিনি মাদরাসায় ভর্তি হন। দেখের খ্যাতিমান কোরআনের হাফেজ মাওলানা আবদুল হকের কাছে হিফজ করেন। এরপর ২০১১ সালে দাওরা হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল আরকাম মাদরাসায় থেকে। ২০১২ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেন। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে কাতার ইউনিভার্সিটিতে গমন করেন। ২০১৭ সালে সেখান থেকে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স সম্পন্ন করেন।

ব্রিটিশ শিক্ষা পুরস্কার 2018 জন্য ইশতিয়াক আল জামিল মনোনিত

jamil

জিসিএসই বিভাগের শিক্ষাগত ফলাফল এবং অন্যান্য অর্জন এর জন্য ব্রিটিশ শিক্ষা পুরস্কার 2018 জন্য ইশতিয়াক আল জামিল মনোনিত করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ব্রিটিশ শিক্ষা পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ।

ব্রিটিশ শিক্ষা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আগামী বুধবার 31 শে জানুয়ারী, 2018 বিকাল 6 টায়
হিল্টন ম্যানচেস্টার ডেসগেটে (বিথাম টাওয়ার), 303 ড্যানগেগেটে,
ম্যানচেস্টার, এম 3 4 এল.কিউ,
অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য; ইশতিয়াক জামিল ২০১৭ জিসিএসই পরীক্ষায় রাগবী শহরের
স্বনামখ্যাত Lawrence sheriff school. থেকে
১২টি বিষয়ের মধ্যে 10A*s এবং 2As লাভ করেছে ।

উক্ত হাইস্কুলের এবারের জিসিএসই
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে টপ-১০ ফলাফল প্রাপ্তদের একজন হয়েছে সে।

তার পিতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের লালার গাও গ্রামের আব্দুল গফুর কিন্ডারগার্টেন এন্ড জুনিয়র হাইস্কুল এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচাক জনাব আসিক মিয়া।

সিলেটের গর্ব একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

a12মোহাম্মদ নওয়াব আলী : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভুমি আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে অগণিত কীর্তিমানদের জন্ম হয়েছে যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে সিলেটকে আলোকিত ও গৌরবান্বিত করেছেন। এ ধরণেরই একজন আলোকিত ব্যক্তিত্ব একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের অধিবাসী অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী।
১৯৫২ সালে এক সম্ভ্রান্ত জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন ড. অরূপরতন চৌধুরী। মাতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরী, পিতা সিলেটের কৃতি সন্তান শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী, বড় ভাই অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী, বোন অধ্যাপক ড. মধুশ্রী ভদ্র। স্ত্রী একজন সুগৃহিনী গৌরী চৌধুরী, দুই পুত্র অনিবার্ণ চৌধুরী ও সপ্তক চৌধুরী।
ড. চৌধুরী স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন কণ্ঠশিল্পী/ শব্দ সৈনিক।
১৯৭৬ সালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে বি.ডি.এস ১৯৮২-৮৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দন্ত চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফেলোশিপ এবং ১৯৯২-৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষ্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়ার্ক এট স্ট্রনিব্রোক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দন্ত চিকিৎসায় ফেলোশিপ লাভ করেন। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেন শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি পিএইচ.ডি।
বিগত ৪০ বছর যাবত পেশাগত জীবনে ডেন্টাল সার্জারীতে চিকিৎসা সেবা ও গবেষণা কাজসহ বিভিন্ন তামাক ধূমপান ও মাদক বিরোধী আন্দোলনের সাথে সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব সার্জনস থেকে FESRCS (ফেলোশিপ ইন ডেন্টাল সার্জারী, রয়েল কলেজ অব সার্জনস) ডিগ্রি লাভ করেন FESRCS- England- 2012G
দীর্ঘ ৪১ বৎসর এদেশের দন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে বহু প্রকাশনা ও গবেষণা করেছেন এবং এদেশের জনগণের কাছে দন্ত চিকিৎসার বিভিন্ন তথ্য ও রোগ প্রতিরোধের উপর বেতার টেলিভিশনে অনুষ্ঠান নির্মাণ ও উপস্থাপনার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
১৯৮৯ সালে মাদক ও ধূমপান বিরোধী সংগঠন মানস প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে দেশের যুব সম্প্রদায়কে ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
সংগীত জগতে দীর্ঘদিন যাবৎ জড়িত এবং একজন প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। ইতিমধ্যে ৪টি অডিও সিডি ও একটি ভিসিডি বের করেছেন।
বেতার ও টেলিভিশনে একজন সফল স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষত: তামাক, ধূমপান ও মাদকাসক্তি অনুষ্ঠান উপস্থাপক।
তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষত: তামাক, ধূমপান ও মাদকাসক্তির উপর প্রবন্ধ লিখছেন।
২০০১ সালে আমেরিকা বায়োগ্রোফিক্যাল ইনস্টিটিউট এর সদস্য পদ লাভ করেন।
ইতিমধ্যে ৩৮টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।
ড. চৌধুরী ১৭টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন যেমন, মুখ ও দাঁতের ৫০টি সমস্যা ও সমাধান, মুখের ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য, মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য (অ ঃড় ত), সুন্দর দাঁতে সুন্দর হাসি, মাদকাসক্তি ও এইডস, মাদক ও মাদকাসক্তি, দাঁত ও মুখের রোগের সাথে দেহের রোগের সম্পর্ক, মুখ ও দাঁতের রোগ: প্রতিকার-প্রতিরোধ, মুখের স্বাস্থ্য ও তামাক পাতা, তামাক পাতা ও ধূমপান, মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য, আর ধূমপান নয়, মুখ ও দাঁতের ৬০টি সমস্যা ও সমাধান, মরণনেশা ইয়াবা ও ফেনসিডিল, ধূমপান থেকে মাদকাসক্তি, তামাক, মাদক ও নারী বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট।
ধূমপান ও তামাকের ক্ষয়ক্ষতি এবং মাদক ও মাদকাসক্তির উপর তার রচিত এইসব গ্রন্থ বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিগুলোতে স্থান পেয়েছে।
স্বল্পদৈর্ঘ্য ছায়াছবি নির্মাণ:
১। ডায়াবেটিস রোগ সংক্রান্ত স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র ‘শৃংখলাই জীবন’ এবং ‘শিশুদের ডায়াবেটিস’ (টিভিতে নিয়মিত প্রচারিত স্বাস্থ্য মূলক অনুষ্ঠান)।
২। তামাক, ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নির্মিত ‘নেশা সর্বনাশা’ বাংলাদেশথ টেলিভিশনে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে।
মাদকাসক্তির উপর নিয়মিত তার তথ্যচিত্র বাচসাস পুরস্কার লাভ করে ২০০৩ সালে। এছাড়াও বর্তমানে মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনি ‘স্বর্গ থেকে নরক’ নামে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন ২০১৫ সালে।
বর্তমানে অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বারডেম হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ও ডিপার্টমেন্ট অব ডেন্টাল সার্জারী বিভাগের সম্মানিত সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। পেশায় চিকিৎসক হিসাবে নিয়মিত রোগীদের সেবা প্রদানের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন- ধূমপান মাদক বিরোধী আন্দোলনে নিজেকে যেমন সক্রিয় রেখেছেন তেমনি বেতার টেলিভিশনে নিয়মিত ভাবে স্বাস্থ্য বিষয়ক উপস্থাপনা, রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশনা ছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখির কাজেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন।
মাদকাসক্তির উপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নেশা সর্বনাশা’ বাচসাস পুরস্কার লাভ ২০০৩ সালে ঢাকা কালচারাল রিপোর্টাস এসোসিয়েশন কর্তৃক স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০০৬, বাচসাস কর্তৃক লাইফটাইম এ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড- ২০০৪।
বাচসাস পুরস্কার লাইফ টাইম ্এ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০০৩, স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনের জন্য টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসিাসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্র্যাব) অ্যাওয়ার্ড ২০০৬।
আন্তর্জাতিক পুরস্কার :
বিগত বৎসর যাবৎ ধূমপান ও মাদক বিরোধী কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৯ আন্তর্জাতিক পুরস্কার- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডঐঙ) মেডেল দঞড়নধপপড় ড়ৎ ঐবধষঃয
ড. অরূপরতন চৌধুরী পরিচালিত প্রথম মাদক বিরোধী চলচ্চিত্র ‘স্বর্গ থেকে নরক’ ছায়াছবিটি সম্প্রতি ভারতের কোলকাতায় অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত চলচ্চিত্র সংস্থা টেলিসিন সোসাইটি কর্তৃক বিশেষ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করেছে।
গত ৪ জুন ২০১৬ কোলকাতা রবীন্দ্র সরবর নজরুল মঞ্চে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরুস্কারটি ড. অরূপরতন চৌধুরীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অধ্যাপক চৌধুরী বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের একজন সদস্য।
২০১৫ সালে তিনি সমাজসেবায় রাষ্ট্রীয় সম্মান জাতীয় পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন।

জিসিএসইতে ইশতিয়াক জামিল এর সাফল্য

unnamed

ইশতিয়াক জামিল ২০১৭ জিসিএসই পরীক্ষায় রাগবী শহরের স্বনামখ্যাত Lawrence sheriff school. থেকে
১২টি বিষয়ের মধ্যে 10A*s 2As লাভ করেছে ।

উক্ত হাইস্কুলের এবারের জিসিএসই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে টপ-১০ ফলাফল প্রাপ্তদের একজন হয়েছে সে।

তার পিতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের লালার গাও গ্রামের আব্দুল গফুর কিন্ডারগার্টেন এন্ড জুনিয়র হাইস্কুল এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচাক জনাব আসিক মিয়া।

তিনি ছেলের ভবিষ্যত পথ চলায় সবার দোয়া কামনা করেন।

একজন অসাধারণ প্রযুক্তি উদ্ভাবক আব্দুল হাই আজাদ বাবলা

002বাসিয়া রিপোর্ট : বর্তমান যুগ তথ্য ও প্রযুক্তির। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে অনেক দূর। বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তি আছেন, যারা নিজস্ব প্রচেষ্টায় অনেক কিছু উদ্ভাবন করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তেমনি একজন সিলেটের আবদুল হই আজাদ বাবলা। মূল বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলার এওলাতৈল গ্রামে। তবে বর্তমানে বসবাস করছেন সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ১৭ বি স্বর্নালি ভার্থখলায় এবং গবেষণা কর্ম লাউয়াই থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন। লেখাপড়া খুব বেশি নয়। এসএসসি পাশের পর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ভর্তি হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা দেয়া হয়নি। জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন কুয়েতে। কিন্তু বেশিদিন থাকতে পারেননি। মাতৃভূমির টানে চলে আসেন দেশে। ৮০-৮১ সালে বিএডিসির সেচ শাখায় অকেজোঁ ও পরিত্যক্ত অনেক সেচযন্ত্র পাওয়া যেতো। বাবলা এসব সেচ যন্ত্রাংশ কিনে নিয়ে শ্রম ও মেধা খাঁটিয়ে সেগুলো সচল করে তুলতেন। মেরামত ও পুনঃসংযোজন কাজের মাধ্যমেই বাবলা জড়িয়ে পড়লেন বৃহত্তর সিলেটে সেচ কার্যক্রমের সঙ্গে। কৃষি মন্ত্রনালয়ের জাতীয় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প ও উত্তর পূর্ব-সেচ প্রকল্পে প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করেছেন।
আবদুল হাই আজাদ বাবলা দেশ ও জাতির কল্যাণে এ পর্যন্ত অনেক কিছু আবিষ্কার করেছেন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩৫-৪০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার যে সমস্ত নলকূপ অকেজোঁ হয়ে পড়েছে, সেগুলো স্বল্প খরচে তিনি কার্যকর ও সচল করতে পারেন। আবদুল হাই আজাদ বাবলার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মতে, ৪ ইঞ্চি পাইপের মধ্যে অতিরিক্ত ২ ইঞ্চি পাইপ ঢুকিয়ে নিচে চেক বাল্ব এবং পাইপ সংযোজন আর উপরে ‘টি’ বসিয়ে দুই পাইপের মধ্যবর্তী স্থানে আধা লিটার পানি দিয়ে সফলভাবে প্রতি সেকেন্ড ৮ মিটার পানি উত্তোলন করার যায়। এ প্রযুক্তি উদ্ভাবক করতে বাবলার পরিশ্রম, মেধা ও সময় ব্যয় হলেও আবিষ্কৃত পদ্ধতিটি বেশ সহজ এবং সাশ্রয়ী। আর ফলাফল তো বাজিমাতের মতো। সিলেট অঞ্চলে তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাতীয় ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প এবং উত্তর-পূর্ব ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প আশাতীত ফল লাভ করেছে। এই আবিষ্কারের জন্যে বাবলা সিলেট জেলা কৃষিমেলা ২০০০-এ প্রথম পুরষ্কার লাভ করেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত সাতটি প্রযুক্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, ঢাকা আগারগাঁওয়ে দর্শকদের দেখার জন্যে গ্যালারিতে রাখা হয়েছে। অপর্যাপ্ত বালির স্তর থেকে চারমাথা টিউবওয়েলকে এক মাথায় রুপান্তরিত করে পর্যাপ্ত সেচের পানি উত্তোলন পদ্ধতি ও বাবলা উদ্ভাবন করেছেন। এ জন্যে তিনি জেলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০০০-এর ৩য় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও তাঁর উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ হচ্ছে ভূগর্ভের বালি ও মাটির স্তর সংরক্ষণ করে রাখার জন্যে পলি প্রিন্টেড ব্যাগ, সারিসোজা ও বীজ রোপণের জন্যে স্বল্প ব্যয়ের লাইনার, নলকূপের পানির স্থিতির মাপ নির্ণয়ের জন্যে ম্যানুয়েল অটো রেকর্ডার, হস্তচালিত নলকূপের পানির লেবেল ৩৫-৪০ ফুটে চলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পানি না উঠিয়ে ‘গরিব বন্ধু’ নামের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, নিরাপদভাবে মশার কয়েল জ্বালানোর জন্যে স্বল্প ব্যয়ে বক্স পদ্ধতি, লেবুর রস সংগ্রহের জন্যে স্থানীয় পদ্ধতির যন্ত্র, ভূগর্ভন্থ পানি রিচার্জ করার পদ্ধতি, ক্ষুদ্র ভাসমান পাম্প পদ্ধতি সহ বৃষ্টির পানি সংগ্রহ বা ব্যবহার পদ্ধতি, ৩ বা ৪ টি কূপ সংযুক্ত করে ওপেন ওয়েল সিস্টেম, কমান্ড এরিয়ায় পলি টিউব দ্বারা পানি সেচ দেয়ার পদ্ধতি-১ ও ২ এবং ছারফেইছ ওয়াটার ব্যবহারের লক্ষ্যে নদী থেকে পানি উঠিয়ে সড়ক ও জনপথের পার্শ্ববর্তী খাল দিয়ে সেকেন্ড লিফটিং সেচব্যবস্থা, সল্প ব্যয়ে ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র ইত্যাদি। পদ্ধতিসমূহের উদ্ভাবক আবদুল হাই আজাদের আবিষ্কারস সমূহের জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দান আবশ্যক। একই সাথে তার উদ্ভাবনগুলো পেটেন্ট করাও প্রয়োজন, যাতে কেউ নকল করতে না পারে। সরকারি সাহায্য ও পূষ্ঠপোষকতা পেলে আবদুল হাই আজাদ বাবলা আরো অনেক কিছু উদ্ভাবক করতে সক্ষম হবেন। উদ্ভাবনীয় বিষয় যখন চিন্তা চেতনায় আসে তখন সাথে সাথে তৈরীর জন্য একটি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ প্রয়োজন।
এছাড়া পানিতে আর্সেনিক দূষণ খুব সহজে চিহ্নিত করার উপায় সহ স্বল্প খরচে বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। তিনি এগুলো বাজারজাত করতে চান এখন।
আবদুল হাই আজাদ বাবলা সাধারণ যন্ত্রাংশ দিয়ে অনেক কঠিন প্রযুক্তিকে সহজভাবে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই দাম পড়েছে কম। স্বল্প আয়ের লোকজন তা ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন।
এক সময় তিনি উত্তর-পূর্ব ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের গভীর নলকূপ ও জাতীয় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পে ও ঠিকাদার ছিলেন। তখন থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে সহজভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের চিন্তা তার মাথায় ভর করে। বিশেষ করে গ্যাস সমস্যার কারণে সেচ কাজে ব্যবহৃত শ্যালো টিউবওয়েল যখন অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের নেশা তাকে পেয়ে বসে।
১৯৯১ সালে উদ্ভাবন করেন নিউ সিস্টেম শ্যালো টিউবওয়েল ফর গ্যাস প্রবলেম জোন অপশন ওয়ান নামে একটি প্রযুক্তি, যা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে প্রদর্শন গ্যালারিতে সংরক্ষিত আছে। ফলে স্বল্প ব্যয়ে কৃষিকাজে পানি সেচের চাহিদা পূরণ হয়। এ জন্য আবদুল হাই আজাদ বাবলা নতুন কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ে সিলেট জেলা পর্যায়ের কৃষি মেলার শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার লাভ করেন।
গ্যাস ও ভূগর্ভস্থ মাটির চাপে প্লাস্টিক ফিল্টার চেপে যাওয়া এবং ভেঙে যাওয়ার ফলে অকেজোঁ হয়ে পড়া নলকূপের ক্ষেত্রে ও তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তির নাম ইনসাইট সাপোর্টার ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় ২২টি উদ্ভাবন তাকে যথেষ্ট পরিচিতি এনে দিয়েছে। এ জন্য পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। সিলেট বিভাগ থেকে জাতীয় পর্যায়ে ১৯৯৯ সালের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পদকের জন্যও মনোনীত হন তিনি। ২০০৫ সালে কৃষি যন্ত্র উদ্ভাবনে জাতীয় কৃষি পদক লাভ করেন। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এ টু আই প্রকল্পের আওতায় সার্ভিস ইনভেনশন ফান্ডের এওয়ার্ড লাভ করেন। তার বিষয় ছিল ড্রেনের কাদা, বালি, বর্জ্য অপসারণ পাম্প ও বর্জ্য সার উৎপাদন। তিনি আরো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পদক পাওয়ার আশাবাদী। গত ৭ জন সিলেট বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় উদ্ভাবনী যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীতে ও তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।
এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, তিনি নিজের চিন্তা ও চেতনায় যা আসে তাই নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি শুরু থেকেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাই বন্ধু-বান্ধবরা তাকে সব সময় উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। তার উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে নলকূপের পানি আর্সেনিকযুক্ত কিনা তা অতি অল্প ব্যয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব বলেও তিনি দাবি করেন।
আবদুল হাই আজাদ বাবলা ‘লিথলজি অব সিলেট’ নামে এ অঞ্চলের ভূগর্ভের ওপর গবেষণামূলক একটি বইও রচনা করেছেন, কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তা প্রকাশ করতে পরছেন না। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী খাল দিয়ে সেকেন্ড লিফটিং সেচব্যবস্থা, স্বল্প ব্যয়ে ভুট্টা মাড়াই যন্ত্রসহ অভাবনীয় পদ্ধতিসমূহের উদ্ভাবক আবদুল হাই আজাদ বাবলার আবিষ্কারসমূহের জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দান আবশ্যক। একই সাথে তার উদ্ভাবনগুলো পেটেন্ট করাও প্রয়োজন, যাতে কেউ নকল করতে না পারে। সরকারি সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আবদুল হাই আজাদ বাবলা আরো কিছু উদ্ভাবন করতে সক্ষম হবেন। যাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে আর্থিক সহায়তা করেছেন জনাব আলীমুছ এহছান চৌধুরী, আলীম ইন্ডাষ্ট্রিজ, এম.সি বিষ্কুট কোং, যশোর জনাব এনামুল হক। আমি বিভিন্ন স্টাষ্ট্র এর প্রধানদের কাছে আমার গবের্ষণা কর্ম চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা চাচ্ছি। দেশে বিদেশে কর্মরত প্রবাসী আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবদের কাছে আমার গবেষণা কর্ম চালিয়ে যাবার আর্থিক সহায়তা চাচ্ছি।

প্রবাসে একজন সফল ব্যবসায়ী মো. মখলিছ মিয়া

ssssমকসুদ আহমদ বাসিত: প্রবাসীরা বিপুল পরিমান অর্থের যোগান দিয়ে এদেশের অর্থনীতিকে ঠিকিয়ে রেখেছেন। প্রবাসীদের পরিশ্রয়ে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল থেকে সচল হচ্ছে দিন দিন। আমরা সমৃদ্ধ হচ্ছি অর্থনৈতিকভাবে। দেশ হচ্ছে স্বনির্ভর। ফলে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি।
শুধু ইউরোপ আমেরিকা নয় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। তাঁদের প্রাণপণ প্রচেষ্টায় আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তড়ান্বিত হচ্ছে।
এমনি একজন প্রবাসী সফল মো. মখলিছ মিয়া। মধ্যপাচ্যের কাতারে ১৯৮৪ সালের ১৫ জানুয়ারি চাকরির সুবাদে পাড়ি জমান। চার বছর চাকরি শেষে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। পরিচ্ছন্ন ব্যবসায়ী হিসেবে বেছে নেন ডেকোরেশন ব্যবসা। গড়ে তুলেন কাতারের দোহা নিউ রোডের ২নং সিটি আলখোর সপ মার্কেটে মুহা. আপহোলস্টরি সপ নামের ডেকোরেশন ব্যবসা। যা দিন দিন জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আর একজন সফল ও জনপ্রিয় ব্যবসায়ী হিসেবে মখলিছ মিয়ার সুনাম দিন দিন প্রসারিত হয়। এখন তিনি সেখানে একজন সুনামধন্য ও সফল ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। সাথে সাথে বাংলাদেশ থেকে জনবল নিয়ে তিনি বিভিন্ন কোম্পানীতে চাকরির সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে প্রবাসে বাঙালিরা যেমন উপকৃত হচ্ছে তেমনি বাংলাদেশ থেকে বাঙালিরা সেখানে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।
সর্বদা হাস্যজ্জোল ও প্রাণচঞ্চল মখলিছ মিয়া সিলেটের দণি সুরমার লালাবাজারস্থ আকিলপুর গ্রামের অধিবাসী। পিতা মৃত সুনু মিয়া। জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৬২ সালে।
মখলিছ মিয়া সদা কর্মব্যস্ত একজন সরলমনা মানুষ। দেশ বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক, মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রচারবিমুখ মখলিছ মিয়া আকিলপুরস্থ হযরত ওমর শাহ হাফিজিয়া মাদ্রসার কোষাধ্যরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সফলতার পিছনে তাঁর স্বদিচ্ছা, কঠোরপরিশ্রম ও ধৈর্য কাজ করেছে বলে তিনি জানান।

ওয়াসিম খান : এ সময়ের একজন ব্যস্ত কী-বোড বাদক ও সুরকার

01হৃদয় সজীব : বৃহত্তর সিলেটের সংগীত জগতে ওয়াসিম খান নাম উচ্চারণ করলে সবাই এক নামে চিনে একজন সফল কী-বোড বাদক হিসেবে। এ সুনাম অর্জন করেছেন ওয়াসিম খান দীর্ঘদিনে। শিশুকালেই ওয়াসিম খান সুরের ভুবনে যাত্রা শুরু করেন। বড় ভাই লাল মিয়া তখন গান গাইতেন। তাঁর হাত ধরে ওয়াসিম খান গানের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং বড় ভাইয়ের সাথে কণ্ঠ মিলাতে থাকেন। কম বয়সেই আয়ত্ত করেন একটি অসাধারণ গুণ। এক সাথে পাঁচটি ডফকি বাজানোর দুর্লভ অর্জন। বড় ভাই লাল মিয়ার অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ওয়াসিম খান ডফকি বাজানো। মানুষ মুগ্ধ হয়ে যেমন গান শুনতো তেমনি ওয়াসিম খানের ডফকি বাজানো দেখে তাক লেগে যেত এবং অনুষ্ঠানে শেষে গুণীজনরা তাকে আর্শিবাদ করে যেতেন।
ওয়াসিম খানের ১৯৬৪ খ্রি. বি-বাড়িয়ার হাবলা উচ্চ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মো. শহিদুল ইসলাম ও মাতা মরহুমা মোছা. সাফিয়া খাতুন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
বড় ভাই লাল মিয়ার সাথে ওয়াসিম খান বি-বাড়িয়ার আঁনাচে কাঁনাচে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতেন। এক পর্যায়ে গানের নেশায় ও যন্ত্রের ভালোবাসায় তারা ছাতকে চলে আসেন। ছাতক বাজারের গুণীজন ও কিছু মুরব্বিরা বাউলদল দেখে গান গাওয়ার অনুরোধ করেন। তখন তিনি বড় ভাইয়ের সাথে গান গাওয়া শুরু করেন এবং একসাথেপাঁচটি ডফকি বাজাতে থাকেন। মুরব্বিদের দৃষ্টি পড়ে শিশু ওয়াসিমের অসাধারণ ডফকি বাজানোর দিকে। এক পর্যায়ে দুর্বিণ শাহর জনপ্রিয় গান ‘যৌবনরে ডেকছি তরে লইয়া আমি অভাগীনি’ গানটিতে টান দিলেই উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়ে যান। এই আসরে ছিলেন মুরব্বিদের সারিতে দুর্বিণশাহও। গান শেষ হওযার পরে উপস্থিত সুধীজন জানতে চাইলে যার গান গাইয়ের সেই পীর সাহেবের সাথে আপনাদের পরিচয় আছে কি? কিন্তু ইতোপূর্বে দূর্বিণ শাহর সাথে তাদের পরিচয় হয়নি। ওয়াসিম সান্বিধ্য পেলেন বাউল সম্রাট দুর্বিন শাহর। শুধু সান্বিধ্য নয় দুর্বিন শাহ মুগ্ধ হয়ে মাথায় হাত দিয়ে আর্শিবাদ করলেন।
এভাবে এগুতে থাকেন ওয়াসিম গানের জগতে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬ সালের শেষের দিকে বড় ভাইয়ের সাথে সিলেটের তালতলার দিকে যাচ্ছেন। তালতলার হোটেল ব্যবসায়ী কালা মিয়ার দৃষ্টিপরে তাদের দিকে। তিনি তাদেরকে নিয়ে যান তার নিজস্ব হোটলের অফিসে। সেখানে অনেক ভাবুকরা বসে আছেন। তখন বিকাল চারটা। বাংলাদেশ বেতারে অনুষ্ঠানপূর্ব সিলেটের বাউল পরিবেশিত হবে। সবাই শুনবেন। বেতারে শুরু হলো বাউল আবদুল হামিদের গান। সবাই মনোযোগ সহকারে শুনলেন। গান শেষে শুরু হলো ওয়াসিমদের পালা। ছাতকের মতো সিলেটেও সবাই মুগ্ধ হলেন ওয়াসিমের অসাধারণ ডফকি বাজানো দেখে। আসরের শেষ পর্যায়ে উপাস্থিত হলেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী আবদুল হামিদ। তিনি তাদেরকে নিয়ে লালদিঘির পারের হোটেল তাজ বোডিংয়ে যাপনের ব্যবস্থা করলেন। আবদুল হামিদ ওয়াসিমের প্রতিভায় মুক্ত হয়ে ছাড়তে চাইলেন না। শেষ পর্যন্ত আবদুল হামিদ ওয়াসিমকে তার বন্ধনে নিয়ে আসলেন। ওয়াসিম আবদুল আবদুল হামিদকে ধর্মীয় পিতা হিসেবে গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে গানের তালিম নেয়া শুরু করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় তার সাথে গানে কণ্ঠ মিলাতে থাকেন। বাউল আবদুল হামিদের সুযোগ্য শিষ্য হিসেবে ওয়াসিমের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
ওয়াসিম ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের আধুনিক ও পলীগীতি গানের একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। ১৯৯৮ সালের (৭ পৃষ্ঠায় দেখুন) মিয়া (৬ পৃষ্ঠার পর) : পলীগীতি গানের একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন। ১৯৯৮ সালের যন্ত্রশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্র তাকে চাকরি প্রদান করে। তিনি কী-বোর্ড, দুতারা, মেন্ডোলিন, তবলা, হারমোনিয়াম বাজান বেতারে।
২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অনুমোদান লাভ করেন।
২০১৫ সালের শেষের দিকে বেতারের সুরকার হিসেবে তিনি গান সুরারোপ করতে থাকেন এবং বিশেষ বিশেষ প্রোগ্রামে তার সুরারোপিত গান পরিবেশিত হয়ে থাকে।
১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ওয়াসিম শিল্পী হিসেবে লন্ডন সফর করেন। তার সাথে এ সফরে ছিলেন সৈয়দ আবদুর হাদী, বেবী নাজনীন, বাউল আবদুল হামিদ ও বাউল মুজিবুর সরকারসহ আরো অনেকে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় ভারতে বিভিন্ন অনুষ্টানে গান পরিবেশন করেন। সম্প্রতি তিনি সুফী শিতালংশাহ শিল্পী গোষ্ঠী প্রদত্ত সম্মাননা পদক ২০১৬ গ্রহণ করেন।
তার প্রিয় শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, মাহমুদুন নবী, খুশিদ আলম। খুশিদ আলমের গান নিজের করতেন। প্রিয় সুরকার খান আতাউর রহামন, সত্য সাহা।
জীবনে গান বাজনায় মগ্ধ থাকার কারণে ব্যক্তিজীবন নিয়ে ভাবা সম্ভব হয়নি। প্রায় ৪০ বছর বয়সে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মোছা. সাবরীন ভূইয়া নিপার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

আলোকিত শিক্ষক

1464602996বেগম রোকেয়ার সমাজ থেকে এ সমাজের তেমন কোনো বিশেষ পার্থক্য নেই। শুধু খোলস পাল্টেছে মাত্র। সবসময় স্বপ্ন দেখি এমন সমাজের যা হবে নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত

বাবা ও মা দু’জনেই ছিলেন কবি। ছোটবেলায় দেখতেন নিজেদের যে কোন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে কবি শামসুর রাহমান ও আসাদ চৌধুরীর মত অনেক কবিদের আড্ডা বসতো। এ জন্য ছোট থেকেই সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসার জন্ম নেয়। মাত্র ছয় বছর বয়সে ৪১ লাইনের কবিতা মুখস্থ আবৃত্তি করে পুরস্কার লাভ করেন। সে বছরই সেরা হন জাতীয় শিশু সাহিত্য প্রতিযোগিতাতেও। এভাবেই শুরু হয় জেবুন্নেসার সাহিত্যের পথ চলা। এরপর এসএসসি ও এইচএইসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে। ছাত্রজীবনে পুরোদমে লেখা-লেখি চলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাহিত্য পত্রিকায়। পড়াশুনা শেষ করেই তার কর্মজীবন শুরু হয় ইউএনডিপি’তে জেন্ডার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে। তারপর গণবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা করার পরে যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে।

বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা ও লিখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ আশির দশকের শেষের দিকে তার বাবার রচিত ‘টাকার পাহাড় চাই’ নাটকের একটি সংলাপ ছিল: ‘জন্মদাতা, কর্মদাতা, শিক্ষাদাতার মতোই আমি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি দেশের মুক্তিদাতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের’। এই সংলাপ শুনেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লিখবেন। তার প্রথম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধ: বুদ্ধিজীবীর দৃষ্টিকোণ ও অভিজ্ঞতা’। এরপর ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয় তার গবেষণাগ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’। সবচেয়ে সাড়াজাগানো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক তার সম্পাদিত গ্রন্থ হলো: ‘আলোকিত নারীদের স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ’।

বইটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আফরোজা পারভীন, পান্না কায়সার, মাহফুজা খানম, লায়লা হাসানসহ মোট ২৭ জন আলোকিত নারীদের লেখা রয়েছে। তাদের যুদ্ধ স্মৃতিতে লড়াই, শোক, দুঃখ আর নির্যাতনের লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে কারো ভাই, বোন, স্বামীসহ আত্মীয়-স্বজনদের জোর করে ধরে নিয়ে তত্কালীন পাকিস্তানী বাহিনীরা যেভাবে হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে তারই ঘটনা তুলে ধরেন সবাই। সম্প্রতি বইটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বিতরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন আলোকিত নারী হিসেবে সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধে এমন গবেষণার জন্য জেবুন্নেসা ভূষিত হয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননায়। বিনোদনধারা পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড, আমরা কুঁড়ি পদক, বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পুরস্কার, নক্ষত্র সাহিত্য পদক, অক্ষর সম্মাননা স্মারক, মৃত্তিকা পদক, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদ অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নেটওয়ার্ক শিক্ষক, পেশাজীবী নারী সমাজের যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। নিজের এই প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে আমি আমার অর্জনে সন্তুষ্ট। যা একজন পুরুষের দ্বারাও অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। এছাড়া নারীদের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার সমাজ থেকে এ সমাজের তেমন কোনো বিশেষ পার্থক্য নেই। শুধু খোলস পাল্টেছে মাত্র। সবসময় স্বপ্ন দেখি এমন সমাজের যা হবে নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত।

Developed by: