Homeবই পত্রকেউ দিচ্ছে না বাসা ভাড়া, তাহলে যাবে কোথায় ব্যাচেলররা?

কেউ দিচ্ছে না বাসা ভাড়া, তাহলে যাবে কোথায় ব্যাচেলররা?

ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন অনেক বাড়ির মালিক। কেউ কেউ ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের বাসা ছেড়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিতে বাড়িওয়ালারা যেমন ভয় পাচ্ছেন তেমনি যারা ব্যাচেলর তারাও ভয়ে আছেন। কখন কোন সময় কার উপর কিভাবে বিপদ আসে তা বলা মুশকিল। রাজধানীতে বড় ধরনের দুটি জঙ্গি হামলার পর ব্যাচেলদের মধ্যে এ ভয় ঢুকেছে। মেসে যারা থাকেন সবার বাড়ি একই এলাকায় নয়। অপরিচিতদের সঙ্গে থেকে একে অপরের মুখ পরিচয়। সুযোগ হয়ে উঠে না মেসে কে ভালো, কে খারাপ।

রাজধানীতে বাড়িওয়ালারা আগে ব্যাচেলদের নাম-ঠিকানা কিংবা ভোটার আইর্ডি কাড না রাখলেও জঙ্গি হামলার ঘটনার পর তারা (বাড়িওয়ালারা) সতর্ক হয়েছেন। এখন প্রত্যেক বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের সব তথ্য রাখছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দেয়া নির্দিষ্ট ফরম ভাড়াটিয়াদের ছবি সহ পূরণ করে রাখছেন। থানায় তা জমা দিচ্ছেন। তারপরও অনেকে ব্যাচেলদের বাড়ি ভাড়া দেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। ইতোমধ্যেই কিছু বাড়ির মালিক ব্যাচেলদের ভাড়া দেওয়া বন্ধ করেছেন। অনেক ব্যাচেলদের বাড়ি ছাড়ারও নোটিশ দিয়েছেন।

মেস ম্যানেজরা আগে অপরিচিত ব্যাচেলদের মেস নিলেও এখন তা বন্ধ। পরিচিত ছাড়া মেস ম্যানেজার কাউকে নিচ্ছে না। তেমনি একজন মেস ম্যানেজার রকিব উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের মেসে এখন প্রায় ১৫ জন ব্যাচেলর রয়েছে। প্রত্যেকের ভোটার আইডি কার্ড, কোথায় কাজ করে, পরিবারের কেউ ঢাকায় থাকে কিনা সব তথ্য রেখেছি। দেশের পরিস্থিতি ভাল নয় আমরাও চিন্তিত। পরিচিত ছাড়া কাউকে মেসে নিচ্ছি না। মেসে যারা আছে তাদের সঙ্গে কোনো পরিচিত মানুষ মেসে আসছে কিনা সে সম্পর্কেও সতর্ক আছি।

তেমনি একজন ব্যাচেলর জয়ন্ত রায় ৩ বছর ধরে একটি বাড়িটিতে ভাড়া থাকেন। কখনো বাড়ির মালিকের সঙ্গে কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু আজ সকালে বাড়ির মালিক তাকে বলে গেছেন সম্ভব হলে আগামী ১ তারিখ থেকেই বাসা ছেড়ে দিতে। তা না হলে আগস্ট মাস শেষে অবশ্যই বাসা ছেড়ে দিতে হবে। কারণ জানতে চাইলে মালিক তাদের জানিয়েছেন পুলিশ ও মালিক সমিতির নির্দেশ আছে। আমি (মালিক) কোন ঝামেলায় পড়তে চাই না।

জয়ন্ত রায় বলেন, বাড়িওয়ালারা ব্যাচেলর কথা শুনলেই আতঙ্কের মধ্যে থাকে। জঙ্গি হামলার পর থেকে তারা ব্যাচেলদের বাসা ভাড়া দিতে চায় না। আমাদেরও অনেক সমস্যা রয়েছে তা অস্বীকার করার কিছু নেই। কিছুদিন আগে রাজনীতিতে যে ঘটনা ঘটেছে এর সঙ্গে ব্যাচেলর জড়িত তা ঠিক নয়। কিছু খারাপ ছেলে রয়েছে যারা বাড়ি ভাড়া নিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালায়। তবে এসব ঘটনা সব ব্যাচেলর করে তা নয়। একজন খারাপ ছেলের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মেসে অপারেশন চালালে খারাপের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে ভাল মানুষও মারা যাবে। কিছু বাড়িওয়ালা অনেক সচেতন ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিলেও তাদের ভোটার আইটি কার্ড, জন্মনিবন্ধন কিংবা ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন থাকলে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এমনকি বাড়ির মালিক দারোয়ানকে বলে দেয় ৫ জনকে ব্যাচেলর হিসেবে একটি ফ্লাট ভাড়া দিয়েছি। এই ৫ জনের বাইরে কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না।

তিনি বলেন, একজন ব্যাচেলর চাইলেই ব্যাচেলর শব্দটি দূর করতে পারবেন না। বাবা-মা লেখাপড়ার জন্য ঢাকা পাঠিয়েছেন তা শেষ না করে কিভাবে ব্যাচেলর শব্দটি দূর করবে। লেখাপড়া শেষে চাকরি এর পরে পরিবারের কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করেই অনেক ব্যাচেলর শব্দটি দূর করে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে রাজধানীতে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা দেখা গেছে। সেই বোমা হামলার সঙ্গেও কিছু ব্যাচেলর ছেলে জড়িত ছিল। এরপরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাচেলরদের মেসে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। যখন দেশের পরিস্থিতি শান্ত হল তখন ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। রাজধানী এবার পর পর দুটি জঙ্গি হামলার ঘটেছে এজন্য ব্যাচেলদের উপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। এই নেতিবাচক প্রভাব দূর হতে কিছুদিন সময় লাগবে। দু-একটা খারাপ ব্যাচেলর ছেলের কারণে তো পুরো ব্যাচেলর সমাজটি কলঙ্কিত হতে পারে না।66834

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments