সর্বশেষ

ভূমিকম্পে ‘এভারেস্ট দেখানোর কারিগর’ নিহত

মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণের সময় ড্যান ফ্রেডিনবুর্গ। ইনস্টাগ্রামে তাঁর নিজের পোস্ট করা ছবি।পর্বতারোহণ ছাড়াই পৃথিবীর মানুষকে বিশ্বের সব সর্বোচ্চ পর্বত শিখরের দৃশ্য দেখানোর কারিগর গুগলের প্রকৌশলী ড্যান ফ্রেডিনবুর্গ আর নেই। শনিবার নেপালের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের সময় তিনি মাউন্ট এভারেস্টের একটা বেজ ক্যাম্পে ছিলেন। এ সময় হিমালয়ের তুষার ধসে অন্য আরও কয়েকজনের সঙ্গে তিনি মারা যান। গুগল তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়,‘দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমরা আমাদের নিজেদের একজনকেও হারিয়েছি।’ গুগল আরও জানায়,‘মাউন্টেন ভিউ প্রকল্পের দীর্ঘ দিনের সদস্য ড্যান ফ্রেডিনবুর্গ আরও তিন গুগল সদস্যের সঙ্গে এভারেস্টে আরোহণ করছিলেন। তিনি মারা গেছেন। গুগলের অন্য তিন সদস্য নিরাপদ আছেন এবং শিগগিরই তাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।’

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গুগলের অত্যন্ত গোপন সৃজনশীল গবেষণাগার ‘গুগল এক্স’ ল্যাবের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন ড্যান ফ্রেডিনবুর্গ। ফ্রেডিনবুর্গ ২০০৭ সাল থেকে গুগলে কাজ করছিলেন। তাঁর লিঙ্কডইন পেজে দেখা যায়, নিজেকে ‘গুগল অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। গুগলের প্রাইভেসি টিমে কর্মরত এই প্রকৌশলী ‘সেলফ ড্রাইভিং কার’ ও ‘প্রজেক্ট লুন’সহ বেশ কয়েকটি বড় ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে এভারেস্টে ড্যান ফ্রেডিনবুর্গ (বাম থেকে দ্বিতীয়)। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান।প্রায় দুই বছর ধরে গুগল স্ট্রিট ভিউ প্রকল্পকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত পর্যন্ত প্রসারিত করার কাজ করছিলেন ফ্রেডিনবুর্গ। এ জন্য বেশ কয়েক দফায় মাউন্ট এভারেস্টের বিভিন্ন পর্বতারোহণ পথে আরোহণ করেন তিনি। ২০১৩ সালে তিনি বিখ্যাত পর্বতগুলোর অনেক চিত্রমালা গুগল ম্যাপে সংযুক্ত করারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

২০১৩ সালে নিজের ব্লগপোস্টে ফ্রেডিনবুর্গ লেখেন,‘এখন আপনারা দক্ষিণ আমেরিকার আকাঙ্কাগুয়া পর্বত, আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো পর্বত, ইউরোপের এলব্রুস পর্বত এবং এশিয়ার এভারেস্ট পর্বতের বেজ ক্যাম্পের অনেক চিত্রমালা দেখতে পাবেন।’

ওই ব্লগপোস্টে তিনি আরও লিখেছিলেন,‘পর্বতচূড়ায় উঠে দাঁড়ানোর কোনো তুলনা হয় না। কিন্তু গুগল ম্যাপস দিয়ে আপনি নিজেকে সব সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পারবেন। অসাধারণ সব দৃশ্য দেখতে পাবেন। আর এগুলো আপনি দেখবেন পর্বতারোহীদের মতো তুষার ধস, পাথর ধসসহ উচ্চতম দুর্গম স্থানের ভয়াবহ কোনো ঝুঁকি মোকাবিলা না করেই।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button