বিভাগ: সাহিত্য-সংস্কৃতি

জয়বাংলা পুরষ্কার জয় করেলো সিলেটের কাকতাড়ুয়া

joyবাংলাদেশের তরুণ সংগঠকদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার “জয়বাংলা ইয়থ এওয়ার্ড ২০১৭” অর্জন করেছে সিলেটের স্থিরচিত্র ও চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠন কাকতাড়ুয়া। এর মূল আয়োজক ছিলো সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)’র তারুণ্যের প্ল্যাটফর্ম ইয়ং বাংলা। ঢাকার শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে কাকতাড়–য়ার সভাপতি খলিলুর রহমান ফয়সালের কাছে জয়বাংলা পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
বাংলাদেশের হাজার হাজার সংগঠনের মধ্য থেকে সিআরআই চারমাস ধরে ৮২টি অধিবেশনের মাধ্যমে ১৩শ’ আবেদন গ্রহণ করে। এর মধ্য থেকে সেরা সংগঠনগুলো নিয়ে যাচাই বাছাই শুরু হয় এবং ৫০টি সেরা সংগঠনের নাম প্রকাশ করে। নির্বাচিত ৫০টি সংগঠনের মধ্যে ৩০টি সংগঠনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। তার মধ্যে কমিউনিটি উন্নয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা হয় সিলেটের কাকতাড়ুয়া। পরবর্তীতে ফাইনাল রাউন্ডে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ট দশটি সংগঠনের অন্যতম হিসেবে কাকতাড়ুয়াকে পুরস্কৃত করা হয়।

ময়নূর রহমান বাবুল’র গুচ্ছকবিতা

VLUU L200  / Samsung L200
প্রয়োজন

একটা নিস্তব্ধ রাত আমার দরকার
প্রচ- ঘুম আজ আমার দুটি চোখে
শিয়াল ডাকে ডাকুক, পূর্ণিমা হোক
ভোরের আশায় তবু ঘুমাবো সুখে।

একটা দেশ চাই, দেশের মাঝে গ্রাম
গ্রামে থাকবে উপচেপড়া ফুল ফসল
মানুষ হবে নির্মোহ, ভরা সতেজ প্রাণ
উড়বে সেথায় রঙিন প্রজাপতি দল।

মানুষ চাই, চাই আমি অনেক বীর
বীরেরা এনে দেবে নিরুপদ্রব রাত
ছবির মতো গ্রাম, গ্রামের মতো দেশ
বিপ্লবেই আসবে আলো, আসে প্রভাত।

একটা ভোর চাই, সূর্য উঠা ভোর
নির্মল বায়ু আর মিষ্টি সোনালি রোদ
বাঁচার তাগিদে আমার এসব চাই
যদি না পাই, তবে নেব প্রতিশোধ।

হিংসা, ক্লেশ, শোষণের চাই পরিবর্তন
বায়ু আলো ভরা ভোর আমার প্রয়োজন।

ভেজা খাম

যখন আমার এ চিঠিখানা তুমি পাবে
হরহর করে ডাকহরকরা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে
পৌঁছে দেবে, ভেজা খামখানা তোমার হাতে।
প্রেমাতুর হাতে খুলবে তুমি, আলতো হাতে,
যেন ছিঁড়ে না যায়, আমার দেয়া চিঠি খানি।

এখন ভরা বরষা, চারদিকে থৈ থৈ জল,
জলেতে ডুবেছে বসত বাড়ি, পথ ঘাট
হরিদের নলকূপ, গৌরীদের পাঠশালা
এটুকুন কবরের জায়গাও নাই বলে-
জলে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে ওপাড়ার রমিজের লাশ।

অজোর ধারায় গড়ায় বৃষ্টি, পড়ে টাপুর টুপুর
এ যেন ঘাঢ় আঁধারে বাঁঝে কারো পায়ের নুপুর
সারা অঞ্চল, বানে ভাসা সব এলাকার নদী ও পুকুর
চারিদিকে হাহাকার, দিশেহারা মানুষ কাঁদিছে যন্ত্রণায়।

এ ভেজা খাম, ভিজেনি বৃষ্টিতে বরষার
ভাদরের বরিষণের মতো আমার দু’চোখে
অঝোর ধারায় নেমে আসা নোনাজল
ভিজিয়ে দিয়েছে খাম, এই চিঠি, এই লেখা।

গলাডুবা জলে দুবেছে সব তাল নারিকেল
ঝড়ের ঝাপটায় আর বানের স্রোতে
সুপারি গাছের মাথায় ধর্ষিতার চুলের নমুনা
ফোটা ফুল কদমের হয়েছে সলিল সমাধি
নিষ্ঠুর স্রোতে ভেসে গেছে সব লালপদ্ম
স্থলচর প্রাণীগুলো ভাসছে অথৈ জলে…

এমন বানতাড়িত হাহাকার সময়েও এ অঞ্চলে
নেতা আসে, ক্যামেরার ফ্ল্যাশগুলো বারবার হাসে
ভোরের পত্রিকার প্রথম পাতায় তাদের ডাউস রঙিনছবি
আর ভিক্ষা-বিতরনের খবর সযত্নে ছাপা হয়,
কিন্তু ছাপা হয়না কৈতরির জলে ডুবে লাশ হওয়ার
কিংবা অনাহারে আত্মহত্যা করা শিউলির খবর,
বানের আগে নদিভাঙ্গনে মথুর নাথের বাড়ী হারাবার
কিংবা আগাম অতিবৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া ফসলের কথা,
বড়লোকের খবরের ভিড়ে বানভাসা পরী মৌরিদের খবর
আমার এ ভেজা খামখানা খুলে তুমি জেনে নিও…

পাথর সময়

পৃথিবীর সব ঘড়ি এখন স্লথ
সময় দেখেনা কেউ
সূর্য আসেনা পূবের আকাশ জুড়ে
সাগরে উঠেনা ঢেউ।

উত্তর দক্ষিন পূর্ব পশ্চিমে পড়ে
সা¤্রাজ্যবাদের শ্বাস
ডান বাম সব একাকার আজ
শোষকের উচ্ছ্বাস।

লেলিন স্তালিন ফিদেল কাস্ত্রো
চে গুয়েভারা
দিকে দিকে আজ অভাব বিপ্লবীর
কাঁদিছে সর্বহারা।

ভিয়েতনাম থেকে কম্বোডিয়া
গড়তে চীনা প্রাচীর
শোষন মুক্তির ইতিহাস রচিবে
আমার দেশের বীর।

কেঁটে যাবে এই পাথর সময়
বিপ্লব দেশে দেশে
যুগের লেলিন, চে গুয়েভারা
আসছে শ্রমিক বেশে।

বোধ

পাটিগনিতে শেখা বিবিধ নিয়মের অংক
দুধে পানি মিশিয়ে লাভ ক্ষতির হিসাব
বানরের তেলামাখা বাাঁশ বেয়ে উঠানামা
সুদকষা ঐকিক লসাগু গসাগু-র ধারাপাত।

এ্যলজাবরা এ-স্কোয়ার বি-স্কোয়ার
প্লাসে প্লাসে আর প্লাসে মায়নাসে
হিমাঙ্কের দশ ডিগ্্রী নিচে বরফ ঠেলে
জীবনের চাকা ঘুরছে এখন দিনরাত।

লাভ ক্ষতি, সুদকষা, ঐকিক নিয়ম
হোলথিন স্কোয়ারের সূত্রগুলো সব
খুবই বেমানান বাস্তব জীবনে আজ
হারিয়ে যাওয়া কিশোর প্রেমের মতো।

যা কাজে লাগবে তা নিতে পারিনি সাথে
বাস্তবের কিছুই শিখতে পারিনি কখনো
নিজ দেশে জন্মেও করতে পারিনি বসবাস
জ্ঞানের পাঠ ফেলে কুবচন জপেছি অবিরত।

বিদ্যাপীঠ ব্যস্থ সদা আকাশ-কুসুম পাঠে
জীবন বাস্তবতা জ্ঞানের মন্দিরে তালা এটে।
বলদের মতো বয়ে বেড়াই সনদের বোঝা
লক্ষ্য আদর্শহীন পাখামেলা পিঁপড়ার মতো !

স্মৃতিগুলো আমার

কর্পূর দেয়া ছিলনা বলে আমার তোরঙ্গে
পুরনো স্মৃতিগুলো সব
তেলাপোকা, উইপোকা, পোকামাকড়ে মিলে
খেয়ে দেয়ে ভষ্ম করেছে।
কতো মধুর স্মৃতি ছিলো
জমানো কতো সোনার স্মৃতি
রূপোর স্মৃতি মণিমুক্তা খচিত।

সুখের স্মৃতিগুলো আজ নাই
খেয়েছে ইঁদুরে অথবা-
কর্পূরের মতো মিলিয়ে গেছে
মিশে গেছে বাতাসে।

দুলি অঞ্জলি, কেউ এখন আর স্মৃতিতে নেই
সুনা হিরু’র নাম ই তো আর মনে নেই আজ..

সামনে বাকি অনেক কাজ,
সামনে আগাই, পিছন ফিরে তাকাই
সাথে আছে কিছু বিরহের স্মৃতি
মনে পড়ে শুধু হারানোর কথা-
কুরে কুরে মোচড় মারে শুধু-
বিচ্ছেদের ব্যথা, হারানোর বেদনা
ও গুলো খায়নি ঘূণে, তিতা বলে
মিষ্টি স্মৃতিগুলো একেবারেই আজ আর নাই
টক্ ঝাল বিস্বাদের গুলোই শুধু বয়ে বেড়াই।

তোমাকেই

তোমাকে বার বার কবিতায় তুলে আনি
অথবা উঠে আসো তুমি আমার কবিতায়।
মনের কুঠরীতে লুকিয়ে রাখি
তবু বেরিয়ে আসো বারবার।

তোমাকে লুকোতে আমার কবিতায়
উল্টো করে লিখি তোমার নাম
কবিতা প্রেমিক পাঠক, কেমন যেন
বুঝে নেয় আমার চালাকি
তারা ঠিক নামটি পড়ে নেয় গল্পে কবিতায়,
জীবন্ত তুমি কথা বলো অবিরাম
পাঠকও হাসে, মাতে, তোমার সাথে
যতই লুকোতে চাই, রাখতে চাই গহীন বুকে
ততই বেরিয়ে আসো তুমি
ততই প্রকাশ করি তোমাকে।

হে প্রিয় নেত্রী মওদুদ আহমেদ আকাশ

0001হে প্রিয় নেত্রী
তুমি আমাদের চোখের মণি,
তুমি আমাদের সুখের জয়ধ্বণি।
হে প্রিয় নেত্রী
তুমি কোটি মানুষের আশা,
তুমি সোনার বাংলাকে টিকে রাখার ভরসা।
হে প্রিয় নেত্রী
তুমি সদা সত্যের পথে এগিয়ে চলো,
তুমি সবসময় ন্যায়ের কথাই বলো।
হে প্রিয় নেত্রী
তুমি দেশের শান্তির প্রতীক,
তুমি সঠিক পথে চলার নির্ভুল দিক।
হে প্রিয় নেত্রী
তুমি এগিয়ে যাও সামনে,
তুমি ঠাইঁ দাও আমাদের তোমার মনে।
তুমি আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা,
তোমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগকে ভাবতে পারিনা।
স্বজন প্রিয়জনকে হারিয়ে তুমি হয়েছ নিঃস্ব,
থাকোনি তুমি পিছিয়ে একথা জানে সারা বিশ^।
ঘাতকরা বারে বারে নিতে চেয়েছে তোমার মূল্যবান প্রাণ,
তুমি যেন দেশবাশীর জন্য প্রিয় খোদার অমূল্য দান।
তোমার দীর্ঘজীবন কামনা করি আজ এই ক্ষণে,
তুমি আছো তুমি থাকবে দেশবাসীর মনে।

স্বপ্নে টুঙ্গীপাড়া :: মওদুদ আহমেদ আকাশ

000000গভীর রাত চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার, ঘুমের ঘোরে দেখছি,
আমি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে।
ঘুম ভেঙ্গে যায় আমার।
মনে হচ্ছিলো,
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।
যেখানে শুয়ে আছেন জাতির পিতা।
সমাধি প্রাঙ্গনে পা ফেলতেই বুকের ভিতর বোবাকান্না
আর অসম্ভব রকমের অভিমান অনুভুতি কাজ করছিলো।
কেন তিনি চলে গেলেন আর এখানে একা রয়ে গেলেন এই ভেবে।
পানি ছাড়া জীবনের যেমন কোন মানে নেই।
তেমনি বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনা করা কঠিন।
সমাধিস্থল থেকে যখন ফিরছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল
পিছন থেকে কেউ ডাকছিলেন।
ফিরে তাকালাম,
দেখলাম সমাধিস্থল।
মনে হচ্ছিল বঙ্গবন্ধু বলছেন,
“আমি শুয়ে আছি টুঙ্গীপাড়ায়।
কিন্ত আমার স্বপ্ন সারা বাংলাদেশ ছড়িয়ে।
আমিতো এখানে নেই,
আমি সারা বাংলার বুকে।
যাও, বিনির্মাণ করো আমার স্বপ্ন
যাকে করেছি আমি যতœ।
তোমাদের হাতেই আমার এই দেশ
তোমরাই বাংলাদেশ।
আমি ছিলাম, আমি থাকব এই বাংলার প্রান্তরে
এই বাংলাদেশকে রেখো খুব যতœ করে”।

(লেখক : সিলেট জেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক)

‘প্রবাসী কবিদের নির্বাচিত প্রেমের কবিতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

ব্রিটেন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাঙালি কবিদের নির্বাচিত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে কবিতাগ্রন্থ ‘প্রবাসী কবিদের নির্বাচিত প্রেমের কবিতা’। গত ১৬ মে মঙ্গলবার হোয়াইট চ্যাপেল রোডের মক্কাগ্রীল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হলো গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান। এম মোসাইদ খান ও মোহাম্মদ নওয়াব আলী সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে সিলেটের বাসিয়া প্রকাশনী থেকে। কবি ও কাব্যমোদিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানটিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি আতাউর রহমান মিলাদ, কবি ময়নূর রহমান বাবুল, কবি আহমেদ ময়েজ, কবি মজিবুল হক মণি, কবি আবু মকসুদ, কবি কাজল রশীদ, কবি আসমা মতিন, কবি সাগর রহমান, কবি আনিমদিম জাকারিয়া, কবি ইকবাল বাহার সুহেল, কবি জামিল সুলতান, কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ, কবি নুরুস সুফিয়ান চৌধুরী, কবি মুহাম্মদ মুহিদ, কবি মোহাম্মদ ইকবাল, কবি শামীম আহমদ, কবি এম মোসাইদ খান, কবি মামুনুল হক সাজু এবং কবি শাহ সোহেল আমিন প্রমুখ। অভ্যাগতদের স্বাগত বক্তৃতা ছাড়াও কবিরা তাদের প্রকাশিত কাব্য পাঠ করে শোনান। অনুষ্ঠান জুড়েই উপস্থিত অতিথিগণ বাংলা কবিতার বিভিন্ন বিষয় ও প্রবাসী কবিদের কাব্যচর্চা নিয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা করেন।
কবি আহমেদ ময়েজ তার স্বাগত বক্তৃতায় গ্রন্থটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বলেন, এ গ্রন্থের সম্পাদকদ্বয় শুধু কবিতা নয় বরং কবিদেরকেও যেভাবে উপস্থাপিত করেছেন, তা বিশেষ ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। কবিদের রচনা ও তাদের পরিচিত সহ প্রকাশ করার ব্যাপারে অনেক সংকলন গ্রন্থেই দৈন্যতা দেখা যায়, যা এ সম্পাদকদ্বয় করেননি। এটা একটা বিশেষ কৃতিত্বের দাবীদার।
কবি আতাউর রহমান মিলাদ কাব্যগ্রন্থটির বিভিন্ন প্রশংসনীয় দিক উল্লেখ করে বলেন, প্রকাশিত গ্রন্থটি প্রবাসী কবিদের কাব্য ক্ষমতার একটা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি এ ধরণের আরো বেশি বেশি কাজ হবার দরকার বলে মন্তব্য করেন।
কবি মজিবুল হক মণি তার বক্তৃতায় গ্রন্থটির সম্পাদকদ্বয়কে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, এতগুলো চমৎকার কবিতাকে এক সংকলনের মধ্যে এনে, চমৎকারভাবে উপস্থাপন করার যে কষ্ট ও পরিশ্রম এ সম্পাদকরা স্বীকার করেছেন, তা একটা অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।
কবি আবু মকসুদ বলেন, এ গ্রন্থটি প্রবাসী কবিদের কাব্যচর্চার ধারাক্রমে একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সংগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসে, বিশেষত: বিলেতে সাহিত্য চর্চার যে ধারা অব্যাহত আছে, তা যে দিন দিন বেগবান হচ্ছে, এ ধরনের সংকলন তারই একটা উদাহরণ।
এছাড়াও অন্যান্য সুধীজন গ্রন্থটির ব্যাপারে বিশেষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বক্তৃতা দেন। কাব্যগ্রন্থটির সম্পাদক এম মোসাইদ খান তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি সংকলনের সকল কবিদের প্রতি তাদের সহযোগীতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সংগে তিনি গ্রন্থটির অন্য সম্পাদক মোহাম্মদ নওয়াব আলীর বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

শুভ জন্মদিন কবি ফকির ইলিয়াস

fb_img_1482914284357আজ ২৮ ডিসেম্বর বুধবার এই সময়ের বিশিষ্ট কবি প্রাবন্ধিক, গল্পকার, গ্রন্থসমালোচক, সাংবাদিক ফকির ইলিয়াস এর জন্মদিন। ১৯৬২ সালের এই দিনে তিনি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি- লালন ও চর্চায় তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা চৌদ্দটি। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-`অবরুদ্ধ বসন্তের কোরাস`, `বৃত্তের ব্যবচ্ছেদ`, `গুহার দরিয়া থেকে ভাসে সূর্যমেঘ`, `ছায়াদীর্ঘ সমুদ্রের গ্রাম`, `গৃহীত গ্রাফগদ্য`, `অনির্বাচিত কবিতা`। এছাড়াও `কবিতার বিভাসূত্র` (প্রবন্ধ সংকলন), `চৈতন্যের চাষকথা` (গল্প সংকলন), `অনন্ত আত্মার গান` (গীতি সংকলন) এর জন্য তিনি নন্দিত হয়েছেন পাঠক মহলে।
২০১৬ সালে বেরিয়েছে তার সর্বশেষ প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সাহিত্যের শিল্পঋণ’। আসছে বইমেলা-২০১৭ তে তার তিনটি গ্রন্থ প্রকাশের কথা রয়েছে।

তার লেখা নিয়মিত ছাপা হচ্ছে ঢাকা ,কলকাতা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, কানাডা, সুইডেন, ইতালী, অষ্ট্রেলিয়া, জাপানসহ দেশে-বিদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, ম্যাগাজিন, সাহিত্যপত্রে। ওয়েব, ব্লগ, ই নিউজ গ্রুপেও তিনি লিখছেন নিয়মিত। সাহিত্য কর্মের জন্য তিনি `ফোবানা সাহিত্য পুরস্কার` , `ঠিকানা শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পুরস্কার` পেয়েছেন। তিনি দ্যা একাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটস, দ্যা এ্যমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিষ্টস, আমেরিকান ইমেজ প্রেস- এর সদস্য। সহধর্মিনী কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি ও দু`কন্যা নাহিয়ান ইলিয়াস ও নাশরাত ইলিয়াসকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন নিউইয়র্কে।

মাসিক বাসিয়া ও বাসিয়া টুয়েন্টি ফোর ডটকমের পক্ষ থেকে কবির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঠকদের জন্য কবির একগুচ্ছ কবিতাঃ

দ্বিধার প্রহর
—————————————————–
কাহিনিগুলো দীর্ঘ হবে না জেনেও বলতে শুরু করি। এর আগে
পশলা বৃষ্টি ধুয়ে নিয়ে গ্যাছে পদছাপ। তাই যারা অতিক্রম করে
গিয়েছিল কালের গলুই, তাদের কোনো বাহুচিহ্ন ধরে রাখা যায়নি।
এবং শুরুর অন্তিমে যারা লুকিয়ে রেখেছিল কয়েকটি লালগোলাপ,
তাদের নামের তালিকা থেকেও ঝরেছে অক্ষর, ফলে নামগুলো নিয়ে
বেড়েছে সন্দেহ আর দ্বিধার প্রহর ।
অস্পষ্ট জলছাপ আর ধূসর পাতার অবয়ব পড়ে বর্ষাও লিখতে
শিখে আষাঢ়ের প্রথম পয়ার। সে কাহিনী মানুষ বোঝে না। ঢেউ
গোনতে জানে যে মাঝি , কেবল সে ই – পাথারসমগ্র বুকে নিয়ে
তাকায় আকাশের দিকে, আরেকটা তুফান শেষ হলে গাঙে ভাসাবে
নৌকা, অসমাপ্ত শ্লোকের রঙিন পাল।
চাঁদনগর
———————————————-
টেনে যাচ্ছি আর ক্রমশ’ই দীর্ঘ হচ্ছে সুতোসন্ধ্যা
পিয়ানোটাতে বসেছে যে পতঙ্গ, সে ও বার বার
গেয়ে যাচ্ছে বেদনার গান
সুরঘোরে আমিও ডুবে যাচ্ছি মদের মধ্যমায়।
বারিবৈষম্য জেনে এই দিগন্তে বৃষ্টিপাত থেমে
যাবার পর, আকাশও থামিয়ে দিয়েছে ছায়ার
পরিমাণ। তাই যে সব প্রেমিক-প্রেমিকারা
ভেজার আগুন নিয়ে খেলতে চেয়েছিল,
তারাও সংক্ষিপ্ত করেছে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা।
আঙুলের অন্তরায় চাঁদনগরের রূপসীরাতগুলো
কখন নেমে আসবে-
সেই প্রতীক্ষায় আমি যখন পার করছি প্রহর,
তখনই হাতঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখি
কাঁটা’টা বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই
ছেঁড়াসুতোর উন্মীলন তাকিয়ে আছে তোমার
দুটি চোখকে আবারও চিনবে বলে…………..
 

এইম ইন লাইফ
——————————————-
হাজিরা না দিলে নাম মুছে যায়। দস্তখতের দুয়ারে
বেড়িবাঁধ হয়ে পড়ে থাকে ফাইলের দাগ। লাল
কালি আর রক্তের পার্থক্য নির্ণয়ে  শিশুরা খেলে
জলডুবি খেলা।
পাখিরা পঙ্গুত্ব বরণ করে ডাল থেকে ছিটকে
মাটিতে পড়ে। কিছু কিছু শিকারী,  পঙ্গু পাখি
শিকারেও কসুর করে না। কুড়িয়ে পাওয়া গুলির
খোসা থেকে নতুন বুলেট তৈরি করে নব্য
অস্ত্র ব্যবসায়ী।
হত্যাযজ্ঞ চলে, ঘাতক বদল হয়
শোষণ চলে,  শোষক বদল হয়
হামাগুড়ি চলে, হাঁটু বদল হয়
মৃত সাপের ফণায় অস্তগামী হতে থাকে
আমাদের এইম ইন লাইফ.।

সৈয়দ হিলাল সাইফ এর একগুচ্ছ ছড়া

helala-saifসৈয়দ হিলাল সাইফ। ছড়া,গল্প,কবিতা ও গান রচনা করেন। হাহ, হা ও হিলাল সাইফ ডট কম নামে রয়েছে প্রকাশিত দুইটি ছড়ার বই। বিটিভিতে গাওয়া বিভিন্ন কন্ঠশিল্পীর কন্ঠে রয়েছে একটি সিডি এলব্যাম। দেশে বিদেশে প্রকাশিত সবকটি বাংলা পত্র পত্রিকায়, লিটলম্যাগ,অনলাইনে রয়েছে সরব উপস্থিতি।

 

 

 

 

বাদ্য-বাজনা

হারমনি বাজে নাকী ডাকে শুনি পাতি হাস

ঢোলের আওয়াজ কানে লাগে ফাটে জাতি বাশ।

 

মন্দিরা মনে হয় ভাঙ্গা কাচ ভাংচে

শিল্পীর সাথে যেন খঞ্জর ভ্যেংচে।

একতারার ঘেনঘেন বে সুরে দোতারা

বাদ্যের নামে যতো ঘটিয়েছে কূ-তারা।

গীটারের টোন যেন কথা কয় মিটারে

ড্রামপাড শুনে লাগে টিন চালে ইটারে।

সঙ্গীত মানে যদি এই হালে বাজনা

নির্ঘাত আজথেকে নিতে হবে খাজনা।

কারা গায় গান আর কে বজায় বাদ্য

কার ছোঁয়া পরশে বে সুরা অবাধ্য।

 

বেন্ডের নামে যারা আকাম আর কূ-কামে

ভালোকরে না বাজালে বাতি দিবো মোকামে।

 

অবাক কাক

এইযে হাজার কাক

কর্কশ ডাকাডাক

করে কা… কা…

আমিতো অবাক

এইখানে কেন ডাক

ডাকে,কাকা!

 

দল বেধে সব কাক

উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁক

ডাকাডাকি….

আমিতো অবাক

কাকেদের নাই টাক

কাকা-কাকি।

 

হিজল ফুল

বাড়ির পাশে নদী বহে

নদীর পাড়ে হিজল গাছ

হিজল গাছে ফুল ফুটেছে

ফিঙে পাখি করছে নাচ।

 

হিজল ডালে নাচছে পাখি

পরছে ঝরে হাজার ফুল

নদীর স্রোতে হিজল ফুলে

রঙিন হলো দুইটি কূল।

 

সাতসকালে পূব আকাশে

ঊষা যখন যায় ছেয়ে

ফুল কুড়ানো গাঁথতে মালা

জুটতো পাড়ার সব মেয়ে’

 

সেই নদীতে সাঁতার কাটে

দস্যি ছেলে মেয়ের দল

মাগুরা নদীর স্রোতে আজো

হিজল কল কল জল্।

 

রক্ত-তক্ত

খুনাখুনি রক্ত

এই নিয়েই তক্ত

তবু কিছু হয়ে যায়

অনুরাগী ভক্ত…।

 

ভক্তরা ভাগ হয়

অক্তে অক্তে

ভাগাভাগি থেকে রাঙে

রক্তে রক্তে।

 

কারো হয়ে বসে নেশা

কারো হয় পেশা

ক্ষমতার মোহ মায়া

লোভি এক ঘেষা ।

 

মাটির টানে

মাটির টানে যুদ্ধ করে

ছিলো যতো মুক্তি সেনা

লক্ষ্য প্রানের দামে হলো

এইতো আমার মুক্তি কেনা।

 

শহীদের সাথে নবীনের ছিলো

অলেখা এক চুক্তি

দেশ প্রেমে সব উদ্বুদ্ধ হবে

তুচ্ছ করে সব যুক্তি।

 

জনগনের দ্বারা সকলের জন্য

জনগনের সরকার

শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে

টিকিয়ে রাখা দরকার।

 

বেচে থাকা যত মুক্তি সেনা

কালের স্বাক্ষী গাজী

সকলেই কী দালাল হয়েছে !

সকলেই কী পাজী ?

 

যুদ্ধ যারা করেছিল তারা

শুধুই মাটির টানে

ক্ষমতার কোনো বেব্সা ছিলনা

শহীদ,বীরাঙ্গনারা জানে।

কবি জাফর ওবায়েদ-এর একগুচ্ছ কবিতা

zafor-vai

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অকুণ্ঠ অতিথি

অকুণ্ঠ অতিথি এক, পাতার পালক। উড়ে এসে জুড়ে বসে পেতে চায় নালিশা জমিন, হৃদয় দখল। পলকে পলক ফেলে, হাতে রাখে হাত। গায়ে তার নীতিজ্ঞান ত্বকের খোলশ, নিষ্পাপ নির্মিত নিটোল চাদর। দাঁতাল প্রহর ঠেলে, আলোপাখি খোঁজে প্রতিদিন। দম্ভের দড়ি ছেঁড়া ভঙ্গুর বিশ্বাসে তুড়ি মেরে চলে তার কায়েমি শাসন। দেহমন্দিরে তার প্রেমঅর্চনা, পৌরাণিক বিশ্বাসের বিভাজিত বুনিয়াদ। বদলাতে চায় তৃষ্ণার রং, ক্ষুধাতুর সময়ের ব্যাকরণ। সমস্ত গরল গিলে পেতে চায় এক চুমুক প্রেম, এক ঢোক আলোমাখা বিশুদ্ধ জল। যন্ত্রণাহত সিংহের মতো ছটফট সময়ের অচিন্ত পথে এগুতে ব্যাকুল। অনীল আঁচল খোঁজে ব্যর্থতার খাটে বুঝি হবে তার করুণ শয়ন!

স্মিতহাসির বালিকারা বাঁকাচোখে ছুরি মেরে হেঁটে যায় সতীর্থ সরণির হাত ধরে…

গোলাপের সম্ভ্রম

অন্ধকারে বাড়ন্ত বিষবৃক্ষ। নষ্টের লতায় বাঁধা আলোর কঙ্কাল। অন্ধরে কষ্টের কোকিল। তুমুল তন্দ্রাকোলে আমি এক অবোধ বালক। ফেলে এসেছি ধৈর্যের ঝোলা, সহ্যের সরোবর। তুমি আমি মালী ছিলাম। রোপণ করেছি আলোগাছ সত্তার গভীরে। আলো ধরেছিল, তোমাকে দিয়েছি। এখন আঁধার আমার ভাগের। আমি তারে ভেবে নিই কোমল বালিকার নরোম আদর!

জানি, বিপন্ন নদীর কাছে থাকে না অবশিষ্ট কোনো বিশুদ্ধ জল, বিক্ষত বায়ুর কাছে নিশ্বাসের অম্লজান।তবে আর চাইবো কেন? বিবস্ত্র বাগান বাঁচাতে পারে না গোলাপের সম্ভ্রম, হাস্নাহেনার ঘ্রাণ।

অন্তদীপ

পুরনো পৃথিবী ঘেটে সহসাই পেয়ে যাই নতুন নগর
রাতজাগা নিসর্গে প্যাথেডিন সুখ…

হেমন্তের হাওয়াজ্বলা রোদে বিরস পর্বত, তৃষ্ণাকাতর টিনের চাল
চমকিত চোখ ভেতরে ভেতরে পাঠ করে ঘামের গৌরবে নির্মিত ইমারতের ইতিবৃত্ত
নীরব নৈরাজ্যে কাঁপে আঁধারের নিকষ বলয়…
দুয়ারখোলা চিন্তনে আমার, কেউ কেউ খুঁজে নাস্তিক্যবাদের ঘ্রাণ।

পেটের প্যাঁদানি খেয়ে ভুলে যাই শখের সাকিন, নখের নিলয়
হাতের হালুয়া মদে হেরে যায় পঙক্তির পায়েল, দৃঢ়তার কূলভাঙা ঢেউ, তবু
তোমার আঙুলের নীলায় আটকে যায় চোখের চশম, চিন্তাচলন
ঠোঁটের ঠমক আর চুলের উড়ালে নির্ঘুম চোখের চাতাল।

আমি নিশাচর বাদুড়ের মতো রাতের শেষ ট্রেনের প্রতীক্ষায় এ-ডালে ও-ডালে ঝুলি
জমাট কষ্টের নীল সুর ডেকে আনে শ্যাওলার অমানিশা
পেছনটায় টেনে ধরে সংসারী পিছুটান…

নাইয়রি ইশ্বর


জেগে ওঠো নতজানু শব্দবন্ধ, জেগে ওঠো নবীন ভূতুড়ে মৌনতা
দেখে নিই ঘুমোলো কোথায় কালের কলম, আশাহত সময়ের বিপন্ন ঈশ্বর!

আমি নই কোনো ডানাহীন বোধের বলাকা, মুখরিত মুল্লুকের শঙ্খচিল;
সাধনার সর্পিল সাঁকু বেয়ে নিশ্চুপ জলে নিয়েছি ধৈর্যের পাঠ…
আমার পায়ের ছাপে চলে সময় কুসুম, গায়ের গন্ধ শূঁকে রোদসংসার…
রোমশ রোদন ঠেলে ক্ষুধার জমিনে রোপণ করেছি আমি ফসলের অঘ্রান
তৃষ্ণার ঠোঁটে তুলে দিয়েছি তুমুল হাসি, জোছনার জল…

নথিবদ্ধ প্রেমের পুলকলাগা কথার করতলে যন্ত্রনাহত মজ্জার মাতম…
জেগে ওঠো নতজানু শব্দবন্ধ, জেগে ওঠো হালের হাপিত্যেসভাঙা বিহগ
দেখে নিই পালালো কোথায় চোখের আগুন, অতীন্দ্রিয় নাইয়রি ঈশ্বর!

তিনপদী–১

হার মেনেছি হার
শত হাজার বার

পৃথিবীতে কেউ কারো নয়, সবাই তো যার যার।

সংক্ষিপ্ত কবি পরিচিতিঃ কবি জাফর ওবায়েদ সিলেট সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। অধ্যপনা পেশা হলেও নেশা সাহিত্যসাধনায়। রচনা ও পাঠে তার আগ্রহ সমগতিময়। অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অধ্যাপনা করছেন অন্য একটি বেসরকারী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে।
৬ জুন ১৯৭১ সালে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার কুড়িখলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ ওমর আলী ও মাতার নাম মিসেস সাঈদা খাতুন।তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে  স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী, চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে শিক্ষায় স্নাতক এবং ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।
 কবি জাফর ওবায়েদ বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভূক্ত গীতিকার। মঞ্চের একজন অভিনেতাও।
আয়ুর উঠোন, বৈরাগ্যকুসুম, সত্যেরা সাঁতার জানে, চতুর্থ পৃথিবী, একমুঠো নীলসুর, রবীন্দ্রনাথ আমার দলে, হৃদয়ে রাত্রি নামে, নির্ঘুম লাবণ্য তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ। নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি লেখালেখির সাথে জড়িত।
নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি লেখালেখির সাথে জড়িত।আয়ুর উঠোন, বৈরাগ্যকুসুম, সত্যেরা সাঁতার জানে, চতুর্থ পৃথিবী, একমুঠো নীলসুর, রবীন্দ্রনাথ আমার দলে, হৃদয়ে রাত্রি নামে, নির্ঘুম লাবণ্য তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ। 

ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন শামীম আজাদ, নাজমুন নেসা পিয়ারি

shamim-azad-nazmun-nesa-piy
বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কবি শামীম আজাদ এবং জার্মানপ্রবাসী লেখক ও গবেষক নাজমুন নেসা পিয়ারি।

গত ৬ অক্টোবর বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সভায় তাদের নাম অনুমোদিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি।

আগামী বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শামীম আজাদ ও নাজমুন নেসা পিয়ারিকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। এ পুরস্কারের মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা।

কবি ও লেখক শামীম আজাদ কবিতা, কথাসাহিত্য ও নাটক রচনা করেন। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন।

আর নাজমুন নেসা পিয়ারি বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করে থাকেন। তিনি প্রবাসে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত।

প্রবাসী বাঙালি লেখক, কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে যারা বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় গভীরতাময় সাহিত্য রচনা করেন এবং বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন তাদের মধ্যে থেকে দুজনকে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার’ দেওয়া হয়।

এর আগে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন ড. ফ্রাঁস ভট্টাচার্য, মন্জু ইসলাম, ইকবাল হাসান ও সৈয়দ ইকবাল।

২০১১ সালে প্রবর্তিত ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার’ ২০১৪ সাল থেকে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার’ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

উদয় শংকর দুর্জয়ের কাব্যগ্রন্থ ‘লিখে রাখি বিশুদ্ধ আত্মার রাত্রিদিন’ // আবুল কাইয়ুম

likhe-rakhi-bishuddha-atmar-ratridin-1

 

 

 

 

 

সম্প্রতি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রতিকথা বের করেছে কবি উদয় শংকর দুর্জয়ের কাব্যগ্রন্থ ‘লিখে রাখি বিশুদ্ধ আত্মার রাত্রিদিন’। এটিই তাঁর প্রথম একক কাব্য। শিল্পী চারু পিন্টুর আঁকা দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ ও সুন্দর কাগজে ঝকঝকে ছাপা নিয়ে চেৌষট্টি পৃষ্ঠার এ কাব্যে কবির পঞ্চান্নটি কবিতা স্থান পেয়েছে। এর আগে ‘ত্রয়ী’, মৈত্রী’, ‘পাঁচ নক্ষত্র’ ও ‘চার অধ্যায়’ –এই চারটি যেৌথ কাব্যে তিনিও ছিলেন অন্যতম কবি।

 

‘লিখে রাখি বিশুদ্ধ আত্মার রাত্রিদিন’ কবির জাতীয় ও বৈশ্বিক চিন্তাচেতনার প্রকাশ সংবলিত একটি কাব্য। মানবিক আদর্শ হলো তাঁর এই চিন্তাচেতনার ভিত্তি, যা এ কাব্যের কবিতাগুলো পাঠে উপলব্ধ হয়। এই দৃষ্টিতেই তিনি সমাজ-পরিপার্শ্ব, স্বদেশ ও পৃথিবীকে দেখেছেন। বর্তমান ও সাম্প্রতিক সময়ের যে সব ঘটনা ও কর্মকাণ্ড দ্বারা তিনি আলোড়িত হয়েছেন সেগুলোই তাঁর মতো করে উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে দু:সহ সব বাস্তবতা আছে, সময়ের অগস্ত্য যাত্রার রুঢ় আশঙ্কার প্রকাশ আছে। তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে স্বদেশে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের চিত্র এবং বিশ্বের নানা দেশে সংঘটিত হানাহানি, যুদ্ধ ও যুদ্ধপীড়িত মানুষগুলোর দু:খকষ্টের ছবি।

 

কবি দুর্জয়ের কবিতা বর্ণনাধর্মী। আবেগ ও বেৌদ্ধিকতার সমন্বয়ে গল্পের মতো তাঁর কবিতা এগোয়। তাঁর অধিকাংশ কবিতার বিষয় বিভিন্ন স্থান ও ব্যক্তিকে নিয়ে সংঘটিত ঘটনা। তাঁর কবিতাগুলোকে মনে হয় যেন কবিতা ও রিপোর্টিং-এর জড়োয়া শিল্প। পৃখিবীর সর্বত্র বিচরণ করে তিনি তুলে আনেন যত ধ্বংশ, কষ্ট আর অপঘাতের চিত্র। যেমন, সমকালীন স্বদেশের নষ্ট মুখাবয়ব তিনি এইভাবে অঙ্কন করেছেন-

এখানে পলাশের পরাগমাখা স্মৃতির বর্ষণ অবিরাম

কোলাহল থেমে গেছে, স্তব্ধ পাখি কলরব, অস্তমিত দীপ

দপ করে জ্বলে ওঠে, অভিশপ্ত বুলেটের বারুদ পোড়া গন্ধ।

 

কবির বিশ্বদৃষ্টিকোণ নিরপেক্ষ চেতনাসম্ভূত। যুদ্ধ-সংঘাত ও হিংস্রতায় দেশে দেশে যে সব হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংশলীলা চলছে এবং এর ফলে ঘরছাড়া মানুষের সীমাহীন দুর্দশা – সে সবের কাব্যিক দলিলও যেন তাঁর কবিতা। বিশ্বের যে কোন স্থানের ক্ষতি ও কষ্ট- তা যেন কবির অন্তরেরই কষ্ট। জাতীয় ও বৈশ্বিক বিপর্যয় থেকে উদ্ভূত বেদনায় কবি আপ্লুত হয়েছেন সত্য, কিন্তু তা তাঁর কাঙ্ক্ষিত একটি সুন্দর সময়ের স্বপ্নকে নি:শেষ করে দেয়নি।

 

প্রবহমান গদ্যভঙ্গিতে কবিতার সুন্দর আঙ্গিক নির্মাণ করেছেন কবি। গদ্যছন্দের আবহটিও বেশ। এমনকী তাঁর মুক্তগদ্যেও এই ধারাটি স্পষ্ট। তাঁর ভাষা বিবৃতিধর্মী হলেও আবেগদীপ্ত। তিনি এক কথা বলতে গিয়ে অনেক কথা বলেন, অনেক দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন, একটি কবিতায় নানা অনুষঙ্গ নিয়ে আসেন। তাঁর সুচয়িত শব্দাবলী কবিতার বহিরঙ্গে সুন্দর ব্যঞ্জনা তোলে। সে সাথে তাঁর ব্যবহৃত অসংখ্য বিদেশী শব্দ ও নাম কবিতায় একটি স্বতন্ত্র আবহ তৈরি করেছে। জীবনের সর্ব ক্ষেত্র থেকেই তিনি চিত্রকল্পের উপাদান আহরণ করেছেন। সব মিলে তাঁর কবিতা নান্দনিক হয়ে উঠেছে –একথা বলা যায়।

 

[গ্রন্থ পরিচিতি : ‘লিখে রাখি বিশুদ্ধ আত্মার রাত্রিদিন’ (কাব্য)। লেখক : উদয় শংকর দুর্জয়। প্রকাশক : প্রতিকথা। প্রচ্ছদ শিল্পী : চারু পিন্টু। মূল্য- ১২০ টাকা।

Developed by: