বিভাগ: স ফ ল ব্য ক্তি ত্ব

পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন শাবির শিক্ষক তাহমিনা

তার গবেষণার বিষয় ছিল, Need deficits and challanges experienced by acid assault victims in Bangladesh during the rehabilitation process.

 

ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পর অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি জানান, পিএইচডি ডিগ্রি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে করোনাকালীন সময় হওয়ায় এটি আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে গিয়েছিল। আমি যার দরুন দেশে চলে আসি এবং শিক্ষা ছুটিও শেষ হয়ে যায়। ভাবলাম ছুটি নিয়ে আবার যাবো কিন্তু তখন সব ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলো। যার কারণে পিএইচডি শেষ করতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। কিন্তু এসময়ে আমার কলিগসহ শিক্ষার্থীরা আমার বড় শক্তি ছিল। এছাড়াও আমি এসময়ে পিএইচডি পড়াশোনা নিয়ে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। যার দরুন আমার এই জার্নিটা অন্যরকম ছিল। আর আমার কলিগ ও শিক্ষার্থীসহ সিলেটের অনেকের সাপোর্টের ফলে এই এওয়ার্ড টা অর্জন করতে পেরেছি। যার কারণে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো লাগছে।

 

আর আমার এই পিএইচডি ডিগ্রিতে  গবেষণা বিষয় ছিল এসিডদগ্ধ নারীদের নিয়ে। বর্তমানে এসিড সন্ত্রাস  কমে গিয়েছে। কিন্তু ৩ হাজারের মত এসিডদগ্ধ নারী রয়েছে। তাদের অবস্থাটা কি সেটি আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। শুধু এসিডই নয় যেকোনো ভায়োলেন্সের শিকার নারীদের আমরা  কিভাবে হেল্প করতে পারি এবং তারা  ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই বিষয়টিই দেখিয়েছি। উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. তাহমিনা ইসলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি সুইডেনের গেটবার্গ ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার অব সাইন্স ইন সোস্যাল ওয়ার্কের উপর দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে তাঁর প্রকাশিত গবেষণা-প্রবন্ধের সংখ্যা ১৩টি।অধ্যাপক ড. তাহমিনা ইসলামের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগরের খাদিমপুরে। তিনি মরহুম লেফটেন্যান্ট কর্নেল অব. ডা. নুরুল ইসলামের মেয়ে।

যুক্তরাজ্যে এম এস সি ডিগ্রি অর্জন করলেন এমরান হোসেন

বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিঙ্গেরকাছ পশ্চিম গাও গ্রামের কৃতি সন্তান এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক এমরান হোসেন দেশে BBA. MBA (Banking & Finance) এর উপর ডিগ্রি সম্পন্ন করে, ডাচ বাংলা ব্যাংকে সুনামের সহিত চাকরি তে থাকাকালীন উচ্চ শিক্ষার্থে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পূর্বে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্য- সংস্কৃতি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সমাজ পরিবর্তনে অনন্য ভূমিকা রাখেন। যা তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। অসম্ভব মেধাবী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এমরান হোসেন সুদূর যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় (Ulster University) থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের(International business) উপর এম এস সি(MSC)ডিগ্রি অর্জন করে দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার এই সফলতায় বিশ্বনাথবাসী গর্বিত। তার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা এবং জনতার ডাক ২৪ ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

সিলেটের শিক্ষার্থী মম পাচ্ছেন ৪ কোটি টাকার স্কলারশিপ!

সিলেটের মেধাবী শিক্ষার্থী শামসি মুমতাহিনা মম আমেরিকার প্রখ্যাত ব্রান্ডেইজ ইউনিভার্সিটি থেকে সাড়ে তিন লাখ ডলার স্কলারশিপ পেয়েছেন। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

মেধাবী মম সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। আগামী ৬ আগস্ট রোববার আমেরিকার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন তিনি। আগামী ২৪ আগস্ট আমেরিকার ব্রান্ডেইজ ইউনিভার্সিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্কলারশিপ দেবে মমকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মমের পিতা সিলেট জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম।

তিনি জানান, মেধাবী শিক্ষার্থী মম ২০২২ সালে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিসহ জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল মম। এর আগে ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় একই প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তিসহ জিপিএ-৫ অর্জন করে। নগরের ইলেট্রিক সাপ্লাই রোডের স্কলার্সহোম প্রিপারেটরি স্কুল থেকে ২০১৪ সালে পিএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল।

মম ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্কাউট সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ওই বছর সে স্কাউটের প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। সিলেটের স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার একাধিক প্রবন্ধ/নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা ছিল।

মমর পরিবার জানায়, ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময়েই নাসা পরিদর্শনের ইচ্ছা ছিল। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণের সুযোগ হলো।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সাদিয়ার করোনা প্রতিরোধী স্প্রে আবিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক ॥ করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এরকম একটি জীবাণুনাশক স্প্রে আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক তরুণ ব্রিটিশ বিজ্ঞানী।

ছাব্বিশ বছর বয়সী সাদিয়া খানম দেড় বছর ধরে গবেষণার পর ভলটিক নামের এই জীবাণুনাশক তৈরি করেছেন যা যেকোনো বস্তুর সারফেসে স্প্রে করা হলে সেটি দুই সপ্তাহের জন্য জীবাণুমুক্ত থাকবে। কোভিড মহামারি মোকাবেলায় এই উদ্ভাবনকে বড় ধরনের আবিষ্কার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা এনএইচএসসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এটিকে অনুমোদন দিয়েছে।

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর সাদিয়া খানম তার পিএইচডি গবেষণা স্থগিত রেখে উত্তর পশ্চিম ইংল্যান্ডের চেশায়ারে তার পিতার রেস্তোরাঁয় এই ভাইরাসটি নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা শুরু করেন। গবেষণায় এই ভাইরাসটিকে ধ্বংস করার জন্য তিনি নানা রকমের সমীকরণের সন্ধান করতে থাকেন। এবং এক পর্যায়ে এরকম একটি কার্যকরী ইকুয়েশন উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন।

তিনি এর নাম দিয়েছেন ভলটিক যা সংক্রামক রোগজীবাণু নাশের একটি প্রক্রিয়া এবং এটি উচ্চমানের সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

বিশেষ একটি মেশিন দিয়ে এই তরল স্প্রে করতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটির নাম ভলটিক।

ভলটিক কী:

সাদিয়া খানম বলেন, “এই জীবাণুনাশ প্রক্রিয়ার একটি অংশ হচ্ছে- কোনো জীবাণু যদি কোনো কিছুর সংস্পর্শে আসে তখন তাকে ধ্বংস করে ফেলা। অর্থাৎ কোনো কিছুর পৃষ্ঠ বা সারফেসের ওপর যদি কোনো ভাইরাস থাকে, এর সাহায্যে তাকে সাথে সাথেই মেরে ফেলা যায়।”

তিনি জানান যে এটি চামড়া থেকে শুরু করে কাঠ, লোহা থেকে কাপড়- সব ধরনের সারফেসের ওপর কাজ করে বলে গবেষণায় তিনি দেখতে পেয়েছেন।

“এই প্রক্রিয়ায় কোনো কিছুর সারফেসের ওপর একটি কোভ্যালেন্ট বন্ড তৈরি হয় যা সেখানে চৌদ্দ দিনের জন্য একটি শক্ত প্রাচীর তৈরি করে। এই বন্ড খুবই শক্তিশালী, কোনো কিছুই এটিকে ভাঙতে পারে না। এভাবে এটি টানা দুই সপ্তাহের জন্য যেকোনো জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। এসব জীবাণুর মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, করোনাভাইরাস, ইবোলা ভাইরাস, এইচ আই ভি -বি ইত্যাদি,” বলেন তিনি।

কীভাবে কাজ করে:

বিজ্ঞানী সাদিয়া খানম জানান যে এই ভলটিক স্প্রে খুবই উচ্চ-চাপের মধ্যে কাজ করে। নানা ধরনের প্রয়োগের ফলে এর বিভিন্ন রকমের উপকারিতা আছে, বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক উপকারিতা।

“আমি এমন একটা জিনিস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি যা যেকোনো জীবাণুকে ধ্বংস করতে পারে, ধ্বংস করতে পারে জীবাণুর ডিএনএ এবং যেকোনো ধরনের ডিএনএ।”

বর্তমানে বাজারে যেসব জীবাণুনাশক পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই খুব বেশি সময় ধরে সুরক্ষা দিতে পারে না। কিন্তু সাদিয়া খানম দাবি করছেন যে তার এই ভলটিক স্প্রে অন্যান্য জীবাণুনাশকের চেয়ে আলাদা এবং একবার স্প্রে করার পর সেটি চৌদ্দ দিন কার্যকর থাকে।

“বাজারে যতো ধরনের জীবাণুনাশক আছে আমি সেগুলোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে গবেষণা করেছি। কারণ আমি এমন এটা জিনিস তৈরি করতে চেয়েছি যাতে সবকিছুর উত্তর পাওয়া যায় এবং বর্তমানে যেসব জীবাণুনাশক পাওয়া যায় সেগুলোর সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারে।”

তিনি বলেন, অনেক জীবাণুনাশক বিষাক্ত। কিন্তু তার ভলটিক স্প্রে যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিকর না হয় কিম্বা বর্তমানে ও ভবিষ্যতে যাতে এর কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেয় সেবিষয়ে তাকে সতর্ক থাকতে হয়েছে।

“আমি এমন একটা জিনিস তৈরি করতে চেয়েছি যা স্থায়ী হবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে- আমি হাসপাতালগুলোকে সাহায্য করতে চেয়েছি। এমন জিনিস তৈরি করতে চেয়েছি যা এই কঠিন সময়ে তাদের সাহায্য করবে- যা বিছানা, কম্বল, পর্দা, বালিশ, কুশন, সোফা ইত্যাদি নরম জিনিসের ওপর কাজ করবে। অনেক জীবাণুনাশক আছে যেগুলো বিষাক্ত এবং নরম জিনিসের ওপর ব্যবহার করা যায় না। ভলটিক ধাতব পদার্থের বেলাতেও কাজ করবে। ধাতব নয়- এমন জিনিসেও কাজ করবে।”

ভ্যারিয়্যান্টের বিরুদ্ধে কাজ করে?

বিজ্ঞানী সাদিয়া খানম দাবি করছেন তার আবিষ্কৃত ভলটিক সব ধরনের করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম।

“আমি এমন একটা জিনিস তৈরি করতে চেয়েছি যা সবাই ব্যবহার করতে পারে। ভলটিক সব ধরনের ভ্যারিয়্যান্টের বিরুদ্ধে কাজ করে কারণ আমি এই ভাইরাসের আসল স্ট্রেইন নিয়ে কাজ করেছি। যেহেতু আমি করোনাভাইরাসের আসল জিনিসটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়েছি, তাই এটি অন্যান্য ধরনের করোনাভাইরাসও ধ্বংস করতে পারবে।”

তিনি বলেন, “যখনই এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি একটি ঘরে প্রবেশ করে, তখন সেই ঘরের ভেতরে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। সারাক্ষণ ঘরের সবকিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন। কিন্তু এই ভলটিক স্প্রে দিয়ে ঘরটিকে সারাক্ষণই জীবাণুমুক্ত রাখা সম্ভব। যেমন- আমি যদি কোনো একটি ঘর ভলটিক দিয়ে পরিষ্কার করি তাহলে ওই ঘরটি ১৪ দিনের জন্য সুরক্ষিত থাকবে।”

তার আবিষ্কৃত ভলটিক স্প্রে সব ধরনের করোনাভাইরাস, ইবোলা ভাইরাস, এভিয়েন ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, সার্স, এইচআইভি বি এবং অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

যেভাবে শুরু:

ব্রিটেনে করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পরেই সাদিয়া খানম এনিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন। এর আগে তিনি আলঝাইমার্স রোগের ওপর পিএইচডি গবেষণা শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মহামারি শুরু হলে তিনি সেসব বাদ দিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলার উপায় খুঁজতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর তার পিতার রেস্তোরাঁ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং তখন থেকেই তিনি এর প্রতিকার খুঁজতে নেমে পড়েন।

পিতার রেস্তোরাঁতেও ভলটিক স্প্রে ব্যবহার করে তিনি আংশিক গবেষণা চালিয়েছেন। এই রেস্তোরাঁকে তিনি ব্যবহার করেছেন গবেষণার একটি কেস স্টাডি হিসেবে। সেখানে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটান এবং রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন জিনিসের সারফেসের ওপর তার উদ্ভাবিত জীবাণুনাশক স্প্রে করে সফল হন।

সাদিয়া খানম বলেন, “মহামারির কারণে আমার বাবার ব্যবসা করতে অসুবিধা হচ্ছিল। আমার আশেপাশে যারা আছেন, আরো যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের সবারই সমস্যা হচ্ছিল। যেহেতু আমি একজন বিজ্ঞানী তাই এরকম পরিস্থিতিতে কিছু একটা করা আমার দায়িত্ব। আমি এর একটা সমাধান খুঁজে বের করতে চেয়েছি। আমার মনে হলো যদি একটা জীবাণুনাশক বের করতে পারি তাহলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যাবে।”

“এর একটা উপায় খুঁজে বের করাই ছিল আমার লক্ষ্য- কীভাবে আমার পিতা আবার তার রেস্তোরাঁ খুলে দিতে পারেন, কিভাবে আমি লোকজনকে এই মহামারির সময়ে সাহায্য করতে পারি, হাসপাতালের লোকজনকে সাহায্য করতে পারি- এই সঙ্কটের একটা সমাধান খুঁজতে গিয়েই আমি এই ভলটিক উদ্ভাবন করি,” বলেন তিনি।

ভলটিকের সম্ভাবনা:

সাদিয়া খানম জানান, ভলটিক স্প্রে ব্যবহার করলে সব ধরনের সারফেস যেহেতু দীর্ঘ সময়ের জন্য জীবাণুমুক্ত থাকবে, সেকারণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে যতো অর্থ ও সময় খরচ হয় তার অনেক সাশ্রয় ঘটবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তার এই ভলটিক স্প্রে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা বা এনএইচএস। বিভিন্ন কেয়ার হোমেও এটি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।

ব্রিটেনে জীবাণুনাশক সংক্রান্ত বিভিন্ন দফতর ও কর্তৃপক্ষও ভলটিক স্প্রের ওপর ট্রায়াল সম্পন্ন করে এটিকে অনুমোদন দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই এটি ব্যবহারের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। বলা হচ্ছে কোভিড নিরাপত্তার ব্যাপারে এই উদ্ভাবন অনেক বড় একটি পদক্ষেপ। এবং হাসপাতাল, কেয়ার হোম, হোটেল রেস্তোরাঁ, বিমান ও পরিবহন খাতে এই স্প্রে ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রবল।

তবে সাদিয়া খানম বলেন যে এই জীবাণুনাশক নিয়ে তার কাজ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। এটি উদ্ভাবন করতে গিয়ে তিনি এখনও শেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।

“যদিও আমি এটা তৈরি করেছি, তার পরেও প্রত্যেকটা দিনই আমার কাছে নতুন একটি দিন। প্রতিদিনই আমি এই পণ্যটির উন্নতি ঘটাতে কাজ করছি। প্রতিদিনই নতুন নতুন পরীক্ষা চলছে। এটি যাতে পুরোপুরিভাবে কাজ করতে পারে সেজন্য প্রতিদিনই এনিয়ে গবেষণা করছি।”

সাদিয়ার স্বপ্ন:

শৈশব থেকেই সাদিয়া খানমের স্বপ্ন ছিল তিনি বিজ্ঞানী হবেন। বিশেষ করে তার দাদা আলঝাইমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি স্বপ্ন দেখেন যে একদিন তিনি এই রোগের ওষুধ আবিষ্কার করবেন। এবং তখন থেকেই তিনি এনিয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করেন।

“আমার বয়স যখন ১৪, তখন থেকেই আমি স্বপ্ন দেখি যে আমি আলঝাইমার্স রোগের ওষুধ আবিষ্কার করবো। কারণ এখনও পর্যন্ত এর কোনো চিকিৎসা বের হয়নি। আমি আমার দাদাসহ সবাইকে সাহায্য করতে চাই। ভলটিকের এই কাজ শেষ করার পর আমি আলঝেইমার্স রোগের গবেষণায় ফিরে যেতে চাই যাতে এর ওষুধ আবিষ্কার করতে পারি,” বলেন তিনি। সাদিয়া খানম বলছেন, ভলটিক স্প্রের উদ্ভাবন আলঝাইমার্স রোগের ওষুধ আবিষ্কারের ব্যাপারে তাকে অনেক আশাবাদী করে তুলেছে। তিনি বিশ্বাস করেন তার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে। স্যালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বায়োমেডিকেল সায়েন্স এবং চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে জিনোমিক মেডিসিন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৪” এ ভূষিত

বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরনের পথিকৃৎ আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৪” এ ভূষিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭-৬-২০২১ ইং তারিখে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি পুরস্কারটি ঢাকাস্থ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্টি বোর্ড, চেয়ারম্যান ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি। আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরী। এ সময় আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলীমুছ ছাদাত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সুইজারল্যান্ডে এমপি হলেন প্রথম বাংলাদেশি নারী সুলতানা

সুইজারল্যান্ডে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন প্রবাসী বাংলাদেশি সুলতানা খান। জুরিখ জোন থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ জুন) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।  সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিতদের মধ্যে সুলতানা খান তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। সুইজারল্যান্ডে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন সুলতানা। সুলতানা খানের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়। তার বাবার নাম এসএম রুস্তম আলী, মাতা রাজিয়া সুলতানা। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। সুলতানার জন্ম ঢাকার মিরপুরে।

তিনি ঢাকা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সাল থেকে স্বামী প্রবাসী সাংবাদিক, সংগঠক এবং ব্যবসায়ী বাকি উল্লাহ খান এবং দুই ছেলেসহ সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে বসবাস করছেন তিনি। সুলতানা খান সুইজারল্যান্ডের মূল ধারার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত। বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশকর্মী হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন। সুইজারল্যান্ডে এবং ইউরোপে বাংলাদেশের শিল্প ও সাহিত্য চর্চার জন্য ‘বাংলায় স্কুলের’ তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছেন সুলতানা।

সুলতানা বলেন, আমি প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই এখানে বসবাসকারী সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের, যারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের জনগণ যারা আমাকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য ভোট দিয়েছেন। আমার এই অর্জন তাদের সকলের জন্য। সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নারী সাংসদ হিসেবে নারী অধিকার রক্ষায় তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। সুলতানা বলেন, নারী অধিকারের বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা। আমি সুইজারল্যান্ডে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার ও স্মৃতি স্থাপনা স্থাপনের প্রস্তাব রাখব, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এখানে এলে বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস জানতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমি বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া নারীদের ভাগ্য উন্নয়নেও কাজ করতে চাই। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তারা পিছিয়ে থাকলে দেশের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুলতানা খানের এই অর্জনে সুইজারল্যান্ডে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিসহ স্থানীয় নাগরিকগণ অভিবাদন জানিয়েছেন। এছাড়া ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শুভানুধ্যায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুভকামনা জানিয়েছেন ।

ছয় গ্রেডে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ল

nm shomikপোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরির কয়েকটি গ্রেডে আশানুরূপ মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় পোশাক শিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার গ্রেডগুলোর মজুরি সমন্বয় করেছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আজ রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মজুরি সমন্বয়ের এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিতি ছিলেন। এই বৈঠকে মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন কাঠামোতে চিকিৎসা, যাতায়াত,বাড়িভাড়া বাড়ানো ছাড়াও মূল মজুরির সঙ্গে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামো ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বাড়তি মজুরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী এখন থেকে সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের মজুরি ছিল ১৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৭ হাজার ৫১০ টাকা করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা ছিল।

তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা করা হয়েছিল।

চতুর্থ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ৬ হাজার ৪২০ টাকা এবং ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ৯ হাজার ২৪৫ টাকা করা হয়েছিল।

পঞ্চম গ্রেডে সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা করা হয়েছিল।

ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে তা ছিল ৫ হাজার ৬৭৮। আর ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা করা হয়েছিল ৮ হাজার ৪০৫ টাকা করা হয়েছিল।

আর সপ্তম গ্রেডের মজুরি সব মিলিয়ে গেজেটের মতোই আট হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ছিল ৫৩০০ টাকা।

বৈঠকে সংসদ সদস্য সালাম মুর্শিদী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক বিজিএমইএর প্রাক্তন সভাপতি আতিকুল ইসলাম, হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান একে আজাদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামছুন্নাহার ভূইয়া, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন, ইন্ড্রাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন এবং শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষসহ মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বৈঠকে অংশ নেন।

কৃত্রিম কিডনি তৈরি করলেন বাঙালি বিজ্ঞানী

bd-ptatidin-Sf-04-02-17-03আধুনিক লাইফস্টাইলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে নানা রোগের ডিপো। সেই তালিকায় রয়েছে কিডনি রোগও। বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। এই কিডনি সমস্যার সমাধানে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী। নতুন এই আবিষ্কারটির সফল পরীক্ষাও চালিয়েছেন তিনি। হয়তো ২০১৯ সাল নাগাদ বাজারে আসবে কৃত্রিম কিডনি।

কিছুদিন আগে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম কিডনি তৈরি করে ব্যাপক  হৈচৈ ফেলে দেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী শুভ রায়। তার আবিষ্কৃত এই কৃত্রিম কিডনি আসল অঙ্গের মতোই কাজ করতে সক্ষম। এই কিডনি রক্তের বিষাক্ত পদার্থ ছাঁকা থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ভিটামিন ডি তৈরি, সব কাজই করতে পারবে।

আধুনিক জীবন জেট গতির লাইফস্টাইল। ফাস্টফুডের প্রতি তীব্র ভালোবাসা। পরিণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর রোগের ডিপো। বারোটা বাজছে হার্ট, ফুসফুস, লিভার, কিডনির। ক্রনিক হচ্ছে কিডনির রোগ। ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এসব সমস্যার সমাধানই হলো কিডনি প্রতিস্থাপন। খুব শিগগিরই বাজারে আসছে বিজ্ঞানী শুভ রায়ের এই কৃত্রিম কিডনি। আকারে হাতের মুঠোর সমান। খরচ তুলনায়ও অনেকটাই কম। ২০১৯-এর মধ্যেই বাজারে আসার সম্ভাবনা এই কৃত্রিম কিডনির।

ইতিমধ্যে এই আবিষ্কারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন শুভ রায়। তিনি আশা করছেন, কয়েক বছরের মধ্যে এই কিডনি মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি দরকার। আপাতত সেই অনুমতির অপেক্ষায় আছে শুভ রায়ের দল।

এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে শুভ জানান, ১০ বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন সহকর্মীকে নিয়ে কৃত্রিম কিডনি তৈরির কাজ শুরু করেন তারা। এই প্রকল্প সফল হলে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় কিডনির চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুভর এই আবিষ্কারের খবর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে প্রকাশিত জার্নাল ‘টেকনোলজি রিভিউ’তে ছাপা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে এই খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়।

মনেপ্রাণে বাংলাদেশি শুভ

কিন্তু কিছু গণমাধ্যমে শুভকে ‘ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক’ উল্লেখ করায় খানিকটা চটেছেন এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। পড়াশোনা এবং কর্মজীবনে আমেরিকায় স্থায়ী হলেও মনেপ্রাণে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবেই গর্ববোধ করেন এই বিজ্ঞানী। শুভ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের ছেলে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গেছি। আমাকে কেন ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, এটা নিয়ে আমি বিব্রত।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শুভ। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন। এর আগে বাবার কর্মক্ষেত্রের সুবাদে উগান্ডায় বসবাস করেন অনেকদিন।

চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কৃত্রিম কিডনির সহ-আবিষ্কারক শুভ রায় জানান, আমেরিকায় তৈরি এই যন্ত্র আপাতত সেদেশের কয়েক হাজার রোগীর দেহে পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছে। শারীরিক সুরক্ষা ও সর্বাঙ্গীন সাফল্যের পরীক্ষায় উতরালে তা বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেবে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক এফডিএ।

যেভাবে কাজ করে কৃত্রিম কিডনি

এর উত্তরে শুভ রায় বলেন, যন্ত্রটি সহজেই পেটের ভিতরে স্থাপন করা যায়। স্বাভাবিক কিডনির মতো রক্ত শোধন করা ছাড়াও হরমোন উৎপাদন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। সাধারণ হিমোডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার মতো রক্ত থেকে বিষাক্ত বর্জ্য বাদ দেওয়া ছাড়াও জীবন্ত কিডনি কোষ দিয়ে তৈরি বায়ো রিঅ্যাক্টর এবং সূক্ষ্ম পর্দার মাধ্যমে রক্ত শোধনের কাজ নিখুঁতভাবে করতে পারে কৃত্রিম কিডনি।

কম খরচ

কিডনি সমস্যায় বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস এবং হাই ব্লাড প্রেশারই তার অন্যতম কারণ। কিডনির ক্রনিক সমস্যা সমাধানে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ অনেক।

কৃত্রিম কিডনির সঠিক খরচের হিসাব এখনই না বললেও শুভ রায়ের দাবি, ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের চেয়ে অনেক কম খরচে বসানো যাবে কৃত্রিম কিডনি।

কাতারের প্রেসিডেন্ট মসজিদে বাংলাদেশি খতিব

c372705352ef82d5eab989cca038a34dকাতারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে প্রতি জুমায় খুতবা দেন একজন বাংলাদেশি খতিব। বাংলাদেশের জন্য এটি গৌরব ও আনন্দের বিষয়। একজন বাংলাদেশি হয়েও কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যেত পারলেন।

বাংলাদেশের এই কৃতি সন্তানের নাম হাফেজ কারি সাইফুল ইসলাম। তার সাফল্যের শুরু ২০০৫ সালে। সে বছর ‘দুবাই হলি কুরআন এ্যাওয়ার্ড’-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি।

এরপর ২০১০ সালে আসেও আরো বড় সাফল্য। জর্ডানে ৬০টি দেশের সম্মলিত তাফসিরুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করে তিনি কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন। তখনও তিনি পড়াশোনা করছিলেন দেশের একটি স্বনামধন্য কওমি মাদরাসায়। এরপর দাওরা হাদিস (মাস্টার্স সমমান) সম্পন্ন করার পাশাপাশি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে কাতার ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ লাভ করেন। ২০১২ থেকে চার বছর মেয়াদে সেখানে অনার্স সম্পন্ন করেন।

কীভাবে তিনি কাতার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খুতবা প্রদানের সৌভাগ্য অর্জন করেন, সে প্রসঙ্গ খুবই চমকপ্রদ ও ঈর্ষণীয়।  ২০০৪ সাল থেকে কাতারের রাজপরিবারের সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্ক। সে বছর ‘দুবাই হলি কুরআন অ্যাওয়ার্ড’ জয়ের পর থেকে রাজপরিবারের সদস্য আবদুল আজিজ বিন খালেদ আবদুল্লাহ আল-থানি তাকে নিয়মিত কাতারে আমন্ত্রণ করতেন। প্রতি বছর আসা-যাওয়ার টিকিট ও আনুসাঙ্গিক খরচসহ দুইবার তাকে কাতার নিয়ে যাওয়া হতো। প্রথমবার যেতেন মাত্র এক সপ্তাহের আনন্দভ্রমণে। মাদরাসায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিয়েই ছুটি কাটাতে ছুটে যেতেন কাতারে।

দ্বিতীয়বার যেতেন রমজান-মৌসুমে। সেখানে রাজপরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের তিনি তারাবির নামাজে ইমামতি করতেন। তারপর তাদের সঙ্গে সৌদিতে গিয়ে ওমরা পালন করে ঈদের দিন দেশে ফিরে আসতেন। তার এমন দারুাণ ও সুখময় আসা-যাওয়া ২০১২ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খতিবের দায়িত্বে যেভাবে

কাতারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে খতিবের দায়িত্ব তিনি রাজপরিবারে কিছু সদস্যের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পাননি। বরং আল্লাহর মেহেরবানি ও করুণা এবং নিজের যোগ্যতায় পেয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৫ সালে কাতার ইউনিভার্সিটিতে অনার্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকবস্থায় একদিন দেখলেন, পার্শ্ববর্তী অভিজাত এলাকা দাফনার রমিলার সেনাবাহিনীর অফিসারদের ২০৭ নং মসজিদে খতিব চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইন্টারভিউ দেওয়ার মনে সাধ জাগে তার। কিন্তু বিষয়টি অতটা সহজ ছিল না। কারণ কাতারে ইমাম ও খতিবের নিয়োগ সরকারি পরিক্ষার মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক পরিশ্রম ও সাধনার পর খুতবা পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন। এরপর থেকে উক্ত মসজিদে টানা এক বছর খতিবের দায়িত্ব পালন করার পর তাকে কাতারের আমিরের প্রাসাদ মসজিদে ট্রান্সফার করা হয়। বর্তমানে তিনি এ মসজিদে খতিবের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-উবাইদিলি’ মসজিদে ইমাম এবং তারাবির দায়িত্বও পালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সেনাবাহিনীর মসজিদটিতে প্রদানকৃত তার খুতবাগুলো রাষ্ট্রের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের মনে ছুঁয়ে যায় বেশ। এরপর ২০১৭ সালের রমজানে হঠাৎ ফোন করে তাকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মসজিদে জুমার খুতবা দিতে হবে। সেখানে কাতারের প্রেসিডেন্ট ও রাজপরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।

এমন গুরুভার দায়িত্ব সম্পর্কে ফোন পাওয়ার পর বেশ চিন্তায় পড়ে যান তিনি। মনে দ্বিধাদ্বন্ধ ও অজানা শঙ্কার ডালপালা গজাতে শুরু করে। কিন্তু জুমার দিন আগেভাগে কর্তৃপক্ষ গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পরে মনে আশার সঞ্চার হয়। আল্লাহর কাছে দোয়া-প্রার্থনা করা হয়।

এরপর ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই প্রথমবারের মতো খুতবা দিয়ে রাজপরিবারের মুসল্লি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মন জয় করেন। তখন থেকে তার এ গুরুদায়িত্ব এখনো বলবৎ রয়েছে। বাংলাদেশের সুনাম কুড়ানোর পাশাপাশি কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি দায়িত্বে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন।

হাফেজ সাইফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদরের নয়নপুর পৌরসভা এলাকায়। তার বাবার নাম বাবার নাম ডা. ওয়ালিউর রহমান। স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তিনি মাদরাসায় ভর্তি হন। দেখের খ্যাতিমান কোরআনের হাফেজ মাওলানা আবদুল হকের কাছে হিফজ করেন। এরপর ২০১১ সালে দাওরা হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল আরকাম মাদরাসায় থেকে। ২০১২ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেন। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে কাতার ইউনিভার্সিটিতে গমন করেন। ২০১৭ সালে সেখান থেকে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স সম্পন্ন করেন।

ব্রিটিশ শিক্ষা পুরস্কার 2018 জন্য ইশতিয়াক আল জামিল মনোনিত

jamil

জিসিএসই বিভাগের শিক্ষাগত ফলাফল এবং অন্যান্য অর্জন এর জন্য ব্রিটিশ শিক্ষা পুরস্কার 2018 জন্য ইশতিয়াক আল জামিল মনোনিত করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ব্রিটিশ শিক্ষা পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ।

ব্রিটিশ শিক্ষা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আগামী বুধবার 31 শে জানুয়ারী, 2018 বিকাল 6 টায়
হিল্টন ম্যানচেস্টার ডেসগেটে (বিথাম টাওয়ার), 303 ড্যানগেগেটে,
ম্যানচেস্টার, এম 3 4 এল.কিউ,
অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য; ইশতিয়াক জামিল ২০১৭ জিসিএসই পরীক্ষায় রাগবী শহরের
স্বনামখ্যাত Lawrence sheriff school. থেকে
১২টি বিষয়ের মধ্যে 10A*s এবং 2As লাভ করেছে ।

উক্ত হাইস্কুলের এবারের জিসিএসই
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে টপ-১০ ফলাফল প্রাপ্তদের একজন হয়েছে সে।

তার পিতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের লালার গাও গ্রামের আব্দুল গফুর কিন্ডারগার্টেন এন্ড জুনিয়র হাইস্কুল এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচাক জনাব আসিক মিয়া।

Developed by: