প্রবাসী জিলানী : একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব

images11মেধা মননে একজন বিচক্ষণ বাঙালি এ কে এম জিল্লুর রহমান জিলানী। পরোপকারে বেশিভাগ সময় ব্যয় করেন। তিনি ইউরোপের ইংল্যান্ডে বসবাস করলেও বুকে ধারণ করেন বাংলাদেশকে। আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে গভীরভাগে ভালোবাসেন জিলানী। এ মাধ্যমগুলোতে মিশে থাকতে চান আজীবন। কারণ এখানে রয়েছে তাঁর মনের খোরাক। আত্মার মিল।
জিল্লুর রহমান জিলানীর জন্ম ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ। তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান ও মাতা মরহুমা রোকেয়া খানম। পিতা হাবিবুর রহমান প্রথম দিকে মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ রাজনীতি করতেন। তিনি কুচাই ইউনিয়ন পরিষদে দুই মেয়াদে বার বছর মেম্বার হিসেবে জনগণের সেবা করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত বাস মালিক সমিতির সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করেন।
জিল্লুর রহমান জিলানী প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন ব্লুবার্ড স্কুলে। পরবর্তীতে তিনি দুর্গাকুমার পাঠশালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি পাশ করেন। ভর্তি হন এমসি কলেজে (বর্তমানে যা সরকারি কলেজ) এবং ১৯৭৫ সালে যথারীতি এইচএসসি পাশ করেন। তারপর সুপরিচিত বিদ্যাপীঠ সিলেট সরকারি কলেজ অর্থাৎ বর্তমান এমসি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স পাস করেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ খ্রিস্টাবে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। লেখাপড়া শেষে দেশে কিছু দিন চাকরি করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি স্বপ্নের দেশ ইংল্যান্ড ভ্রমণ করেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
ইংল্যান্ডে বাঙালিদের চিরচেনা রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি এবং ধীরে ধীরে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ব্যবসায় সফল হলেও তিনি শুধু ব্যবসায় ডুবে থাকেননি। ইংল্যান্ডের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকায় কাজ করার প্রয়াস পান। সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকার সত্যবাণী সম্পাদনা দায়িত্ব তাঁর ওপর পড়ে এবং সফলতার সাথে তিনি সম্পাদনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘সাপ্তাহিক পত্রিকায়’ কাজ শুরু করেন। সাপ্তাহিক পত্রিকায়ও তিনি ইসলামের শিক্ষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য পাতা সম্পাদনা করেন। বর্তমানেও তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকায় কর্মরত আছেন। ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং ধর্মীয় চিন্তাচেতনায় গভীর মনোযোগ থাকায় তাঁর ওপর পত্রিকার ধর্মীয় পাতাগুলো সম্পাদনার দায়িত্ব পড়ে। তিনি দৃঢ়তা ও দক্ষতার সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করে যান।
জিল্লুর রহমান জিলানী আপাদমস্তক একজন মুসলমান। কোরআন ও হাদিসের শাশ্বত বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মেধা ও অর্থ উভয় ব্যয় করতে কার্পণ্য করেন না। তিনি বাংলাদেশের খুলনার প্রফেসর শামসুর রহমান এর ৪০টির মত ইসলামী বই নিজের অর্থায়নে প্রকাশ করে দিয়েছেন।
জিলানী একজন গর্বিত বাঙালি। যিনি কাজে বিশ্বাসী। নিরবে নিভৃতে কাজে ডুবে থাকতে চান। কাজে আনন্দ পান। কথায় আর কাজে মিল রেখে এগুতে চান সামনের দিকে। তিনি সর্বদা প্রচারবিমুখ। প্রবাসে ব্যবসার পাশাপাশি বহুল প্রচার মাধ্যম সংবাদপত্রে কাজ করেও প্রচারবিমুখ তিনি।
আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের কালচার সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চান না। শাশ্বত ইসলামের ঐশিবাণী বুকে ধারণ করে তাঁর নিত্যদিনের পথ চলা। তিনি কুরআন ও সুন্নার প্রতি গভীর অনুরক্ত। তাই নিজ খরচে ও নিজের তত্বাবধানে বোখারী শরীফ ও আবু দাউদ শরীফের সকল খন্ড বাংলায় অনুবাদ করান এবং সাধারণ মানুষের পড়ার সুযোগ করে দেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার আলবাণী একাডেমি থেকে বোখারী শরীফ ও আবু দাউদ শরীফ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আবার আলবাণী একাডেমির অনেক ইসলামি বইয়ের প্রকাশক এবং পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ জন্য আলবাণী একাডেমি তাঁকে প্রধান উপদেষ্টা মনোনিত করেছেন এবং খুলনার প্রফেসর শামসুর রহমান সংসদের সাথেও তিনি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
জিল্লুর রহমান জিলানী ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তিনি ১৯৮৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হন। তাঁর সহধর্মিণী জেসমিন নাহার রহমান। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান। বড় ছেলে সানিয়াত রহমান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে বায়ো কেমিস্ট্রিতে এমএসসি পাস করে লন্ডন ইমপিয়েল কলেজে পিএইচ.ডি অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে জাহিন রহমান ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স করছেন। আর একমাত্র মেয়ে রামিশা রহমান ও লেভেল পরীক্ষার ফল প্রার্থী।
জিলানী একজন সফল, সুখী ও সার্থক মানুষ। তাঁর মনে সদানন্দ বিরাজ করছে। বাকী দিনগুলো এভাবেই কাটিয়ে দিতে চান তিনি।

Developed by: