Homeবই পত্রআধ্যাত্মিক সাধক মরমী কবি সৈয়দ শাহ্ নূর (রঃ) এর বার্ষিক ওরস আজ

আধ্যাত্মিক সাধক মরমী কবি সৈয়দ শাহ্ নূর (রঃ) এর বার্ষিক ওরস আজ

আধ্যাত্মিক সাধক, মরমী কবি ও হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর বংশধর সৈয়দ শাহ্ নূর (রঃ)-এর বার্ষিক ওরস মোবারক আজ মঙ্গলবার ৬ মাঘ সকাল থেকে শুরু করে পরদিন বুধবার ভোরে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরশের সমাপ্তি ঘটবে। পীর আউলিয়ার পূণ্যভূমি নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগনার জালাল সাফ গ্রামে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার আশেকান ও ভক্তবৃন্দ আসেন মাজার জিয়ারতে।
ইতিহাস ও প্রবীণদের নিকট থেকে জানা যায়, সৈয়দ শাহ নূর (রঃ) যেখানেই গেছেন তার গুণাবলী, তৌহিদী রোশনাই মানুষকে বিমোহিত করেছে। মানুষ দলে দলে তাঁর সংস্পর্শে এসেছে অনুরক্ত হয়েছে এবং থাকার জন্য বাড়ী ঘর তৈরী করে দিয়েছে। কিছুদিন অবস্থান করে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যেতেন তিনি। এভাবে বৃহত্তর সিলেট জুরে বিভিন্ন অঞ্চলে তিনির ৫৪টি বাড়ী রয়েছে বলে জানা গেছে। আর এসব বাড়ীগুলি সৈয়দ শাহনূর (রঃ) এর স্মৃতি বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ীগুলোর মধ্যে উল্লে¬খ যোগ্য হল নবীগঞ্জের জালালসাফ আদর্শ গ্রাম, আমুকোনা, মৌলভীবাজার দক্ষিণবালী, রাজনগরের লামুয়া, বালাগঞ্জের ইছবপুর, করিমগঞ্জের চাপঘাট পরগনার লালার চক গ্রামে ও জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর গ্রামে সহ আরো অনেক জায়গায়। তিনি যেখানেই যেতেন সঙ্গী সাথীগণও সাথে থাকতেন।
সৈয়দ শাহ নূর (রঃ)-এর বংশধর অত্র মাজার খাদিম সৈয়দ আব্দুল জাকি (কাচা মিয়া)র’কাছ থেকে জানাযায়, নবীগঞ্জে জালালসাফ গ্রামে আগমনের কথা ও চির সমাহিত কথা। সৈয়দ শাহ নূর ১৭৩০ সালে জন্মগ্রহন করেন। ১৮৪২ সালের পরে তিনি জগন্নাথপুরে আসেন এখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। বয়স যখন একশত অতিক্রম হওয়ার পরও মন ঘরে থাকতে চাইলোনা। একদিন তিনির স্ত্রী সৈয়দা ছামিনা বানুকে বললেন “চল বেরিয়ে পড়ি আমার আর এখানে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছেনা” স্ত্রী বললেন এই বুড়ো বয়সে আমি আর পারছিনা। এর কিছুদিন পর স্ত্রী ও পুত্র সৈয়দ আব্দুল জব্বারকে সৈয়দপুরে রেখে বেরিয়ে পড়েন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নবীগঞ্জের জালালসাফ গ্রামে এক মুরীদের বাড়িতে আসেন। এর আগেও এখানে অনেক এসেছেন। এভাবে তিনি যেখানে গেছেন ঘটনাক্রমে কোন না কোন কেরামতি দেখিয়েছেন। এর কিছুদিন পর ১৮৫৬ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের পর তিনির কথা মত শাখা বরাক নদীর তীরে জালালসাফ গ্রামে সমাহিত করা হয়। এর পর থেকে ৬ই মাঘ বার্ষিক ওরশে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে জালাল সাফ গ্রামে। আশেকান বক্তবৃন্দ এই মহান আধ্যাত্মিক সাধকের মাজারে এসে ভীড় জমান সওয়াব হাসিলের মানসে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments