HomeUncategorizedঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি

a0d96991b0215cb998b4e79e98c8467fঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে বিজ্ঞান অনুষদের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল হেডফোনসহ ১৫ পরীক্ষার্থীকে আটক করেছেন কর্তব্যরত শিক্ষকরা। জালিয়াতিতে সহায়তা করায় এক কর্মচারী ও জালিয়াত চক্রের এক সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া এই চক্রের সঙ্গে কয়েকটি কোচিং সেন্টার ও দুই ছাত্রলীগ নেতা জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আটকরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের ফিশারিজ বিভাগ কেন্দ থেকে সাদমান আহমেদ সৈকত, আজিমপুর অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ থেকে জায়েদ হাসান, আজিমপুর গার্হস্থ্য কলেজ কেন্দ থেকে প্রিয়ম সরকার, নীলক্ষেত হাইস্কুল কেন্দ থেকে মো. বদিউজ্জামান জুয়েল, নটর ডেম কলেজ কেন্দ থেকে তরিকুল ইসলাম, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ থেকে সৈয়দ আলমগীর কবির, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি বয়েজ কলেজ কেন্দ থেকে রাইসুল ইসলাম, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি গার্লস কলেজ কেন্দ থেকে ফারহা ফারজানা নিশাত, কে এম রেজওয়ানুল এহসান ও ইফরাতুন কাউসার, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক রাইফেল’স কলেজ কেন্দ থেকে রাফিয়া হাসান, ধানমন্ডির আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ থেকে রুহুল আমিন সেতু ও ফোয়াদ হাসান এবং কর্মচারী মো. রহিম, ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ থেকে সাব্বির হোসেন ও আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে হোজ্জাতুল ইসলাম। এছাড়া জালিয়াত চক্রের সাথে জড়িত ইমদাদুল হক খোকন নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, বিভিন্ন কেন্দ থেকে জালিয়াতির অভিযোগে ১৫ পরীক্ষার্থীসহ ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। সবাই পরীক্ষা কেন্দ সংশ্লিষ্ট থানায় আটক আছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে মামলা করবে।

যেভাবে জালিয়াতি: আটক পরীক্ষার্থীরা জালিয়াত চক্রের সহায়তায় মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল হেডফোন ব্যবহার করে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। জানা গেছে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১০-২০ মিনিটের মধ্যে কেন্দে কর্তব্যরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সহায়তায় চক্রের সদস্যরা প্রশ্নপত্র বের করে নিয়ে আসে। পরে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নের সমাধান করে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে অথবা ডিজিটাল হেডফোনে (পরীক্ষার্থীর কানে লাগানো) জানিয়ে দেয় প্রশ্নোত্তর।

আটককৃতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা জালিয়াত চক্রের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরীক্ষার পর পরিশোধ করার শর্তে তাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট টাকায় চুক্তি করেন। বদিউজ্জামান জুয়েল জানান, তিনি তিন লাখ টাকার বিনিময়ে খোকন নামে জালিয়াত চক্রের এক সদস্যের সাথে চুক্তি করেছেন। চক্রটি তাকে ডিজিটাল ডিভাইস ও হেডফোন দেয়। পরীক্ষার পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খোকনকে আটক করা হয়। খোকন চকবাজার শাখা জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার।

প্রক্টর অফিসে দেয়া জুয়েল ও খোকনের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, এ ঘটনার মূল হোতা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আল-আমিন সবুজ। এর আগেও পরীক্ষায় জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সবুজের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় মামলা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল রাত পর্যন্ত তাকে আটক করতে পারে নি পুলিশ। তবে শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন সবুজকে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে মোটরবাইক নিয়ে ঘুরাফেরা করতে দেখা গেলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি কর্তৃপক্ষ।

আটক আলমগীর কবিরের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, তিনি জনি নামের জালিয়াত চক্রের এক সদস্যের সাথে মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে উত্তরপত্র পাবার শর্তে চুক্তি করেছিলেন। জনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের য্গ্মু-সাধারণ সম্পাদক বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তার দেশের বাড়ি শরীয়তপুর। তরিকুল ইসলাম জানান, এসএমএস-এর মাধ্যমে উত্তরপত্র সরবরাহের শর্তে ঢাকা কলেজের সিয়াম নামের এক ছাত্রের সাথে তিনি চুক্তি করেন। তার ফোনে এ-সেটের উত্তর এসেছিল। প্রিয়ম সরকার জানান, তিনি মাহফুজ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ৩ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন। রাফিয়া হাসান জানান, তিনি এসএমএস-এর মাধ্যমে উত্তরপত্র সরবরাহের শর্তে বগুড়ার তুহিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দেড় লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন। এছাড়া সাদমান আহমেদ সৈকত সিম সংবলিত হাতঘড়ি নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছিলেন। ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজ কেন্দে র কর্মচারি রহিম সাড়ে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে আটক দু’জনকে মোবাইল নিয়ে কেন্দে প্রবেশে সহযোগিতা করেন।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বাইরের ৭৬টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৪০টি আসনের বিপরীতে ৮০ হাজার ৪৪২ জন ভর্তিচ্ছুক অংশ নেন। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায়ও অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৭ পরীক্ষার্থীসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছিল।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আটক ৩

এদিকে গতকাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে তিন ভর্তিচ্ছুকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এরা হলেন জাহিদ হাসান বাপ্পী, ইমরান হোসেন ও মাসুদ রানা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments