Homeশীর্ষ সংবাদদীর্ঘ ২০ বছর পর বাল্লা সীমান্তের ১৪০ বিঘা জমি ফেরত পাচ্ছে বাংলাদেশ

দীর্ঘ ২০ বছর পর বাল্লা সীমান্তের ১৪০ বিঘা জমি ফেরত পাচ্ছে বাংলাদেশ

bgb8দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর চুনারুঘাটের বাল্লা সীমান্তের ১৪০ বিঘা জমি ফেরত পাচ্ছে বাংলাদেশ। দ্রুত ভূমি রেকর্ড দেখে এবং জরিপ কর্মকর্তার মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ শেষে এ জমি বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দেওযা হবে। মঙ্গলবার সকালে চুনারুঘাটের বাল্লা সীমান্তে গাজীপুর ইউনিয়ন কার্যালয়ে বিজিবি- বিএসএফের কমান্ডিং পর্যায়ে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক সুত্রে জানা গেছে, এ মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তক্রমে বাংলাদেশকে এ জমি বুঝিয়ে দেয়া হবে। চুনারুঘাটবাসী ফেরত পাবে খোয়াই চরের এ জমি।

বাংলাদেশের পক্ষে এ বৈঠকে নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গলস্থ ১৪ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল সাইফ উ্িদ্দন চৌধুরী কাউসার। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ত্রিপুরার প্রহরমুড়া বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং কমান্ডিং অফিসার এ কে বিদ্যাপি। বৈঠকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম ছাড়াও বাল্লা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন। এর পূর্বে বিএসএফ কমান্ডার ১১ সদস্যের টিম নিয়ে সকালে বাল্লা সীমান্তে দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
জানা যায়, বাল্লা সীমান্তের মোকামঘাট এলাকায় খোয়াই চরের ১৪০ বিঘা জমিতে আসা যাওয়ার জন্য খোয়াই নদীর উপর একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণকে কেন্দ্র করে ১৯৯৪ সালে এপ্রিল মাসে বিএসএফ-বিজিবি’র মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তৎকালীন সময়ে বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে বার কয়েক পতাকা বৈঠক বসেও দু’দেশ এ জমির ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে সীমান্তের ঐ এলাকায় শুরু হয় দু’দেশের জরিপ কার্যক্রম। এনিয়ে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ম্যাজিস্ট্রেট সুলিল কুমার সরকার এ জমি বাংলাদেশের বলে স্বীকার করলেও বিএসএফ দখলদারিত্ব ছাড়েনি। তারা নো-ম্যান্স ল্যান্ড আখ্যা দিয়ে এ জমি তাদের দখলে রাখে। ফলে বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যায় এ ১৪০ বিঘা জমি। দীর্ঘদিন ধরে এ জমিতে কখনো ভারতীয়রা আবার কখনো বাংলাদেশীরা গরু চড়িয়েছে এবং ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিএসএফ এ জমি আমাদের দেশের বললেও কার্যত তারাই দখলদারিত্ব করেছে। অবশেষে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাল্লা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় জরিপ কাজ শুরু হয়। পুনরায় দু’দেশের জরিপ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দু’দেশের সীমান্ত জরিপ করে এবং বৈঠক করে সীমানা পিলার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে উক্ত সীমান্তের ১৯৬৩ এর ৪এস পিলার থেকে ১৯৯৫নং পিলার পর্যন্ত নতুন পিলার নির্মাণ করলেও মোকামঘাট এলাকায় বিরোধ থেকেই যায়। এছাড়া মোকামঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গনের কারণে জমি নদীর ওপারে চলে যাওয়ায় জরিপ হলেও সীমানা পিলার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে ভারতীয়রা তাদের সীমান্তে কাটাঁতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় অপদলীয় জমির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে ২০১২ সালে উক্ত সীমান্তের বিভিন্ন অপদখলীয় জমি জরিপের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে গত এ বছরের ৭ জুলাই ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই শহরের খোয়াই সার্কিট হাউজে দু’দেশের পরিচালক পর্যায়ে এক বৈঠক করেন। বৈঠকের পূর্বে প্রতিনিধিদল উভয় সীমান্তের অপদখলীয় ভূমি পরিদর্শন করে। বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদল তাদের মধ্যে ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে ঐক্যমত হয়। পরে ১২ জুলাই পুনরায় দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ে দিল্লীতে এক বৈঠকে উক্ত সীমান্তের বিরোধ চুড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়।
এ ব্যাপারে বিজিবি’র ১৪ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেঃ কর্ণেল সাইফ উদ্দিন চৌধুরী কাউসার বলেন, এ জমি আমাদের। ভারত কখনোই এ জমি তাদের বলেনি। তবে আমরা যাতে এ জমি চাষাবাদ করতে পারি এ ব্যবস্থার জন্য সীমানা চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ বিরোধ নিষ্পত্তি হলে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর বাল্লা সীমান্তের ১৪০ বিঘা বাংলাদেশ ফেরত পাবে। সীমান্তের কৃষকদের জমি চাষের স্বপ্ন পূরণ হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments