Homeশীর্ষ সংবাদএক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

মহামারীর ১৬তম মাসে এসে মরণকামড় বসিয়েছে করোনাভাইরাস। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্তের হার। করোনা সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে ১৪৩ জনের, যা এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সঙ্গে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৩০১ জন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন ৮ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হলো। গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ২৫.৯০ শতাংশ, যা ৩৩২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বেশি ৩১.৯১ শতাংশ শনাক্তের হার ছিল শুধু গত বছরের ৩ আগস্ট। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৫৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৮ হাজার ৩০১ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত চার দিনেই দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ১৫৩ জন। গড়ে দৈনিক শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৮৮ জন। অথচ, গত মে মাসের ৩১ দিনে শনাক্ত হয় ৪১ হাজার ৪০৮ জন। গড়ে দৈনিক শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৬ জন। সেই হিসাবে দৈনিক রোগী শনাক্ত ছয় গুণ বেড়েছে।গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯ লাখ ২১ হাজার ৫৫৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন। মারা গেছেন ১৪ হাজার ৬৪৬ জন। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু। অথচ গত বছর সংক্রমণের শুরুর দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশে করোনা বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। ২০২০ সালের কোনো মাসেই শনাক্ত রোগী ১ লাখ ছাড়ায়নি। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে ১ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়। মে মাসে কমে ৪২ হাজারের নিচে নামে। জুনে আবারও ১ লাখ ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। আগের কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায়ও সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। এক দিনেই এই বিভাগে মারা গেছেন ৪৬ জন, যা এই মহামারীকালে সর্বোচ্চ। মৃত্যু বেড়েছে ঢাকা বিভাগেও। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগে ৩৫, রাজশাহীতে ১৯, চট্টগ্রামে ১৫, রংপুরে ১০, বরিশালে আট, সিলেটে সাত ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ১৪৩ জনের মধ্যে ৯০ জন পুরুষ ও ৫৩ জন নারী। হাসপাতালে ১৩২ জন ও বাড়িতে ১১ জন মারা গেছেন। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ৭০ জনই ষাটোর্ধ্ব। ৪২ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, ১৮ জন চল্লিশোর্ধ্ব, ১১ জন ত্রিশোর্ধ্ব, একজন ১১ থেকে ২০ বছর বয়সসীমায় ও একজন মারা গেছে ১১ বছরের কম বয়সী। দফায় দফায় বিধিনিষেধের পরও উচ্চ সংক্রমণ হার বজায় রয়েছে খুলনা ও রংপুর বিভাগে। দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে ওঠানামা করছে সংক্রমণ হার। নমুনা পরীক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের হার ছিল রংপুর বিভাগে ৪০.৭৯ শতাংশ। খুলনায় ৩৭.৬৪ শতাংশ, সিলেটে ২৯.১০ শতাংশ, বরিশালে ২৮.৪০ শতাংশ, ময়মনসিংহে ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২৪.৪২ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৪ শতাংশ ও ঢাকা বিভাগে ২২.৮৫ শতাংশ ছিল শনাক্তের হার। নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি সংক্রমণ বাড়ায় শনাক্ত রোগী বাড়ছে। এতে চরম চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলা ছাড়াও অনেক জেলায়ও নেই আইসিইউ। নেই অক্সিজেনের ব্যবস্থা। অক্সিজেনের অভাবে নমুনা পরীক্ষার আগে করোনা উপসর্গ নিয়েই মারা যাচ্ছে অনেকে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments