10-1বিতর্কিত ‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ পদ্ধতি এবার আর নেই। আজ শুরু হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের দলবদল হবে পুরোনো পদ্ধতিতেই। খেলোয়াড়দের নিয়ে ক্লাব কর্মকর্তারা ঢাকঢোল পিটিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে আসবেন। উৎসব-উত্তেজনায় মিশে থাকবে কৌতূহল—কে কোন দলে যাচ্ছেন? কে কোন দল ছাড়ছেন?
তবে আজ দলবদল শুরু হয়ে আপাতত সেটি শেষ হয়ে যাবে কালই। এই দুই দিন হবে পুলভুক্ত ২৩ ক্রিকেটারের দলবদল। আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট পুলের বাইরের বাকি ক্রিকেটারদের। দু-তিনজনকে নিয়ে একটু অনিশ্চয়তা থাকলেও পুলের কোন খেলোয়াড় কোন দলে নাম লেখাচ্ছেন, তা মোটামুটি ঠিকই হয়ে আছে। কাল পর্যন্ত ক্লাব নিশ্চিত হয়নি একমাত্র সোহাগ গাজীর। এ ছাড়া ইমরুল কায়েস বা এনামুল হকের (বিজয়) মধ্যে একজনকেও ক্লাব পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে দলবদল শেষ হওয়া পর্যন্ত।ক্রিকেট খেলায় ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পুলে রাখা হয়নি সাকিব আল হাসানকে। যদিও শোনা যাচ্ছে, বোর্ডের আসন্ন সভায় তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাকিবের দলবদলের প্রক্রিয়াটা কীভাবে হবে, সেটাও তখনই জানা যাবে। তবে তাঁর খেলার সম্ভাবনা গাজী ট্যাংকেই (লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ) বেশি।‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ পদ্ধতিতে খেলোয়াড়দের ক্লাবের সঙ্গে দরদামের সুযোগ ছিল না। একজন খেলোয়াড়ের মূল্য সর্বোচ্চ কত হবে, সেটা বেঁধে দিয়েছিল বিসিবি। ২৫ লাখ টাকার ওপরে পাননি কোনো ক্রিকেটারই। সেই টাকাও আবার ক্লাবগুলো দিয়েছিল কে কয়টা ম্যাচ খেলেছে সেটা হিসাব করে। পুলের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ম্যাচ ধরে ধরে টাকা দেওয়ার নিয়মটা এবারও চালু থাকছে। তবে মূল্যসীমার নিয়ম উঠে যাওয়ায় ক্রিকেটারেরা যে যাঁর মতো টাকা দাবি করতে পারছেন। যত দূর জানা গেছে, এবারের দলবদলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম উঠেছে মুশফিকুর রহিমের। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব থেকে জাতীয় দলের অধিনায়ক নাকি ৫০ লাখ টাকায় চলে যাচ্ছেন প্রাইম দোলেশ্বরে।

গতবারের তিন নম্বর দল প্রাইম দোলেশ্বর মুশফিকের সঙ্গে নিচ্ছে মুমিনুল হক আর শফিউল ইসলামকেও। গতবারের চ্যাম্পিয়ন গাজী ট্যাংক নিচ্ছে তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন আর সাব্বির আহমেদকে। আবাহনী আল-আমিন আর জিয়াউর রহমানকে নিশ্চিত করলেও পুলের তৃতীয় ক্রিকেটারের ব্যাপারে কাল পর্যন্তও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল। তবে তা ইমরুল কায়েস অথবা এনামুল হকের (বিজয়) মধ্যে কেউ একজন হবেন বলেই নিশ্চিত করেছে ক্লাব সূত্র।

নাঈম ইসলাম ও মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে মোহামেডান গতবারের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও ধরে রাখতে চায় বলে খবর। যদিও মাশরাফির দিকে দৃষ্টি আছে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিরও। কলাবাগানের এ ক্লাবটি কাল পর্যন্ত নাসির হোসেন আর আরাফাত সানিকে নিশ্চিত করলেও পুলের খেলোয়াড়দের তৃতীয় জায়গাটি খালি রেখেছে। তবে কলাবাগানের আরেক দল কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মার্শাল আইয়ুব, শামসুর রহমান ও রবিউল ইসলামকে নিশ্চিত করে ফেলেছে। এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংক নিয়েছে মাহমুদউল্লাহ, ফরহাদ রেজা ও তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদকে। আর গতবারের রানার্সআপ শেখ জামাল এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেছে শুধুই আবদুর রাজ্জাককে।

গতবার বঞ্চিত হওয়ার কারণেই কি না এবার ​তারকা ক্রিকেটাররা চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন। জাতীয় দলের মধ্যম সারির ক্রিকেটারদের দাবির অঙ্কও ছুঁয়ে ফেলছে ৩০-৩৫ লাখ টাকা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments