By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
বাসিয়াবাসিয়াবাসিয়া
  • সর্বশেষ
  • স্থানীয় সংবাদ
    • সিলেট
    • সুনামগঞ্জ
    • মৌলভীবাজার
    • হবিগঞ্জ
  • সারাদেশ
  • খেলাধুলা
  • প্রযুক্তি
  • ভিডিও
  • অনান্য
    • শিল্প ও সাহিত্য
    • বিনোদন
    • ছবি গ্যালারি
    • স্বাস্থ্যবিধি
    • জীবন যাপন
    • বই পত্র
    • ব্যক্তিত্ব
    • লেখালেখি
    • শিক্ষা
    • সফল ব্যক্তিত্ব
    • সংগঠন সংবাদ
  • বাসিয়া পরিবার
  • বিশ্ব
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • এশিয়া
    • মধ্যপাচ্য
Reading: বাসিয়ার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তরুণ কবি এম মোসাইদ খান ‘আলোয় আলোয় উজ্জ্বল যৌবনা নগরীর কোলে ফেরারী আমি।’ শুধু মা, মানুষ আর মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা আমার নিত্যসঙ্গী
Share
Notification Show More
Font ResizerAa
বাসিয়াবাসিয়া
Font ResizerAa
  • সর্বশেষ
  • স্থানীয় সংবাদ
    • সিলেট
    • সুনামগঞ্জ
    • মৌলভীবাজার
    • হবিগঞ্জ
  • সারাদেশ
  • খেলাধুলা
  • প্রযুক্তি
  • ভিডিও
  • অনান্য
    • শিল্প ও সাহিত্য
    • বিনোদন
    • ছবি গ্যালারি
    • স্বাস্থ্যবিধি
    • জীবন যাপন
    • বই পত্র
    • ব্যক্তিত্ব
    • লেখালেখি
    • শিক্ষা
    • সফল ব্যক্তিত্ব
    • সংগঠন সংবাদ
  • বাসিয়া পরিবার
  • বিশ্ব
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • এশিয়া
    • মধ্যপাচ্য
Have an existing account? Sign In
Follow US
  • Advertise
© 2022 Foxiz News Network. Ruby Design Company. All Rights Reserved.
- Advertisement -
বিশ্বলেখালেখিসর্বশেষ

বাসিয়ার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তরুণ কবি এম মোসাইদ খান ‘আলোয় আলোয় উজ্জ্বল যৌবনা নগরীর কোলে ফেরারী আমি।’ শুধু মা, মানুষ আর মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা আমার নিত্যসঙ্গী

Last updated: December 22, 2015 5:31 pm
11 years ago
15 Min Read
SHARE

0001তৃতীয় বাংলা খ্যাত বিলেতের সাহিত্যঙ্গনে অতি সুপরিচিত মুখ তরুণ কবি এম মোসাইদ খান।
এম মোসাইদ খান সিলেট জেলার দণি সুরমা উপজেলার অন্তর্গত লালাবাজার ইউনিয়নের লালারগাঁও গ্রামে ১৯৭৭ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ মদরিছ খান, মাতার নাম নুরজাহান বেগম। এম মোসাইদ খানসহ তিন ভাই ও তিন বোন।
২০০৩ সাল থেকে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এম মোসাইদ খান ছাত্র জীবন থেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত, গান দিয়ে লেখালেখির শুরু হলেও বর্তমানে কবিতার পাশাপাশি লিখছেন নাটক ও ছড়া। দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা, সাহিত্যের ছোট কাগজ ও আমাদের বাংলা ব্লগসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। শব্দের বেনুনে স্বপ্ন বুনে যাওয়া কবি এম মোসাইদ খানের ছড়াগ্রন্থ তিনটি- তালপাতার ঘোড়া, ভুলের ঘণ্টা, কদম আলী লন্ডন ব্রীজ। গীতিকাব্য- মিনতি। কাব্যগ্রন্থ দুইটি- আয়না বিভ্রম এবং হাড়ের মিছিল। লন্ডনের একমাত্র বাংলা রেডিও চ্যানেল বেতার বাংলা তার রচনা, শব্দগ্রহণ, সম্পাদনায় ও পরিচালনায় প্রচারিত বেতার নাটক ছয়টি, যথা- কর্মফল, ফুলপরির ভালোবাস্,া ইলেকশন, মায়ার পুতুল, মজর আলীর লন্ডন সফর এবং বাউলিয়ানা। এছাড়াও শব্দগ্রহণ ও সম্পাদনা করেছেন বেতার নাটক গোলাপজান (১) ও গোলাপজান (২)
চ্যানেল এস টিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় নাটক অসহায় এর সংলাপ এম মোসাইদ খানেরই রচিত। সম্পাদনা করেছেন ম্যাগাজিন প্রবাহ।
টেমস নদীর পার থেকে মা, মানুষ আর মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার চিত্র কলমের আঁছড়ে নান্দনিক শব্দ চয়ন আর চমৎকার উপমায় ফুটিয়ে তুলেন কবিতায়। কোন প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়া সহজ সরলভাবে সামাজের সঙ্গতি-অঙ্গতি তুলে ধরেন ছড়ার ছন্দে।
অসহায় দরিদ্র মানুষের জীবন যাপন ব্যথিত করে তার কবি মনকে তাইতো তার কলম থেকে বেরিয়ে আসে, ‘মারবেলের বারান্দায়/ কফির কাপে ধোঁয়ার ঝড় তুলে/ তৃপ্ত চুমুকে ভাবো/ বাড়িটা যদি হতো আরেকটু বড়ো/ সারা শহর জুড়ে কিংবা তার চেয়ে আরও বেশি/ ডিজাইনটা যদি আরও একটু হতো আধুনিক/ মসলিন সুতার কিংবা বাতাসের দেয়াল/ নীল চাদুয়ার নিচে সংখ্যাহীন ঘুমন্ত মানুষের সারি/
ভারী কাঁচের চশমায় পড়ে না ধরা/ ভুতা অনুভতিতে আঘাত করে না/ বিবস্র হাড়ের শরীর
সুখের কোলে মাথা রেখে দুঃখ পোষো বুকে/ আহা আরও একটু যদি…।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
কিশোর বেলার স্মৃতি যখন তাকে তাড়া করে ফিরে তখন লিখেন, ‘স্মৃতি বোঝাই মনের সাম্পান/ ভেসে চলে সুরমার স্বচ্ছ জলে পদচিহ্ন কুড়ায়/ কালিঘাট, বন্দর বাজার, আম্বরখানা, তেতইর তল।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
সমাজের অনাচার-অবিচার আর মানুষের মানবিক মুল্যবোধের অবয় তাকে ভাবিয়ে তুলে আর তাইতো বলেন, ‘মস্তিস্কের ভিতরে ভিতরে/ মানুষ আর কুকুরের প্রভু ভক্তির তুমুল দর কষাকষি/ দন্দ্বের ভেড়া জালে আধার ঘনায় আরও/ দীর্ঘশ্বাসে খসে পড়া শব্দ কত দুর আর কত দূর প্রভাত ফেরি।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
‘মানুষকে মানুষ ভেবে ভুল করি/চোখের পাতায় অমানুষের ছায়া হিমেল হাওয়ার ঝাপটার মতো চমকে উঠি/ পাহাড় গড়িয়ে চলে বিশ্বাসী চাঁদ।’ (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
মাতৃভুমির টান তাকে কতোটা বিচলিত করে তুলে সেটা আমরা তার কবিতায় দেখতে পাই।- ‘ভোগ বিলাসের কানায় কানায় পূর্ন লন্ডন নগরী/ সু-সভ্যতার ঘ্রানমাখা আলোয় আলোয় উজ্জল যৌবনা নগরীর কোলে ফেরারী আমি।’ (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
‘নিশব্দ ছায়াহীন রাত/ র্নিঘুম দৃষ্টির পাতায় ভেসে উঠে আতুড় ঘর, টিনের চালে বৃষ্টির মতো বিরহের খই ফুটে হৃদয় গহনে।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
একটি সুশিতি ও সুশৃংখল শান্তিময় সমাজের স্বপ্ন দেখেন তার কবিতার ভাষায়, ‘শান্ত হও, শান্ত হও মাটির মানুষ/ আলোয় আলোয় ভরে উঠুক পৃথিবী আমার।/ বৃষ্টির বর মাগি তপ্ত হৃদয়ে আজো/ বৃরে পাশাপাশি বেড়ে উঠা আমি…।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
‘স্যাতস্যাতে ভিজা ঘরে / এক মুঠো রৌদ্র খুজি/ ফসলি মাটির বুক খুলে অঙ্কুরিত বৃরে বেড়ে উঠায়।’ (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
কখনওবা প্রেমের দোলায় দুলে প্রেমিকের ভুমিকার দাঁড়িয়ে ব্যক্ত করেন, ‘শূন্য কলসীর মতো শূন্য হৃদয়ে/ মাছরাঙ্গা চোখ গুঁজে রাখি পথের বাঁকে/ যদি তুমি ফিরে আসো অচেনা পথে।/ দিনের আলো ফুরায়, ফুরায় না পলক/ দিনান্তে থেকে যায় কষ্টের প্রহর, মেঘাবৃত সুর্যের আলো দৃষ্টির পাতা পোড়ে/ আমি পুড়ি তোমার প্রতিায়।’ (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
‘সঞ্চিত চাদের স্নেহ প্রেমের পরাগে দুলে উঠে আতœার/আনন্দ ডেউ তুলে অনন্ত সাগর জলে, উড়াউড়ি করে গাঙচিল মন, বুকের বন্দরে নোঙর করে লাল নীল প্রজাপতি।’ (কাব্য গ্রন্থ’ আয়না বিভ্রম)
কবি এম মোসাইদ খানের সাথে বাসিয়া পত্রিকার অন্তরঙ্গ আলাপে বেরিয়ে আসবে কবির আত্মস্ত ভাবনাগুলো। আমরা পাঠকের জন্য কবির সাথে কিছু প্রশ্ন নিয়ে আলাপ করি।
বাসিয়া: আপনার কাছে প্রথমেই জানতে চাই এই কর্মব্যস্ত প্রবাস জীবনে লেখালেখির সময়টা কিভাবে বের কররেন?
মোসাইদ খান: ঘুমের কাছ থেকে সময় চুরি করে লিখি, অর্থাৎ রাতে যখন ঘুমে থাকার কথা তখন না ঘুমিয়ে কিছুটা সময় লেখালেখির পিছনে ব্যয় করি।
বাসিয়া: কবিতা লেখার েেত্র কোন বিষয়টা আপনাকে প্রেরণা যোগায়?
মোসাইদ খান: মানুষকে নিয়ে ভাবতে আমার ভালো লাগে। আমি যা ভাবি এবং আমাকে যা ভাবায় তাই আমি আমার লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। পাঠকের আলোচনা-সমালোচনা, পাঠকের ভালো লাগা-ভালোবাসা, আমাকে আরও লিখতে উৎসাহ দেয়।
বাসিয়া: আপনিতো গান, ছড়া নাটক কবিতা লিখছেন, কোনটি লিখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন?
মোসাইদ খান: আগে এক সময় গান লেখতাম এখন আর লিখছি না তবে যে সময় যেটা লিখি সেটাই ভালো লাগে। বতর্মানে কবিতাতেই ডুবে থাকতে বেশি ভালো লাগে।
বাসিয়া: কবিতায় ছন্দের বিষয়ে একটু বলুল কবিতা চর্চায় ছন্দ জানাটা কতটা জরুরী?
মোসাইদ খান: কবিতায় এক প্রকার ছন্দ থাকতেই হয়, এখন সেটা পদ্যছন্দ হোক কিংবা গদ্য ছন্দ হোক। ছন্দের একটা ন্যূনতম দোলা কবিতায় না থাকলে কবিতা পড়তে যেমন ভাল লাগবে না তেমনই শুনতেও ভালো লাগবে না। ছন্দবদ্বƒ কবিতা বলতে আমরা যেগুলো বুঝি আজকাল সেগুলোর চর্চা অনেকটা কমে গেছে কারণ এই ধরনের কবিতা লিখতে হলে স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, অরবৃত্ত ছন্দ সমন্বেƒ ভালো জ্ঞান থাকতে হয় এবং এ গুলো জানার জন্য একটু সময় ব্যয় ও পরিশ্রম করতে হয়, তাই আজকাল বেশির ভাগ কবিই গদ্যধারায় কবিতা লিখতে সাচ্ছন্বƒ বোধ করেন।
বাসিয়া: বতর্মান সময়ে কবিতার দুবোর্ধ্যতার কারনে পাঠক কবিতা বিমুখ হয়ে পড়ছেন এ বিষযে আপনার মাতামত কি?
মোসাইদ খান: উত্তর আধুনিক কবিতায় কিছুটা দুর্বোধ্যতা এসেছে সেটা সত্য কবিতায় গভীরতা থাকবে সেটা স্বাভাবিক কিন্তু আমি মনে করি এতোটা দুবোর্ধ্য হওয়া উচিৎ নয় যেখানে পাঠক কবিতার পাঠ উম্মোচনে ব্যর্থ হয়।
বাসিয়া: ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অনেকেই কবিতা লিখেন, মাঝে মাঝে আপনারও কবিতা ফেইসবুকে পড়ি। সাহিত্য চর্চায় ফেইসবুক কতটা ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?
মোসাইদ খান: ফেইছবুকে সাহিত্য চর্চা এটা সাহিত্যের জন্য অবশ্যই একটা সুখবর। কম বেশি সবাই কবিতা লেখার চেষ্টা করছে এবং কবিতা পড়ছে এটাও আনন্দের বিষয়। এখানে অনেকেই ভালো লেখেন এবং অনেক সুনামধন্য কবিদের কবিতা ফেইসবুকের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি পাঠকের কাছে পৌছে যাচ্ছে এটাও একটা ভালো দিক।
বাসিয়া: আপনি কোন কোন ব্লগে লিখেন?
মোসাইদ খান: আমি আমাদের বাংলা ব্লগে কবিতাই লিখি, আমাদের বাংলা ব্লগটির প্রতিষ্ঠাতা লন্ডনেরই আমার অগ্রজ কবি ফারুক আহমেদ রনি ভাই এবং এই ব্লগটি লন্ডনেরই কয়েকজন কবি পরিচালনা করেন। আমি এখানে একটা কথা বলি অনেকেই ব্লগার সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন, মনে করেন সকল ব্লগার হয় নাস্তিক। ব্লগার মানে ব্লগ লেখক। যিনি ব্লগে লিখেন, অনেক ব্লগার আছেন যারা ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চমৎকার লেখা লিখে থাকেন। আমাদের বাংলা ব্লগে প্রায় হাজারের উপরে ব্লগার আছেন আমি কখনও কাউকে ধর্মের বিরুদ্বেƒ কোন লেখা লিখতে দেখিনি।
বাসিয়া: অপনার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বিষয়টি কি?
মোসাইদ খান: মুখোশদারী মানুষ।

বাসিয়া: এটা আমি আপনার অনেক কবিতায় দেখেছি যেমন একটি কবিতায় আপনি বলেছেন, বিভৎস প্রাণের কোষে কোষে/ বাদুরের মতো ঝুলে থাকা আয়ু/ অজস্র রক্তাভ চোখ গাঁথা ভ্রষ্ট দেয়ালে/ মুখোশ মুখের মিছিল আর মিছিল। (কাব্য গ্রন্থ’ হাড়ের মিছিল)
মোসাইদ খান: আমি যখন দেখি আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য মুখোশদারী মানুষ এবং তাদের দ্বারা আমরা প্রতারিত হচ্ছি প্রতিনিয়ত তখন সেটা আমাকে খুব পীড়া দেয়।
বাসিয়া: আপনাকে কোন বিষয়টি আনন্দ দেয়?
মোসাইদ খান: অনেক কিছুই আনন্দ দেয়, তবে একটা ভালো কবিতা লেখার আনন্দটা অন্য রকম।
বাসিয়া: আপনি নতুন একটা কবিতা লেখার পর এমন কেউ কি আছেন যে যাকে আপনি প্রথমে কবিতাটা পড়তে দেন অথবা নিজে পাঠ করে শুনান?
মোসাইদ খান: নতুন কবিতা লেখার পর সেটা সব সময় সেটা হয় না তবে মাঝে মধ্য আমার স্ত্রীকে পড়ে শুনাই অথবা মেয়েরা যখন জানতে চায় কি লিখছি তখন তাদের ছড়া পড়ে শুনাই, যদিও তারা পুরোপুরি বাংলা বুঝে না তবুও তারা মনযোগ দিয়ে শুনে। এছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায় কবিতা পাঠকরি।
বাসিয়া: বর্তমান সময়ে এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে কেউ কেউ বলেন ইন্টারনেটের সহায়তায় বিভিন্ন ইলেক্টনিক মাধ্যমে যেখানে কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়া যায় সেখানে বই প্রকাশ করা অনেকটা পুরানো হয়ে গেছে।
আপনি কি মনে করনে বইয়ের জায়গা অন্য কিছু দখল করতে পারবে?
মোসাইদ খান: খুবই চমৎকার একটা প্রশ্ন করেছেন, গল্প, উপন্যাস কিংবা কবিতার বই পড়ে যতোটা তৃপ্তি পাই ডেস্টটপ কম্পিউটার, লেপ্টপ কিংবা আইপ্যাড, ট্যাবলয়েট কিংবা আনড্রয়েট মোবাইলে এসব পড়ে আমি ততোটা তৃপ্তি পাই না। নতুন বইয়ের গন্বƒটাইতো অন্যরকম যেটা আর অন্যকিছুতে পাওয়া যায় না। আর বইয়ের আলাদা একটা সৌন্দর্য্য আছে যা তাকে অন্য কিছু থেকে বিশিষ্ট ও সতন্ত্র করে দেয়,
ইচ্ছে করলে বই আমি কাউকে উপহার দিতে পারি, আমার সংগ্রহে রাখতে পারি। যেহেতু বই শিার প্রধান মাধ্যম তাই আমি মনে করি বইয়ের জায়গা অন্য কিছু দখল করতে পারবে না।
বাসিয়া: কদম আলী লন্ডন ব্রীজ ছড়াগ্রন্থ পড়ে মনে হলো সেটা গল্প বা উপন্যাস হতে পারতো ছড়ায় নিয়ে আসার ভাবনাটা আপনার কিভাবে এলো?
মোসাইদ খান: যারা ইংল্যান্ডে বসবাস করেন কদম আলী চরিত্রটি তাদের সবার কাছে পরিচিত। অসংখ্য কদম আলী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিলেতে, প্রথমে ভেবেছিলাম এটা নিয়ে একটা নাটক লিখব তারপর ভাবলাম নাটক না লিখে ধারাবাহিক ভাবে ছড়ার আকারে গল্পটি বনর্ণা করব এই ভাবনা থেকেই কদম আলী লন্ডন ব্রীজ ছড়াগ্রন্থটি লেখা।
বাসিয়া: ‘আয়না বিভ্রম’ কাব্যগ্রন্থে অনেক অসাধরণ কবিতা রয়েছে, কবিতায় চমৎকার ভাবে বলেছেন
‘‘পরম মমতায় বুকের রুমালে ভাঁজ করে রাখি/ এক খন্ড মানচিত্র/ একটি নাম বাংলাদেশ’’
মোসাইদ খান: কাছের মানুষ যতণ কাছে থাকে ততণ ততটা আপন মনে হয় না যখন সে চোখের আড়াল হয় তখনই তার শূন্যতাটুকু বুঝা যায়। দেশের বাইরে না এলে হয়তো বুঝতে পারতাম না দেশকে কতটা ভালাবাসি, মা, মাটির টান, শিকড়ের ডাক সব সময়ই অনুভুত হয়।
বাসিয়া: আপনার ‘হাড়ের মিছিলি’ কাব্যগ্রন্থে অনেক ভালো লাগার কবিতা রয়েছে। গ্রন্থের নামও চমৎকার এখানে বিষন্ন ঋতু কবিতার প্রথম অংশ তুলে ধরছি,- ‘‘যে দিকে চোখ ফেলি ধোঁয়ার গোলক/ তুমিহীন গাঢ় অন্বƒকার সুর্যস্নাত দিন/ বোধের শরীরে ফোসকা উঠে/ এলোমেলো ভাবনায়/ কষ্টের স্রোতে ভেসে যাই, ভেসে যাই তুমিহীন’’ এখানে আপনি কাকে ইংগিত করেছেন?
মোসাইদ খান: এই কবিতাটির বিষয় হচ্ছে মা, মা ছাড়াতো সমস্ত পৃথিবীটাই অন্বƒকার। মা এই এক অরের একটি শব্দের মতো এতো ওজনদার এবং মিষ্টি শব্দ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই, সেইতো সবচেয়ে বেশি সুখি যার মা পাশে আছে, আমার অনেক গুলো কবিতা জুড়ে আছেন মা।
বাসিয়া: বিলেতে অনেক সুনামধন্য কবি রয়েছেন তাদের মধ্য আপনার প্রিয় কবি কে?
মোসাইদ খান: বিলেতে আমার অনেক প্রিয় কবি আছেন, অনেকের কবিতাই আমার কাছে ভালা লাগে প্রিয় কয়েক জন কবির নাম বলতে হলে কবি আতাউর রহমান মিলাদের নামটি প্রথমে চলে আসে।
বাসিয়া: লন্ডনের বেতার বাংলা রেডিওতে আপনার রচনা ও সম্পাদনায় বেশ কয়েকটি নাটক প্রচারিত হয়েছে এ বিষয়ে আপনার কাছ থেকে কিছু জানতে চাই?
মোসাইদ খান: শ্রোতা ফোরামের কিছু সদস্য এবং বেতার বাংলার উপস্থাপক ও উপস্থাপিকাদের নিয়ে আমি কয়েকটি নাটক করেছি। বেতার বাংলায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক আমিই প্রথম করেছি এবং নাটকগুলি শ্রোতাদের কাছে প্রসংশিত হয়েছে।
বাসিয়া: এখন নতুন কোন বেতার নাটকের কাজ করছেন কি না?
মোসাইদ খান: একটা নাটক লেখা এবং রেকডিং, এডিটিং করতে অনেকটা সময়ের প্রয়োজন, একা এই কাজগুলো করার মতো সময় আমার হাতে নেই, তাই এখন আর নাটক করছি না।
বাসিয়া: অনেক দিন থেকে আপনি সংহতি সাহিত্য পরিষদের সাথে যুক্ত আছেন আপনাদের কার্যক্রম সর্ম্পকে একটু বলুন?
মোসাইদ খান: সংহতি সাহিত্য পরিষদ সর্ম্পকে বলতে গেলে অনেকটা সময় লেগে যাবে কারণ এর কার্যক্রম অনেক। কবিতা উৎসব সর্ম্পকে একটু বলি সংহতি সাহিত্য পরিষদ প্রতি বছর কবিতা উৎসবের আয়োজন করে থাকে এবং সেই কবিতা উৎসবে বাংলাদেশ থেকে কবি সাহিত্যিক আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে যোগ দেন এছাড়াও আমেরিকা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কবি সাহিত্যিকরা এসে যোগ দেন। উক্ত অনুষ্টানে কবিতা নৃত্য, কবিতা আবৃতি, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা থাকে। সংহতি সাহিত্য পদক প্রদান করা হয়। কবিতা উৎসককে কেন্দ্র করে সাহিত্য প্রেমিদের ঢল নামে, সারাদিন ব্যপি অনুষ্টান চলে।
বাসিয়া: আপনার গল্প বা উপন্যাস লেখার ইচ্ছে আছে কি না?
মোসাইদ খান: এই মুহুর্তে গল্প বা উপন্যাস লেখার কথা ভাবছি না তবে আগামীতে লিখতে পারি, সময়ই সেটা বলে দেবে।
বাসিয়া: আগামী একুশে বই মেলায় আপনার কোন বই প্রকাশ হচ্ছে কি না?
মোসাইদ খান: আগামী বই মেলায় ‘জলের পেরেক’ শিরোনামে আমার একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের অপোয় এবং ‘স্বজনপংক্তি’ শিরোনামে একটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হবে।
বাসিয়া: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার এই মূল্যবান সময়টুকু আমাকে দেওয়ার জন্য, আপনার সাহিত্য চর্চা অব্যাহত থাকুক। দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা থাকলো।
মোসাইদ খান: আপনাকের অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা। আপনার প্রত্রিকার সকল পাঠককেও অনেক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।

You Might Also Like

অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য খুললো সৌদির ভিসা
পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার ৬৮০ জন খুন
সোমবার ২০ দল হরতাল ডেকেছে
রাজন হত্যায় অভিযুক্ত কামরুলের উপস্থিতিতে আবার সাক্ষ্য দেবে সাক্ষীরা
সহকারিসহ সিলেট জেলা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের অপসারণ দাবি, মানববন্ধন
Previous Article আত্মঘাতী সংঘাত যেন আর না হয়: বিজিবিকে প্রধানমন্ত্রী
Next Article পাঠ্যপুস্তক উৎসব শুক্রবারই
Leave a Comment

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You Might Also Like

পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

5 years ago

সম্পদ হারানোর সম্ভবনা আছে মেধা ও জ্ঞান হারানোর সম্ভবনা নেই নাসরিন জাহান ফাতেমা

9 years ago

সিলেটের আদালতে লাগছে প্রযুক্তির ছোঁয়া

11 years ago

বিএনপি-জামায়াতের সহযোগিতায় ২১ আগস্ট হামলা: প্রধানমন্ত্রী

5 years ago
about us

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ নওয়াব আলী
প্রধান উপদেষ্টা: আব্দুল বারী
প্রধান সম্পাদক : মতিয়ার চৌধুরী
শিল্প নির্দেশক: সুভাস চন্দ্র নাথ
সামসুদ্দীন হাউস, স্টেশন রোড, সিলেট। ফোন: ০১৭১১৪৮৪৬৬৮ ইমেইল : bashia71@gmail.com

Find Us on Socials

© Bashia24.com. All Rights Reserved.
Welcome Back!

Sign in to your account

Username or Email Address
Password

Lost your password?