খেলাধুলা

মুস্তাফিজুরের মজার ও বিস্ময়কর সব গল্প!

03আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবের পর থেকেই মুস্তাফিজুর রহমান যেন ব্যাটসম্যানদের জন্য এক অদ্ভুত বিস্ময়। তার বোলিংয়ের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্যাটসম্যান। এবার নিজের সম্পর্কে মজার ও বিস্ময়কর সব ঘটনা জানালেন তিনি নিজের মুখেই।

ইয়র্কারঃ
‘অনুর্ধ্ব-১৯ দলে থাকাকালীন এক ওভারে ৫টি ইয়র্কার দিতে পারতাম। সেটা নতুন বল, পুরনো বল দুটিতেই। এতে বল দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত বলে ইমরান স্যার আমাকে বকা দিতেন। তবে, যেকোন নতুন ব্যাটসম্যান ক্রিজে আসলেই আমি একটা ইয়র্কার মারতাম!’

গ্রামে অনুশীলনঃ
‘গ্রামে আমাদের স্কুলের ফুটবল মাঠের এক পাশে আমি ভারতীয় ৫০০-৬০০ টাকার বল দিয়ে নিজে নিজে প্রাকটিস করতাম। পিচের উপর গুড লেন্থ ও ইয়র্কার এর জায়গাদুটি চিহ্নিত করে নিয়ে টানা বোলিং করে যেতাম।’

কাটারের বৈচিত্র্যঃ
‘আমি দুধরণের কাটার করতে পারি। একটা ফাস্ট একটা স্লো। ফাস্ট কাটারটা আমি শিখেছিলাম জাতীয় দলে ঢোকার আগে নেটে বিজয় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোলিং করার সময়। আর স্লো কাটারটা শিখেছি ভারতের সাথে প্রথম ওয়ানডের পর। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দুদিন গ্যাপ ছিল। ঐ সময় সাকিব ভাই আর সৌম্যের বিপক্ষে বোলিং করে করে এটা রপ্ত করি! এরপর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই প্রথম এটা করি।

টি-টোয়েন্টি অভিষেকঃ
‘অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে ভয়ের চোটে আমি মাঠেই ঢুকতে পারছিলাম না। আবুল হাসান রাজু ভাইকে বলার পর উনি আমাকে সাহস দেন। বোলিং শুরু করার আগে দর্শকদের গর্জন শুনে আমি আরো ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম বলটা করার পরই যখন তারা আমার জন্যে চিতকার করা শুরু করে আমার সব ভয় দূর হয়ে যায়।’

ভাল ব্যাটসম্যানঃ
‘আমার সব সময় ভাল ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে বল করতে ভাল লাগে। অনুশীলনেও আমি সাব্বির ভাই, বিজয় ভাইদের সামনে পেলে খুশী হয়ে যাই। এ কারণে ক্রিস গেইলের বিপক্ষে বল করার খুব ইচ্ছে আছে আমার।’

টেস্ট অভিষেকঃ
‘পাকিস্তান সিরিজের সময়েই নেটে আমাকে বল করতে দেখে হাতুরু জানতে চেয়েছিলেন আমি টেস্ট খেলতে প্রস্তুত কি না। তখন বলেছিলাম যে আমার আরো সময় দরকার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পর ঈদে বাড়ি যাবার জন্য টিকেটও কেটে ফেলেছিলাম। সৌম্য বাড়ি যেতে পারবে না বলে তাকে টিকেট দেখিয়ে মজাও নিচ্ছিলাম। এরপর তো আমি নিজেও টেস্ট দলে ঢুকে গেলাম, বাড়ি যাওয়া হলো না!’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে একের পর ইতিহাস গড়েছেন মুস্তাফিজুর। তবে এতো কিছুর পরও নিজেকে খুব সাধারণ কেউ মনে করেন মুস্তাফিজুর। থাকতে চান আগের সেই সরল সহজ অতি সাধারণ মুস্তাফিজুরই! মাশরাফি বিন মুর্তজার মতো বড় ‘ভাই’ যার নেতা, তার কাছ থেকেতো এমন আচরণই স্বাভাবিক!
সূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button