Homeশীর্ষ সংবাদদিনে দুপুরে বাসায় ঢুকে ব্লগার নিলয় হত্যা

দিনে দুপুরে বাসায় ঢুকে ব্লগার নিলয় হত্যা

3a771c6b489b19b5788314df902f8082_mediamসিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ প্রকাশ্যে রাস্তায় খুন হওয়ার পর তিন মাস না পেরোতেই ঢাকায় আরেক ব্লগারকে বাসায় ঢুকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে, যিনি গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন।

শুক্রবার ছুটির দিনের শান্ত দুপুরে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই উত্তর গোরান টেম্পোস্ট্যান্ডের কাছে একটি পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে খিলগাঁও থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান জানান।

নিহত নিলয় চক্রবর্তী নীল গত দুই বছর ধরে ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন; তিনি কাজ করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়।

সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই ব্লগার ইস্টিশন ব্লগে লিখতেন নিলয় নীল নামে। গত কিছুদিন ধরে হুমকি পেয়ে আসছিলেন বলে ফেইসবুক থেকে নিজের সব ছবি সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি ঠিকানার জায়গায় বাংলাদেশের বদলে লিখেছিলেন ভারতের কলকাতার নাম।

ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দুপুরে জুমার নামাজের পরপর দুই দফায় চার-পাঁচজন লোক বাসা দেখতে আসার কথা বলে ওই বাসায় ঢোকে। তারা নিলয়কে জবাই করে চলে যায়।”

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “নিলয়ের গলা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপের চিহ্ন রয়েছে। এর আগে অন্য ব্লগারদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, এক্ষেত্রেও হত্যাকাণ্ডের ধরণ একই রকম।”

এ ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে কৃষ্ণপদ বলেন, “জুমার নামাজের সময় যখন আশেপাশের বাসার পুরুষরা নামাজে গেছেন, সেই সময়টিকেই তারা বেছে নিয়েছে।”

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নিলয় মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ব্লগে নিয়মিত লিখতেন।

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, এস এম শাহীনসহ গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে নিলয়ের বাসায় ছুটে আসেন।

তাদের মধ্যে শাম্মী হক নামে একজন একের পর এক ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট খুনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই বলে ওঠেন, “আপনারা অভিজিতের হত্যাকারীদের ধরতে পারেননি। এটাও পারবেন না।”

চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে বই মেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জঙ্গি কায়দায় হামলায় খুন হন মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়। এরপর ৩০ এপ্রিল সকালে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় নিজের বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় খুন হন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু।

তার এক মাসের মাথায় সিলেটে বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসে যাওয়ার পথে একই ধরনের হামলায় খুন হন আরেক মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। তিনিও গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও গলার ওপরের অংশ, মুখ ও মাথা ছিল হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু।

এর আগে সবগুলো ঘটনাতেই রাস্তায় হামলা হলেও ব্লগার নিলয়কে হত্যা করা হল তার বাসায় ঢুকে। তাকে যে মাঝেমধ্যেই অনুসরণ করা হচ্ছিল, তা তিনি ফেইসবুকে এক পোস্টে লিখেছিলেন গত ১৫ মে।

ওই পোস্টে নিলয় লেখেন, “আমাকে দুজন মানুষ অনুসরণ করেছে গত পরশু। ‘অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার’ প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগদান শেষে আমার গন্তব্যে আসার পথে এই অনুসরণটা করা হয়।”

ওই ঘটনায় জিডি করতে গেলেও থানা তা নেয়নি বলে ওই পোস্টে লিখেছিলেন তিনি।

“অনেকগুলো থানা অতিক্রম করার জন্য গতকাল ঘটনাস্থলের আওতায় থাকা একটি থানায় গেলে তারা জিডি নিল না, তারা বললো আমাদের থানার অধীনে না, এটা অমুক থানার অধীনে পড়েছে ওখানে যেয়ে যোগাযোগ করুন, আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ছেড়ে চলে যান।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments