বিভাগ: খেলাধুলা

বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

ক্রিকেট বিশে^র নতুন চ্যাম্পিয়ন এখন ইংল্যান্ড! বিশ^কাপ ইতিহাসে সুপার ওভারে গড়ানো প্রথম ফাইনাল ম্যাচটি জিতে স্বাগতিক ইংলিশরা মেতে ওঠে স্বপ্নের শিরোপা জয়ে। ২৭ বছর পর ফাইনালে ওঠা দলটি গতকাল রোববার নিউজিল্যান্ডকে পরাজিত করে নিজেদের প্রথম শিরোপার স্বাদ নেয়।
২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচের শেষ ওভারে বল করছিলেন বেন স্টোকস। জয়ের জন্য ৬ বলে ১৯ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বেন স্টোকসের ওভারে কার্লেস ব্রাথওয়েট টানা চার বলে চারটি ছক্কা মেরে ম্যাচটি জিতে নেয়। ফলে ফাইনালে গিয়েও শিরোপা অধরা রয়ে যায় ইংল্যান্ডের। সে ম্যাচের পর বেন স্টোকসকে শুনতে হয়েছে দুয়ো বাণী। গতকাল রোববার এই বেন স্টোকসের কল্যাণেই ইংল্যান্ড টিকে থাকে ম্যাচে, শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতে নিয়েই মাঠ ছাড়ে তার দল। ফাইনালে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বেন স্টোকস এবং টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন কেইন উইলিয়ামসন।
উত্তেজনার শেষ পারদও ছুঁয়ে গেছে দ্বাদশ বিশ^কাপ ফাইনাল! গোটা ক্রিকেট বিশ^কে শেষ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের ফলাফল জানতে। বিশ^কাপ মঞ্চে এমন ফাইনালেরই অপেক্ষা করেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
ফাইনালে ‘কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা পাওয়া’ ইংল্যান্ডের জয়ে লর্ডস গ্রাউন্ডের ‘মিথ’ও সত্যি হয়ে রইলো। গতকালের আগে লর্ডসে অনুষ্ঠিত ৪টি ফাইনালেই টসে জেতা দলটি পরাজয় বরণ করেছিল। গতকাল রোববার টস জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু দিন শেষে জয়ের হাসি হাসে ইংল্যান্ড।
ঐতিহাসিক লর্ডস গ্রাউন্ডে গতকাল টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৪১ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৫০ ওভারে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান করে ইংল্যান্ডও। ফলে ম্যাচটি টাই হয়। তাই শিরোপা নির্ধারনের জন্য ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায়। সেখানেও টাই হয়। তবে নিয়মানুযায়ী সুপার ওভার টাই হওয়াতে, সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি করা দল শিরোপা জিতে নিবে। সেক্ষেত্রে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের হাতেই উঠে শিরোপা।
ফাইনালের টস ভাগ্য বরাবরই নিউজিল্যান্ডের পক্ষে থাকে। ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতেছিলো কিউইরা। টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে ৭ উইকেটে ম্যাচ হেরেছিলো নিউজিল্যান্ড। গতকালেরও ফাইনালেও টস লড়াইয়ে জয় পায় কিউইরা। এবারও প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির কারণে প্রায় ১৫ মিনিট পর শুরু হওয়া ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমে ভালো শুরুর পথেই হাটচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস। ৬ ওভারে ২৮ রান সংগ্রহ করেন তারা। তবে সপ্তম ওভারে নিউজিল্যান্ড শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন ইংল্যান্ড পেসার ক্রিস ওকস। নিজের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে ১৯ রান করা গাপটিলকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন ওকস। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৮ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন গত আসরে এক ইনিংসে বিশ্ব রেকর্ড ২৩৭ অপরাজিত থাকা গাপটিল।
অফÑফর্ম ওপেনারকে হারানোর পর ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার নিকোলস ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। শুরুতে সতর্কতা অবলম্বন করেন তারা। তবে দ্রুতই উইকেটে সাথে মানিয়ে নিয়ে দলের স্কোর বড় করতে থাকেন এ জুটি।। ২২তম ওভারেই শতরানে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। তখন রান রেট সাড়ে ৪ এর সামান্য বেশি।
দলকে শতরানে পৌঁছে দিয়েই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় বিশ্বকাপ এক আসরে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়া উইলিয়ামসনকে। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগানের রিভিউতে আউট হন তিনি। ইংল্যান্ড পেসার লিয়াম প্লাংকেটের বলে উইকেটের পেছনে জশ বাটলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে ২টি চারে ৫৩ বলে ৩০ রান করেন তিনি। ৯৮ বল মোকাবেলা করে এই জুটি যোগ করেন ৭৪ রান।
উইলিয়ামসন আউট হওয়ার সময় অন্যপ্রান্তে হাফ-সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিলেন নিকোলস। পরবর্তীতে হাফ-সেঞ্চুরি তুলেও নেন তিনি। কিন্তু অর্ধশতকের পর নিজের ইনিংসটি বড় করতে পারেননি নিকোলস। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম ও এবারের আসরের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে থেমে যান তিনি। প্লাংকেটের বলে বোল্ড হবার আগে ৪টি চারে নিজের ৭৭ বলের ইনিংসটি সাজান নিকোলস।
১০৩ ও ১১৮ রানে দুই সেট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। এ অবস্থায় দলের হাল ধরার দায়িত্ব বর্তায় দুই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান অভিজ্ঞ রস টেইলর ও উইকেটরক্ষক টম লাথামের। দায়িত্ব পালনের জন্য সর্তকর্তা অবলম্বন করেন তারা। দেখেশুনে জুটি বড় করার চেষ্টা করেন টেইলর ও লাথাম। কিন্তু তাদের পথে এবার বাঁধা হয়ে দাঁড়ান ইংল্যান্ডের পেসার মার্ক উড। কোন বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি ছাড়া ৩১ বলে ১৫ রান করা টেইলরকে এলবিডব্লু করেন উড। দলীয় ১৪১ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় টেইলরকে।
এ অবস্থায় জেমস নিশামকে নিয়ে প্রতি আক্রমণের চেষ্টা করেন লাথাম। ইংল্যান্ড বোলারদের উপর চড়াও হবার চেষ্টা করেন এ জুটি। যাতে উল্টো চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ডের বোলাররা। চাপে পড়েও গিয়েছিলো স্বাগতিক বোলাররা। বলের সাথে পাল্লা দিয়েই রান তুলছিলেন লাথাম-নিশাম। তবে ৩৯তম ওভারের শেষ বলে নিজের ভুল শটে আউট হয়ে যান নিশাম। প্লাংকেটের ডেলিভারিটি মিড-অনের উপর দিয়ে মারতে গিয়ে ৩০ গজের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা জো রুটকে ক্যাচ দেন নিশাম। ৩টি চারে ২৫ বলে ১৯ রান করে প্লাংকেটের তৃতীয় শিকার হন নিশাম।
৩৯তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৭৩ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন নিশাম। বড় স্কোরের আশা শেষ হয়ে যাওয়ায় দলকে লড়াই করার পুঁিজ এনে দেয়ার পরিকল্পনা কষেন লাথাম ও সাত নম্বরে নামা কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। এজন্য ওভার প্রতি ছয় করে রান তুলতে থাকেন তারা। এমন অবস্থায় ২শ পেরিয়ে আড়াইশ’র স্বপ্ন দেখছিলো নিউজিল্যান্ড। কিন্তু গ্র্যান্ডহোমকে থামিয়ে দিয়ে এই জুটির স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করে দেন ওকস। ২৮ বলে ১৬ রান করেন গ্র্যান্ডহোম। লাথামের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ৪৭ বলে ৪৬ রান যোগ করেন গ্র্যান্ডহোম।
একই ওভারে ফিরে যান লাথামও। ফলে আড়াইশ রান স্পর্শ করার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৬ বলে ৪৭ রান করেন লাথাম। তাকে ফিরিয়েছেন ইংল্যান্ডের পেসার ওকস। এরপর ইনিংসের বাকী ৯ বলে ৯ রানের বেশি করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪১ রানের সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের ওকস ৩৭ রানে ও প্লাংকেট ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন।
সেমিফাইনালে ভারতকে জয়ের জন্য ২৪০ রানের টার্গেট দিয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। পরবর্তীতে সেই ম্যাচ ১৮ রানে জিতেছিলো কিউইরা। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে জয়ের জন্য ২৪২ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। এমন পুঁিজতেও লড়াই করার সাহস করেছে নিউজিল্যান্ড। কারণ ভারতকে হারানোর আত্মবিশ্বাস ভরপুর ছিলো কিউই বোলারদের। তবে ইংল্যান্ড ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট প্রায় তুলেই নিয়েছিলেন বোল্ট। ইংল্যান্ড ওপেনার জেসন রয়কে লেগ বিফোর ফাঁেদ ফেলেন নিউজিল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। কিন্তু রয়ের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের বোলার-ফিল্ডারদের আউটের আবেদনে সাড়া দেননি নন-স্ট্রাইকে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস। এতে রিভিউ নেন কিউই দলপতি। পরে রিভিউতে দেখা যায় আম্পায়ারস কল-এ বেঁচে যান রয়। এরপর ইংল্যান্ড শিবিরে প্রথম আঘাত হানতে ষষ্ঠ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় নিউজিল্যান্ডকে।
শুরুটা ভালো করার চেষ্টায় প্রথম ৫ ওভারে ২৪ রান তোলেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় ওভারে বাউন্ডারি হাকান রয়। তবে ঐ ওভারের চতুর্থ বলে আউট হয়ে যেতে হয় তাকে। হেনরির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে থামা রয় ২০ বলে ৩টি বাউন্ডারিতে ১৭ রান করেন।
দলীয় ২৮ রানে রয়ের পতনের পর ক্রিজে যান ইংল্যান্ডের ইনফর্ম ব্যাটসম্যান জো রুট। এ ম্যাচের আগে ব্যাট হাতে এবারের আসরে ৫৪৯ রান করেছিলেন তিনি। গতকালও তার দিকে চেয়েছিলো ইংল্যান্ড শিবির। কিন্তু রুটকে ব্যর্থতার স্বাদ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরান নিউজিল্যান্ডের গ্র্যান্ডহোম। উইকেটে সেট হবার জন্য অনেক বল নষ্ট করেছেন রুট। ৩০ বলে মাত্র ৭ রান করেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান।
রুট ধীরস্থির থাকলেও ইংল্যান্ডের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন অন্যপ্রান্তে থাকা বেয়ারস্টো। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। দারুন এক ডেলিভারিতে বেয়ারস্টোর উইকেট উপড়ে ফেলেন ফার্গুসন। ৭টি চারে ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন তিনি। দলীয় ৭১ রানে বেয়ারস্টোর ফেরাতে চাপ অনুভব করতে শুরু করে ইংল্যান্ড। কিছুঁক্ষণ বাদেই ইংল্যান্ডের উপর চাপ আরো বেড়ে যায়।
১৫ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৫৬ রান তোলে ইংল্যান্ড। এ অবস্থায় ১৬ ওভার থেকে ২৩ ওভার পর্যন্ত দু’প্রান্ত দিয়ে বোলিং করেন গ্র্যান্ডহোম-ফার্গুসন। দু’জনে ৭ ওভার একত্রে বল করে ৩০ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। তারপরও ২৪তম ওভারে ফার্গুসনকে সরিয়ে আচমকা বল হাতে নিশামকে আক্রমণে আনেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়ামসন।
আক্রমণে এসেই নিজের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন নিশাম। উইকেটটি ছিলো ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগানের। উইকেটে গিয়ে সময় নিয়ে সেট হবার চেষ্টা করেছিলেন মরগানও। তাই ২২ বল মোকাবেলা করে ৯ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। ফার্গুসনের দুর্দান্ত ক্যাচে শেষ হয় মরগানের ইনিংস। এতে ৮৬ রানেই চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বসে ইংল্যান্ড। এ অবস্থায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে নিয়ে নেয় নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রন ও ইংল্যান্ডের চাপের মাঝে ২২ গজে ব্যাট হাতে জুটি বাঁেধন স্বাগতিক ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও উইকেটরক্ষক জশ বাটলার। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলতে থাকেন স্টোকস-বাটলার। তবে সর্তকর্তার সাথেই। সেটির প্রমান মিলে ২৫ থেকে ৪০ ওভার পর্যন্ত। এসময় মাত্র ৬টি বাউন্ডারি মারেন তারা। ফলে ৪০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের রান গিয়ে দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭০। শেষ দশ ওভারে ৭২ রান প্রয়োজন পড়ে ইংলিশদের। এ সময় বাটলার ৪২ ও স্টোকস ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
কিছুঁক্ষণ পর নিজেদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন স্টোকস-বাটলার। দু’জনেরই ২০তম হাফ-সেঞ্চুরি পান। হাফ-সেঞ্চুরির মাঝেই ১২৬ বলে জুটিতে শতরান পূর্ণ করেন স্টোকস-বাটলার। দু’ব্যাটসম্যানের হাফ-সেঞ্চুরি ও জুটিতে শতরানের কল্যানে ৪৪ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৮৯ রান করে ইংল্যান্ড। ফলে শেষ ৬ ওভারে ৫৩ রান দরকার পড়ে ইংলিশদের। এমন সময় ৪৫তম ওভারে নিউজিল্যান্ডকে দারুন এক ব্রেক-থ্রু এনে দেন ফার্গুসন। ঐ ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মারেন বাটলার। পঞ্চম বলে আবারো বাউন্ডারির জন্য সজোরে ব্যাট চালিয়েছিলেন বাটলার। কিন্তু তার নেয়া শটে বল আকাশে উঠে যায়। ডিপ কভারে দক্ষতার সাথে ছুঁটে গিয়ে ক্যাচ লুফে নেন দ্বাদশ খেলোয়াড় টিম সাউদি। ফলে ৬টি চারে ৬০ বলে ৫৯ রানে থামে বাটলারের দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস। পঞ্চম উইকেটে ১২৯ বলে ১১০ রান যোগ করেন বাটলার-স্টোকস।
বাটলার যখন ফিরেন তখন জয় থেকে ৪৬ রান দূরে ইংল্যান্ড। বল বাকী ছিলো ৩১টি। এ সময় ক্রিজে স্টোকসের সঙ্গী হন টেল-এন্ডার ব্যাটসম্যান ওকস। ওকসকে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে দেননি ফার্গুসন। ইনিংসের ৪৭ ও নিজের শেষ ওভারের প্রথম বলে ওকসকে ২ রানে আউট করেন ম্যাচে তৃতীয় উইকেট শিকার করেন ফার্গুসন। এরপর ঐ ওভার থেকে ৫ রান পায় ইংল্যান্ড। এরমধ্যে নতুন ব্যাটসম্যান লিয়াম প্লাংকেটের একটি বাউন্ডারি ছিলো। ফলে শেষ ১৮ বলে জয়ের সমীকরন ৩৪ রানে নেমে আসে ইংলিশদের।
বোল্টের করা ৪৮তম ওভার থেকে ১টি বাউন্ডারিতে ১০ রান তুলে নেন স্টোকস-প্লাংকেট। জয়ের সমীকরন তখন দাড়ায় ১২ বলে ২৪ রান। ৪৯তম ওভারে নিশামের প্রথম দু’বল থেকে ২ রান পায় ইংল্যান্ড। তৃতীয় ডেলিভারিতে প্লাংকেটকে বিদায় দেন নিশাম। বোল্টকে ক্যাচ দিয়ে ১০ রানে থামেন প্লাংকেট। চতুর্থ ডেলিভারিতে ছক্কা মেরে উত্তেজনা তৈরি করেন স্টোকস। পঞ্চম বলে ১ রান নিয়ে নবম ব্যাটসম্যান জোফরা আর্চারকে স্ট্রাইক দেন স্টোকস। কিন্তু ঐ ওভারের শেষ বলে আর্চারকে শুন্য রানে বোল্ড করেন নিশাম। এমন অবস্থায় শেষ ৬ বলে ১৫ রান দরকার পড়ে ইংল্যান্ডের।
বিশ্বকাপের ও ম্যাচের শেষ ওভার বোলিং করতে আসেন বোল্ট। প্রথম দুই বলে কোন রানই নিতে পারেনি স্বাগতিকরা। তৃতীয় বলে মিড-উইকেট দিয়ে ছক্কা মারেন স্টোকস। চতুর্থ বলে ঐ একই জায়গা দিয়ে মেরেছিলেন তিনি। কিন্তু বল মাটি কামড়ে গাপটিলের হাতে পৌছায়। গাপটিল বল ছুঁড়ে মারেন উইকেটরক্ষকের দিকে, কারন দু’রানের জন্য স্ট্রাইকে ছুঁটছিলেন স্টোকস। কিন্তু গাপটিলের থ্রো করা বল স্টোকসের গায়ে লেগে বাউন্ডারি স্পর্শ করে। ফলে এই বল থেকে দৌড়ে ২ ও ওভার-থ্রোতে ৪ রান নিয়ে মোট ৬ রান পায় ইংল্যান্ড। তাই শেষ ২ বলে ৩ রান দরকার পড়ে ইংল্যান্ডের। পঞ্চম বলে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হন আদিল রশিদ। ফলে ১ রান পায় ইংল্যান্ড। তাই শেষ বলে ২ রান প্রয়োজন পড়ে ইংল্যান্ডের। শেষ বলে ২ রানের জন্য ছুঁটে রান আউট হন মার্ক উড। ফলে ১ রান পায় ইংল্যান্ড। ম্যাচটি হয় টাই। এতে নিয়মনুযায়ী শিরোপা নির্ধারনের জন্য ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায়। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোন ম্যাচ সুপার ওভারে গড়ালো। স্টোকস ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৯৮ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের ফার্গুসন ও নিশাম ৩টি করে উইকেট নেন।
সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে নামেন ইংল্যান্ডের বাটলার ও স্টোকস। দু’জনই ঐ ইনিংসে হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন। বাটলার ৫৯ ও স্টোকস ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। সুপার ওভারের প্রথম বলে ৩ রান নেন স্টোকস, পরের বলে ১ রান নেন বাটলার, তৃতীয় বলে বাউন্ডারি মারেন স্টোকস, চতুর্থ বলে ১ রান নিয়ে বাটলারকে স্ট্রাইক দেন স্টোকস। ফলে ৪ বলে ৯ রান পায় ইংল্যান্ড। পঞ্চম বলে ২ রান ও শেষ বলে বাউন্ডারি মারেন বাটলার। ফলে ১ ওভারে ১৫ রান সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। ম্যাচ জিততে ১৬ রানের টার্গেট পায় নিউজিল্যান্ড।
জবাবে ইংল্যান্ডের পেসার আর্চারের প্রথম ৫ বল থেকে ১৪ রান তুলে ফেলেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিশাম। শেষ বলে জয়ের জন্য ২ রান দরকার পড়ে কিউইদের। শেষ বলে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হন গাপটিল। সুপার ওভারও টাই হয়। ফলে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারি- ওভার বাউন্ডারি মারার কারনে শিরোপা জিতে নেয় ইংল্যান্ড।

Please follow and like us:
error

সৌম্য ব্যাটিং পাল্টাননি, পাল্টাচ্ছেন নিজেকে

soimo

সৌম্য সরকার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। আবাহনীও জিতেছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। বিশ্বকাপের আগে ফর্মে ফিরে নিজের ব্যাটিং নিয়ে অনেক কথাই বললেন জাতীয় দলের এ ব্যাটসম্যান

সেঞ্চুরি কিংবা ফিফটি পেলে এক হাতে ব্যাট উঁচিয়ে অন্য হাত দিয়ে বুকে টোকা মারতে দেখা যায় সৌম্য সরকারকে। কিন্তু আজ প্রিমিয়ার লিগে তা দেখা গেল না। সৌম্য সেঞ্চুরি পেলেন, তা বোঝা গেল শুধু স্কোরবোর্ড দেখে। সেঞ্চুরি পেয়ে ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো পরের বলটা কীভাবে খেলবেন, সৌম্য ঢুকে গেলেন সে ভাবনায়। অথচ আবাহনীর জন্য ম্যাচটা ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ। বেশ কিছুদিন রানের মধ্যে না থাকা সৌম্যর এমন ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েও ভাবলেশহীন থাকাটা অনেকেই অবাক করেছে। সৌম্য কি তবে নিজেকে পাল্টাচ্ছেন?

পেশাদার ক্যারিয়ারে ব্যাটসম্যানদের ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে যেতেই হয়। টেকনিক আরও উন্নত করতে ব্যাটিংয়ের অনেক কিছু পাল্টানোর সঙ্গে মনোযোগ বাড়াতে নিজেকেও ভাঙতে হয়, গড়তে হয়। আজ লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আবাহনীর ১০২ রানে জয়ের পর এমন কিছু কথাই বলেছেন জাতীয় দলের এই ব্যাটসম্যান। আর তাতে বোঝা গেল, বিশ্বকাপের জন্য সৌম্য আসলে প্রস্তুত হচ্ছেন। এই যেমন ধরুন, খারাপ খেললে কিংবা বাজে শটে আউট হলে নিজেই নিজের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া। ভুলগুলো নিয়ে ভাবা এবং তা শোধরানোর চেষ্টা করা। এসবই আসলে একজন ব্যাটসম্যানের নিজেকে নিয়ে ভাঙাগড়ার খেলা। সৌম্য এই খেলায় এখন ভীষণ মনোযোগী।

২ ছক্কা ও ১৫ চারে ৭৯ বলে ১০৬ রানের ইনিংস। সৌম্যসুলভ ইনিংসই বটে! বিশ্বকাপের আগে রানে ফেরায় তাঁর স্বস্তিই পাওয়ার কথা। কিন্তু দ্রুত আউট (২৫তম ওভার) হওয়ায় নিজেই নিজেকে দাঁড় করাচ্ছেন কাঠগড়ায়, ‘আজ হয়তোবা শুরুটা ভালো হয়েছে। চেষ্টা করেছি একটা বড় ইনিংস খেলার। তারপরও অনেক দ্রুত আউট হয়ে গিয়েছি, ২৪ ওভারের সময়। যদি থাকতে পারতাম তাহলে আরও বড় ইনিংস খেলতে পারতাম।’

প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর আগের ম্যাচগুলোয় সৌম্য সেভাবে রান পাননি। আজ বড় ম্যাচ থাকায় তাঁর আলাদা একটা পরিকল্পনা ছিল। নিউজিল্যান্ডে জাতীয় দলের হয়ে কিছুদিন আগেই রান পেয়েছেন। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে রানখরায় ভোগায় কিছুটা চাপও ছিল তাঁর ওপর, ‘চাপ বলতে, নিজের কাছে খারাপ লাগা ছিল। রান করতে পারছি না। কিছুদিন আগে জাতীয় দলে রান করে আসছি। নিজের কাছে খারাপ লাগছিল যে ওখানে রান করে এসে এখানে রান করছি না।’

ঠিক এরপরই নিজের ব্যাটিং নিয়ে ভাঙাগড়ার ভাবনার কথা জানালেন সৌম্য, ‘একটু চাপও কাজ করছিল, কেন কী ভুল করছি। এগুলো নিয়ে নিজের ভেতরে অনেক প্রশ্ন ছিল। দক্ষতার পাশাপাশি কেন এমন হচ্ছে দেখছি। একদিনে তো আর কেনোর উত্তর পাওয়া যাবে না। আউটগুলো নিয়ে বাসায় গিয়ে চিন্তা করা, আমি ভিন্ন কিছু করতে পারতাম কি না। আগের যে ভিডিওগুলো ছিল, তা দেখেছি। এ বলগুলোয় আমি ওখানে কি খেলেছি, এখানে কি খেলছি। এগুলো নিয়েই আর কি নিজের চিন্তা।’

তা এমন ভাবনা তো প্রায় সব ব্যাটসম্যানেরই থাকে। কিন্তু এসব ভাবনার প্রভাবে ব্যাটিংয়ের ধরন কি পাল্টাবে? সৌম্যর জবাব, ‘না ব্যাটিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনি নি। মনোযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। সোজা ব্যাটে ব্যাট করার চেষ্টা করেছি।’

সুপার লিগে রূপগঞ্জকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল আবাহনী। ১৫ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে দলটি (রানরেট ০.৯০৫)। টেবিলে দ্বিতীয় রূপগঞ্জের সংগ্রহও ২৪ পয়েন্ট, তবে রানরেটে (০.৪২৫) পিছিয়ে আছে দলটি।

Please follow and like us:
error

যেকোনো কিছু হতে পারে, তাসকিনকে ওয়ালশের বার্তা

tasking

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি তাসকিন আহমেদ। এ নিয়ে নিজের মনের দুঃখ গোপন করেননি এই পেসার। তাসকিনকে অবশ্য ভেঙে না পড়ারই পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। তিনি বরং তাসকিনকে তৈরি থাকারই কথা বলেছেন, সামনে কেউ যদি চোটে পড়েন, কে জানে তিনি তো ডাকও পেতে পারেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বাংলাদেশ। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রস্তুতির প্রথম দিন ক্রিকেটারদের চেয়ে কোচিং স্টাফদেরই বেশি দেখা গেল! উপস্থিত ছিলেন পাঁচ ক্রিকেটার, বাকিরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে বিশ্রামে। অনুশীলনের শেষ দিকে মাঠে এলেন তাসকিন আহমেদ।

বিশ্বকাপ কিংবা আয়ারল্যান্ড সফরের দলে থাকতে পারেননি। প্রিমিয়ার লিগের পর সময়টা কাটবে কী করে? ‘জাতীয় দলের নেট বোলার হয়ে যাব’—রসিকতা করে বললেও তাসকিনের আফসোসটা বেশ বোঝা যাচ্ছিল। দলে না থাকলেও পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের দুয়ার নিশ্চয়ই খোলা থাকবে তাঁর জন্য। তাসকিনকে তাই হতাশ না হওয়ার পরামর্শ ওয়ালশের। আজ অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমকে উইন্ডিজ কিংবদন্তি বললেন, ‘ওর তো নিউজিল্যান্ড সফরেই থাকার কথা ছিল। ওকে ম্যাচের জন্য ফিট করাই হবে আমার কাজ। আসলে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। খেলতে খেলতেই সে এটা ফিরে পাবে। যত ম্যাচ সে খেলবে, ততই ওর ভালো। আয়ারল্যান্ডে ওকে পেলে তো ভালো হতো, এটিই হচ্ছে তাকে নিয়ে যথার্থ মন্তব্য। কিন্তু দল নির্বাচন হয়ে গেছে। তাকে চেষ্টা করে যেতে হবে, ক্রিকেট খেলতে হবে। বল করে করে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে। যেকোনো কিছুই হতে পারে। এখন সে বিশ্বকাপ দলে নেই, কেউ যদি চোটে পড়ে, তাকে ডাকা হতে পারে সবার আগে। তাকেও আমাদের তৈরি রাখতে হবে।’

সতীর্থ বোলারদের কেউ চোটে পড়বেন, এটি নিশ্চয়ই তাসকিন প্রত্যাশা করেন না। তবে স্কোয়াডে থাকা পাঁচ বোলারের তিনজন শতভাগ ফিট নন। ওয়ালশকে তাই বিকল্প চিন্তাও করে রাখতে হচ্ছে। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের সে বিকল্প ভাবনায় তাসকিন ভালোভাবেই আছেন, ‘পাঁচ পেসারের মধ্যে তিনজনেরই চোট আছে—ফিজ, রুবেল আর সাইফউদ্দীন। সাইফউদ্দীনের তো টেনিস এলবো চোট। সবাইকে ফিট করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আয়ারল্যান্ডে যেন ভালো বোলিং করতে পারে এবং বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হয়, সে চেষ্টাই করা হচ্ছে। আর তাসকিন, খালেদ ও শফিউল তো আছেই (বিকল্প হিসেবে)। যখন প্রয়োজন হবে তাদের অন্তর্ভুক্তি করা যাবে।’

Please follow and like us:
error

বিশ্বকাপের ১৫ জনের প্রোফাইল এক নজরে

bangladeshবাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হলো। বিশ্বকাপের ১৫ জন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেখে নিন—

মাশরাফি বিন মুর্তজা, পেসার সাকিব আল হাসান, অলরাউন্ডার তামিম ইকবাল, ওপেনার
বয়স: ৩৫ বছর

ম্যাচ: ২০৫

রান: ১৭৫২

১০০/৫০: ০/১

ব্যাটিং গড়: ১৪.০১

উইকেট: ২৫৯

বোলিং গড়: ৩১.৭১

বয়স: ৩২ বছর

ম্যাচ: ১৯৫

রান: ৫৫৭৭

১০০/৫০: ৭/৪০

ব্যাটিং গড়: ৩৫.০৭

উইকেট: ২৪৭

বোলিং গড়: ২৯.৬৮

বয়স: ৩০ বছর

ম্যাচ: ১৮৯

রান: ৬৪৬০

১০০/৫০: ১১/৪৪

ব্যাটিং গড়: ৩৬.০৮

উইকেট: ০

বোলিং গড়: –

মুশফিকুর রহিম, ব্যাটসম্যান/উই. মোহাম্মদ মাহমুদউল্লাহ, অলরাউন্ডার মোহাম্মদ মিঠুন, ব্যাটসম্যান/উই.
বয়স: ৩১ বছর

ম্যাচ: ২০১

রান: ৫৩৯২

১০০/৫০: ৬/৩২

ব্যাটিং গড়: ৩৪.৫৬

উইকেট: ০

বোলিং গড়: –

বয়স: ৩৩ বছর

ম্যাচ: ১৭১

রান: ৩৬৭৩

১০০/৫০: ৩/২০

ব্যাটিং গড়: ৩৩.৩৯

উইকেট: ৭৬

বোলিং গড়: ৪৬.০৬

বয়স: ২৮ বছর

ম্যাচ: ১৫

রান: ৩৬০

১০০/৫০: ০/৪

ব্যাটিং গড়: ৩২.৭২

উইকেট: ০

বোলিং গড়: –

লিটন দাস, ব্যাটসম্যান/উই. সাব্বির রহমান, ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার, ব্যাটসম্যান
বয়স: ২৪ বছর

ম্যাচ: ২৭

রান: ৫০৮

১০০/৫০: ১/১

ব্যাটিং গড়: ১৯.৫৩

উইকেট: ০

বোলিং গড়: –

বয়স: ২৭ বছর

ম্যাচ: ৫৭

রান: ১২১২

১০০/৫০: ১/৫

ব্যাটিং গড়: ২৬.৩৪

উইকেট: ৩

বোলিং গড়: ১০৪.৩৩

বয়স: ২৬ বছর

ম্যাচ: ৪১

রান: ১২৭৪

১০০/৫০: ২/৭

ব্যাটিং গড়: ৩৪.৪৩

উইকেট: ১

বোলিং গড়: ১২৩.০০

মেহেদী হাসান মিরাজ, অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন, অলরাউন্ডার মোস্তাফিজুর রহমান, পেসার
বয়স: ২১ বছর

ম্যাচ: ২৫

রান: ২৯১

১০০/৫০: ০/১

ব্যাটিং গড়: ২০.৭৮

উইকেট: ২৬

বোলিং গড়: ৩৫.০৭

বয়স: ২৩ বছর

ম্যাচ: ২৪

রান: ৩৪১

১০০/৫০: ০/১

ব্যাটিং গড়: ৩১.০০

উইকেট: ১১

বোলিং গড়: ৪১.২৭

বয়স: ২৩ বছর

ম্যাচ: ৪৩

রান: ৫৭

১০০/৫০: ০/০

ব্যাটিং গড়: ৯.৫০

উইকেট: ৭৭

বোলিং গড়: ২১.৭১

রুবেল হোসেন, পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, অলরাউন্ডার আবু জায়েদ, পেসার
বয়স: ২৯ বছর

ম্যাচ: ৯৬

রান: ১২৩

১০০/৫০: ০/০

ব্যাটিং গড়: ৪.৭৩

উইকেট: ১২২

বোলিং গড়: ৩২.৯৪

বয়স: ২২ বছর

ম্যাচ: ১০

রান: ১৭৫

১০০/৫০: ০/১

ব্যাটিং গড়: ২৯.১৬

উইকেট: ৭

বোলিং গড়: ৫৩.২৮

বয়স: ২৫ বছর

ম্যাচ: –

রান: –

১০০/৫০: –

ব্যাটিং গড়: –

উইকেট: –

বোলিং গড়: –

 

Please follow and like us:
error

রংপুরকে হারিয়ে সিলেটের জয়

bplরংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে জয়ের দেখা পেয়েছে সিলেট সিক্সার্স। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১৮তম ম্যাচে ২৭ রানে জয় পায় সিলেট। অপরদিকে টানা তৃতীয় ম্যাচের হারের মুখ দেখলো রংপুর।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। যেখানে প্রথমে ব্যাট করা সিলেট ১৮৭ রানের বড় সংগ্রহ পায়। জবাবে ৬ উইকেটে ১৬০ করে রংপুর।

সিলেটের ওপেনিংয়ে নামেন লিটন দাস এবং সাব্বির রহমান। এই আসরে নিজেকে এখনও সেভাবে মেলে ধরতে না পারা সাব্বির ২০ বলে একটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ২০ রান। আরেক ওপেনার লিটন দাস রানআউট হওয়ার আগে করেন ৭০ রান। ব্যাটে ঝড় তোলা এই ওপেনার ৪৩ বলে ৯টি চার আর একটি ছক্কা হাঁকান। ওপেনিং জুটিতে লিটন-সাব্বির ৮.৩ ওভারে তুলে নেন ৭১ রান।

নিকোলাস পুরানের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২৬ রান। তিন নম্বরে নামা দলপতি ডেভিড ওয়ার্নারও ব্যাটে ঝড় তোলেন। ৩৬ বলে ৬টি চার আর দুটি ছক্কায় ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ ওভারে পর পর দুই বলে বিদায় নেন আফিফ হোসেন (৬) এবং জাকের আলি (০)।

রংপুর দলপতি মাশরাফি ৩ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। সোহাগ গাজী ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেট পাননি। ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে একটি উইকেট পান বেনি হাওয়েল। ক্রিস গেইল ৩ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি। ফরহাদ রেজা ২ ওভারে ৯ রান দিয়ে উেইকেট পাননি। নাহিদুল ইসলাম ১ ওভারে ৭ রান খরচ করে থাকেন উইকেটশূন্য। শফিউল ইসলাম ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট পান।

১৮৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুর দ্বিতীয় ওভারেই দুই উইকেট হারায়। মেহেদি হাসান রান ফিরিয়ে দেন ওপেনার মেহেদি মারুফ (৩) এবং তিন নম্বরে নামা অ্যালেক্স হেলসকে (০)। আরেক ওপেনার ক্রিস গেইলকে (৭) বিদায় করেন সোহেল তানভীর। দলীয় ১১ রানের মাথায় তিন উইকেট হারায় রংপুর। এরপর জুটি গড়েন রিলে রুশো এবং মোহাম্মদ মিঠুন। দলীয় ১০০ রানের মাথায় বিদায় নেন রুশো। তার আগে মাত্র ৩২ বলে তিনটি চার আর চারটি ছক্কায় তিনি করেন ৫৮ রান।

রানের চাকা ঘোরাতে থাকা মোহাম্মদ মিঠুন ২৯ বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে করেন ৩৫ রান। বেনি হাওয়েল ১১ বলে করেন ১৩ রান। দলপতি মাশরাফি ২৭ বলে চারটি বাউন্ডারিতে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। নাহিদুল ইসলাম অপরাজিত থাকেন ৫ রান নিয়ে।

সিলেটের পেসার তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে ৩৪ রানে নেন দুটি উইকেট। নেপালি স্পিনার সন্দীপ লামিচান ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচ করে তুলে নেন একটি উইকেট। মেহেদি হাসান রানা ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে পান দুটি উইকেট। অলোক কাপালি ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। আফিফ হোসেন ১ ওভারেই দিয়েছেন ২২ রান, ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তানি পেসার সোহেল তানভীর ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।

Please follow and like us:
error

আফ্রিদিদের ১২৮ রানের টার্গেট দিল সিলেট

 

sylhet sixers nm৫৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল সিলেট সিক্সার্স। এ পরিস্থিতে শক্ত হাতে দলের হাল ধরেন নিকোলাস পুরান ও অলোক কাপালি। তাদের ব্যাটে লড়াকু পুঁজি পেয়েছে দলটি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে ১২৮ রানের টার্গেট দিয়েছে ওয়ার্নার বাহিনী।

প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগে তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটে কাটা পড়েন ডেভিড ওয়ার্নার। ফেরার আগে ১৪ রান করেন সিলেট অধিনায়ক। এরপর খেলা ধরার চেষ্টা করেন আফিফ হোসেন। তবে ক্রিজে স্থির ছিলেন না। এর খেসারত গুনে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ব্যক্তিগত খাতায় তোলেন ১৯ রান।

খানিক বাদেই হৃদয়কে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শহীদ আফ্রিদি ফেরালে চাপে পড়ে ‘চায়ের দেশের’ দলটি। এ পরিস্থিতিতে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছয় মাস নিষিদ্ধ সাব্বির রহমান। দলীয় ৫৬ রানে মেহেদী হাসানের স্পিনে নীল হয়ে ফেরেন তিনি।

বিপর্যয়ে দলের হাল ধরেন নিকোলাস পুরান ও অলোক কাপালি। তাতে দুরন্ত গতিতে ছুটে সিলেট। হু হু করে বাড়ে রান। দারুণ খেলছিলেন তারা। তবে হঠাৎই খেই হারান পুরান। মোহাম্মদ শহীদের বলে আবু হায়দার রনির তালুবন্দি হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। ফেরার আগে ২৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন পুরান।

কয়েক মিনিট পর শহীদের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ফেরেন তাসকিন আহমেদ। সেই রেশ না কাটতেই ফেরেন অলোক কাপালি। ফেরার আগে গুরুত্বপূর্ণ ১৯ রান করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১২৭ রান করে সিলেট। ভিক্টোরিয়ানসদের হয়ে মেহেদী, সাইফ, শহীদ ২টি করে এবং আফ্রিদি নেন ১টি উইকেট।

Please follow and like us:
error

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ‘এমপি’ হিসেবে খেলবেন মাশরাফি!

nm bossএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণভ্রমরা মাশরাফি বিন মুর্তজা।নির্বাচনী ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সামান্যতম পাত্তা না দিয়ে একপেশে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি।এবার নামছেন ক্রিকেট মাঠে বল-ব্যাটের যুদ্ধে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে খেলে রেকর্ড গড়বেন মাশরাফি।

সেই লক্ষ্যে নড়াইল থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন মাশরাফি। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জন্মস্থান ত্যাগ করেন তিনি। রাজধানীতে পৌঁছে বিপিএলে মনোনিবেশ করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। বুধবার নিজ দল রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক।আসছে ৫ জানুয়ারি মাঠে গড়াবে বিপিএলের ষষ্ঠ আসর। এবারও রংপুরকে নেতৃত্ব দেবেন মাশরাফি। গতবার উত্তরবঙ্গের দলটিকে শিরোপা উপহার দিয়েছেন তিনি। ফের তা ছুঁয়ে দেখতে বদ্ধপরিকর দলপতি।

এ পথে অনন্য রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন মাশরাফি। বিপিএল খেলতে যাওয়া প্রথম এমপি হচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে এর আগে এ নজির নেই কারও। শুধু দেশের জনপ্রিয় ঘরোয়া লিগেই নয়, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপে খেলা প্রথম এমপি হতে যাচ্ছেন ম্যাশ।ইতিমধ্যে মাশরাফি জানিয়েছেন, এখন ক্রিকেটেই সব মনোযোগ। বিপিএল নিয়ে ব্যস্ত। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটের সঙ্গে কোনো আপস নয়।

বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়কের আশা পূরণ হোক। যদি শেষ পর্যন্ত তাই হয়, তা হলে ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে পারফরম করা প্রথম ‘আইনপ্রণেতা’ হতে যাচ্ছেন তিনি। অর্থাৎ ক্রিকেট ইতিহাসে বিশ্বকাপে খেলা প্রথম পার্লামেন্ট সদস্য বনে যাবেন মাশরাফি। তাও আবার দলের অধিনায়ক হিসেবে। রেকর্ডই বটে।

এমন রেকর্ডে বিস্মিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন, এটি তো একটি সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার। আমার মনে হয়, ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার এমনটি হতে যাচ্ছে। আমার জানা নেই বা কখনো শুনিনি, একজন পার্লামেন্ট মেম্বার ক্রিকেট মাঠে খেলছে এবং অধিনায়কত্ব করছে। সুতরাং এটি পুরোপুরি নতুন হবে। এটা নিয়ে আমি অনেক রোমাঞ্চিত। এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না।

প্রসঙ্গত, আসছে মে মাসের শেষদিকে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে বসবে ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১২তম আসর। আর বাংলাদেশের মিশন শুরু হবে ২ জুন। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে এ আসরে টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন মাশরাফি।

Please follow and like us:
error

বিপিএলে মাতোয়ারা সিলেট : ৩১ অক্টোবর থেকে মিলবে টিকেট

32015সিলেটে সর্বত্র এখন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে আলোচনা। শহর কিংবা গ্রাম, এমন কোন স্থান নেই যেখানে বিপিএল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। এর আগে সিলেটের কোন ক্রীড়া ইভেন্টকে ঘিরে এতো মাতামাতি হয়নি।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সিলেটের অধিকাংশ মানুষ বিপিএলের চার-ছক্কা দেখতে মাঠে এসে পড়বেন! সিলেটের ক্রীড়ার জন্য এটা ইতিবাচক দিক হলেও, এর বাইরে অন্য শংকাও কাজ করছে। কারণ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার। কিন্তু বিপিএল নিয়ে সিলেটবাসীর মাঝে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে দর্শকদের উপচেপড়া উপস্থিতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। টিকেটপ্রাপ্তি নিয়ে ব্যাকুল দর্শকরা। এই সুযোগে টিকেট কবজায় নিতে কালোবাজারিরাও তৎপর রয়েছে। এমন অবস্থায় সুষ্ঠুভাবে টিকেট বিতরণ ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়াটাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিপিএলের সিলেট পর্বের টিকেট বিক্রি আগামী মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রিকাবীবাজারস্থ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বুথে টিকিট পাওয়া যাবে। এছাড়া ওই দিন থেকে ইউসিবিএল (ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড)-এর সুবিদবাজার ও উপশহর শাখায় টিকিট পাওয়া যাবে। অন্য আরেকটি শাখা এখনো চুড়ান্ত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে সেটি লামাবাজার শাখা হতে পারে।

এছাড়াও অনলাইনে SHOHOZ.COM, SURJOMUKHI.COM.BD, gadgetbangla.com টিকেট পাওয়া যাবে।

এদিকে, বিপিএলকে টার্গেট করে বাণিজ্যের ধান্ধায় রয়েছে কালোবাজারি চক্র। অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে দেখা গেছে- দর্শকরা লাইনে আসার আগেই কালোবাজারিরা নিজেদের শত শত লোক দাঁড় করিয়ে লাইন দখলে নিয়ে নেয়। পরে কালোবাজারিরা এসব টিকেট চড়া দামে বিক্রি করে।

এসব চক্র অনেক সময় লাইনে এসে অপ্রীতিকর ঘটনারও জন্ম দেয়। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন হয় মারমুখি। আর এই সুযোগটি নেয় কালোবাজারিরা। তাই কালোবাজারি রোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সুষ্ঠুভাবে টিকেট বন্টন; প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সিলেটের ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকরা।

সিলেট শহরতলীর খাদিমনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান রুমন জানানÑ সিলেটে প্রথমবারের মতো বিপিএল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এজন্য সিলেটের ক্রীড়া সংগঠকদের ধন্যবাদ জানাই। তবে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিপিএল উপভোগ করতে চাই। অনেক সময় টিকিট নিয়ে নানা নৈরাজ্য হয়। কষ্ট করে হলেও আমরা টিকিট সংগ্রহ করবো। তবে টিকিট যাতে কালোবাজারিদের হাতে না যায় এবং লাইনে দাঁড়িয়ে যাতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে টিকিট পাই, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমাদের সেই প্রত্যাশা রইলো।

বিসিবি সূত্রে জানা যায়, ৫ ক্যাটাগরিতে টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে টিকেটের মূল্য দুই হাজার, ক্লাব হাউস ৫০০, গ্রিন গ্যালারি ৪০০, ওয়েস্টার্ন গ্যালারি ৩০০ ও নর্দান গ্যালারি ২০০ টাকা নির্ধারণ করেছে বিসিবি। একজন, দুই টিকেটের বেশি ক্রয় করতে পারবেন না।

এদিকে দর্শকরা যাতে ভোগান্তির শিকার না হন, তার জন্য সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে দর্শকদেরকে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু বিপিএল একটি বড় আসর তাই এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় হতে দিবে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ ক্ষেত্রে জেনেশুনে সঠিক গেইট না গেলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন দর্শকরা। বিষয়টি মাথায় রেখে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা বিভিন্ন ক্যাটাগরির টিকিট নিয়ে কোন গেইট দিয়ে মাঠে প্রবেশ করবেন, তা ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল জানান- ভোগান্তি এড়াতে স্টেডিয়ামের ৪টি গেটের মধ্যে নির্দিষ্ট গেইট দিয়ে দর্শকদের প্রবেশ করতে হবে। অন্যথায় ভুল গেইটে গেলে তাকে আবার ফিরে আসতে হবে। সে অনুযায়ী ১নং গেইট হয়ে খেলোয়াড়, ভিআইপি ও গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের দর্শকরা, ২নং গেইট (বাগানের মেডিক্যাল) হয়ে ক্লাব হাউস (দ্বিতল গ্যালারী যেটি) ও ওয়েস্টার্ন গ্যালারির (দ্বিতল গ্যালারীর নিচের অংশ) দর্শকরা, ৩নং গেইট (বাদাম বাগিচা) হয়ে নর্দান গ্যালারীর দর্শকরা প্রবেশ করতে পারবেন। এই গেইট দিয়ে সাংবাদিকরাও প্রবেশ করবেন এবং ৪ নং গেট (পীর মহল্লা) হয়ে গ্রিন গ্যালারী ও নর্দান গ্যালারীর একাংশ প্রবেশ করতে পারবেন। তিনি আরো জানান- খেলোয়াড়দের মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দর্শকরা মাঠে পানির বোতল, দেয়াশলাই, কলম, লিপিস্টিক, চিরুনী আনতে পারবেন না। ছুড়ে মারা যায়, এমন কোন কিছু দর্শকরা বহন করতে পারবেন না।

টিকেট বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন- টিকেট নিয়ে মানুষের চাহিদা আকাশচুম্বী। টিকেট মূলত বিসিবির অধীনে নেই। এটা অন্য একটি কোম্পানী দ্বারা বিক্রি হচ্ছে। তবে সুষ্ঠুভাবে টিকেট বিক্রির জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছেন।

সুষ্ঠুভাবে টিকেট বন্টন বিষয়ে এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান- যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করবো। আশা করি সিলেটের দর্শকরা শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ম মেনে টিকেট সংগ্রহ করবেন। শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে, তার জন্য আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে।

Please follow and like us:
error

ফাঁকা মাঠে গোল দিলেন মেসি

messiকার্লোস পুয়োল বার্সেলোনার জার্সিতে ৫৯৩তম ম্যাচ খেলেছিলেন ৩৬ বছর বয়সে। বার্সেলোনার হয়ে এত দিন তৃতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিক লিওনেল মেসি টপকে গেলেন মাত্র ৩০ বছর বয়সে। লাস পালমাসের বিপক্ষে বার্সার ৩-০ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচ দিয়ে কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে ৫৯৪তম ম্যাচ খেলে ফেললেন। গোলও করেছেন দুটি। কিন্তু মেসির এ জোড়া গোল আর পুয়োলকে টপকে যাওয়ার কীর্তি গ্যালারিতে বসে দেখার কেউ ছিল না! বার্সার অন্য গোলটিও মেসির দুর্দান্ত কর্নার থেকে।

দিনভর অনেক নাটকের পর লাস পালমাসের বিপক্ষে ‘রুদ্ধদ্বার ম্যাচ’ খেলেছে বার্সা। স্পেন থেকে স্বাধীনতার প্রশ্নে কাতালোনিয়ায় আজ গণভোট। এ নিয়ে রক্তারক্তি চলছে রাজ্যটির রাজধানী বার্সেলোনায়। সাড়ে চার শর বেশি আহত হয়েছে। এ কারণে লাস পালমাসের বিপক্ষে ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিল বার্সা। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন তা মানেনি। শেষ পর্যন্ত দর্শক ছাড়াই খেলেছে বার্সা। লবণ আর মসলা ছাড়াই মাংসের ভুনা যেন!
মেসির জোড়া গোলের দুটিই দেখতে হলো দারুণ। ছেলেখেলা করলেন যেন গোলরক্ষককে নিয়ে। কিন্তু গোল করে মেসি নিজেও উদ্‌যাপনের তেমন আগ্রহ পেলেন বলে মনে হলো না।
এমনিতে ম্যাচের আগে বেশ তোপটোপ ঝেড়ে উত্তেজনা জমানোর চেষ্টা করেছিল লাস পালমাস। ঘোষণা দিয়েছিল, ম্যাচটি তারা স্পেনের জাতীয় পতাকা পরে খেলবে। স্পেন বনাম কাতালোনিয়ার জাতীয়তাবাদের লড়াই! প্রথমার্ধ গোলশূন্যও গেল।
বিরতির পর ৪৯ মিনিটে সার্জিও বুসকেটসের গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। মেসির কর্নার থেকে হেড করে। এরপর ৭০ ও ৭৭ মিনিটে পালমাস গোলরক্ষককে নিয়ে ছেলেখেলা করে দুটি গোল করেন মেসি।
পিকে, আলবা, মাচেরানো আর রর্বাতোদের জমাট রক্ষণভাগের জন্য পালমাস সেভাবে আক্রমণ করতে পারেনি। আর তাতে গোল না হওয়ায় দারুণ একটি রেকর্ডও গড়ল বার্সা। লা লিগার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে এ নিয়ে ১০০০ ম্যাচে কোনো গোল হজম না করার রেকর্ড গড়ল কাতালান ক্লাবটি। দ্বিতীয় সেরা রিয়াল মাদ্রিদ ৯২৯ ম্যাচে গোল খায়নি।
এ নিয়ে লিগে টানা ৭ ম্যাচ জিতল বার্সা। লিগে মেসির গোল হলো ১১টি। ১০ পয়েন্ট পেছনে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ রাতে খেলতে নামবে এসপানিওলের বিপক্ষে। কাতালোনিয়ার আরেক ক্লাব রাজা রিয়ালকে পাল্টা জবাব দিতে চাইবে হয়তো মাঠের খেলায়। যদিও মুখোমুখি লড়াইয়ে রিয়ালের মাঠে তেমন সুবিধা করতে পারে না তারা।

Please follow and like us:
error

কাভানি ইস্যুতে মুখ খুললেন নেইমার

nkনেইমার কেনো বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে এসেছেন? প্রশ্নের উত্তরে একজন একেক কথা বলবেন। কেউ বলবে মেসির সঙ্গ ছাড়তেই কিংবা মেসিকে টপকাতে। আবার কেউ বলবে নিছক বেশি টাকার উদ্দেশ্যে। যদিও এসবকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নেইমার বলেছেন, কেবল ক্যারিয়ারের কথা ভেবেই বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে যাত্রা তার।

এদিকে পিএসজিতে নেইমার যোগ দেয়ার পর থেকেই কাভানির সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। এ বিষয়ে কেউ বলেছেন, নেইমার আর কাভানিকে পিএসজিতে দেখতে চান না। আবার অনেকেই জানিয়েছে, কাভানি নাকি নেইমারকে ‘তুমি মেসি নও’ বলে খেপিয়েছেন। দলের আক্রমণভাগের দুই মূল ভরসার এমন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া নিয়ে মহা অস্বস্তিতে উনাই এমেরি।

তবে এবার নিজের মধ্যে চলমান বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের দাবি, সংবাদমাধ্যমই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে। মূলত লিঁওর বিপক্ষে লিগের ম্যাচে ঘটনার সূত্রপাত। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রি-কিক নেওয়া নিয়ে প্রথমে ঝামেলা হয় আলভেজ ও কাভানির মধ্যে। কাভানির কাছ থেক বল কেড়ে নিয়ে সেটা নেইমারের হাতে তুলে দেন দানি আলভেজ। কিছুক্ষণ পরেই একটা পেনাল্টি পায় পিএসজি। সেটা নিতে এগিয়ে যান কাভানি। নেইমারও পেনাল্টি নেওয়ার দাবি জানিয়ে কাভানির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। কিন্তু কাভানি তাঁকে কোনো পাত্তাই না দিয়ে পেনাল্টি থেকে শট নেন।

এরপর থেকেই সংবাদমাধ্যম সরগরম এ দুজনের সম্পর্ক নিয়ে। নেইমারকে পেনাল্টি নিতে দিলে কাভানিকে ১ মিলিয়ন ইউরো দেবে ক্লাব—এমন কথাও শোনা গেছে। কিন্তু যাঁদের নিয়ে এত কথা, তাঁরা এ নিয়ে এতদিন কিছুই বলেননি। তবে বুধবার বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আর নিজেকে সামলাতে পারেননি নেইমার, ‘তারা অনেক গল্প ফাঁদে। তারা বেশি কথা বলে, এমন বিষয় নিয়ে কথা বলে, যা নিয়ে কোনো ধারণাই নেই। তারা ড্রেসিংরুমে ঢুকে পড়তে চায় এবং শেষ পর্যন্ত এমন কিছু দাবি করে, যার কোনো অস্তিত্বই নেই।’

সংবাদমাধ্যম যদি গল্প বানিয়েও থাকে, মাঠে ফ্রি-কিক কিংবা পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে বিতর্ক তো আর থামছে না। নেইমার অবশ্য বলছেন এ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না কাউকে, ‘এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে। তবে এটা ড্রেসিংরুমের ব্যাপার।’

এডিনসন কাভানিও বলছেন ক্লাবে এখন পারিবারিক আবহ চলছে, ‘সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। আমরা হয়তো জীবনকে ভিন্নভাবে দেখি কিন্তু যখন মাঠে নামি, তখন একটা পরিবার হিসেবে কাজ করতে হবে। একটাই লক্ষ্য থাকে, সেটা হলো দলকে জেতানো

Please follow and like us:
error

Developed by: