Homeবই পত্রভারতবর্ষ থেকেই চুম্বনের উৎপত্তি, জানুন ইতিহাস!

ভারতবর্ষ থেকেই চুম্বনের উৎপত্তি, জানুন ইতিহাস!

bbf754349ecf6288353d3786e9ca207fভারতবর্ষ থেকেই চুম্বনের উৎপত্তি, জানুন ইতিহাস! পশ্চিমা সিনেমা কিংবা চিত্রকলায় প্রকাশ্যে অবলীলায় চুম্বনের দৃশ্য দেখতে আমরা অভ্যস্ত। সে তুলনায় আমাদের নিজেদের দেশে এমনকি বেশিরভাগ এশীয় দেশেই আমরা সর্বসমক্ষে চুম্বন দৃশ্য দেখার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। রক্ষণশীল সমাজে এটিকে দেখাও হয় বাঁকা চোখে। অথচ পাশ্চাত্যের সমাজ চুম্বনের ধারনাটি পেয়েছে কোথা থেকে জানেন? আমাদের ভারতবর্ষ থেকেই! এই তথ্যটি উঠে এসেছে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির নৃতত্ত্ববিদ্যার অধ্যাপক ভন ব্রায়ান্ট এর রিসার্চ থেকে। তার অধ্যাপনার প্রথম সপ্তাহে তিনি তার ছাত্রদেরকে এমন পাঁচটি সংস্কৃতির উদাহরণ দিতে বলেন সার্বজনীন। তার এক ছাত্র উত্তরে লেখে “সকল সভ্যতার চুম্বনের সংস্কৃতি”। কিন্তু এটি পড়ার পর অধ্যাপক ব্রায়ান্ট চিন্তা করেন, এ বিষয়ে তার আসলে যথেষ্ট জানা নেই। তিনি এ বিষয়ে লাইব্রেরিতেও তেমন কিছু খুঁজে পাননি। এর পরবর্তী ২০ বছর ধরে তিনি খুঁজে বেড়ান চুম্বনের সঠিক ইতিহাস। অনেকেই মনে করেন, আবেগের বশবর্তী হয়ে আমরা যখন প্রিয়জনকে চুম্বন করতে চাই তখন সেই প্রেরণাটি আসে আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে। কিন্তু অধ্যাপক ব্রায়ান্ট এর মতে, এর সাথে প্রবৃত্তির সংযোগ নেই বরং এটি এমন একটি ক্রিয়া যেটি আমরা শিখি আমাদের পরিবেশ থেকে অর্থাৎ এটি একটি Learned Behavior। চুম্বনের উৎপত্তি ও বিস্তার নিয়ে ২০ বছরব্যাপী গবেষণায় তিনি নিশ্চিত হন যে, চুম্বন সার্বজনীন কোন সংস্কৃতি নয়। তার মতে, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চুম্বনের চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপে। আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়ান, এস্কিমো অথবা আফ্রিকানদের মাঝে এর চর্চা ছিল না। অধ্যাপক ব্রায়ান্ট দাবি করেন, চুম্বনের উৎপত্তি আসলে ভারতে এবং খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ সালের দিকে আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট পাঞ্জাব জয় করার পর এটি বিস্তার লাভ শুরু করে। আলেকজান্ডারের সেনাপতিরা বাড়ি ফিরে যাবার সময় এই চর্চাটিকেও সাথে করে নিয়ে যায়। ব্রায়ান্ট তার গবেষণায় লক্ষ্য করেন, হিন্দু ধর্মের মূল শাস্ত্র, বেদ এর কিছু স্থানে উল্লেখ আছে মুখ দিয়ে “স্পর্শ” করার কথা। কামসুত্রের বেশ কিছু স্থানেও দেখা যায় চুম্বন এবং এর কৌশলের উল্লেখ। এগুলোকে ব্রায়ান্ট বিবেচনা করেন সূত্র হিসেবে যেগুলো প্রমান করে যে চুম্বনের উৎপত্তি ভারতেই হয়। এ ছাড়াও তিনি বলেন, “kiss” শব্দটিই আসলে আরেকটি প্রমান, কারণ তিনি ভাষাতাত্ত্বিক প্রমান পেয়েছেন যে এই শব্দটির উৎসও ভারত। ব্রায়ান্ট তার গবেষণায় ধর্মীয় এবং প্রথাগত ক্ষেত্রে চুম্বনের ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করেন। যেমন ইহুদিধর্মে ধর্মগ্রন্থ তাওরাত চুম্বনের প্রথা এবং পাশ্চাত্যে মিসেলটো লতার নিচে চুম্বনের চর্চা ইত্যাদি। ১৯২০ সালে জাপানে প্রকাশ্যে চুম্বনের রীতি এতটাই অপরিচিত এবং অস্বাভাবিক মনে করা হত, যে ভাস্কর রডিন এর ভাস্কর্য “The Kiss” প্রদর্শনী করার সময় একে বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং শুধুমাত্র বিশেষ অনুমোদন পাবার পরই কাউকে এটি দেখতে দেওয়া হত। –

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments