বিভাগ: লেখক আড্ডা

তারেক লিমন।

Bashi-01তারেক লিমন। জন্ম ১২ অক্টোবর ১৯৯১। সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলাধীন দূর্য্যাকাপন নোয়াগাঁও গ্রামে। পিতা মো. আজির হোসেন ও মাতা মোছা. ফাতেমা বেগম। সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম।
তারেক লিমন স্কুল জীবন থেকেই টুকিটাকি লেখালেখি শুরু করেন। কবিতা-ছড়া দিয়ে লেখালেখি শুরু করলেও পাশাপাশি ছোট গল্প ও গান লিখছেন নিয়মিত। ইতিপূর্বে সাহিত্য সংকলন ত্রৈমাসিক ‘ভোরের সূর্য’, ‘মিলন মেলা’, ‘উৎসব’ ও ‘পলাশ’ নামে বেশ কয়েক সংখ্যা প্রকাশ করেছেন।
তারেক লিমনের একাডেমিক শিা বেশি না থাকলেও লেখালেখির জগতে সক্রিয় রয়েছেন। জীবন জীবিকার তাগিদে তিনি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সুদূর সাউথ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানেও লেখালেখির নেশা তাকে ছাড়েনি। প্রবাস জীবনের কষ্ট আর মা-মাটির টান তাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু সৃষ্টিতে তাড়া দেয়। যার প্রমাণ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মায়ের কাছে চিঠি’।
উল্লেখ্য তারেক লিমনের বড় ভাই বৈরাগী বকুলও
দীর্ঘদিন ধরে গান-কবিতা লিখছেন।
আশা রাখি কবিতার এই মসৃণ পথে তারেক লিমনের হাঁটা অব্যাহত থাকলে সাফল্য আসবেই।
তারেক লিমন। জন্ম ১২ অক্টোবর ১৯৯১। সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলাধীন দূর্য্যাকাপন নোয়াগাঁও গ্রামে। পিতা মো. আজির হোসেন ও মাতা মোছা. ফাতেমা বেগম। সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম।
তারেক লিমন স্কুল জীবন থেকেই টুকিটাকি লেখালেখি শুরু করেন। কবিতা-ছড়া দিয়ে লেখালেখি শুরু করলেও পাশাপাশি ছোট গল্প ও গান লিখছেন নিয়মিত। ইতিপূর্বে সাহিত্য সংকলন ত্রৈমাসিক ‘ভোরের সূর্য’, ‘মিলন মেলা’, ‘উৎসব’ ও ‘পলাশ’ নামে বেশ কয়েক সংখ্যা প্রকাশ করেছেন।
তারেক লিমনের একাডেমিক শিা বেশি না থাকলেও লেখালেখির জগতে সক্রিয় রয়েছেন। জীবন জীবিকার তাগিদে তিনি ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সুদূর সাউথ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানেও লেখালেখির নেশা তাকে ছাড়েনি। প্রবাস জীবনের কষ্ট আর মা-মাটির টান তাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু সৃষ্টিতে তাড়া দেয়। যার প্রমাণ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মায়ের কাছে চিঠি’।
উল্লেখ্য তারেক লিমনের বড় ভাই বৈরাগী বকুলও
দীর্ঘদিন ধরে গান-কবিতা লিখছেন।
আশা রাখি কবিতার এই মসৃণ পথে তারেক লিমনের হাঁটা অব্যাহত থাকলে সাফল্য আসবেই।

এম মনিরুজ্জামান মনি।

Bashi-09এম মনিরুজ্জামান মনি। জন্ম ৬ জুলাই ১৯৮৫। পিতা মো. আবদুল হক, মাতা মোছা. জাহেরা খাতুন। স্থায়ী নিবাস গ্রাম- শাইলানী, ডাক ও থানা- মধ্যনগর, জেলা- সুনামগঞ্জ। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে লেখক সর্বকনিষ্ঠ।
এম মনিরুজ্জামান মনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোন এক মানসিক যন্ত্রণায় নিপতিত হয়ে একাডেমিক লেখাপড়া থেকে ছিঁটকে পড়েন। অব্যক্ত যন্ত্রণার তুমুল ঝড়ের তাণ্ডবেই কলম তুলে নেন হাতে। লিখেন নাটক লাল সবুজের গাঁয়ে। নাটকটি নিজের নির্দেশনায় স্বীয় এলাকায় মঞ্চস্থ করেন। তখন সুধীসমাজে নাটকটি প্রশংসা কুড়ায়। কিন্তু তার মনের লেখনি ুধার কোন উপশম হয়নি। লোভের মোহ, পারিবারিক মর্যাদা ও সামাজিকতার যাতাকলে সম্ভাবনাময়ী যুবসমাজ নিস্পেষিত হয়ে জীবনকে কিভাবে নিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তার ভয়ঙ্কর চিত্র উচ্চস্বরে সকলের কাছে পৌঁছে দিতেই উপন্যাস লিখতে মনোনিবেশ করেন। যার বহিঃপ্রকাশ নিরব পাথরের ফুল।
এ উপন্যাসে লেখক বুঝাতে চেয়েছেন মহান স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। সেই মানুষই পৃথিবীতে আগমনের পর থেকেই তার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় সাফল্য চাই, আনন্দ চাই, জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে চাই। কিন্তু এর বিপরীতে প্রকৃতিগতভাবে ধ্বনিত হয় ব্যর্থতা ও যন্ত্রণা। কারণ জীবন চলার পথ কণ্ঠকাকীর্ণ। এই কণ্ঠকাকীর্ণ পথে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনের ওই চাওয়াগুলোকে অর্জন করতে হয়। অন্যথায় হৃদয়ে ধ্বনিত হয় মুক্তি চাই, স্বস্তি চাই, নিষ্কৃতি চাই। তারপর চলে মুক্তির পথ খোঁজা। সে পথও আবার পুষ্পমণ্ডিত নয়। সঠিক সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে পুনরায় পথচলা শুরু করলেই অতীতের ব্যর্থতা-যন্ত্রণা পদদলিত হয়ে জীবনে আসে মুক্তি ও স্বস্তি। আর ভুল সিদ্ধান্ত ও ল্যহীন পথ চলায় তাকে নিয়ে যায় ঘৃণিত চির অবয়ের দিকে। নিষিদ্ধ ঘৃণিত কোন কিছু কখনই জীবনের কোন সমস্যা সমাধানের উপকরণ বহন করে না। ধ্বংসাত্মক শুধু ধ্বংসই ডেকে আনে। সাফল্য ও সমাধান তাতে আকাশ কুসুমের মতই থেকে যায়। তাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ণিকের ধরাধামে বিচরণকে সার্থক ও সুন্দর করাই হোক সকলের অঙ্গীকার।
নিরব পাথরের ফুল লেখকের প্রথম উপন্যাস।

কবিতাভাবনার বিন্দুগুলো ফকির ইলিয়াস |

05কবিতাভাবনার বিন্দুগুলো
ফকির ইলিয়াস

অর্জনের ছায়া মানুষকে জাগিয়ে রাখে। হাতে তুলে দেয় মোমবাতির আলো।
বলে দেয়- তুমি এগিয়ে যাও মানুষ। জীবনের সন্ধানে। প্রেমের সন্ধানে। সৃষ্টির সন্ধানে। আমি আজীবন একটা ঘোরলগ্ন কাল কাটিয়েছি। যা, আমার কবিতায় চিত্রিত হয়েছে বিবিধ আয়তনে।
আমি আমার শব্দবুননে নিজস্ব ছাপ রেখে যেতে চেয়েছি। ভেবেছি- তৃণলতায় ঘেরাই
হোক- তারপরও এটাই আমার সুশীতল নীড়।

ফকির ইলিয়াস এর পাঁচটি কবিতা

জয়াগৃহ

যারা ছেড়ে যাচ্ছে, তারা জানে না যাচ্ছে কোথায়। যারা ফিরে আসছে
তারা খুঁজে পাচ্ছে না ভিটের মাটিচিহ্ন। একটি শালিখের ছায়া দেখে
একজন ফেরারি পথিক চিনতে পারছে- জয়াগৃহের ছাদ। বাঁশের চালা,
নডবড়ে খুঁটি, বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া শ্রাবণরাতের ঝড়মায়া।

মায়া, মানুষের করতলে নদীঘোর রেখে যায়। তার রেখাগুলো দেখে
তারা তাকাতে পারে প্রিয়তমার গমনদৃশ্যের দিকে।
যে ঢেউসমগ্র ভাগ করা যায় না-
তার বুকেই আছড়ে পড়ে প্রচণ্ড ভালোবাসার শেষ ঝাপটা।

ভার্চুয়াল ভোরের দক্ষিণে

বার বার ভুলে যাই পাসওয়ার্ড। ভোরের উত্থান দেখে
আবারও নির্ণয় করি আমার চারপাশে জাগ্রত দক্ষিণ।
কে রেখে গেছে ছায়া, ভার্চুয়াল উষ্ণ আকাশে,- তা
খুঁজে উঁচু করি শির। তাকাবার কৌশল জানা ছিল বলে,
খুব সহজেই দেখে নিতে পারি মেঘাবৃত মনের গহীন।

গ্রামলিপি পাঠ করে ক`জন কিশোর কিশোরী এসে
দাঁড়িয়েছে এই ভোরের উত্তরে। ইচ্ছে হয়, জানতে চাই
তাদের কুশল। প্রশ্ন করি, তাদের মতো এই বন্ধ্যানদীও
কী শিখেছে আদৌ জুমল্যান্সের ব্যবহার ! দূর থেকে
কাছে দেখার গোপন বিনয়।

বার বার ল্যাপটপের আলো দেখে চিনে ফেলি , হারিয়ে
যাওয়া মুখবইয়ের ছবি। ডাকযোগে হাতে আসা
প্রাচীন চিঠিগুলো টেবিলের এককোণে স্থির, ঝাপসা
অক্ষরের বেদনায় দ্রবীভূত হয়।

আরতিপর্ব

রূপেরও রহস্য থাকে সাগরের বিনম্র কসমে
ঢেউগুলো হাত তুলে ডাক দেয় পূবের হাওয়ায়
আমিও তোমার হাতে হাত রেখে দেখি পুনরায়
পাখির বুকের দীঘি প্রেম হয়ে দূরাকাশে জমে।

জমে থাকি সারারাত, পাঁজরে পাঁজর রেখে হিম
প্রবাহের চারপাশে তুলে রাখি ফাগুনের রঙ
জাগে ভোর, নামে সন্ধ্যা- আরো কিছু তৃষ্ণা এবং
তুষারের মুখোমুখি লিখি নাম কামের অসীম।

সে কথা তুমিও জানো, ঋতুবতী মেঘের পরশে
সিক্ত পাথরগুলো ডানা মেলে মাটির গহীনে
মানব কুড়ায় বীজ, মানবীর দখিনা বাগানে
আবার হবেতো দেখা,সে আশায় পুষ্পজলে ভাসে।

আমার আরতি নাও, হে রমণী – বিপুল বিধানে
ঢেকে রাখো এ আকাশ ,কাছে থাকো সৌরভ্রমণে।

/
জ্যামিতিক ঝড়জীবন

ক.
ভেতরে গ্রহাণু জীবন। কেন তবে এলে এই রূপের নগরে
কেন তবে অশ্রুআলোয় দেখা কোনো মোম ও মন
চাইলে গলিয়ে দিতে ! কিংবা নিতে চাইলে শরতস্মৃতি
সবাই কি নিতে আসে ? সবাই কি দেখতে চায় অন্তঅধিকার !

জালুয়ারা জাল বিছিয়ে একদিন ধরতে চাইতো নদীদের মন
এখন আমরা ডট.নেটে পরস্পরের মুখোমুখি হই
শালুক সংশ্লেষণে আমাদের প্রতিবেশী পাতারা ও
ভেসে ভেসে জানিয়ে যায় তাদের নীরব একাকীত্ব

আরেকটু ভালোবাসা চাই
আরেকটু শব্দসোঁদামাটি
জীবন বিনিময় করে করে ,
আর বলে –
আমরাও রেখে যাবো ছিন্ন জলস্তুপ ……

খ.
রীতিতে সিদ্ধি নেই আমার। বিবিধ বন্দনা গাই । একহাতে
স্রোত ,অন্যহাতে সমুদ্র নিয়ে খেলে যাই রচনাখেলা। কখনো
চাঁদ বিষয়ক , কখনো চাষী বিষয়ক। বিষয় নির্বাচনে আমি
সবসময়ই আদিম। যদিও হিংস্র নই ,তবু ভাঙতে ভালো লাগে
আমার । কলাতন্ত্র , ঢেউবিদ্যা , আঁচড়ের প্রাণ।
যে পড়ে স্রোতসংবিধান
তার সাথে মিতালী খুঁজে
মাঝে মাঝে বিলবোর্ড বাঁধি।
আর পঠনে বসে চেয়ে দেখি তারে , সপ্তঅনাদি।

সূর্যের পরিণত ঘর

একটি রক্তজবা হাতে নিয়ে মা বললেন, আজ বৃষ্টি হবে। ভিজে যাবে
সবটুকু সবুজ জমিন। ঘেরুয়া নদীর জল থেকে রক্তবাষ্প উড়ে দেবে
জানান, এই মাটিতে আততায়ী রাত নেমেছিল। হায়েনা পিশাচদের
উল্লাস কাঁপিয়েছিল এই আকাশ। সূর্যের পরিণত ঘর। মানুষের বিত্ত
বিবর। আর লুকিয়ে থাকার সাঁকো খুঁজে শরণার্থী তরুণ-তরুণী
গিয়েছিল উত্তরের বাঁকে। অগ্রজ পূর্বসূরীর হাতের লাঠি গর্জে উঠেছিল
`থামো ঝড়, থামো বজ্র` এমন আওয়াজে।

সেই প্রভাতে আমি ছিলাম মায়ের বাম হাত ধরা অবুঝ বালক। বালিকা
বোনটি কেঁদেছিল,`বাবা ,বাবা `-বলে।

বাবা যুদ্ধে গিয়েছিলেন। একটি গ্রেনেড চার্জ করতে গিয়ে উড়ে গিয়েছিল
তার ডান হাত। তাই নিজ ডানহাতটিকে ভয়ে লুকিয়ে রাখতেন
আমার মা। আর বলতেন, দেখিস- আমার হাতটা যেন কেউ না দেখে।

তার ভয় ছিল খুব। বাবার হারানো ডানহাতটিকে তিনি মনে করতেন
নিজের হাত। বাবার চোখগুলোকে মনে করতেন নিজের চোখ।

সেই প্রভাতে আমার মায়ের নিজস্ব কোনো দৃষ্টি ছিল না। বৃষ্টি আসবে বলে
সকল মুক্তিযোদ্ধার দৃষ্টি দিয়ে তিনি তাকিয়েছিলেন আকাশের দিকে।

আর বলেছিলেন, বৃষ্টি আসুক। তবু মুছে যাবে না এই বাংলা থেকে
থোকা থোকা রক্তগোলাপের দাগ।
@

কবি পরিচিতি
ফকির ইলিয়াস আশির দশকের কবি । প্রাবন্ধিক,গল্পকার,গ্রন্থসমালোচক। সাংবাদিক হিসেবেও রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। কয়েকটি সাহিত্যপত্র, ওয়েবম্যাগাজিনের সম্পাদনা পরিষদের সাথে যুক্ত। প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি- লালন ও চর্চায় তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা তেরোটি। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-`অবরুদ্ধ বসন্তের কোরাস`, `বৃত্তের ব্যবচ্ছেদ`, `গুহার দরিয়া থেকে ভাসে সূর্যমেঘ`, `ছায়াদীর্ঘ সমুদ্রের গ্রাম` ` গৃহীত গ্রাফগদ্য` , `অনির্বাচিত কবিতা`। এছাড়াও `কবিতার বিভাসূত্র` (প্রবন্ধ সংকলন), `চৈতন্যের চাষকথা`(গল্প সংকলন),`অনন্ত আত্মার গান`(গীতি সংকলন)এর জন্য তিনি নন্দিত হয়েছেন পাঠক মহলে। তাঁর লেখা নিয়মিত ছাপা হচ্ছে ঢাকা ,কলকাতা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, কানাডা, সুইডেন,ইতালী,অষ্ট্রেলিয়া, জাপানসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, ম্যাগাজিন, সাহিত্যপত্রে। ওয়েব, ব্লগ, ই-নিউজ গ্রুপেও তিনি লিখছেন নিয়মিত।

সাহিত্য কর্মের জন্য তিনি `ফোবানা সাহিত্য পুরষ্কার` , `ঠিকানা শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পুরষ্কার` পেয়েছেন। তিনি দ্যা একাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটস, দ্যা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিষ্টস, আমেরিকান ইমেজ প্রেস, – এর সদস্য।স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন নিউইয়র্কে।

গীতিকার শাহ আব্দুল ওদুদ

Bashi-07পুণ্যভূমি সিলেটকে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ‘শ্রীভূমি’ বলে আখ্যায়িত করেননি; শ্রীভূমির মানুষ কাব্যময়, প্রেমময় ও রসে সিক্ত বলে তিনি সিলেটের প্রতি স্বাভাবিক দুর্বল ছিলেন। এ অঞ্চলে কাব্য, পুঁথি ও মরমী সংগীতের ধারা বহমান ছিল যুগ যুগ ধরে, এখনও রয়েছে। মহাকবি সৈয়দ সুলতান, হাছন রাজা, রাধারমণন দত্ত, দুর্বিণ শাহ, শীতালং শাহ, কালা শাহ, দীনহীন, শেখ ভানু, সৈয়দ শাহ নূর, মাওলানা ইয়াছিন, ভেলা শাহ, লতিফ শাহ, আরকুম শাহ ও শাহ আব্দুল করিম এরা এই সিলেটের সন্তান। যাদের ছন্দময় উচ্চারণ, সুর ও বাণীর ঝংকার আজও মানুষের মনে অনুরণন সৃষ্টি করে।
এ ধারার একজন সফল ও অনন্য গীতিকার শাহ আব্দুল ওদুদ। জন্ম ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭০ সালে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার বুবরাজান গ্রামে। পিতা আলহাজ্ব মরহুম সিরাজুল ইসলাম মাতা আলহাজ্ব মরহুমা খোরশেদা বিবি। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ।
শাহ আব্দুল ওদুদ সদা ভাবের দেশে বসবাসকারী একজন আত্মভোলা মানুষ। ধবধবে সাদা পোষাক আর লকলকে কালো চুল দাড়ির এই সফেদ মানুষটি বিত্ত বৈভবের ধার ধারেন না শৈশব থেকেই। ওলি আউলিয়াদের পদস্পর্শে কাটে তাঁর অধিক সময়।
একজন সহজ সরল নিরহংকার খোদাভক্ত শাহ আব্দুল ওদুদ এর গানে উঠে এসেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের হাসি-কান্না, আবেগ-অশ্র“, আশা-আকাংখা, জীবন-জিজ্ঞাসা, প্রেম-বিরহ, জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলনের সাবলীল ও গতিশীল সহজ সরল উচ্চারণ।
তাঁর প্রকাশিত গানের বই ‘দিলতরঙ্গ’ (১৯৯৯), ‘প্রেমের মরা’র (২০০২) ‘মধ্যে মায়া নদী’

কবি রাশিদা বেগম : সোনালি স্বপ্নের ডানা

Bashi-02রাশিদা বেগম। একজন উদীয়মান লেখিকা। লিখে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে।
তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার নাঠৈ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মো. হাতেম আলী, মাতা মরহুমা চাঁদ বানু।
রাশিদা বেগম সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার রাগীব নগর গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
তিনি জান্নাতুল ফেরদাউস, রাহাদুল ইসলাম রুহান, ফাতেমা ফেরদাউস হিরা সন্তানত্রয়ের জননী।
চাকরীজীবী কবি রাশিদা বেগম সীমাহীন ব্যস্ততার অবসরে কাগজ-কলম নিয়ে বসেন এবং লিখেন ছড়া-কবিতা-প্রবন্ধ ইত্যাদি। সৃজনশীলতার জোয়ারে তিনি সর্বদা ভাসমান। ‘সোনালি স্বপ্নের ডানা’ গ্রন্থটি তাঁর প্রথম প্রকাশনা।
তিনি সহজ, সরল, স্পষ্টবাদী সর্বোপরি একজন কোমলমতী সম্ভাবনাময়ী নারী।
তাঁর লেখায় দেশপ্রেম, ভাষাপ্রেম, রোমান্টিকতা প্রভৃতির উপস্থিতি ল্যণীয়। সচেতন পাঠকের নিকট ‘সোনালি স্বপ্নের ডানা’ গ্রন্থটি সমাদৃত হবে।

সোনালি স্বপ্নের ডানা; কবি রাশিদার স্বপ্ন শিল্পের রঙধনু
শিউল মনজুর
এক.
কবিতা কি? এই প্রশ্নের উত্তরে কবিতার যেমন নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই তেমনি কবিতা লেখারও নির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি বা কৌশল নেই। তবে কবিতা লেখার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যে রীতি আমরা প্রত্য করি তা হচ্ছে ছন্দরীতি। যদিও গত কয়েক দশক ধরে কাব্যচর্চায়রত কবিদের নিকট এই আদি বা প্রাচীন ধারাটি অনেকটাই উপেতি। তারপরেও কেউ কেউ এই প্রাচীনরীতি অনুসরণ করে কাব্য সাধনায় ব্রত রয়েছেন এবং সুন্দর সুন্দর কবিতা রচনা করে পাঠক হৃদয়ে রস আস্বাদন করে চলেছেন। আমাদের সাহিত্য অঙ্গনের অতি পরিচিত মুখ কবি রাশিদা বেগম। তিনি এই ছন্দরীতি অনুসরণ করে দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাব্য চর্চা করছেন এবং নিরবেই কবিতার মধ্যদিয়ে পাঠক হৃদয়ে নিজস্ব একটি স্থান দখল করে নিতে সম হয়েছেন। আর এই গ্রন্থটি কবি রাশিদার স্বপ্ন শিল্পের রঙধনু।
দুই.
ছন্দরীতির স্বরবৃত্ত ও মাত্রাবৃত্তের ঢঙে লেখা ৪১টি ছড়া কবিতার পান্ডুলিপি সোনালি স্বপ্নের ডানা গত ২০১৫ সালের একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। সোনালি স্বপ্নের ডানা কবি রাশিদা বেগমের প্রথম ছড়া কবিতার বই। ৪৮ পৃষ্টা বা তিন ফর্মার এই বইটি কবি উৎসর্গ করেছেন নিজের মা-বাবাকে এবং বইটির বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ টাকা। সিলেটের প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনী বাসিয়া থেকে প্রকাশিত, ঝকঝকে মুদ্রিত ও সুভাষচন্দ্র নাথের আকর্ষণীয় প্রচ্ছদের কল্যাণে প্রথম দর্শনেই বইটি হাতে তুলে নেবার জন্য মনোযোগ আকর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, হাতে নেবার পর একের পর এক পৃষ্ঠা অতিক্রম করে ভেতরে যেতে যেতে মনে হবে এই বইটির শব্দ চয়নে ও পঙক্তিমালা সৃষ্টিতে যেন একজন দ কারিগরের ছোঁয়া রয়েছে। ভাবনায় রয়েছে পরিশীলিত একজন নান্দনিক মনের অধিকারী মানুষের উচ্চারণ। বইটির অরে অরে উজ্জ্বল হয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছে স্বদেশ, সমাজ ও মানব সম্প্রদায়কে ভালোবাসার সৌন্দর্যবোধ। অর্থ্যাৎ এই বোধ ভালোলাগার, এই বোধ প্রণোদনার, সর্বোপরি এই বোধ সার্বজনীন এবং কল্যাণের বার্তাবাহক।
তিন.
সোনালি স্বপ্নের ডানা গ্রন্থে যে ৪১টি ছড়া-কবিতা রয়েছে সেগুলিকে কয়েকটি পর্বে যেমন; স্বদেশ পর্ব, দানবীর রাগীব আলী পর্ব, প্রকৃতি পর্ব, প্রেম পর্ব, শিশু ও মা পর্ব এবং ব্যক্তি ও সমাজ পর্বে বিভক্ত করা যেতে পারে।
চার.
স্বদেশ বা নিজ মাতৃভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা অথবা আবেগ অনুভুতি চিরন্তন। এই চিরন্তন ভালোবাসায় মানুষ যেমন দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয় সেখানে কবিরাও যুগে যুগে দেশের জন্যে আত্মত্যাগ করেছেন, এমন নজীর রয়েছে একাধিক। আমাদের এই বাংলাদেশের জন্যও কবি সাহিত্যিকরা ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশ রার বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এমন কি একাত্তরের যুদ্ধে অনেকে প্রাণও দিয়েছেন। আমাদের আলোচ্য গ্রন্থের রচয়িতা দেশ মাত্তৃকার প্রতি একনিষ্ট ভালোবাসায় নিবেদিত। তাঁর বেশ কিছু ছড়া-কবিতায় দেশের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আবেগ নিহিত রয়েছে তার বর্হিপ্রকাশ ঘটেছে। স্বদেশকে নিয়ে তাঁর লেখা দুটি ছড়া-কবিতার অংশ বিশেষ এখানে উপস্থাপন করা হলো;
১। ভূবন ঘুরে দুচোখ মেলে
দেখছি একটি দেশ
সে যে আমার স্বúেœ ঘেরা
সোনার বাংলাদেশ।
…………………
মুক্ত আকাশ মুক্ত বাতাস
স্বাধীন একটি দেশ
সে যে আমার সোনার বাংলা
স্বাধীন বাংলাদেশ। (কবিতার শিরোনাম; স্বাধীন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা-৭)

২। বীর ছিল রফিক সালাম
মনে পড়ে সেই কথা
একুশ তো নয় শোকের স্মৃতি
স্বজন হারানো ব্যথা।

পিচডালা পথে রক্তের ধারা
করুণ স্মৃতির রেশ
ধরণীতে বুঝি একটাই আছে
ভাষা শহিদের দেশ। (কবিতার শিরোনাম; ভাষা শহিদের দেশ, পৃষ্ঠা-১৩)
সুখ ও দুঃখ নিয়ে কবির এমন মুগ্ধ উচ্চারণ আমাদেরকেও দেশ প্রেমে উজ্জ্বীবিত করে। শুধু তাই নয় ছন্দে পঙক্তিতে নতুন প্রজন্মকে দেশের আকাশ বাতাস মাটি এবং আমাদের মাতৃভাষার প্রতি যে দায়বদ্ধতা রয়েছে সে পাঠের মন্ত্রণাও তিনি দেন।
পাঁচ
প্রকৃতির প্রতি কবিদের অনুরাগের মাত্রা স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার মতই। সবুজের মায়াবি পাহাড়-বন, নদ-নদীর প্রবাহিত জীবন চিত্র, ঋতু বৈচিত্র্যের নানা রঙ যে কোন বয়সের যে কোন সময়ের কবি মনকে আকর্ষণ করে নানা মাত্রায় নানা ভাবনায়। সোনালি স্বপ্নের ডানা গ্রন্থের রচয়িতা কবি রাশিদা বেগমকেও এই স্বদেশের ঋতু বৈচিত্র্য ও নানা রঙের প্রকৃতি আকর্ষণ করে, তাঁকে কবিতা লিখতে অনুপ্রাণিত করে। প্রকৃতি প্রেমে আসক্ত হয়ে কবি রাশিদা বসন্ত, এখন লাগে ভালো, বাসিয়া, ছয়টি ঋতু, বাসিয়া নদীর তীরে প্রভৃতি শিরোনামের কবিতা লিখেছেন যা এই গ্রন্থের মাধ্যমে আমাদেরকে তিনি উপহার দিয়েছেন। প্রকৃতি বিষয়ক দুটি কবিতার অংশ বিশেষ এখানে উপস্থাপন করা হলো;
১। বাসিয়া নদীর তীরেতীরে
বাইও মাঝি ধীরে ধীরে
দেখবে সেথায় সারি সারি
নদীর পারে তারই বাড়ি
সবুজ গাছে ঘেরা
ইট পাথরে গড়া
সেই কুঠিরে বসত করে
শ্যাম মনচোরা। (কবিতার শিরোনাম; বাসিয়া নদীর তীরে, পৃষ্ঠা-২১)

২। শীত সকালে লেপ মুড়িয়ে
খেজুর গুড় আর মুড়ি নিয়ে
খেতে যদি বলো,
তখন লাগে ভালো।

বসন্তেরই সকাল বেলা
ছেলেরা সব করে খেলা
মাঠে মাঠে বসে মেলা
এমন যখন হলো
তখন লাগে ভালো। (কবিতার শিরোনাম: এখন লাগে ভালো, পৃষ্ঠা-২৯)
প্রকৃতি বিষয়ক কবিতার এরকম নান্দনিক উচ্চারণে কবিকে প্রকৃতির প্রেমিক হিসেবে সহজেই শনাক্ত করা যায়। বাসিয়ার অমিয় জল, বসন্তের পাতাঝরা মৃদু মিষ্টি হাওয়া কবিকে প্রকৃতির গভীরে নিয়ে যায়। তাইতো তিনি এতো সুন্দরভাবে প্রকৃতির কবিতা রচনা করতে পেরেছেন।
ছয়.
দানবীর রাগীব আলী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম রূপকার। এছাড়া এদেশের সামাজিক উন্নয়নেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। যা চিরস্বরণযোগ্য। সিলেট পেরিয়ে দেশের আনাচে কানাচে তিনি প্রতিদিন স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, শিা ও শিল্প সাহিত্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য ধনী গরিব সকলের নিকটই তিনি সমান জনপ্রিয় একজন মানুষ। তিনি তুলনাহীন বা অতূলনীয় ব্যক্তিত্ব। তাই শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের মানুষেরা তাঁকে গল্পে কবিতায় নাটকে প্রবন্ধে নানাভাবে মূল্যায়ন করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এই বরেণ্যব্যক্তিকে নিয়ে শতাধিক গ্রন্থও রচিত হয়েছে। তাঁকে নিয়ে গবেষণা করছে বিভিন্ন খ্যাতি সম্পন্ন শিা প্রতিষ্ঠান। আলোচ্য গ্রন্থেও কবি রাশিদা তাঁর পঙক্তির ছন্দ মাধুর্যের দোলাচালে এই মহান ব্যক্তিকে স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাঁকে নিয়ে লেখা দুটি ছড়া-কবিতার চুম্বক অংশ বিশেষ এখানে উপস্থাপন করা হলো;
১। রাগীব আলীর ব্রেনটা নিয়ে
ভাবতে যদি থাকি
নিশ্চয় অনেক কিছু
রয়ে যাবে বাকী,
তাঁর গড়া সৃষ্টি নিয়ে
ভাবতে যদি যাই
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া।
সীমা নাহি পাই। (কবিতার শিরোনাম; তুলনাহীন, পৃষ্ঠা-৪৫)

২। হে সৃষ্টির বীর
চিরদিন থাকো বেঁচে
এ ধরার মাঝে
উন্নত করে শির।

হে সৃষ্টির বীর
বারবার এ বাংলার বুকে
ফোটাও সুখের ফুল
গরিবের মুখে। (কবিতার শিরোনাম; সৃষ্টির বীর, পৃষ্ঠা-৩৮)
দানবীর রাগীব আলীকে নিবেদন করে তাঁর এসব ছড়া-কবিতাগুলো অসম্ভব সুন্দর। দানবীর রাগীব আলীর সুযোগ্য স্ত্রী মহিয়সী রাবেয়া খাতুনকে নিয়েও তিনি রচনা করেছেন সুন্দর পঙক্তিমালার ছড়া-কবিতা। যা পাঠক হৃদয়ে মধুর সুর ছড়িয়ে দেয়।
সাত.
সোনালি স্বপ্নের ডানা গ্রন্থে শিশু ও মাকে নিয়েও স্মরণযোগ্য ছড়া-কবিতা লেখা হয়েছে। ব্যক্তি ও সামাজিক কবিতাগুলোও মূল্যায়নের দাবী রাখে। খুকু মণি, হুলো ক্যাট, ময়না প্রভৃতি শিশু উপযোগী ছড়াগুলো শিশুদের মনে আনন্দ দেবে বলে মনে করি। আবার রূপায়ন, কবির মেলা, মুসাফির প্রভৃতি সামাজিক ছড়া-কবিতাগুলো আমাদেরকে অন্যরকম ভাবনায় ধাবিত করে।
আট.
কবি রাশিদা সহজ সরল এবং প্রতিনিয়ত আমরা যে শব্দ ব্যবহার করি সেগুলির সমন্বয়েই ছড়া-কবিতাগুলো তিনি নির্মাণ করেছেন। তবে তাঁর কিছু কিছু ছড়া কবিতায় তাল লয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে হয়। আবার কিছু কবিতায় সমকালীন কবিদের কবিতার সুর বা প্রভাবও রয়েছে। কাব্য সাধনার ভেতর দিয়ে এসব ঘাটতি ও প্রভাব মুক্ত হবেন কবি রাশিদা বেগম তা আমরা প্রত্যাশা করি। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, প্রথম কবিতার বইতে তিনি যে অসংখ্য সুন্দর ও সাবলীল কাব্যসৃষ্টি করেছেন, যা তাঁকে পাঠক হৃদয়ে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে। আমাদের ছড়া-কবিতার সাহিত্য ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। এই ধারার জনপ্রিয় কবিদের তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ। মধূসুদন. রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, সুকুমার, সুকান্ত প্রমূখ বিখ্যাত কবিদের থেকে শুরু করে কালিদাস, কামিনী, সত্যন্দ্রনাথ, বন্দে আলী মিয়া, অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, আহসান হাবীব, শামসুর রাহমান, আলমাহমুদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, নির্মলেন্দু গুণ, জয় গোস্বামীসহ এই সময়ের অসংখ্য কবি স্মরণযোগ্য ছড়া কবিতা লিখে পাঠক হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। সোনালি স্বপ্নের ডানায় ভর করে কবি রাশিদা বেগম তাঁর পরবর্তী গ্রন্থে আরো চমকপ্রদ খ্যাতিমান কবিদের মতো ছড়া-কবিতা উপহার দিয়ে পাঠক হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেবেন। আমরা সে আশাই করি। আরো আশা করি তাঁর অন্তর দৃষ্টি স্বদেশের সীমা পেরিয়ে পৌঁছে যাবে বিশ্ব বারান্দায়। আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখব কবি রাশিদা বেগমের অনন্য কাব্য কীর্তি।

শাহ মোঃ মস্তাব আলী

Bashi-08প্রমে আর দ্রোহ- দ্রোহ আর প্রমে কবতিার মাঝে মলিমেশিে যখন একাকার হয়, তখন কবতিা হয়ে ওঠে শক্তি ও সৌর্ন্দযরে এক অনন্য সাধারণ অধরা মাধুরী কংিবা চত্রিল হরণি। কবতিা কী ডোরাকাটা বাঘরে মতো হতে পার-ে এ জজ্ঞিাসাকওে আমি অবান্তর মনে করি না।
প্রাকৃতকি সৌর্ন্দযরে রহস্যময় আর সমাজ বাস্তবতার রূঢ় পথ ধরইে কবতিা সাধারণত হাঁট।ে কবকিওে থাকতে হয় কবতিার সাথ।ে হৃদয়রে আবগেরে সংরাগ থকেে কবতিার জন্ম হয়। এখানে কবরি অন্যতম প্রধান কাজ আবগে সংযত করা। কবতিার গভীরতা ও র্দাশনকিতার প্রয়োজনইে তা করতে হয়। এ েেত্র যনিি সফল তার কবতিা কালকে অতক্রিম করতে পার।ে আর প্রত্যকে কবকিইে সমকালরে ভতের দয়িে মহাকাল অতক্রিম করার সাধনা করতে হয়। শাহ মোঃ মস্তাব আলীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘চাঁদরূপসী মনরে ছায়া’র কবতিাগুলো পড়ে আমার মনে হয়ছে,ে কবতিাকে কবতিা করে তোলার জন্য তনিি আপ্রাণ চষ্টো করছেনে। জীবনানন্দীয় স্টাইলওে তনিি কবতিার মাধ্যমে হৃদয় ছুঁয়ে যাবার চষ্টোর ত্র“টি করনেন।ি তার কবতিায় সঘন অরণ্যরে কোরাস কংিবা হৃদয়রে গভীরে ধ্বনতি আকাঙ্খার উত্তাল কংিবা চঞ্চল প্রকৃতরি মাঝে ঝরাপাতার র্মমর ধ্বনি হয়তো অনকেইে অনুভব করতে পারবনে। আসলে কবরি হৃদয় থকেে উৎসারতি জীবনঘনষ্টি শল্পৈকি উচ্চারণই কবতিা।
নদীমাতৃক বাংলাদশেরে প্রাকৃতকি সৌর্ন্দয আর হাজার বছররে আন্দোলন-সংগ্রামরে ধারাবাহকিতায় একাত্তরে সশস্ত্র মুক্তযিুদ্ধরে মাধ্যমে র্অজতি স্বাধীন র্সাবভৌম জাতরিাষ্ট্র বাংলাদশেরে সংগ্রামী মানুষরে র্শৌযর্বীযরে অনন্য ইতহিাসকে বুকে ধারণ করে শাহ মোঃ মস্তাব আলীর কবতিাগুলো যখন হৃষ্টপুষ্ট হয় তখন শত হতাশার মাঝওে আশাবাদী না হওয়ার কোনো কারণ আমি দখেি না।
শাহ মোঃ মস্তাব আলীর কবতিায় প্রচলতি কুপ্রথা ও কুসংস্কাররে বরিুদ্ধে প্রতবিাদী বক্তব্য ও নারী জাগরণরে আহবান আছ।ে সমাজরে মানুষরে বভিদে-বষৈম্য,র্স্বাথপরতা, অন্যায়-অবচিার, র্দুনীতরি চত্রি ফুটে ওঠছেে তার কবতিায়। তার কবতিায় পল্লীবাংলার প্রাঞ্জল র্বণনা আছ,ে দশোত্মবোধরে কথা আছ,ে নারী নর্যিাতনরে কথা আছ,ে ন্যায্য অধকিার আদায়রে জন্য গণমানুষরে সংগ্রামরে কথা আছ,ে প্রমে-ভালোবাসা, বরিহ-বচ্ছিদে, বদেনার কথা আছ,ে সমাজরে বপিন্ন মানুষরে নতুন করে বঁেচে থাকার অনন্য সংগ্রামরে কথা আছÑে আরো অনকে কছিুই আছে হৃদয় ছুঁয়ে যাবার মতো। এ কাব্যগ্রন্থে সুফীবাদী র্দশন প্রভাবতি র্অথাৎ আধ্যাত্মকি ধারারও কছিু কবতিা আছ।ে তার কবতিায় স্রষ্টার প্রতি আকুতি এবং পরকালরে জন্য ইহকালে কাজ করার তাড়নার কথা আছ।ে
তার কবতিায় বষিণœœ সন্ধ্যার আবছা আঁধাররে মতো মৌনতার ছায়া যমেন আছ,ে তমেনি সবুজ সতজে নীবড়িতার মাঝে জীবনরে স্পন্দনও অনুভূত হয়ছে।ে যান্ত্রকি সভ্যতায় মানুষরে আগ্রহ এবং অসহায়ত্বরে মতো বপিরীতর্ধমীতার ইঙ্গতি রয়ছেে তার কবতিায়। ‘

সাইদুর রহমান সাঈদ।

Bashi-03 লেখালেখি তাঁর নেশা। বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তিনি প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও কবিতা-ছড়া লিখে থাকেন। ‘লাল-সবুজ ভালোবাসার সংগ্রাম’ তাঁর বিভিন্ন সময়ে লেখা কয়েকটি প্রবন্ধ-নিবন্ধের সমাহার। এসব লেখায় গভীর জীবনবোধ ও দেশপ্রেম এবং সমাজ বাস্তবতার প্রতিচিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। তিনি একজন সমাজসচেতন লেখক। সমাজের নানা অসংগতি, অনাচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর শক্তিশালী বক্তব্য রয়েছে। শোষণ-নির্যাতন-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার।
বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, মিমাংসিত ইতিহাসের বিকৃতি, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার, ধর্মীয় মৌলবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ প্রভৃতি বিভিন্ন ধরণের প্রবন্ধ-নিবন্ধ রয়েছে এ গ্রন্থে।
সাইদুর রহমান সাঈদ এক সময় সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক-সাহিত্য-মানবাধিকার ও শিশু সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।
তিনি ১৯৫৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রহমাননগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম (মরহুম) আবদুল মজিদ ও মায়ের নাম (মরহুমা) সুন্দর বিবি। তিনি পিতামাতার প্রথম সন্তান।
তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি ও সিলেট সরকারি মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন।
বর্তমানে তিনি লেখালেখি ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী চেতনার ছায়া’ ও প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থ ‘স্বদেশের মাটির ঘ্রাণে জেগে ওঠে বিপ্লবী চেতনার ঢেউ।’

মরমি কবি শাহ ইসকন্দর মিয়ার ভাগ্যে জোটেনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

মোহাম্মদ নওয়াব আলী
001পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া গানের জগতে অতি সুপরিচিত নাম। তিনি সুপরিচিত গীতিকার। এ যাবত প্রায় তিন হাজারের বেশি গান রচনা করে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁর বেশির ভাগ গানই পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য বাউল শিল্পী তাঁর গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বাউলদের মুখে মুখে তাঁর গানের অংশ বিশেষ প্রতিনিয়ত শুনা যায়।
বহুগ্রন্থ রচয়িতা মরমি সাধক বাউল কবি পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া ১৯৩৫ সালের ১৫ জুন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের তেরাউতিয়া মোকামবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শাহ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ পীর ও মাতা সৈয়দা মিরজান বিবি।
বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ গানের একটি সমৃদ্ধ উর্বর জনপদ। এ জনপদে হাছন রাজা, রাধারমন দত্ত, ফকির দূর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিমের মত প্রতিথযজ্ঞা বাউল সাধকদের জন্ম, যারা সগৌরবে সংগীতের জগতে আপন আলোয় দিপ্তীমান। তাদের উত্তরসুরী পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া তাদেরই পথ অনুসরণ করে সংগীতের এই সুন্দর ভুবনে পা বাড়ান। ইতিপূর্বে একজন সার্থক গীতিকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সম হয়েছেন।
গানপাগল পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া কৈশোর বয়সেই বাউল গানের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন এবং গান লিখতে শুরু করেন। প্রবাস জীবনের শত ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে ভাবুক ইসকন্দর মিয়া সংগীত চর্চা চালিয়ে যান নীরবে নিভৃতে। তাঁর বিশ্বাস ছিল মানুষের মনের কথা সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায় সংগীতের মাধ্যমে। স্রষ্টার সান্বিধ্য লাভ করা যায় সংগীত সাধনার মাধ্যমে। তাই তিনি মানুষের মনের কথা বলার জন্য। অধরাকে ধরার জন্য বেছে নেন সংগীতের এই শক্তিশালী মাধ্যম। আর কর্মব্যস্ততাকে ফাঁকি দিয়ে ভাবের গভীরে চলে যান এবং লিখতে থাকেন অনবরত।
মরমি কবি ইসকন্দর মিয়ার এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো ইসকন্দর গীতি ১ম খণ্ড (অক্টোবর ১৯৮৯), ইসকন্দর গীতি ২য় খণ্ড (জানুয়ারি ১০৯০)। বইগুলোর মুদ্রণ সংখ্যা শেষ হলে পরবর্তীতে ইসকন্দর গীতি প্রথম খণ্ড গান সংখ্যা ১০১টি (ফেব্র“য়ারি ২০০৩), ইসকন্দর গীতি ২য় ও ৩য় খণ্ড গান সংখ্যা ২২৯টি, ইসকন্দর গীতি ৪র্থ ও ৫ম খণ্ড গান সংখ্যা ২৮৩টি (মে ২০০৩), ইসকন্দর গীতি ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম খণ্ড গান সংখ্যা ৪৩৯টি (আগস্ট ২০০৩), ইসকন্দর গীতি ৯ম, ১০ম, ১১তম, ১২তম খণ্ড গান সংখ্যা ৫৬১টি (মে ২০০৪), ইসকন্দর গীতি ১৩তম খণ্ড গান সংখ্যা ২৮৬টি (ফেব্র“য়ারি ২০০৬) প্রকাশিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও বিদেশের অসংখ্য বই, পুস্তক, ম্যাগাজিন, সিডিতে তাঁর গান ও জীবনী প্রতিদিনই ছাপা হচ্ছে।
তিনি ২০০৬ সালে অর্জন করেছেন ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক একাডেমি ইউকে এর এ্যাওয়ার্ড। মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের মরমি সাহিত্য পদক। পাইলগাঁও বিএন উচ্চ বিদ্যালয় তাকে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করে। তিনি যুক্তরাজ্যের সিলেট একাডেমির পৃষ্ঠপোষক।
তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোহা. ইউছুফ মিয়া নুনু পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে লেখালেখির জগতে চলে এসেছেন। ইতিপূর্বে তাঁর প্রকাশিত বই- সুর লহরী ১ম থেকে ৪র্থ খন্ড, মেঘ বৃষ্টি ও প্রেম কুঞ্জে প্রকাশিত হয়েছে। গান ও কবিতার এ বইগুলো পাঠক সমাদৃত হয়েছে।
ইসকন্দর মিয়া আপাদমস্তক একজন ভাবুক। প্রতিটি মুহুর্ত ভাবের জগতে ঢুবে থাকতে চান। তাই সংগীত সাধনায় রেখেছেন অসাধারণ সাফল্যের স্বার। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আজ পর্যন্ত এলাকাবাসী কিংবা দেশবাসীর কাছ থেকে এ সৃষ্টিকর্মের মূল্যায়নধর্মী কোন স্বীকৃতি তিনি পাননি। তিনি গান লিখে দেশ বিদেশে সুপরিচিত হলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি (২ পৃষ্ঠায় দেখুন) বাংলাদেশ বেতার কিংবা বাংলাদেশ টেলিভিশনের গীতিকার হিসেবে অনুমোদন লাভ করতে পারেননি। তার অনেক অনুজ গীতিকার বেতার কিংবা টেলিভিশনের অনুমোদন লাভ করলেও তার ভাগ্যে জুটেনি এ দুর্লভ প্রাপ্তি। এটা দেশ জাতি এবং সংগীত জগতের জন্য লজ্জার বিষয়। প্রবীণ এ গীতিকার শেষ বয়সের যেন তার সৃষ্টিকর্মের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করতে পারেন। বয়সের ভারে বেশ বয়সেও তিনি আশাবাদী তার গান বেতার কিংবা টেলিভিশনে শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।
দেশে-বিদেশে একজন নন্দিত গীতিকার হওয়ার গীতিকার, ঠিক তখনও পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া অননুমোদিত গীতিকার। যেটা বেশ লজ্জ্বার বিষয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী কলম সৈনিক পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া রচিত অনেক গানের শুধু ভণিতার পরিবর্তন করে অনেক তথাকথিত গীতিকার অনুমোদন লাভ করেছেন। দেশ জাতি তাঁকে অনেক ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রেখেছে যেটা কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না। তাঁর প্রতি এ বঞ্চনা, অবহেলা সৃজনশীলতার জন্য কোনোভাবেই হিতকর হতে পারে না। সাড়ে তিন হাজার মরমি সংগীত রচনা করে পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া কী পেলেন? এ সত্য উপলব্ধি করে অনেক নতুন ভাবুক সাধনার পথে অগ্রসর হতে আগ্রহ পোষণ করবে না। পাঠকের জন্য ইসকন্দর মিয়ার একটি গান পত্রস্থ করা হলো-
তুমি হাকিমুল হাকিম
বাদশাহ্র বাদশাহ তুমি
রহমান রহিম।
অপার মহিমা মহিম
পরওয়ারদিগার।।

তুমি- কুদরতে কামাল
পড়েছি অকুল সাগরে
তরাও হে দয়াল।
কিনারায় লাগাইয়া জালাল
দূর করো আঁধার।।

ওগো- কাদির ও গনী
করুণা করিয়া দান
দাও হে রওশনী।
খুলে দাও রহমতের খনি
করিম ও ছত্তার।।

ভেবে ইসকন্দরে কয়
অপরাধ মা কর
প্রভু দয়াময়।
ভক্ত ভাবে রাখ হৃদয়
ডাকি বারেবার।।

শাহ মো. শরফ উদ্দিন চিশতী

11111শাহ মোহাম্মদ শরফ উদ্দিন চিশতী একই সাথে একজন গীতিকার, সুরকার ও সংগীত শিল্পী। অর্থাৎ যাকে বলে একের ভেতর তিন। তাঁর জন্ম সিলেট জেলার অন্তর্গত দণি সুরমা উপজেলা মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের লামাহাজরাই গ্রামে। পিতা মরহুম মোঃ আত্তর আলী ঠাকুর মিয়া ও মাতা মোছা. তাসলিমা খানম।
শাহ মোহাম্মদ শরফ উদ্দিন চিশতী পেশায় কবিরাজ হলেও নেশা মূলত সংগীতচর্চা। তাঁর পিতা মরহুম মোঃ আত্তর আলী ঠাকুর মিয়া সংগীত চর্চা করতেন, সেই সূত্র ধরেই তিনি সংগীতের জগতে প্রবেশ করেন। ছোটবেলা কোন শিকের কাছ থেকে গানের তালিম নেবার সুযোগ তাঁর হয়নি। তাঁর ভাষায় তিনি নিজেই নিজের শিক আবার নিজেই নিজের ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধের বছর থেকে তিনি নিজের গানে সুর দেন ও গান করেন। তিনি দেহতাত্ত্বিক, আধ্যাত্মিক, ভাটিয়ালি, পল্লীগীতি, বাউল ইত্যাদি বিভিন্ন ধারার সংগীতের চর্চা করে থাকেন। তাঁর গানগুলো গ্রাম ও শহর সব অঞ্চলের মানুষেরই শোনার উপযোগী। সুশীল সমাজের আর্থিক সহযোগীতা পেলে ভবিষ্যতে গানের সিডি বের করতে তিনি ইচ্ছুক। আমাদের দেশের সংগীতের ত্রে নিয়ে তাঁর বক্তব্য হলো, দেশে বর্তমানে যথেষ্ট ভালো সংগীতচর্চা হচ্ছে। তবে এক শ্রেণির গায়কেরা গানের মূল সুর ও মিউজিক বিকৃত করে গান গাচ্ছেন যা ঠিক নয়। গানের শ্রোতা ও সংগীত শিল্পীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য হলো গান আধ্যাত্মিক জগতের বস্তু। একে শুধু কান দিয়ে শুনলেই হবে না একে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করাও জরুরী। না বুঝে গান গাওয়া ঠিক নয়। প্রতিটি গানের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও গভীর অর্থ রয়েছে। একে বুঝে আত্মস্থ করা উচিত।
প্রাইমারী পড়–য়া শাহ মোহাম্মদ শরফ উদ্দিন চিশতী অলি আউলিয়াদের মাজারে মাজারে কাটান বেশিরভাগ সময়। ওলী আওলিয়ার সংস্পর্শে থাকতে চান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত।
সংগীতকে ভালোবেসে তিনি নিয়মিত সংগীতের সাথে আছেন। তাঁর প্রত্যাশা একদিন তার গানগুলো গ্রন্থাকারে ও সিডি আকারে প্রকাশিত হবে। আমরা শরফ উদ্দিনের কটি গান পত্রস্থ করলাম
০০০
অপুরন্ত ভান্ডার হতে ফিরলে খালি কলংক রবে
ভিখারীর মনে ভরসা তোমারই দয়া পাবে।।

দয়া পাইতে আসা নিয়া কত না যাতনা লইয়া
আসে সবে
ভক্তের মনে ঐ ভরসা দয়াল হইয়া ভিা দিবে।।

আমার অপরাধের নাইগো সীমা ভিা মাগি পাইতে মা
আসে সবে
তুমি নায়রে নবী উজ্জল রবি একুল সেকুল খেয়া দিবে।।

তব জাতের জাতি করে কুলেনি লইবে আমারে
আপন ভেবে
শাহ শরফ উদ্দিন কয় তাই না হলে দয়াল নামের কিগুণ রবে।।

০০০
ভারের দেশে যাবে যদি মন
ভাবের দেশ মুকাম্মীলে শাকারে পায় সাই নিরঞ্জন।।

ভাবের দেশের কায্য নিত্য সরলে রয় সবাই লিপ্ত
মরা বৃে জল দিতে রয় বহুজন হইয়া একজন।।

ভাবের দেশের কঠিন রীতি সুসাধনে পায় যে জুতি
সঙ্গি হলে আপ্ত জ্ঞাতি আলো ছড়ায় বিশ্ব ভুবন।।
শরফ উদ্দিন কয় আলীফ দাল মিম
তিন হরফে আদম মুমিন
ভেদাভেদ নাই হিন্দু মুসলিম দেশে করে রনে গমন।।

০০০
বাহির চোখে আল্লাহ দেখা নাহি যায়
বাহির চোখে দলিল দেখে ভাবরে খোদা রইল কোথায়।।
বাহির চোখে দিচ্ছে জুতি দেখিতে সুন্দন আকৃতি
সৃজন করছে জগৎপতি ফাদ পাতিয়া দুটানায়
বাহির চোখে করবে দোষি না হইলে অন্ধের তল্লাশি
বাহির চোু নফছ রাশি ঘন্টা জলে নাও ডোবায়।
ভেবে কয় শাহ শরফ উদ্দিন অন্ধ চোখে মৌলার শাকিন
বুঝলে না তুই মনরে কমিন চোখ সাধনা জঙ্গলায়।।

শামছুন নাহার

000কবি শামছুন নাহার কবিতার স্বপ্নীল ভূবনে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর জন্ম ১৯৬২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভার উপজেলার ভাদাইল গ্রামে। পিতা জালাল উদ্দিন আহমদ ও মাতা মৃত রাবেয়া বেগম। পিতার নাটকে সংশ্লিষ্টতার সুবাদে তাঁর সাহিত্যের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা। ছোট বেলা থেকেই ছড়া, কবিতা, গল্প ইত্যাদি লেখার প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক ছিলো। তাই স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘ভালোবাসা’ শিরোনামে ১৯৮২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সিলেটের যুগভেরী পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর ‘সিলেট কণ্ঠ, সাপ্তাহিক জালালাবাদী ইত্যাদি পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি সাভারে থাকেন অথচ প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় সিলেটে। এর কারণ হলো তাঁর সিলেটে বেশ কয়েকজন ‘পেনমামা’ ছিলেন। তাদের কাছে তিনি লেখা পাঠাতেন আর সে লেখা তাঁর অজান্তেই ছাপা হতো সিলেটের পত্র পত্রিকায়। পরবর্তীতে বেগম পত্রিকা সহ অন্যান্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত বেরুতে থাকে।
কবি শামছুন নাহারের এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো- *ভালোবাসার নীল দুয়ার, *কষ্টের ঝোল বারান্দা, *অনুভবে ছুঁয়েছি তোমায়, *নগ্ন রাতের ঘ্রাণ, *ফিরে এসো পুরাণের পাখি হয়ে। প্রকাশিতব্য *বাংলাদেশের জন্ম (ছোটদের জন্য)।
কবিতায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ ও ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সাহিত্য ও সংস্কৃতি পুরস্কার এবং ২০১০ সালে সাংবাদিক বজলুর রহমান স্মৃতি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২০০৫ সালে জাতীয় লেখক ফোরাম কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে ভূষিত হন।
কবি শামছুন নাহার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে øাতক এবং ময়মনসিংহ ভেটেরিনারি ইন্সটিটিউটে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর টহরহাবৎংরঃু ড়ভ ঐঁফফবৎংভরবষফ ধহফ ঈড়সসড়হবিধষঃয ঝবপৎবঃধৎরধঃব ওহ ট.ক হতে ণড়ঃয উবাবষড়ঢ়সবহঃ এ চড়ংঃ এৎধফঁধঃব উরঢ়ষড়সধ (উণউড) পরবর্তীতে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ পশু সম্পদ অধিদপ্তর ঢাকায় কর্মরত আছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আমির হোসেন। শাওন ও তন্ময় নামক দুই পুত্র সন্তানের তিনি জননী।
তার অসংখ্যা লেখা থেকে পাঠকদের উদ্দেশ্যে দুটি লেখা পত্রস্থ করা হলো-

অদম্য পুরুষ তুমি
জানি না কোন সে জাগরণ থেকে
স্পর্শের উষ্ণতা ছড়াতে চাও
যৌবনের এই ছেঁড়া শরীরে।
তুমুল স্বাধীন নিঃসঙ্কোচে করেছো প্রকাশ
নোনা স্বাদ পেতে চাও কোমল ভালোবাসার।
অদম্য পুরুষ তুমি
বুকজুড়ে এত টান
বৃরে শিকড়ের মতো
অরণ্যের গোপন ঘ্রাণের মতন
চুমুর চিহ্ন এঁকে দিতে চাও
ঠোঁটের কোণে লুকানো ছিল যা এতকাল।
অরণ্যের সবুজের মতোই
পাশাপাশি থেকেও বুঝতে পারিনি
তোমার হৃদয়ের হাওয়া- মেঘবৃষ্টি।
পরখ করিনি কখনো আমার অনুভবে
তোমার অস্তিত্বের খিল কতখানি আঁটা।
তোমার ব্যাকুলতাগুলি ওম দিয়েছে
একখন্ড শীতবস্ত্রের মতো আর তাই
শখের কুলঙ্গিতে তুলে রেখেছি
একরাশ শাদা জুঁইয়ের মতো
হয়তো কোনো উদাসীন দুপুরে
বিহ্বল করে তুলবে এই অপোয়।

অঘ্রাণের সুখ
কীর্তনখোলার বুকে বজরা ভাসিয়ে
আমি রবীন্দ্রনাথ হবো না।

কতটুকু হারিয়ে খুঁজেছে মানুষ
অঘ্রাণের সুখ।
অন্তহীন নবান্নের উৎসবে
কতদিন বাজেনি মাদল
মনে পড়ে না।

তবু স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা
নবীন পুরুষেরা জানে না
নিঝুম বসে থাকা
ছানিপড়া বৃদ্ধের দল
পাঁজরের তে কতটা ব্যথা নিয়ে
তাকিয়ে রয়েছে বৃত্তাবদ্ধ জীবনের দিকে।

আকাশকে কাব্য করে বলি
হে দূরের আকাশ
তুমি একবার বৃষ্টি দাও
পোড়ামাটি পোড়াগাছ
বীজ বোনা ভালোবাসাকে
তামাটে করো না।

পাহাড় ফেটে ছুটে আসুক হিমস্রোত।
আকাশ ভেঙে নামুক অঝোর ধারা
শ্যামলতার সারাৎসার শুষে
মৃত্তিকা ফুঁড়ে নতুন জন্ম
দিতে পারে উর্বর শস্যদানা।

আমার মন পড়ে রয় কীর্তনখোলার বুকে
জলের গন্ধ কড়া নাড়ায়
স্বপ্নস্মৃতির অপরূপ ক্যানভাসে
ধানের গন্ধ জালের স্বপ্ন, অসীম পিপাসা
উঠে আসছে কীর্তনখোলার অপরূপ ক্যানভাসে।

Developed by: