সর্বশেষ

রিমান্ড শেষে রাজন হত্যার আসামী রুহেল হাজতে

0002সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁও এলাকায় চাঞ্চল্যকর শিশু শেখ মোঃ সামিউল আলম রাজন (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন ওরফে রুহেলকে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সামিউলের বাবাকে মামলা করতে বাধা দেওয়া ও লাশ গুম করার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। রুহেল জালালাবাদ থানা এলাকার বাসিন্দা। সে রাজনের ঘাতক আলী হায়দারের শ্যালক। গত ১৮ জুলাই ঈদের দিনে স্থানীয় এলাকাবাসী রুহেলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এর পরদিন পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। শুনানী শেষে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী ৩য় আদালত) মোঃ আনোয়ারুল হক ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে রুহেলকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রুহেলকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জালালাবাদ থানার জিআরও এএসআই ফরিদ উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, রাজন হত্যা মামলায় আটক আয়াজ উল্যাহকেও তিনদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি পুলিশ। গত শনিবার আয়াজ উল্যাকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ সাহেদুল করিমের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন । গত শুক্রবার রাত ১টায় ডিবি ও জালালাবাদ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত জানান, রিমান্ডে থাকা অন্য আসামীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকান্ডের সাথে তারও সম্পৃক্ততা রয়েছে।
গত ৮ জুলাই বুধবার সকালে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের শিশু রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। নিহত সামিউল আলম রাজনের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামে। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা রাজন সবজি বিক্রি করত। রাজনের পিতা শেখ আজিজুর রহমান পেশায় একজন প্রাইভেট কার চালক। তার দুই ছেলের মধ্যে রাজন বড়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button