সিলেটে ৪র্থ শ্রেণির স্কুলছাত্র আবু সাঈদ অপহরণ ও খুনের ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ কনস্টেবল এবাদুল। আদালতে সে জবানবন্দিতে জানায়, মূলত টাকার জন্যই তাকে অপহরণ করি আমরা। পরে ধরা পড়ার ভয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।’
রোববার সিলেট মহানগর প্রথম আদালতে বিজ্ঞ বিচারক শাহেদুল করিমের কাছে খুনের দায় স্বীকার করেই জবানবন্দি দেয় পুলিশ কনস্টেবল এবাদুল। এসময় ঘটনার বর্ণনা করে সে।
সাঈদের বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল অপহরণকারী চক্র। দাবিকৃত টাকা না দেওয়া এবং অপহরণকারী চক্রকে চিনে ফেলায় শিশু সাীদকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এ ঘটনায় আটককৃত পুলিশের কনস্টেবল এবাদুলসহ ৩ জনকে আটকের পর তাদেও জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
এদিকে সাঈদ অপহরণ ও হত্যা ঘটনার মূল হোতা এবাদুলকে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাকি দুজনকে আটক করা হয়।
গত বুধবার স্কুল থেকে ফেরার পথে সিলেট নগরীর দর্জিবন্ধ বসুন্ধরা এলাকার ৭৪ নং বাসার বাসিন্দা মতিন মিয়ার ছেলে রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র সাঈদকে (৯) অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর সাঈদের বাবা ও মামার কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এরপর সাঈদের বাবা ও মামা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে জিডি দায়ের করেন।
সাঈদের মামা জয়নাল আবেদিন জানান, অপহরণকারীরা ৫ লাখ দাবি করলে আমরা এতো টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই বলে জানাই। পরে তারা ২ লাখ টাকা দিতে বলে। টাকা নিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার শরীফে যেতে বলা হয়। আমরা টাকা নিয়ে সেখানে গেলে ফোন করে আমাদেরকে বাইশটিলা এলাকায় যেতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর তারা ফোন করে বলে, আমরা কেন ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়েছি। অপহরণকারীরা সাঈদকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে ফোন রেখে দেয়।’
ঘটনার তদন্কত কর্মকর্তা সিলেট কতোয়ালি থানার এসআই ফয়াজ আহমদ বলেন, আমরা যে মোবাইল ফোন দিয়ে সাঈদের বাবা ও মামার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল, সেই মোবাইল ট্র্যাক করে এটি মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার কনস্টেবল এবাদুলের ফোন বলে জানতে পারি। গতকাল শনিবার তাকে কাজ আছে বলে থানায় ডেকে আনা হয়। সেখানে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদকালে সে প্রথমে ঘটনাটি অস্বীকার করে। পরে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং সাঈদকে হত্যার কথা জানায়।
পরে এবাদুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে নগরীর ঝেরঝেরি পাড়ার সবুজ ৩৭ নং বাসা থেকে সাঈদের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এবাদুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর কোর্ট পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে র্যাবের সোর্স গেদা মিয়াকে এবং বন্দরবাজার থেকে জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিবকে আটক করা হয়।’
সিআইডি, সিলেটের পরিদর্শক শামীমুর রহমান জানান, সাঈদের গলায় একটি রশি পেঁচানো ছিল। রশি পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ বলেন, এবাদুল, গেদা ও আব্দুর রকিব, এ তিনজনই অপহরণ ও হত্যাকান্ডের হোতা। তারা সব স্বীকারও করেছে।’

