শিক্ষকের পর শিক্ষার্থীদেরও পেটাল ‘যুবলীগ’
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে চাঁদা না দেওয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার পরদিন হামলার শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা, যারা শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছিলেন। রোববার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পূর্ব সহদেবপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র দে বলেন, শুক্রবার মনির, ফারুক, লিটন নামে যুবলীগকর্মী পরিচয় দিয়ে কয়েকজন যুবক এসে তার কাছে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য চাঁদা দাবি করে। “কিন্তু আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই যুবকরা শনিবার সন্ধ্যায় আবারো চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে ও হল সুপার ফজলুর রহমানকে লাঞ্ছিত ও মারধর করতে থাকে।”
তবে এ ঘটনায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত নয় বলে দাবি করেছে স্থানীয় যুবলীগ। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির মিষ্টি, আরিফ, কফি, সামিয়া, রিপা, নবম শ্রেণির সুমি, রিয়াদ, দশম শ্রেণির পাখি, সুজন, মুন্সি, শাবনুর, বিউটি, ষষ্ঠ শ্রেণির মিম, তানজিনা, চতুর্থ শ্রেণির লিজা, সপ্তম শ্রেণির শাহপরাণ, রাফি, সায়মা, শাকিল, তানজিনা ও অভিভাবক রাণী বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে দুপুরে বিদ্যালয় আঙ্গিনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শুরু করলে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. বিজয় কৃষ্ণ সাহা বলেন, “আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুজন নামে এক শিক্ষার্থী বাম পায়ে বেশি আঘাত পেয়েছে।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কচুয়া থানার ওসি মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “কিছু সন্ত্রাসী স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় চালিয়ে আহত করে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আহত হন। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নাজমুল আলম স্বপন হামলায় নিজেদের কর্মীরা জড়িত নয় দাবি করে বলেন, “যারা হামলা চালিয়েছে তারা যুবলীগের কেউ নয়।” শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে, এ ঘটনায় রাতে মামলার পর এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কচুয়া থানার ওসি। গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন (২২) উপজেলার ভূঁইয়ারা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
