Homeবই পত্রপ্রতি জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট

প্রতি জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে মাসিক সম্মানি ভাতা ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করার বিয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিয‍ুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান তিনি।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত ৪৪ আসনের সংসদ সদস্য বেগম-নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ২ লাখ করা হয়েছে।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনের জন্য সংখ্যানুপাতে ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প প্রণয়নের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, যুদ্ধাহত ও মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে (অনধিক ২ সন্তান) বার্ষিক প্রতি সন্তানকে ১৬০০ টাকা হারে শিক্ষা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিবাহ ভাতা হিসেবে যুদ্ধাহত ও মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে (অনধিক দুই কন্যা) প্রতি কন্যার জন্য এককালীন ১৯ হাজার ২০০ টাকা হারে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ভাতাভোগী যুদ্ধাহত ও মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ২ ঈদে মূল ভাতার সমপরিমাণ ঈদ বোনাস দেওয়া হয়।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতাপ্রাপ্ত সব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারি যানবাহনে (বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসি’র কোচ, বাস ও জলযান) এবং বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ সব রুটে বছরে একবার (আসা-যাওয়া) এবং আন্তর্জাতিক রুটে বছরে দুইবার (আসা-যাওয়া) বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। যা প্রতি ৫ বছর অন্তর নবায়নযোগ্য।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লার (নরসিংদী-৩) প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক জানান, বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নামে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে বীরাঙ্গনাদের পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বীরাঙ্গনাদের একটি তালিকা সংরক্ষিত আছে। এছাড়া বীরাঙ্গনা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রাপ্ত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশের আলোকে তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে তাদের নামে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি চলমান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রাপ্ত তালিকার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ২৯তম সভার অনুমোদনক্রমে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে ৪১ জন বীরাঙ্গানার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আরও ৩২ জন বীরাঙ্গনার নামে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও ১২১টি আবেদন উপজেলা বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই কমিটির কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জামুকার সাব-কমিটি কর্তৃক রিভিউ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments