বিভাগ: বই পত্র

সুরমা

2-13সুরমা নদীর নামকরণ নিয়ে ফজলুর রহমান তাঁর ‘সিলেটের মাটি ও মানুষ’ গ্রন্থে বলেছেন, দ্বাদশ শতকের রাজা ত্রেপাল বরাক নদী হতে খালকেটে নদীটি খনন করেন এবং প্রিয়তমা স্ত্রীর নামে নাম রাখেন ‘সুরমা’। তবে হট্টনাথের পাঁচালিতে উল্লেখ আছে সুরমা নদী মনুষ্য সৃষ্ট কাটা গাঙ। বরাক হতে লোভার সংযোগ পর্যন্ত সাত বাঁক, আটগ্রাম প্রভৃতিস্থানের লোকমুখে নদীর ওই অংশ কাটা নদী বা কাটাগাঙ নামে অভিহিত হয়। তাই বলা যায় দ্বাদশ শতকের মধ্যভাগে সুরমা নদীর জন্ম।
সুরমা নদীর গতিপথে জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, সিলেট, বিশ্বনাথ, ছাতক, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জের সদর ও আজমিরিগঞ্জ অবস্থিত।
সুরমা নদীর মোট দৈর্ঘ্য ২৪৫ কি.মি.। প্রস্থ ৯০ মি.। বর্ষাকালে গভীরতা ১২.২৮ মি. এবং অববাহিকার আয়তন ৭৪৭৬ বর্গ কি.মি। সুরমা নদীতে জোয়ার ভাটার প্রবাহ নেই। তবে সাধারণত এই নদীতে বন্যা হয়। সিলেটে সুরমা নদীর উপর কিনব্রিজ, রেল সেতু আছে। বর্ষা মৌসুমে সুরমার পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বন্যা হয়।

বাসিয়া

2-09সুরমা নদীর শাখা নদী বাসিয়া। সুরমা নদী সদর থানার টুকেরবাজারের পাশে মাসুকগঞ্জবাজারের মুখ দিয়ে বাসিয়া নদীর গতিধারা শুরু। কান্দিগাঁও ইউনিয়ন দিয়ে বাসিয়া নদীর যাত্রা শুরু হয়ে মোল্লারগাঁও, তেতলী, কামালবাজার ও লালাবাজার ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বিশ্বনাথে যাত্রা শুরু করে। বাসিয়া নদীই স্থানীয় জনগণের কাছে ‘বাইয়া নদী’ নামে পরিচিত। গতিশীল এ নদীটি দিন দিন ভরাট হচ্ছে এবং তার প্রস্থ হারাচ্ছে। বছরের প্রায় অর্ধেক সময় বাসিয়া নদী শুকনো থাকে। বাসিয়া নদীর পানি দিয়ে উভয় পারে কৃষকরা শাকসবজি চাষ করে থাকেন।

বড়ভাগা
বড়ভাগা দণি সুরমার জালালপুর ইউনিয়নের খতিরা টাকিরমুরায় বড়ভাগা পৃথক হয়েছে বুড়ি বরাক থেকে। প্রতœতত্ত্ববিদ কমলাকান্ত গুপ্তের মতে প্রাচীন বাঘার খালই’ বড়ভাগা নদী। এই নদীকে ‘বড়ভাঙ’ এবং কেউ কেউ ‘বড় অভাগা’ বলেও ডাকেন। বড়ভাগা নদী লালাবাজার ইউনিয়নের ফরিদ মৌজায় আবদাল খাল নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে আমিতি নদী নামে বিশ্বনাথের দিকে যাত্রা করে।

ড. কবির হোসেন চৌধুরী

27-7-1সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ইউনিয়নের বরইকান্দি গ্রামে ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ড. কবির হোসেন চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে বি.এস.সি অনার্স ও ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে এম.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ফার্মাসিউটিক্যালসে এম.এস ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে একই ইউনিভার্সিটি থেকে একই শাস্ত্রে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি রয়্যাল সম্মানিত মেম্বার এবং ক্যামিক্যাল সোসাইটির সম্মানিত ফেলো।
১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ওয়ার্ল্ড ইয়ূথ কাউন্সিলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ম্যানচেস্টার কাউন্সিল ফর দ্যা কমিউনিটি রিলেশন্সের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি কুয়েতে থাকাকালে কুয়েতে বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ-ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা ডাইরেক্টর জেনারেল হন। একই খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাজ্যের গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের যুগ্মআহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন।
তিনি বাংলা, ইংরেজি ও আরবি এই তিনটি ভাষায় খুবই পারদর্শী। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ট্রাফালগার স্কোয়ারের বিশাল গণজমায়েতে উদ্দীপনাময়ী বক্তৃতা করেন। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে একই স্থানে কুয়েতমুক্ত করার আন্দোলন চলাকালে অনুষ্ঠিত সভায় তাঁর বক্তৃতা বিরাট আবেদন ও সাড়া জাগায় মানুষের মনে। লন্ডনের স্কুল অব ইকনোমিক্সে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের উপর অক্সফোর্ডের নাফিল্ড কলেজে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উপর তাঁর বক্তৃতা সমাজে আলোড়ন সৃষ্টির পাশাপাশি অক্সফোমের অক্সফামের ফান্ডরাইজিং অভিযানেও তাঁর বক্তৃতা বিরাট সহায়তা জোগায়।
রাজনীতির ক্ষেত্রে ট্রেনিং শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নমূলক কাজের দিকে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ পার্টিকে তিনি ব্রিটেনের বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনের বাঙালি কমিউনিটির স্বার্থ ও অধিকার এবং উন্নয়ন কর্মপ্রচেষ্টার প্রতি আন্তরিকভাবে আরও বেশ আগ্রহী করে তুলছেন। তিনি ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাশীন কনজারভেটিভ পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে টাওয়ার হেমলেটেস বেথেনল গ্রিন অ্যান্ড ব্রো নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে সাড়া জাগান।
কবির চৌধুরী একজন নিরহংকার, সদালাপী, মার্জিত রুচির মানুষ। তিনি নিরলসভাবে কাজ করতে ভালোবাসেন। দক্ষিণ সুরমার শিক্ষা বিস্তারে তাঁর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষিণ সুরমার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে শিক্ষা বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি ২০০২ খ্রিস্টাব্দ থেকে দেশে অবস্থান করছেন। দেশে অবস্থানকালীন তিনি প্রথমে শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন। তিনি সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির (সাবেক) ভিসির দায়িত্ব পালন করেন। হাফিজ আহমদ মজুমদার ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্কলার্স হোম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও তিনি।

বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আনওয়ার আলী

000000গত ২৫ জুলাই সকাল ১০.৩০ সময় দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের লতিপুর গ্রামের লতিপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আনোয়ার আলীর শেষ জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গুরুস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ্য গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাত ৩.০০ টায় ঢাকার ল্যাব এইট হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ২৪ জুলাই বাদ জোহর ঢাকার শাহজাহানপুর দাউদুল আজম জামে মসজিদে তাঁর প্রথম নামাজের জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।  মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বৎসর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে মারা গেছেন। জানাজায় প্রফেসর ড. কবীর চৌধুরী সহ অসংখ্যাগুণীজন উপস্থিত ছিলেন।

Developed by: