সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন কার্ড না পাওয়ায় স্নাতক (পাস) প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় এ বছর অংশ নিতে পারবেন না। পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, জন্মতারিখ নিয়ে জটিলতা থাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হবে। কলেজ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইনে সংরক্ষিত জন্মতারিখ ও সনদপত্রে থাকা তারিখের মধ্যে গরমিল রয়েছে। এ কারণে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হয়নি। তাই কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রবেশপত্র দেওয়া যাবে না।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, রেজিস্ট্রেশন কার্ড না আসার বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মাসখানেক আগেই যোগাযোগ করেন। তখন এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু পরে পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে গেলে তাঁদের দেওয়া হয়নি। কলেজ থেকে বলা হয়েছে, পরীক্ষা দিতে হলে আবার নতুন করে অন্য কোনো কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে হবে। নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁরা আর পরীক্ষা দিতে পারবেন না।
শিক্ষার্থী দীপা রানী দে বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি, কোনো সমস্যা হয়নি। এখন কেন হচ্ছে সেটিও নিশ্চিত করে কলেজ থেকে বলা হচ্ছে না। আমাদের শিক্ষাজীবনটাই ধ্বংস হয়ে গেল।’
প্রবেশপত্র না পাওয়া অন্য ছয় শিক্ষার্থী হলেন রেশমা বেগম, ফাতেমা আক্তার, নুশরাত জাহান, আকলিমা বেগম, আকলিমা আক্তার ও তাসলিমা আক্তার।
কলেজের অধ্যক্ষ পরাগ কান্তি দেব জানান, জন্মতারিখে গরমিল থাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওই শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হয়নি। তাই তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো অবহেলা নেই। আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেয়নি। আমার ধারণা, নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের সময় স্কুল অথবা শিক্ষা বোর্ডে এই ভুলটি হয়েছে। বিষয়টি ধরা পড়েছে এখন।’




