বিভাগ: সাহিত্য-সংস্কৃতি

জুনে বাংলাদেশ-ভারত বইমেলা

ঢাকা, ২১ এপ্রিল- চলতি বছরের জুন মাসে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত বইমেলা। জুনের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ মেলায় দুই দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। মেলাটি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মেলাকে সফল করতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সচিব অসীম কুমার দে’কে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
মঙ্গলবার সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক অসীম সাহা, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতির সভাপতি ওসমান গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘বই জ্ঞানের বাহন। একটি সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সহযোগিতায় বইমেলা আয়োজনসহ নানবিধ কার্যক্রম বাস্তাবায়ন করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বছর রংপুর, বরিশাল ও কুমিল্লা বিভাগীয় বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৫ এপ্রিল যশোরে খুলনা বিভাগীয় বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরগুলোতেও বইমেলার আয়োজন করা হবে।’
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের অকৃত্রিম ও পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জুনে অনুষ্ঠেয় এ বইমেলা দেশ দুটির মধ্যে সংস্কৃতি বিনময়ের ক্ষেত্রকে আরো বিস্তৃত করবে এবং এ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে ‘উদ্ভট বই উৎসব’র উদ্বোধন

স্বাধীনতার মাস মার্চ উপলক্ষে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে উদ্বোধন হয়েছে তিনদিনব্যাপী বই মেলা ‘উদ্ভট বই উৎসব’। শনিবার সকালে বই মেলার উদ্বোধন করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ উদ্দিন। মেলার আয়োজন করেছে উদ্ভটডটকম (udvot.com) নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ উদ্দিন মেলার স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের বই পড়া মাধ্যমে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে উৎসাহ প্রদান করেন।

মেলায় দেশের খ্যাতনামা ৮টি প্রকাশনী সংস্থা অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো- অন্বেষা, রাত্রি, অন্যপ্রকাশ, অনন্যা, পার্ল, বাতিঘর, নওরোজ কিতাবিস্তান ও ঘাস প্রকাশনী।

মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। মেলা চলাকালীন সময়ে যে কোনো বই ২৫ ভাগ ছাড়ে কেনার সুযোগ থাকছে।

আরকুম শাহ

আনুমানিক ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে সুফি সাধক আরকুম শাহ দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে যে ক’জন প্রথিতযশা মরমি কবি আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও ধ্যানের সঙ্গে মরমি সংগীত রচনা করেছেন তাঁদের মধ্যে আরকুম শাহ অন্যতম। তিনি আধ্যাত্মিক জীবনের প্রথম দিগ্দর্শন গ্রহণ করেন দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের ছনখাই (লতিফনগর) নিবাসী পীর হজরত সুফি শাহ আব্দুল লতিফের কাছে। তিনি নিয়মিত পাঠ অভ্যাস, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা ও কোরআন তেলাওয়াত করতেন। আরকুম শাহ লিখে গেছেন অজস্র তাত্ত্বিক ও ভক্তিমূলক গান। কালজয়ী এ গানগুলো আকাশবাণীর কয়েকটি কেন্দ্রসহ বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে প্রচার হয়ে আসছে। তবে সংরক্ষণের অভাবে তাঁর অনেক গান হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের আঞ্চলিক সংস্কৃতির পরিমণ্ডল থেকে। তাঁর প্রকাশিত কবিতার বই ‘কবিনামা’ ও গানের বই ‘হকিকতে সিতারা’ ব্যাপক পাঠকপ্রিয়। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ৫ চৈত্র আরকুম শাহ মৃত্যুবরণ করেন। লোকমুখে প্রচারিত আরকুম শাহ’র কয়েকটি গান নিম্নে তুলে দেওয়া হল-
*চাইর চিজে পিঞ্জিরা বানাই/ মোরে কইলায় বন্দ রে বন্ধু নির্ধনিয়ার ধন/ কেমনে পাইমুরে কালা তোর দরশন।। *সমুদ্রের জল উঠে বাতাসের জোরে/ আবর হইয়া উড়ে পবনের ভরে, জমিনে পড়িয়া শেষে সমুদ্রেতে যায়/ জাতেতে মিশিয়া জাতে তরঙ্গ খেলায়।। তুমি আমি আমি তুমি জানিয়াছি মনে/ বিচিতে জন্মিয়া গাছ বিচি ধরে কেনে? এক হইতে দুই হইল প্রেমেরই কারণ/ সে অবধি আশিকের মন করে উচাটন।। *পরিন্দা জানোয়ার যদি কোন এক কালে/ জাতি ছাড়া বন্ধ হয় শিকারির জালে, কিরূপে জিন্দেগি কাটে বন্ধখানায় তার, মাসুক হইয়া কর আশিকের বিচার।। *পাগল আরকুমে কয় মাসুক বানিয়া-/ দুয়াঙ্গ পাতাইয়া থইছে উলুরে গাঁথিয়া, আহার করিতে যদি না যাইত মন- না লাগিত প্রেম লেঠা না হইত মরণ।।
*আমরা প্রেমবাজারে থাকি, আমরা প্রেমবাজারে থাকি/ আশিক ছাড়া পুরুষ নারী হাবিয়া দোজখি।। এশ্কে আল্লাহ এশ্কে রসুল এশ্কে আদম খাকি। আদম হইতে হাওয়া পয়দা প্রেম খেলিবার লাগি।। জলিখা এশ্কেতে পাগল ইউসুফের লাগি/ শিরির জন্য ফরহাদ মইল, খসরু হইল পাতকী।। কুমারে দেখিয়া পাগল কন্যা চন্দ্রমুখি/ সুড়ঙ্গ পথে বাহির হয়ে বেশ ধরিল যোগী।। লায়লি আর মজনু পাগল একে অপরের লাগি/ জহুরা কান্দিয়া ফিরে বারামে না দেখি।। আরকুম বলে আশিক জনে মাসুক পাইলে সুখি/ মনসুর সুল্লিতে চড়ে আনাল হক না ডাকি।।
*সোনার পিঞ্জিরা আমার করিয়া গেলায় খালিরে/ হায়রে আমার যতনের পাখি, সুয়ারে একবার পিনজিরায় আও দেখি।। আর আজ্ঞামতে এই দেহাতে করিলায় পরবাস/ এখন মোরে ছাড়িয়া গেলায় করিয়া নৈরাশ।। যেই ঘরে থাকিয়া তুমি সদায় কৈলায় খেলা, সেই কোঠার মাঝে আমার লাগিয়া গেল তালা।। আর তুমি আমি একই ঘরেছিলাম এতদিন- আজি হতে ভিন্ন ভিন্ন পিঞ্জিরা মলিন।। পাগল আরকুমে কয় মিছা ঘরবাড়ি/ সুয়া পাখি উড়িয়া গেলে পিঞ্জিরা রয় পড়ি। উল্লিখিত গানগুলো আজও সিলেটসহ সারা দেশের মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। আরকুম শাহকে নিয়ে শুধু দেশে নয় চর্চা করা হচ্ছে বহিঃর্বিশ্বের নানা দেশে। প্রচারিত হচ্ছে তাঁর কালজয়ী গানগুলো প্রতিটি দেশের প্রচার মাধ্যমে। আরকুম শাহ এখন কিন্তু শুধু সিলেটের নয় এখন সারা বিশ্বের সংগীত প্রিয় মানুষের কণ্ঠস্বর।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আয়নায় দক্ষিণ সুরমা ফকির ইলিয়াস

27-7-3আমার একটা অহংকার আছে। তা হলো আমি সিলেটে জন্মেছি। জন্মেছি হজরত
শাহলালাল (র.) এঁর মাটিতে। দক্ষিণ সুরমা এলাকা একসময় সিলেট সদরের অধীন ছিল। সময়ের বিবর্তনে নতুন উপজেলা হয়েছে। সুরমা নদী বিভক্ত করেছে উত্তর সিলেট-দক্ষিণ সিলেট। আর সুরমার দক্ষিণ জনপদেই গড়ে উঠেছে এই উপজেলা।
বলে রাখি, মোহাম্মদ নওয়াব আলী আমার অনুজপ্রতিম। আমরা বেড়ে উঠেছি একই এলাকায়। তাই তার সাহিত্য-সংস্কৃতি ভাবনা ও কর্মযজ্ঞ আমার খুব পরিচিত।
‘দক্ষিণ সুরমার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ বিষয়ে একটি বই করতে আগ্রহী- তা আমি জেনেছিলাম মোহাম্মদ নওয়াব আলীর কাছ থেকে কয়েকবছর আগেই।
মোহাম্মদ নওয়াব আলী ‘মাসিক বাসিয়া’ সম্পাদক। বাসিয়া নদী বয়ে গেছে আমার বাড়ীর পূর্ব দিয়েই। আমি যেটুকু লেখালেখি করি তার ঋণ ঐ বাসিয়া নদীর কাছেই।
ঐ বাসিয়া নদীই আমাকে কবি হতে শিখিয়েছে। শত শত বাউল গান লিখতে সাথী হয়েছে।
মোহাম্মদ নওয়াব আলী যে কাজটি করেছেন- তা শিকড়ের সন্ধান। ‘দ্যা রুটস’ এর লেখক এ্যলেক্স হ্যালি’র কথা আমরা জানি। না- শিকড়ের সন্ধান ছাড়া কোনো মানুষই তার আত্মানুসন্ধান করতে পারে না।
৪৮০ পৃষ্টার ‘দক্ষিণ সুরমার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ বইটি সম্পাদনা করে এই তরুণ সম্পাদক সেই গুরু দায়িত্বটি পালন করেছেন।27-7-4
মোট ১৫ টি অধ্যায় রয়েছে এই দলিলগ্রন্থটিতে। গ্রন্থটির প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা গঠনের ইতিবৃত্ত, ঐতিহাসিক ও পরিসংখ্যানসহ ভৌগলিক বিবরণ। উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ৩ (২) ধারা বলে ২১ মার্চ, ২০০৫ সালে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা গঠিত হয়। সিলেট সদর উপজেলার সতেরোটি ইউনিয়ন থেকে নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে উক্ত উপজেলা গঠিত হয়। পরে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রজ্ঞাপন অনুসারে কামালবাজার ইউনিয়ন উক্ত উপজেলার অন্তর্ভূক্ত হয়। ফলে মোল্লারগাঁও, বরইকান্দি, তেতলী, কুচাই, সিলাম, লালাবাজার, জালালপুর, মোগলাবাজার, দাউদপুর ও কামালবাজার এই দশটি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা গঠিত। মোগলাবাজার ইউনিয়নের নৈখাই নামক স্থানে উপজেলার সদরদপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। উক্ত উপজেলায় দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার নামে দুটি থানা (পুলিশ স্টেশন) এবং দক্ষিণ সুরমা থানার  অধীনে সিটি কর্পোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড রয়েছে। এই অধ্যায়ে উপজেলার মানচিত্র, প্রশাসনিক ভবনের ছবি, বিভিন্ন পরিসংখ্যান, বিভিন্ন ইউনিয়নের মানচিত্রসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং তিনটি ওয়ার্ডের বিশদ বিবরণ ও তথ্যাদি সন্নিবেশিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও নামের তালিকা ও সময়কাল প্রদত্ত হয়েছে। এক কথায়, ইউনিয়নসমূহ ও ওয়ার্ডসহ উপজেলার সম্যক পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে দশটি ইউনিয়ন ও তিনটি সিটি ওয়ার্ডের মানচিত্রসহ পূর্ণ পরিচিতি দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নওয়ারী প্রদত্ত পরিসংখ্যান ও ২৫, ২৬ ও ২৭নং ওয়ার্ডের পরিসংখ্যানসহ পূর্ণ পরিচিতি পাঠককে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবে।
তৃতীয় অধ্যায়ে উপজেলার ইউনিয়ন ভিত্তিক গ্রাম ও মৌজার তালিকা, নদী, খালবিল, জলমহাল, টিলা, হাটবাজার সমূহ, সিটি ওয়ার্ড সমূহের গ্রামের তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। সুরমা, বাসিয়া ও বড়ভাগা- উপজেলার এই তিনটি নদীর উৎপত্তি ও অবস্থান সম্পর্কে এই অধ্যায়ে সুন্দর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। এই উপজেলার ত্রিশটি বিল ও দশটি জলমহালের তালিকাও উল্লেখিত আছে।
চতুর্থ অধ্যায়ে রয়েছে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক মসজিদ, মন্দির, গির্জার তালিকা, মুক্তিযুদ্ধে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন এলাকার ভূমিকা ও গণকবর সম্পর্কিত তথ্য।
পঞ্চম অধ্যায়ে দক্ষিণ সুরমার ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্থানের বর্ণনা রয়েছে। দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রন্থের ষষ্ঠ অধ্যায়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে। প্রথমে শহিদ বুদ্ধিজীবী ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা একুশজনের তালিকা ও তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য তথা মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে, যা মর্মান্তিক ও স্বাধীনতাযুদ্ধে গৌরবজনক শাহাদতের স্বাক্ষর বহন করে। এই একুশজনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক শহিদ বুদ্ধিজীবী ড. আবদুল মুক্তাদিরের নামও রয়েছে।
২৫ মার্চ, ১৯৭১ রাত্রে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে হত্যা করে। তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যান্য বিশজন শহিদ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবজনক ভূমিকা পালন করে শাহাদত বরণ করেন। গ্রন্থের লেখক তাঁদের সম্পর্কে তথ্যাদি সংগ্রহ করে গ্রন্থিত করার কারণে গ্রন্থের গুরুত্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অধ্যায়ে ইউনিয়নওয়ারী ও তিন ওয়ার্ডের ২০৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রদত্ত হয়েছে। মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন ১৫ জন, বরইকান্দি ইউনিয়ন ১৭ জন, তেতলী ইউনিয়নে ১৮ জন, কুচাই ইউনিয়নে ২৭ জন, সিলাম ইউনিয়নে ৫২ জন, মোগলাবাজার ইউনিয়নে ৪১ জন, দাউদপুর ইউনিয়নে ১৬ জন, কামালবাজার ইউনিয়নে ১০ জন ও তিনটি ওয়ার্ডে ১১ জন। এখানে ২০৭জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা গেজেট ও মুক্তিবার্তা নম্বরসহ গ্রন্থিত হয়েছে।
তাছাড়া গ্রন্থিত হয়েছে শিক্ষক, কবি লেখক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য। এ বৃত্তান্তে প্রবীণ থেকে বর্তমান প্রজন্মের পরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাহিত্যিকদের নাম রয়েছে। তাছাড়া এই ষষ্ঠ অধ্যায়ে দক্ষিণ সুরমার সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও সমাজসেবা, ক্রীড়া, আইন বিচার প্রশাসন, কৃষি শিল্প বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, উচ্চ পদে কর্মরত, চিকিৎসা ও প্রবাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত পরিচয় গ্রন্থিত হয়েছে।
সপ্তম অধ্যায়ে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের পরিচয় ও কৃতির বিবরণ রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ।
গ্রন্থের অষ্টম অধ্যায়ে রয়েছে দক্ষিণ সুরমার একুশটি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সিলেট বিভাগীয় সদর দপ্তর, ডিআইজি অফিস, সিলেট শিক্ষাবোর্ড, সিলেট বিসিক শিল্পনগরী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, দক্ষিণ সুরমা মেট্রোপলিটন থানা, মোগলাবাজার মেট্রোপলিটন থানা, সিলেট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ ইত্যাদি।
নবম অধ্যায়ে রয়েছে দশটি শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দশম অধ্যায়ে পনেরোটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসবের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসসহ অবস্থান ও কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বয়ান রয়েছে গ্রন্থটিতে।
গ্রন্থের একাদশ অধ্যায়ে রয়েছে ৩৩টি মাদ্রাসার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও ভৌগলিক অবস্থান। ফাজিল মাদ্রাসা, আলিম মাদ্রাসা, দাখিল মাদ্রাসা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও কওমি মাদ্রাসার অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী ধর্মীয় ও কার্যকরী শিক্ষা গ্রহণ করছেন।
দ্বাদশ অধ্যায়ে রয়েছে বিভিন্ন রকমের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইউনিয়নওয়ারী সংখ্যা, অবস্থান ও পরিচিতি। দক্ষিণ সুরমায় ৮৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯টি রেজিস্টার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২টি রেজিস্টার্ড (কমিউনিটি) প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৮টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৫টি কিন্ডারগার্ডেন শিক্ষা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। এসব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্তসহ পরিচালনা কমিটির নামধামসহ বিদ্যালয় সমূহের পরিচিতি পাঠক সমীপে তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রয়োদশ অধ্যায়ে ৪টি সংসদ নির্বাচন, একটি উপজেলা নির্বাচন ও ২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এর বিশদ পরিসংখ্যান ও বিবরণ রয়েছে। সংসদ নির্বাচনগুলো ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত, উপজেলা নির্বাচন ২০০৯ সালে ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০০৩ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়। মার্কাসহ সকল প্রতিযোগির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাসহ তালিকা প্রদত্ত হয়েছে।
চতুর্দশ অধ্যায়ে দক্ষিণ সুরমার ওলি, আউলিয়া, ফকির দরবেশ, হযরত শাহজালালের সফর সঙ্গীদের সচিত্র মাজার পরিচিতি ও অন্যান্য দরবেশদের সচিত্র  মাজার পরিচিতি গ্রন্থিত হয়েছে। এই অধ্যায়ে হযরত শাহজালালের ৩২২জন সঙ্গীর তালিকা রয়েছে এবং দক্ষিণ সুরমায় এরূপ ২২ জন আউলিয়ার মাজার রয়েছে। এই মাজারগুলির প্রতিবেদন ও চিত্র রয়েছে গ্রন্থটিতে। তাছাড়া ওলি আউলিয়া বুজর্গদের তালিকায় আরো ৬৮ জনের নাম ও সচিত্র মাজার রয়েছে।
পঞ্চদশ অধ্যায়ে বিবিধ বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষা সমূহ রেজি. সমাজকল্যাণ সমিতি, বিভিন্ন সমবায় সমিতি, ব্যাংক ও কমিউনিটি সেন্টারের বিবরণ ও তথ্য সংগ্রহে সহায়তাকারী ও সহায়ক গ্রন্থের বিবরণ।
এই গ্রন্থটি লিখতে কিংবা সম্পাদনা করতে সম্পাদককে যারা বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন, তাদের নাম এবং সহায়ক গ্রন্থগুলোর তালিকা যুক্ত হয়েছে বইয়ের শেষে।
সুদূর নিউইয়র্কে অনেক মমতায় বইটি আমার কাছে পাঠিয়েছেন সম্পাদক মোহাম্মদ নওয়াব আলী। আমি যখন বইটিতে মনোনিবেশ করেছি, তখনই আমার সামনে ভেসে উঠেছে দক্ষিণ সুরমার পথ-ঘাট, নদী-নালা, ওলী-আউলিয়ার মাজার। আমার কানে বেজে গেছে ফকির শাহ আব্দুল লতিফ কিংবা ফকির আরকুম শাহ এঁর গান।
বলতে পারি, একটি কঠিন কাজ সম্পন্ন করেছেন এই নিষ্ঠাবান সম্পাদক।
বলা দরকার, এই বইটি কারো কারো মতে একটি সম্পূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত না-ও হতে পারে। ভুলবশতঃ কিছু তথ্য বাদ পড়তেই পারে। তবে এই বিশাল গ্রন্থটি আগামী দিনের গবেষকদের জন্য একটি মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
চাররঙা কালারে চমৎকার প্রচ্ছদ করেছেন কৃতি চিত্রশিল্পী ধ্রুব এষ। প্রকাশক- বাসিয়া প্রকাশনীর পক্ষে মকসুদ আহমদ বাসিত। অঙ্গসজ্জা- মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান ও এম ইসলাম। অলোকচিত্র- মো. রিয়াজউদ্দিন ও আজাদুর রহমান সুমন।
মূল্য রাখা হয়েছে- পাঁচশত টাকা। বিলাতে দশ পাউন্ড।
গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে- সম্পাদকের দাদা মোহাম্মদ কাজিম, পিতা মো. পীর বকস, মাতা আফলাতুন নেসা, চাচা নূর বকস গেদু মিয়া কে। যারা সম্পাদককে দিয়েছেন শিকড়ের সন্ধান।
অফসেট পেপারে ছাপা গ্রন্থটি যে কোনো পাঠকের মন ও সংগ্রাহকের গ্রন্থালয়কে আলোকিত করবে। এটা দুঃখের কথা, সরকারি পর্যায়েও ইতিহাস-ঐতিহ্য ভিত্তিক গ্রন্থগুলো কিনে নিয়ে সরকারি লাইব্রেরীগুলোকে সমৃদ্ধ করতে অনেক কার্পণ্য করা হয়।
এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। বই মানুষকে ঝলমলে জীবনের সন্ধান দেয়। আমি চাইবো, দক্ষিণ সুরমা এলাকা সহ গোটা বাংলাদেশের চিত্তবান-বিত্তবান মানুষেরা এই বইটি কিনে তাদের প্রিয়জনকে উপহার দেবেন। নিজ সংগ্রহে রাখবেন।
লেখক : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কবি ও প্রাবন্ধিক

দক্ষিণ সুরমার সুরটা কেমন? আলম তালুকদার

27-7-4‘দক্ষিণ সুরমার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ বইটি আমার সামনে। সুরমার সাথে সিলেট নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উত্তরের নয়, দক্ষিণের সুরমা। এখানের সুর কী অন্যরকম? এখানের সুরে কী মিঠা বেশি নাকি চিনি বা গুড় বেশি। এর জবাব দিয়েছে নওয়াব। মানে মোহাম্মদ নওয়াব আলী। তিনি অনুসন্ধানী, তিনি মনুসন্ধানী এবং মননশীল লেখক ও সম্পাদক।
আসুন এক নজরে বইটি দেখা যাক। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ৪৮০, প্রকাশক মকসুদ আহমদ বাসিত। বাসিয়া প্রকাশনী, স্টেশন রোড সিলেট। প্রচ্ছদশিল্পী আরেক স্বনামধন্য সিলেটবাসী ধ্র“ব এষ। আলোকচিত্রী : মো. রিয়াজউদ্দিন ও আজাদুর রহমান সুমন, মূল্য মাত্র ৫০০/- টাকা। প্রকাশকাল- অমর গ্রন্থমেলা-২০১৩। বইটিতে প্রথম অধ্যায় হতে শুরু করে পঞ্চদশ অধ্যায়ে খতম করা হয়েছে। সুরমা দক্ষিণের মানচিত্রসহ ৯টি ইউনিয়নের মানচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সুরমা দক্ষিণ উপজেলার কি কি আছে তা এক নজরে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৌজা, নদ-নদী, খালবিল, জল মহলের এবং হাট-বাজারের তালিকা আছে তৃতীয় অধ্যায়ে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, তীর্থস্থানসহ বিভিন্ন স্থানের নামকরণের বিবরণ আছে চতুর্থ অধ্যায়ে। গণকবরের বিবরণও পাওয়া যাবে এ অধ্যায়ে।
৫ম অধ্যায়ে ঐতিহাসিক স্থানের বিবরণ। ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি, সাংবাদিকতার আইন বিচার প্রকাশ, কৃষি বাণিজ্য, তথ্য প্রযুক্তি, চিকিৎসাসহ প্রবাসীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৭ম অধ্যায়ে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। ৮ম অধ্যায়ে সরকারি-বেসকারি যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের বিবরণ পাওয়া যাবে।
৯ম অধ্যায়ে শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। দশম ও একাদশ অধ্যায়ে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যাবে।
দ্বাদশ, প্রাথমিক শিক্ষা, ত্রয়োদশ অধ্যায়ে আছে সংসদ, উপজেলা ও সিটি নির্বাচন। চতুর্দশ অধ্যায়ে বিভিন্ন ওলি আওলিয়া দরবেশদের পরিচয় পাওয়া যাবে। পঞ্চদশ অধ্যায়ে আছে বিবিধ বিষয়ের কথা।
বইটি পাঠ করলেই বোধা যাবে কতটা পরিশ্রম এবং মেধা খরচ করা হয়েছে। নওয়াব আলী অসাধ্য সাধনের কাজটি করেছেন। তাকে দেখলে কথা বললে মালুম করা কঠিন। ভিতরে ভিতরে এতটা গবেষণার জন্য প্রস্তুতি এবং প্রস্তুত হয়ে কাজটি সমাধান করেছেন। সে জন্য আমি বিষ্ময়ের সাথে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা খাতিরের মন্তব্য নয় এটা তার আদায় করে নেবার যোগ্যতার স্বীকৃতি। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মোহাম্মদ নওয়াব আলী এই বিষয়ে অগ্রগামী। জানিনা তার পরিবার তাকে কীভাবে মূল্যায়ণ করে থাকে। তবে আগামীদিনে তিনি সুরমা অঞ্চলের একজন অগ্রগামী গবেষক বলে চিহ্নিত হয়ে গেলেন।
তিনি বইয়ের কথাসূত্র নামক ভূমিকায় বলেছেন, “নানা জনের হরেক রকম কথা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সমালোচনা, মন্তব্য মহতী কাজে স্থির থাকার পথে বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও নিজেকে প্রোএকটিভ রেখে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে ছুটেছি গ্রাম থেকে গ্রামে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। সমালোচকদের সমালোচনাকে উপেক্ষা করে তা থেকে শক্তি ও সাহস নিয়ে এগিয়েছি”।
তিনি আরো প্রত্যাশা করেছেন, “এ গ্রন্থ কোন আর্থিক রুটি রুজির বাহন নয়, বরং আমার জন্মভূমির যে মাটিতে আমার শেকড় প্রোথিত যে মাটিতে সে মাটি ও মানুষের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। কারণ আঞ্চলিক ইতিহাস সংগৃহীত হলে জাতীয় ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস”।
এই তার সরল এবং স্বাভাবিক উচ্চারণ তার প্রতি আমার সহমর্মিতা সে আদায় করেই নিয়েছে আর কী !
কোন এক মনীষী বলেছেন, মানুষ অমরতার জন্য তিনটি কাজ করে। একটি হলো- সে প্রজন্ম সৃষ্টি করে। মানে বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানী হয়। দ্বিতীয়টা হলো, সে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় আকৃষ্ট হয়। মানুষ এতেই সন্তুষ্ট হতে পারে না। বয়স হলে, শরীর দুর্বল হলে মানুষ ধর্মে মনোযোগ দেয়, সেই জন্য ধর্মীয় গ্রন্থ তৈরি করে। তীর্থ স্থানে গমন করে যাতে পরলোকেও সে ভালো থাকতে পারে।
আমাদের দক্ষিণ সুরমার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের লেখক মোহাম্মদ নওয়াব আলীর তিনটি আশাই পূর্ণ হোক এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।
লেখক : মহাপরিচালক, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, শাহবাগ ঢাকা।

কয়েকটি অনির্বাচিত কবিতা ॥ ফকির ইলিয়াস

27-7-3পাঠক সংখ্যা এক

 

যে কবিতাটি আমি একটি জাতীয় দৈনিকে

পাঠিয়েছিলাম, তা আর কেউ পড়েনি।শুধু

পড়েছিলেন ঐ দৈনিকের সাহিত্য সম্পাদক।

তারপরে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ডাস্টবিনে।সেই

থেকে আমার ঐ কবিতাটির পাঠক সংখ্যা

একজনই ।

 

তিনি ফেলে দিয়েছিলেন ,কারণ তার ভালো

লাগেনি কবিতাখানি।

 

এই ভবের বাজারে ,অনেকের অনেক কিছুই

ভালো লাগে না।

কারো ভালো লাগে না যোগাত্মক যন্ত্রনা।

আবার, কারো ভালো লেগে যায় বিয়োগাত্মক বন্দনা ।

 

তা নিয়ে আমার কোনো অনুযোগ নেই

প্রকাশিত কথা হচ্ছে এই ……

যারা কবিতা বুঝতে জানে তারা প্রজাপতির পাশে দাঁড়াবেই ।

 

।।।।।।।।

ছিটমহল

 

ছড়িয়ে আছে পাথরদানা।জানা- অজানার বনভূমি ছুঁয়ে শিশুরা খেলে

যাচ্ছে সাপ-লুডু খেলা। বেলা দাঁড়িয়ে দেখছে জীবনের গমনদৃশ্যরূপ।

চুপ করে থাকি। আঁকি আমিও সম্প্রসারিত ভুলের কোলাজ। আওয়াজ

দেবার কথা ছিল যাদের, তারাও ছিটমহলের বাসিন্দা এখন। দ্রবণ

শেষ হলে প্রেমও কি তবে ছিটকে পড়ে পরাকাশের ,প্রান্তে অবশেষে!

ভালোবেসে মাটির মরম, দেখে যেয়ো … জমাট পাথর বাঁধা বুকের প্রদেশে।

 

।।।।।।।।

ঘাসগল্প

 

কিছুটা গৌরবগরজ নিয়ে আছি। কিছুটা রক্তাক্ত রাতের শরীরে মিশিয়ে শরীর।

এভাবে থেকে যেতে হয় । বিনয়ের কবিতা পড়ে শিখেছি বিনয়।

আর শক্তির কাছ থেকে ধার নিয়ে শক্তি, খুঁজেছি নির্জনতার ছায়া।

 

শনাক্ত করতে পারলে বুঝা যায় জলভাষা। দৃষ্টির দিগন্ত ছুঁলে ধরা যায়

বৃষ্টিবর্ণ । প্রতিবেশী প্রেমিকাকে ঘাসগল্প শুনিয়ে ঘুরা যায় নক্ষত্রনগর ।

 

কিছুটা মৌনতা নিয়ে আছি। গৌণ ভুলগুলোর চূড়ায় গোলাপ পাপড়ি

সাজিয়ে বার বার হয়েছি বশ্য। পারলে দিয়ে যেতাম এর অধিক কিছু।

এই শৌর্যের সন্ধ্যাতারার মেলায়, ভার্চুয়াল জোসানারা যেমন ভাসে দ্যোতনায়।

 

।।।।।।।।

এ্যাটাচম্যান্ট

 

মেঘের আলোয় লুকিয়ে রাখি মেঘালয়। অনাদি ঈশ্বর এসে ঢেকে দেবেন

আমাদের কামঘুম , সে প্রত্যয় নিয়ে গোণি প্রহর । বুঝে , না বুঝে আমরা

যারা খেলি প্লাস-মাইনাস খেলা ,তাদের সমবেত তাঁবুতে ছিটাই কুয়াশামন।

 

সংগ্রহ শেষ হলে পাঠিয়ে দেবো তোমার ঠিকানায়। লগো দেখে তুমি তা

যুক্ত করে নিতে পারবে তোমার ডেস্কটপে।তারপর ম্যাচমেকিং করে দূর

আকাশের রঙের সাথে মিলিয়ে নিতে পারবে গৃহীত উত্তরের রঙ। চাইলে

ডিলিট ও করতে পারবে । তবে বলি ,তার আগে শিখে নিও ‘সেভ ইয়র

সোল’। এ্যাটাচম্যান্ট করে পাঠিয়ে দিও অন্য কারো কাছে।যে জন যতনে

শিলং শহরে ……..

একজন অনিমিতা দেবরায়ের খোঁজে দিবানিশী ঘুরে ।

 

।।।।।।।।

মাস্তুল

 

এই বাঁকে কী এর আগে দাঁড়িয়েছিল কেউ। মাস্তুল কাঁধে ফেরারী মাঝির

মন নিয়ে দেখেছিল ভাঙনের সপ্তদৃশ্য ! এবং ওপারের মানুষের বিরহে

ঢেকেছিল দু’চোখ !

 

এমন প্রশ্ন নিয়ে জল খেলে ঘূর্ণি ঘূর্ণি খেলা

বেলা বয় ধীরে-

যমুনার দুই পাড়ে স্মৃতিমেদ বসিয়েছে মেলা

Developed by: