বিভাগ: সাহিত্য-সংস্কৃতি

গীতিকার শাহ আবদুল ওদুদ : একজন পরীক্ষিত স্বজন মোহাম্মদ নওয়াব আলী

পুণ্যভূমি সিলেটকে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘শ্রীভূমি’ বলে আখ্যায়িত করেননি; শ্রীভূমির মানুষ কাব্যপ্রিয়, প্রেমবিলাসী ও রসিক বলে তিনি সিলেটের প্রতি দুর্বল ছিলেন। এ অঞ্চলে কাব্য, পুথি, মরমি সংগীতের ধারা বহমান যুগ যুগ ধরে। মহাকবি সৈয়দ সুলতান, হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, দুর্বিন শাহ, শিতালং শাহ, কালা শাহ, দীনহীন, শেখ ভানু, সৈয়দ শাহ নূর, মাওলানা ইয়াছিন, ভেলা শাহ, লতিফ শাহ, আরকুম শাহ ও শাহ আবদুল করিম এঁরা এই সিলেটের সন্তান। যাঁদের ছন্দময় উচ্চারণ, সুর ও বাণীর ঝংকার আজও মানুষের মনে অনুরণন সৃষ্টি করে।
এ ধারার একজন সফল ও অনন্য গীতিকার শাহ আবদুল ওদুদ। জন্ম ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙেরকাছের বুবরাজান গ্রামে। পিতা আলহাজ সিরাজুল ইসলাম, মাতা আলহাজ খোরশেদা বিবি। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ।
মানুষ ও জীবনের প্রতি অনাবিল ভালোবাসা, হৃদ্যতা ও প্রগাঢ় সহমর্মিতা না থাকলে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সেবক হওয়া যায় না। ভাবুকরাই ভাবসাগরে হরদম প্রসব যন্ত্রণায় ভোগেন। যাদের অবস্থান এর বিপরীতে তারা সর্বদা কটাক্ষ নিন্দার কাঁটা বুনেন। এতে প্রকৃত ভাবুকদের কিছু যায় আসে না। ভাবুকদের সঙ্গে আমার সখ্য দীর্ঘ দিনের। ভাবুকদের সংস্পর্শ পেলে মনে হয় আকাশের অর্ধেক চাঁদ পেয়েছি। আমার দৈনন্দিন জীবনের বেশিভাগ সময় কাটে ভাবুকদের সাথে।
মরমি গবেষক, গীতিকার ও সাংবাদিক, বন্ধুবরেষু মো. খালেদ মিয়া ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের শেষ দিকে একজন ভাবুকপ্রাণ মরমি সংগীত সাধক শাহ আবদুল ওদুদকে নিয়ে এলেন আমার অফিসে। ধবধবে সাদা পোশাক আর লকলকে কালো চুল-দাড়ির সফেদ মানুষ। পরিচয় পর্বের শেষ প্রান্তে জানা হলো তার ‘দিলতরঙ্গ’ নামক প্রথম গীতিগ্রন্থ প্রকাশিত হবে। গ্রন্থে আমার একটু মন্তব্য থাকবে এজন্যই আসা।
পাড়া গাঁয়ের নির্মল বায়ুর সংস্পর্শে বেড়ে ওঠা গ্রাম বাংলার অকৃত্রিম একজন সংগীত সাধকের প্রথম গ্রন্থ বেরুচ্ছে শুনে আমার অন্তর আনন্দে উদ্বেলিত হলো। আমি এ রকম গীতি চর্চাকে বরাবরই শ্রদ্ধা জানাই।
স্বল্প দেখায় অল্প কথায় বোঝা গেল শাহ আবদুল ওদুদ সহজ, সরল, নিরহংকার, খোদাভক্ত, ভাবের দেশে বসবাসকারী একজন নীরব সাধক। বিত্ত বৈভবের ধার ধারেন না তিনি। ওলি আউলিয়াদের পদস্পর্শে কাটে তার অধিক সময়।
১০১টি গানের অনবদ্য গ্রন্থ ‘দিলতরঙ্গ’ প্রকাশিত হলো। বিশ্বনাথের সিঙেরকাছে ১৫ জানুয়ারি ২০০০খ্রি. প্রকাশনা অনুষ্ঠান। গীতিকারের আবদার, সেখানে আমাকে থাকতে হবে। বালাগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ সাংবাদিক মহিউদ্দিন শীরু ও জনপ্রিয় মরমি গীতিকার গিয়াস উদ্দিন আহমদের সাথে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অংশ নিলাম। শাহ আবদুল ওদুদের আত্মীয়তায় সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম। এভাবে সখ্য বেড়ে চলে তার সাথে।
আমি তখন জাতীয় গীতিকবি পরিষদের সিলেট বিভাগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছি। বিভাগীয় কমিটিতে খালেদ মিয়ার সাথে শাহ আবদুল ওদুদও সংযুক্ত ছিলেন।
শাহ আবদুল ওদুদ নিয়মিত শাহজালাল (র.) ও শাহপরান (র.) সহ বিভিন্ন মাজারে প্রাণের টানে যাতায়াত করেন। সিলেট আসলেই আমার প্রকাশনী সংস্থায় উঠতেন। সব উরসেই তার কাফেলায় নিমন্ত্রণ থাকতো আমার। শাহজালাল (র.) এঁর মাজারে উরস হলেই তার কাফেলার সুবাদে প্রায়ই উরসে যেতাম। তিনি আমাকে দেখলেই ব্যস্ত হয়ে যেতেন-কোথায় বসাবেন, কোথায় রাখবেন।
এভাবে নিয়মিত যোগাযোগে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। আমিসহ আমার ভাইদের সাথে তার হৃদ্যতা ঘনিষ্ঠতর হয়। হয়ে ওঠেন তিনি ফ্যামেলি মেম্বার। সবার কাছে পীর সাহেব।
অন্য দশজন বন্ধুর চেয়ে তিনি সম্পূর্ণ আলাদা। সব সময় কম কথা বলেন। প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া অতিরিক্ত কথা বলেন না। সদা সাদা পোশাক পরেন। পোশাক কখনো মলিন হয় না; সব সময় ধবধবে সাদা থাকে। তাকে যখন থেকে দেখেছি তখন থেকেই একই বয়সের মনে হয়। বয়স বাড়ে ও না কমে ও না এমন অবস্থা। তিনি প্রকৃত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও আমি এবং খালেদ মিয়া সব সময় পীর সাব বলে সম্বোধন করি।
পীর সাহেব ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ইংল্যান্ড যাত্রা করেন। যাত্রার প্রাককালে ঘনঘন আমার অফিসে আসতেন। ইংল্যান্ডে গিয়ে বারবার যোগাযোগ, বারবার খবরাখবর যেন তার মন বসছে না পরদেশে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় আসতেও পারছেন না। কিন্তু দেশ, মাটি, মানুষ, ওলি আউলিয়ার মাজার যেন তাকে টানছে। তাকে হাতছানি দিচ্ছে। দেশের প্রতি নিখাঁদ ভালোবাসার গভীরতা লক্ষ্য করছি।
অনেক বন্ধু আছে প্রত্যক্ষভাবে উপকার করলেও পরোক্ষভাবে অপকার করার নজির সমাজে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত। কিন্তু শাহ আবদুল ওদুদ একজন খাঁটি বন্ধু, খাঁটি মানুষ। পরোক্ষে তার কোন আত্মঘাতি শব্দচয়ন শুনিনি। বিষবাণে জর্জরিত হইনি। তিনি আমাকে কেন এত ভালোবাসেন? আমার প্রতি কেন এত নির্ভরতা করেন? কেন এত মূল্যায়ন করেন? কিছুই আমি বুঝতে পারি না। প্রবাসে অবস্থানের পর থেকে নিয়মিত ফোনালাপ। আমার পরিবারের সকলের খবরাখবর নেয়া। তার সব কটি কাজে আমাকে ওয়াকিবহাল করা। মনে হয় সহোদর। যেমন-মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দায়িত্ব আমার উপর। বাংলাদেশ বেতারে গীতিকারের জন্য পাণ্ডুলিপি জমার দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। ‘পরশমণি’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান যেভাবেই হোক করতে হবে। চারটি বই প্রকাশের দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। এসব দায়িত্ব আমিই নিয়েছিলাম এবং সুচারুরূপে পালন করেছিলাম। অন্যান্য অনেক বিষয়ে যখন যেখানে দরকার আমাকেই শেয়ার করেন। ফ্যামিলিগত বিষয়গুলোও স্বাচ্ছন্দে আমাকে বলেন। আমাকে ওয়াকিবহাল করেন। যা সচরাচর মানুষ করে না। কেন এত বিশ্বস্ততা আমি জানি না। আমি কি এ বিশ্বস্ততার মূল্যায়ন দিতে পারব বুঝতে পারি না।
শাহ আবদুল ওদুদের এ যাবৎ প্রকাশিত গানের বই ৪টি। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ নভেম্বর ১০১টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘দিলতরঙ্গ’। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি ১২৩টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘প্রেমের মরা’। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে ১০৬টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘মধ্যে মায়া নদী’। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ খ্রি. ৫৭টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘পরশমণি’। ‘দিলতরঙ্গ’ ও ‘প্রেমের মরা’ গ্রন্থ দুইটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পরিমার্জিত করে আবার প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া শাহ আবদুল ওদুদ ২০১৯ খ্রি. একুশে গ্রন্থমেলায় সম্পাদনা করেন ‘আল¬ামা দুর্বিন শাহ’ গ্রন্থ। সম্পাদিত এ গ্রন্থে মরমি কবি দুর্বিন শাহের বিভিন্ন স্বাদের বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় ৫১টি গান সংকলিত হয়। গ্রন্থের ফ্লাপ লিখেন বাংলাদেশ বেতারের গীতিকার মো. খালেদ মিয়া।
শাহ আবদুল ওদুদের গানে উঠে এসেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের হাসি-কান্না, আবেগ-অশ্র“, আশা-আকাক্সক্ষা, জীবন-জিজ্ঞাসা, অন্যায়-অসংগতি, অত্যাচার-অবিচার, নির্যাতন-শোষণ, প্রেম-বিরহ, জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলনের সাবলীল এবং গতিশীল সহজ সরল উচ্চারণ। কালজয়ী এ গানগুলোতে সচেতন মানুষের জন্য অনেক ম্যাসেজ আছে।
গীতিকারের প্রতি অবিচার করা হবে যদি তার শাশ্বত, চিরন্তন, বাস্তব, জনপ্রিয় কিছু গানের উক্তি এখানে তুলে না ধরি। তাই কয়েকটি গানের অংশবিশেষ সন্নিবেশিত করা হলো। যেমন-
‘মাকুন্দা নদীর তীরে আমার জন্মস্থান/ নামটি শাহ আবদুল ওদুদ পেশা হলো গান/ গান গাই না শুধু লেখি/ গানের সুরে বন্ধুরে ডাকি/ দিদারের প্রত্যাশা রাখি ওলি আউলিয়ার শান। খাগহাটা পীরবাড়ি/ সুখে দুঃখে বসত করি/ ভাবের টানে দিলাম ছাড়ি মান কুলমান/ মাথায় রাখি লম্বা চুল/ জীবন নদীর পাইলাম না কুল/ মুর্শিদ মৌলা শাহ আবদুল মুকিতের চরণ ধুল মহা মূল্যবান \’
‘যে ডুবে না ভাবের জলে/ কী লাভ হয় বলো কাঁদিলে/ ফানাপীর শেখ না হলে হয়কি কালার দরশন।/ মুর্শিদ নাম যার হয়েছে সার/ শুকনা গাঙে নাও দৌড়ে তার/ মরা গাঙে ফুলের বাহার এ ওদুদের ফুটাইবানি নিরঞ্জন \’
‘ইলিম ছাড়া সাজলে ফকির ঘটিবে লাঞ্ছনা/ দেখা দেখি লম্বা চুল কেউ রাখিও না/ গান বাজনায় মজাইলে মন/ তরিকা জানে না সেজন/ হইল না তার সাধন ভজন জীবনটা তার বেফানা \’
‘মানুষ জাতি আল¬াহর সৃষ্টি বড়ই মূল্যবান/ মানুষকে যে নিন্দা করে সে বড় নাদান \’
‘জায়গা চিনে করো সেজদা, নইলে যাবে বেহুদা/ চোখ থাকতে দেখলে না খোদা, মানব জীবন অকারণ \’
‘গানে মিলে আত্মার আরাম/ খোদার শানে গাও অবিরাম/ অর্থ না বুঝলে হারাম, দলিলে প্রমাণ পাই \’
বাংলাদেশ বেতারের অনুমোদিত গীতিকার শাহ আবদুল ওদুদ মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির গভীর সন্নিকটে মিশে থাকায় তার লেখায় কোন কৃত্রিমতার ছোঁয়া নেই। তিনি সহজ, সরল, সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় হৃদয়ের সকল ভালোবাসা দিয়ে অত্যন্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে চিত্রায়ন করেছেন জাগতিক ও মহাজাগতিক অনেক বিষয়াশয়। ধ্যানী ব্যক্তি শাহ আবদুল ওদুদ অবসর সময়ে ধ্যানমগ্ন থেকে নিজের সাথে নিজে কথোপকথন করেন। স্রষ্টা-সৃষ্টি নিয়ে ভাবেন।
শাহ আবদুল ওদুদ ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তার সহধর্মিণী আম্বিয়া বেগম একজন সুগৃহিণী। লেখালেখির জগতে সহধর্মিণীর যথেষ্ট প্রেরণা রয়েছে বলেই তিনি সফলতার দ্বারপ্রান্তে যেতে পেরেছেন।
তিনি ৬ ছেলে ও ৩ মেয়ে সন্তানের সফল জনক। তার ছেলে মেয়েরা হলেন যথাক্রমে শাহ আলিমুল ইসলাম, শাহ তাহেরা খাতুন শিউলী, শাহ আমিনুল ইসলাম রুবেল, শাহ হাজেরা খাতুন চামেলী, শাহ আরিফুল ইসলাম জুবেল, শাহ আমিরুল ইসলাম শাকিল, শাহ আনিসুল ইসলাম শাহিন, শাহ আজিজুল ইসলাম জামিল ও শাহ সোনিয়া বেগম জুই।
আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হলেও কোন দিন তুমি শব্দ উচ্চারণ করতে পারিনি। কারণ পীর সাহেব আপনি ছাড়া কোন বাক্য সম্বোধন করেন না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসে আপনি শব্দটি। একজন মহৎ, নিরহংকার, বন্ধুবৎসল, পরোপকারী মানুষ শাহ আবদুল ওদুদের জন্মদিনে তাকে প্রাণখোলা মরমি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সেই সাথে তার লেখালেখির আরও সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

জনপ্রিয় গীতিকার শাহ আব্দুল ওদুদের ৫১তম জন্মদিন আজ

ছন্দময় উচ্চারণ, সুর ও বাণীর ঝংকার মানুষের মনে অনুরণন সৃষ্টি করে যার গান শুনলে তিনি হলেন বাংলাদেশ বেতারের অনুমোদিত গীতিকার শাহ আবদুল ওদুদ। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙেরকাছের বুবরাজান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহাজ সিরাজুল ইসলাম, মাতা আলহাজ খোরশেদা বিবি। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ।
তার গান মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির গভীর সন্নিকটে মিশে থাকায় কোন কৃত্রিমতার ছোঁয়া নেই। তিনি সহজ, সরল, সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় হৃদয়ের সকল ভালোবাসা দিয়ে অত্যন্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে চিত্রায়ন করেছেন জাগতিক ও মহাজাগতিক অনেক বিষয়াশয়। ধ্যানী ব্যক্তি শাহ আবদুল ওদুদ অবসর সময়ে ধ্যানমগ্ন থেকে নিজের সাথে নিজে কথোপকথন করেন। স্রষ্টা-সৃষ্টি নিয়ে ভাবেন।
শাহ আবদুল ওদুদের এ যাবৎ প্রকাশিত গানের বই ৪টি। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ নভেম্বর ১০১টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘দিলতরঙ্গ’। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি ১২৩টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘প্রেমের মরা’। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে ১০৬টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘মধ্যে মায়া নদী’। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ খ্রি. ৫৭টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘পরশমণি’। ‘দিলতরঙ্গ’ ও ‘প্রেমের মরা’ গ্রন্থ দুইটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পরিমার্জিত করে আবার প্রকাশ করা হয়।
শাহ আবদুল ওদুদ ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তার সহধর্মিণী আম্বিয়া বেগম একজন সুগৃহিণী। লেখালেখির জগতে সহধর্মিণীর যথেষ্ট প্রেরণা রয়েছে বলেই তিনি সফলতার দ্বারপ্রান্তে যেতে পেরেছেন।
তিনি ৬ ছেলে ও ৩ মেয়ে সন্তানের সফল জনক। তার ছেলে মেয়েরা হলেন যথাক্রমে শাহ আলিমুল ইসলাম, শাহ তাহেরা খাতুন শিউলী, শাহ আমিনুল ইসলাম রুবেল, শাহ হাজেরা খাতুন চামেলী, শাহ আরিফুল ইসলাম জুবেল, শাহ আমিরুল ইসলাম শাকিল, শাহ আনিসুল ইসলাম শাহিন, শাহ আজিজুল ইসলাম জামিল ও শাহ সোনিয়া বেগম জুই।

গর্দভবচন-৮৮ [হেলাল আহমদ চৌধুরী।]

নীল হলুদে সবুজ মাঠ।
সফেদ রঙে আকাশ পাট।…
প্রলয় নাচন্ নাচছে কেমন তাথই বেশ!
বিশ্ব হাসে—আহ্ কী-রে এক আজব দেশ!!

গর্দভবচন-৮৯ [লেখক : হেলাল আহমদ চৌধুরী।]

ওরে মাতাল! তুমি কিবা…
জেনেশুনে বিষ করেছ পান
খেলা কি তোমার জীবনে
প্রাণের চেয়ে বেশি জানের জান!

গর্দভবচন-৯০ [লেখক : হেলাল আহমদ চৌধুরী।]

ঘুস খায় কেহ হাঁসডুবে
দেখে না তা ‘দুদকে’
তুষ খেলে গোরু-ছাগে
ঘাড় মোড়ে ‘মূসকে’।

জয়বাংলা পুরষ্কার জয় করেলো সিলেটের কাকতাড়ুয়া

joyবাংলাদেশের তরুণ সংগঠকদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার “জয়বাংলা ইয়থ এওয়ার্ড ২০১৭” অর্জন করেছে সিলেটের স্থিরচিত্র ও চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠন কাকতাড়ুয়া। এর মূল আয়োজক ছিলো সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)’র তারুণ্যের প্ল্যাটফর্ম ইয়ং বাংলা। ঢাকার শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে কাকতাড়–য়ার সভাপতি খলিলুর রহমান ফয়সালের কাছে জয়বাংলা পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
বাংলাদেশের হাজার হাজার সংগঠনের মধ্য থেকে সিআরআই চারমাস ধরে ৮২টি অধিবেশনের মাধ্যমে ১৩শ’ আবেদন গ্রহণ করে। এর মধ্য থেকে সেরা সংগঠনগুলো নিয়ে যাচাই বাছাই শুরু হয় এবং ৫০টি সেরা সংগঠনের নাম প্রকাশ করে। নির্বাচিত ৫০টি সংগঠনের মধ্যে ৩০টি সংগঠনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। তার মধ্যে কমিউনিটি উন্নয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা হয় সিলেটের কাকতাড়ুয়া। পরবর্তীতে ফাইনাল রাউন্ডে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ট দশটি সংগঠনের অন্যতম হিসেবে কাকতাড়ুয়াকে পুরস্কৃত করা হয়।

ময়নূর রহমান বাবুল’র গুচ্ছকবিতা

VLUU L200  / Samsung L200
প্রয়োজন

একটা নিস্তব্ধ রাত আমার দরকার
প্রচ- ঘুম আজ আমার দুটি চোখে
শিয়াল ডাকে ডাকুক, পূর্ণিমা হোক
ভোরের আশায় তবু ঘুমাবো সুখে।

একটা দেশ চাই, দেশের মাঝে গ্রাম
গ্রামে থাকবে উপচেপড়া ফুল ফসল
মানুষ হবে নির্মোহ, ভরা সতেজ প্রাণ
উড়বে সেথায় রঙিন প্রজাপতি দল।

মানুষ চাই, চাই আমি অনেক বীর
বীরেরা এনে দেবে নিরুপদ্রব রাত
ছবির মতো গ্রাম, গ্রামের মতো দেশ
বিপ্লবেই আসবে আলো, আসে প্রভাত।

একটা ভোর চাই, সূর্য উঠা ভোর
নির্মল বায়ু আর মিষ্টি সোনালি রোদ
বাঁচার তাগিদে আমার এসব চাই
যদি না পাই, তবে নেব প্রতিশোধ।

হিংসা, ক্লেশ, শোষণের চাই পরিবর্তন
বায়ু আলো ভরা ভোর আমার প্রয়োজন।

ভেজা খাম

যখন আমার এ চিঠিখানা তুমি পাবে
হরহর করে ডাকহরকরা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে
পৌঁছে দেবে, ভেজা খামখানা তোমার হাতে।
প্রেমাতুর হাতে খুলবে তুমি, আলতো হাতে,
যেন ছিঁড়ে না যায়, আমার দেয়া চিঠি খানি।

এখন ভরা বরষা, চারদিকে থৈ থৈ জল,
জলেতে ডুবেছে বসত বাড়ি, পথ ঘাট
হরিদের নলকূপ, গৌরীদের পাঠশালা
এটুকুন কবরের জায়গাও নাই বলে-
জলে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে ওপাড়ার রমিজের লাশ।

অজোর ধারায় গড়ায় বৃষ্টি, পড়ে টাপুর টুপুর
এ যেন ঘাঢ় আঁধারে বাঁঝে কারো পায়ের নুপুর
সারা অঞ্চল, বানে ভাসা সব এলাকার নদী ও পুকুর
চারিদিকে হাহাকার, দিশেহারা মানুষ কাঁদিছে যন্ত্রণায়।

এ ভেজা খাম, ভিজেনি বৃষ্টিতে বরষার
ভাদরের বরিষণের মতো আমার দু’চোখে
অঝোর ধারায় নেমে আসা নোনাজল
ভিজিয়ে দিয়েছে খাম, এই চিঠি, এই লেখা।

গলাডুবা জলে দুবেছে সব তাল নারিকেল
ঝড়ের ঝাপটায় আর বানের স্রোতে
সুপারি গাছের মাথায় ধর্ষিতার চুলের নমুনা
ফোটা ফুল কদমের হয়েছে সলিল সমাধি
নিষ্ঠুর স্রোতে ভেসে গেছে সব লালপদ্ম
স্থলচর প্রাণীগুলো ভাসছে অথৈ জলে…

এমন বানতাড়িত হাহাকার সময়েও এ অঞ্চলে
নেতা আসে, ক্যামেরার ফ্ল্যাশগুলো বারবার হাসে
ভোরের পত্রিকার প্রথম পাতায় তাদের ডাউস রঙিনছবি
আর ভিক্ষা-বিতরনের খবর সযত্নে ছাপা হয়,
কিন্তু ছাপা হয়না কৈতরির জলে ডুবে লাশ হওয়ার
কিংবা অনাহারে আত্মহত্যা করা শিউলির খবর,
বানের আগে নদিভাঙ্গনে মথুর নাথের বাড়ী হারাবার
কিংবা আগাম অতিবৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া ফসলের কথা,
বড়লোকের খবরের ভিড়ে বানভাসা পরী মৌরিদের খবর
আমার এ ভেজা খামখানা খুলে তুমি জেনে নিও…

পাথর সময়

পৃথিবীর সব ঘড়ি এখন স্লথ
সময় দেখেনা কেউ
সূর্য আসেনা পূবের আকাশ জুড়ে
সাগরে উঠেনা ঢেউ।

উত্তর দক্ষিন পূর্ব পশ্চিমে পড়ে
সা¤্রাজ্যবাদের শ্বাস
ডান বাম সব একাকার আজ
শোষকের উচ্ছ্বাস।

লেলিন স্তালিন ফিদেল কাস্ত্রো
চে গুয়েভারা
দিকে দিকে আজ অভাব বিপ্লবীর
কাঁদিছে সর্বহারা।

ভিয়েতনাম থেকে কম্বোডিয়া
গড়তে চীনা প্রাচীর
শোষন মুক্তির ইতিহাস রচিবে
আমার দেশের বীর।

কেঁটে যাবে এই পাথর সময়
বিপ্লব দেশে দেশে
যুগের লেলিন, চে গুয়েভারা
আসছে শ্রমিক বেশে।

বোধ

পাটিগনিতে শেখা বিবিধ নিয়মের অংক
দুধে পানি মিশিয়ে লাভ ক্ষতির হিসাব
বানরের তেলামাখা বাাঁশ বেয়ে উঠানামা
সুদকষা ঐকিক লসাগু গসাগু-র ধারাপাত।

এ্যলজাবরা এ-স্কোয়ার বি-স্কোয়ার
প্লাসে প্লাসে আর প্লাসে মায়নাসে
হিমাঙ্কের দশ ডিগ্্রী নিচে বরফ ঠেলে
জীবনের চাকা ঘুরছে এখন দিনরাত।

লাভ ক্ষতি, সুদকষা, ঐকিক নিয়ম
হোলথিন স্কোয়ারের সূত্রগুলো সব
খুবই বেমানান বাস্তব জীবনে আজ
হারিয়ে যাওয়া কিশোর প্রেমের মতো।

যা কাজে লাগবে তা নিতে পারিনি সাথে
বাস্তবের কিছুই শিখতে পারিনি কখনো
নিজ দেশে জন্মেও করতে পারিনি বসবাস
জ্ঞানের পাঠ ফেলে কুবচন জপেছি অবিরত।

বিদ্যাপীঠ ব্যস্থ সদা আকাশ-কুসুম পাঠে
জীবন বাস্তবতা জ্ঞানের মন্দিরে তালা এটে।
বলদের মতো বয়ে বেড়াই সনদের বোঝা
লক্ষ্য আদর্শহীন পাখামেলা পিঁপড়ার মতো !

স্মৃতিগুলো আমার

কর্পূর দেয়া ছিলনা বলে আমার তোরঙ্গে
পুরনো স্মৃতিগুলো সব
তেলাপোকা, উইপোকা, পোকামাকড়ে মিলে
খেয়ে দেয়ে ভষ্ম করেছে।
কতো মধুর স্মৃতি ছিলো
জমানো কতো সোনার স্মৃতি
রূপোর স্মৃতি মণিমুক্তা খচিত।

সুখের স্মৃতিগুলো আজ নাই
খেয়েছে ইঁদুরে অথবা-
কর্পূরের মতো মিলিয়ে গেছে
মিশে গেছে বাতাসে।

দুলি অঞ্জলি, কেউ এখন আর স্মৃতিতে নেই
সুনা হিরু’র নাম ই তো আর মনে নেই আজ..

সামনে বাকি অনেক কাজ,
সামনে আগাই, পিছন ফিরে তাকাই
সাথে আছে কিছু বিরহের স্মৃতি
মনে পড়ে শুধু হারানোর কথা-
কুরে কুরে মোচড় মারে শুধু-
বিচ্ছেদের ব্যথা, হারানোর বেদনা
ও গুলো খায়নি ঘূণে, তিতা বলে
মিষ্টি স্মৃতিগুলো একেবারেই আজ আর নাই
টক্ ঝাল বিস্বাদের গুলোই শুধু বয়ে বেড়াই।

তোমাকেই

তোমাকে বার বার কবিতায় তুলে আনি
অথবা উঠে আসো তুমি আমার কবিতায়।
মনের কুঠরীতে লুকিয়ে রাখি
তবু বেরিয়ে আসো বারবার।

তোমাকে লুকোতে আমার কবিতায়
উল্টো করে লিখি তোমার নাম
কবিতা প্রেমিক পাঠক, কেমন যেন
বুঝে নেয় আমার চালাকি
তারা ঠিক নামটি পড়ে নেয় গল্পে কবিতায়,
জীবন্ত তুমি কথা বলো অবিরাম
পাঠকও হাসে, মাতে, তোমার সাথে
যতই লুকোতে চাই, রাখতে চাই গহীন বুকে
ততই বেরিয়ে আসো তুমি
ততই প্রকাশ করি তোমাকে।

হে প্রিয় নেত্রী মওদুদ আহমেদ আকাশ

0001হে প্রিয় নেত্রী
তুমি আমাদের চোখের মণি,
তুমি আমাদের সুখের জয়ধ্বণি।
হে প্রিয় নেত্রী
তুমি কোটি মানুষের আশা,
তুমি সোনার বাংলাকে টিকে রাখার ভরসা।
হে প্রিয় নেত্রী
তুমি সদা সত্যের পথে এগিয়ে চলো,
তুমি সবসময় ন্যায়ের কথাই বলো।
হে প্রিয় নেত্রী
তুমি দেশের শান্তির প্রতীক,
তুমি সঠিক পথে চলার নির্ভুল দিক।
হে প্রিয় নেত্রী
তুমি এগিয়ে যাও সামনে,
তুমি ঠাইঁ দাও আমাদের তোমার মনে।
তুমি আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা,
তোমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগকে ভাবতে পারিনা।
স্বজন প্রিয়জনকে হারিয়ে তুমি হয়েছ নিঃস্ব,
থাকোনি তুমি পিছিয়ে একথা জানে সারা বিশ^।
ঘাতকরা বারে বারে নিতে চেয়েছে তোমার মূল্যবান প্রাণ,
তুমি যেন দেশবাশীর জন্য প্রিয় খোদার অমূল্য দান।
তোমার দীর্ঘজীবন কামনা করি আজ এই ক্ষণে,
তুমি আছো তুমি থাকবে দেশবাসীর মনে।

স্বপ্নে টুঙ্গীপাড়া :: মওদুদ আহমেদ আকাশ

000000গভীর রাত চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার, ঘুমের ঘোরে দেখছি,
আমি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে।
ঘুম ভেঙ্গে যায় আমার।
মনে হচ্ছিলো,
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।
যেখানে শুয়ে আছেন জাতির পিতা।
সমাধি প্রাঙ্গনে পা ফেলতেই বুকের ভিতর বোবাকান্না
আর অসম্ভব রকমের অভিমান অনুভুতি কাজ করছিলো।
কেন তিনি চলে গেলেন আর এখানে একা রয়ে গেলেন এই ভেবে।
পানি ছাড়া জীবনের যেমন কোন মানে নেই।
তেমনি বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনা করা কঠিন।
সমাধিস্থল থেকে যখন ফিরছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল
পিছন থেকে কেউ ডাকছিলেন।
ফিরে তাকালাম,
দেখলাম সমাধিস্থল।
মনে হচ্ছিল বঙ্গবন্ধু বলছেন,
“আমি শুয়ে আছি টুঙ্গীপাড়ায়।
কিন্ত আমার স্বপ্ন সারা বাংলাদেশ ছড়িয়ে।
আমিতো এখানে নেই,
আমি সারা বাংলার বুকে।
যাও, বিনির্মাণ করো আমার স্বপ্ন
যাকে করেছি আমি যতœ।
তোমাদের হাতেই আমার এই দেশ
তোমরাই বাংলাদেশ।
আমি ছিলাম, আমি থাকব এই বাংলার প্রান্তরে
এই বাংলাদেশকে রেখো খুব যতœ করে”।

(লেখক : সিলেট জেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক)

‘প্রবাসী কবিদের নির্বাচিত প্রেমের কবিতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

ব্রিটেন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাঙালি কবিদের নির্বাচিত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে কবিতাগ্রন্থ ‘প্রবাসী কবিদের নির্বাচিত প্রেমের কবিতা’। গত ১৬ মে মঙ্গলবার হোয়াইট চ্যাপেল রোডের মক্কাগ্রীল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হলো গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান। এম মোসাইদ খান ও মোহাম্মদ নওয়াব আলী সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে সিলেটের বাসিয়া প্রকাশনী থেকে। কবি ও কাব্যমোদিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানটিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি আতাউর রহমান মিলাদ, কবি ময়নূর রহমান বাবুল, কবি আহমেদ ময়েজ, কবি মজিবুল হক মণি, কবি আবু মকসুদ, কবি কাজল রশীদ, কবি আসমা মতিন, কবি সাগর রহমান, কবি আনিমদিম জাকারিয়া, কবি ইকবাল বাহার সুহেল, কবি জামিল সুলতান, কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ, কবি নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী, কবি মুহাম্মদ মুহিদ, কবি মোহাম্মদ ইকবাল, কবি শামীম আহমদ, কবি এম মোসাইদ খান, কবি মামুনুল হক সাজু এবং কবি শাহ সোহেল আমিন প্রমুখ। অভ্যাগতদের স্বাগত বক্তৃতা ছাড়াও কবিরা তাদের প্রকাশিত কাব্য পাঠ করে শোনান। অনুষ্ঠান জুড়েই উপস্থিত অতিথিগণ বাংলা কবিতার বিভিন্ন বিষয় ও প্রবাসী কবিদের কাব্যচর্চা নিয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা করেন।
কবি আহমেদ ময়েজ তার স্বাগত বক্তৃতায় গ্রন্থটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বলেন, এ গ্রন্থের সম্পাদকদ্বয় শুধু কবিতা নয় বরং কবিদেরকেও যেভাবে উপস্থাপিত করেছেন, তা বিশেষ ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। কবিদের রচনা ও তাদের পরিচিত সহ প্রকাশ করার ব্যাপারে অনেক সংকলন গ্রন্থেই দৈন্যতা দেখা যায়, যা এ সম্পাদকদ্বয় করেননি। এটা একটা বিশেষ কৃতিত্বের দাবীদার।
কবি আতাউর রহমান মিলাদ কাব্যগ্রন্থটির বিভিন্ন প্রশংসনীয় দিক উল্লেখ করে বলেন, প্রকাশিত গ্রন্থটি প্রবাসী কবিদের কাব্য ক্ষমতার একটা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি এ ধরণের আরো বেশি বেশি কাজ হবার দরকার বলে মন্তব্য করেন।
কবি মজিবুল হক মণি তার বক্তৃতায় গ্রন্থটির সম্পাদকদ্বয়কে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, এতগুলো চমৎকার কবিতাকে এক সংকলনের মধ্যে এনে, চমৎকারভাবে উপস্থাপন করার যে কষ্ট ও পরিশ্রম এ সম্পাদকরা স্বীকার করেছেন, তা একটা অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।
কবি আবু মকসুদ বলেন, এ গ্রন্থটি প্রবাসী কবিদের কাব্যচর্চার ধারাক্রমে একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সংগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসে, বিশেষত: বিলেতে সাহিত্য চর্চার যে ধারা অব্যাহত আছে, তা যে দিন দিন বেগবান হচ্ছে, এ ধরনের সংকলন তারই একটা উদাহরণ।
এছাড়াও অন্যান্য সুধীজন গ্রন্থটির ব্যাপারে বিশেষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বক্তৃতা দেন। কাব্যগ্রন্থটির সম্পাদক এম মোসাইদ খান তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি সংকলনের সকল কবিদের প্রতি তাদের সহযোগীতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সংগে তিনি গ্রন্থটির অন্য সম্পাদক মোহাম্মদ নওয়াব আলীর বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

Developed by: