২৭ ও ২৮ জুন পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার ব্রাডি আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লেখক, গবেষক, শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী এবং বিপুলসংখ্যক ব্রিটিশ বাংলাদেশির উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উৎসবের প্রথম দিনে “অনুবাদ ও বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিকতা” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আনিসুজ্জামান। আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অবনী অনার্য, কবি মিল্টন রহমান এবং ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষা সচিব ও শিক্ষাবিদ গৌরাঙ্গ মোহন্ত।
দ্বিতীয় দিনে “সাহিত্যে অনুধ্যান” শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন আনিসুজ্জামান, কিংস কলেজের অধ্যাপক কেতন শেখ, অধ্যাপক অবনী অনার্য, লেখক-সাংবাদিক সায়েম চৌধুরী, চলচ্চিত্র নির্মাতা মিনহাজ কিবরিয়া এবং চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সোনিয়া। আলোচনায় সমকালীন সাহিত্যচর্চা, অনুবাদ, সংস্কৃতি, নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক এবং চলচ্চিত্রে সাহিত্যের প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
এবারের উৎসবে সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, যুক্তরাজ্য চারটি বিভাগে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করে। সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন কবি মাশুক ইবনে আনিস। গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট গবেষক ও ইতিহাসবিদ ফারুক আহমদকে।
সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় বিশিষ্ট সংগঠক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হেনা বেগম এবং নূরজাহান শিল্পীকে। এছাড়া ডিস্টিংগুইশড ফ্রেন্ডস রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় লেখক ও সাংবাদিক শেবুল চৌধুরীকে।
দু’দিনব্যাপী উৎসবে প্রতিদিনই ছিল কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পাশাপাশি ব্রিটিশ বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে সংগঠনের সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবাল রচিত দিকনির্দেশনামূলক নাটক “শেকড়ের খোঁজে” বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে মঞ্চস্থ করা হয়।
এবারের উৎসবে ব্রিটিশ বাংলাদেশি তরুণদের সৃজনশীলতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভাগুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি নাটক, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রভিত্তিক নতুন আয়োজন উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই উৎসবে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের আন্তরিক সহযোগিতায় এবারের বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব সফল ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


