Homeবই পত্রহজেই ‘ঝুলে থাকলেন’ লতিফ সিদ্দিকী

হজেই ‘ঝুলে থাকলেন’ লতিফ সিদ্দিকী

হজ নিয়ে মন্তব্যের জন্য মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিলেও তার বাস্তবায়ন হজ পালনরত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের অনুপস্থিতির জন্য ঝুলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
জ্যেষ্ঠ এই মন্ত্রী বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি হজে গেছেন। এই আনুষ্ঠানিকতা (অব্যাহতি) যেহেতু রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই করতে হয়, তাই উনি আসলে বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।”

মন্ত্রিসভায় সহকর্মী লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে বুধবার নিজের নির্বাচনী এলাকা শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন মতিয়া। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে মন্তব্যের পর থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।

ধর্মকে কটাক্ষ করার অভিযোগ এনে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি খোদ আওয়ামী লীগ থেকেও উঠেছে, দাবি উঠেছে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ারও।

এরপর বুধবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে।

বর্তমানে মেক্সিকোতে থাকা লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানানো হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবও রয়েছেন হজে।

লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রী কোনো দ্বিধা করেননি বলে দাবি করেন মতিয়া চৌধুরী।

“আমাদের নেত্রী আমাদের চেয়ে অনেক বেশি পরহেজগার। তিনি কিন্তু এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন নাই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং লতিফ সিদ্দিকী আর আগের মতো মন্ত্রিসভার সদস্য নাই।”

লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। কয়েকটিতে তার বিরুদ্ধে সমনও জারি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শাখা এবং সহযোগী সংগঠনগুলো সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকেও বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া বলেন, “হজ্ব বা তাবলীগ নিয়ে এই ধরণের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাকে আমরা মুসলমানরাতো এটা অব্যশই ঘৃণা করব। আমার মনে হয়, অন্য ধর্মের লোকও এটা সমর্থন করবে না।
“তিনি (লতিফ সিদ্দিকী) যা করেছেন, তার জন্য তাকেই মাশুল দিতে হবে। এটার দায়দায়িত্ব শেখ হাসিনার সরকার বা আওয়ামী লীগ গ্রহণ করবে না।”

লতিফ সিদ্দিকীর মস্তিষ্কের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার দলীয় সহকর্মী মতিয়া বলেন, “বঙ্গবন্ধু তো তাবলিগ জামাতের জায়গা কাকরাইল মসজিদে দিলেন। আর আমাদের নেত্রী এসে মাঠটা দিলেন বিশ্ব ইজতেমার জন্য। আর সেখানে এই সমস্ত বাজে কথা বলা কেউই সমর্থন করবে না।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments