একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চূড়ান্ত আদেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ আজ বুধবার সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করেছেন। ফলে চূড়ান্ত আদেশেও তাঁর ফাঁসি বহাল থাকল।
পুনর্বিবেচনার আদেশ কোনো মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপ। এখানেও ফাঁসির রায় বহাল থাকায় সাকা চৌধুরীর সামনে সবশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ আছে। এরপর দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আসবে।
সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের ওপর আজ সকালে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আজ বেলা সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে আদেশের সময় নির্ধারণ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার ওই আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সাকা চৌধুরীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি এক দিন পিছিয়ে দেন আদালত।
গতকাল একই বেঞ্চে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের কার্যতালিকায় রাখেন।
সাকা চৌধুরীর ফাঁসির সাজা বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। এর ১৪ দিনের মাথায় ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন সাকা চৌধুরী।
২০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন চেম্বার আদালত ওই আবেদন শুনানির জন্য ২ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিলেন। পরে সাকা চৌধুরীর আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির তারিখ ১৭ নভেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। আপিলে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

