Homeশীর্ষ সংবাদমীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল

মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল

একাত্তরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ‘বাঙালি খান’ হিসেবে পরিচিত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
mir-kasem-medium_23689_1472523616
মঙ্গলবার সকালে শতাধিক আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধানী পাঁচ সদস্যের আপিলবেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজের এই আদেশ দেন।বেঞ্চের অন্য বিচারকরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

এর আগে আদালত রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শেষ করে রোববার আদেশের এ দিন ধার্য করেছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর দুটি অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করলে ৮ মার্চ আপিল বিভাগ কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসীম উদ্দিন হত্যা সংক্রান্ত একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন।
মীর কাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ১৯৭১ সালে ঈদুল ফিতরের পরের যেকোনও একদিন মীর কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রাম শহরের এক অজ্ঞাত স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে নির্যাতন কেন্দ্র ডালিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে জসিমের মৃত্যু হলে আরও পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশসহ তার মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
এছাড়া আরও ছয় অভিযোগে মোট ৫৮ বছরের কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
৬ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ১৫ দিন পার হওয়ার আগেই ১৯ জুন তা রিভিউ চেয়ে আবেদন করেন মীর কাসেম।
রিভিউ আবেদনে ১৪টি যুক্তি তুলে তরে মীর কাসেম খালাস চান। ২৪ আগস্ট মীর কাসেমের পক্ষে সময় আবেদন খারিজ করে রিভিউ শুনানি শুরু করেন আপিল বিভাগ। রোববার শুনানি শেষ হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রিভিউয়ের রায়ের মধ্য দিয়ে মীর কাসেম আলীর বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। রিভিউ আবেদনই ছিল তার আইনি লড়াইয়ের শেষ ধাপ। রিভিউ খারিজ হওয়ায় এখন সরকারের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করবে। তবে তার আগে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ পাবেন ৬৩ বছর বয়সী এই যুদ্ধাপরাধী।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলে নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয় মীর কাসেমকে। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তার বিচার শুরু হয়।
এদিকে এখন পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতদের মধ্যে কারও রিভিউ আবেদনই সফল হয়নি। মীর কাসেমের আগে রিভিউ করেছিলেন ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়া বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জামায়াতের শীর্ষনেতা  মো. কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা। তাদের প্রত্যেকের রিভিউ খারিজের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments