বই পত্র

মানবদেহ সম্পর্কে তিনটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা

article-2182380-096D2117000005DC-148_468x312অনেক ধরনের কুসংস্কারই আমাদের মাঝে চালু রয়েছে যা আমরা বহু যুগ ধরে শুনে আসছি এবং মেনে আসছি। মানবদেহের স্বাস্থ্য, খাবার, ক্ষমতা ইত্যাদি সম্পর্কে এমন কিছু ব্যাখ্যাকেও আমরা এতদিন পর্যন্ত সত্য বলে জেনে আসছি যার আসলে কোনো ভিত্তিই নেই বা আমরা আসলে এ সম্পর্কে ভুল জেনে এসেছি। এমনই কিছু ভিত্তিহীন ব্যাখ্যা সম্পর্কে জানুন।

১.    খুব কাছে থেকে টিভি দেখলে চোখ নষ্ট হয়ে যায় :
প্রায় সময় দেখা যায় যে ছোট বাচ্চারা খুব কাছ থেকে টিভি দেখে থাকে। বাবা মায়েরা নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা এই কাজটি করতে বেশ ভালোবাসে। প্রচলিত ধারণা হল খুব কাছ থেকে টিভি দেখলে বাচ্চাদের চোখের জ্যোতি কমে যায় এবং খুব তাড়াতাড়ি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। কেননা দৃশ্যগুলো খুব কাছাকাছি হলে চোখের উপরে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা থাকে।

আসল বিষয়টি হল টিভির কাছাকাছি বসে টিভি দেখলে চোখের কোনো সমস্যাই হয় না। কেননা টিভির গ্লাসে আলাদা একটি প্রটেক্টর দেয়াই থাকে যা আমাদের চোখকে রক্ষা করে থাকে। চোখের সমস্যা হয় একটানা অনেক সময় টিভি দেখা, বা কম আলোতে টিভি দেখার কারণে। এবং এটা শুধু টিভি নয়, কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলেও হতে পারে।

২.    সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চাইলে চাই ঝকঝকে দাঁত :
ঝকঝকে দাঁত মুখের গ্ল্যামারকে বেশ প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। আর বাজারের প্রায় প্রতিটি টুথপেস্টেরই দুটি শর্ত থাকে তা হল প্রাণবন্ত নিশ্বাস এবং ঝকঝকে দাঁত। বলা হয়ে থাকে যে হলুদ দাঁত অস্বাস্থ্যের প্রতীক। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য যে মানুষের দাঁতের প্রাকৃতিক রঙই হল হলুদ। যদিও বিভিন্ন আজেবাজে খাবার যেমন কফি, সিগারেট এবং অ্যালকোহল জাতীয় খাবার দাঁতে কালো দাগ ফেলে। তবে ঝকঝকে দাঁত হলেই যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবেই তার নিশ্চয়তা ডেন্টিস্টরা দিতে পারেন না কারণ ঝকঝকে দাঁতের মাঝেও লুকিয়ে থাকতে পারে বিভিন্ন জীবাণু যা আপনার জন্য অস্বাস্থ্যকর।

৩.    একেবারে তলা সমান পায়ের অধিকারী দুর্ভাগ্যের দাবীদার :
এই কুসংস্কারটি গ্রামাঞ্চলে বেশি মানা হয়ে থাকে। দেখা যায় ছেলের জন্য বউ দেখতে গেলে সবকিছু খুঁতিয়ে দেখার একটি রেওয়াজ রয়েছে। হবু বউয়ের পা যদি একেবারে সমান তলার হয়ে থাকে তবে তাকে অলক্ষ্মী হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু এটি ছাড়াও মিলিটারী বাহিনীতে এর একটি আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে। কোনো আর্মি বা পুলিশের পরীক্ষার সময়ে দেখা হয়ে থাকে এই বিষয়টি। তাদের যুক্ত হল ফ্ল্যাট পা দৌড়ানোর সুবিধার্থে উপযোগী নয়। এজন্যই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হাজার হাজার সৈনিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে ৩০০ সৈন্যের একটি গবেষণা দল তাদের গবেষণার মাধ্যমে একে ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button