Homeশীর্ষ সংবাদযুবতীর নগ্ন দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণের ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কারাগারে প্রেরণ

যুবতীর নগ্ন দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণের ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কারাগারে প্রেরণ

22-3বিশ্বনাথে জোরপূর্বক এক যুবতীর নগ্ন দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণের ঘটনায় প্রচার ও সহায়তার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আসামী শাহানারা বেগম (৪৫) নামে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর স্ত্রীকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সে বিশ্বনাথ উপজেলার রাউতরগাঁও গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী রহমান আলীর স্ত্রী।

শাহানারা বেগম বৃহস্পতিবার সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালতে হাজির হলে জামিন প্রার্থনা করলে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ প্রদান করেন। এসময় বাদি পক্ষের ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এস এম গফুর এবং আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান গং।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলার কশকনকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফ্ফার তাপাদারের পুত্র কামিল আহমদ (২৮) দীর্ঘদিন থেকে বিশ্বনাথ উপজেলার রাউতরগাঁও গ্রামের প্রবাসী রহমান আলী ঘরে লজিং মাস্টার হিসেবে অবস্থান করে আসছিল। এরই সুবাদে একই গ্রামের রহিমা বেগম (ছদ্দ নাম) এর ভাইয়ের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। আর বন্ধুত্বের সূত্রে কামিল তাদের বাড়িতে প্রায়ই যাওয়া আসা করত। কিছুদিন পূর্বে কামিল অভিযুক্ত শাহানারা বেগমের মাধ্যমে ঐ যুবতিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে যুবতির পরিবার সম্মত না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে কামিল। একপর্যায়ে ২০১৩ সালের ২০ আগষ্ট যুবতির মা অসুস্থ থাকায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সিলেট শহরস্থ হাসপাতালে অবস্থান করলে এই সুযোগে ঐদিন সন্ধ্যায় কামিল যুবতির ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্র দিয়ে ভয়ভিতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মোবাইল ফোনে যুবতির নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারন করে। এরপর কামিল ও তার সহযোগী অভিযুক্ত শাহানারা বেগম ধারনকৃত ছবি ও ভিডিও ক্লিপ মোবাইলের মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে এবং কামিলের কাছে যুবতিকে বিবাহ দিতে যুবতির পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে। অন্যতায় ধারনকৃত ফটো ও ভিডিও চিত্র ফেইসবুক, টুইটার ও ইন্টারনেটে আপলোড করে প্রচার ও প্রকাশ করবে বলে হুমকি দিতে থাকে।

ঐ যুবতির ভাই বাদি হয়ে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল রাতে কামিল আহমদ ও প্রবাসীর স্ত্রী শাহানারা বেগমকে আসামী করে বিশ্বনাথ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/১৩) এর ৯(৪) ধারা সহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮(১)(২)(৩)(৭) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে ঐ দিন রাতেই সিলেট শহরের ভাতালীয়া আবাসিক এলাকার ৮৯/১ বাসা থেকে অভিযুক্ত কামিল আহমদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের কাছে কামিল আহমদ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যুবতির ছবি ও ভিডিও ক্লিপ ধাররেন সত্যতা স্বীকার করে।

এদিকে, মামলার তদন্ত শেষে মামলা থেকে শাহানারা বেগমকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে গত ২ জুলাই অভিযোগপত্র (চার্জশীট) আদালতে দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্ত শাহানারা বেগমকে মামলা থেকে অব্যাহতির দিলে বাদি পক্ষ আদালতে নারাজী দাখিল করেন এবং শুনানি শেষে গত ২৪ জুলাই আদালত শাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারি করেন। এরপর প্রায় ২ মাস পলাতক থাকার পর সাহানারা বেগম বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments