Homeশীর্ষ সংবাদমেজর জিয়া ও তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

মেজর জিয়া ও তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

791261b760136d45b07e28407a73dab6সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক ও তামিম চৌধুরীকে গুলশান এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার মাস্টার মাইন্ড দাবি করে তাদের ধরিয়ে দিলে বা তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে ২০ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক।

দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তার দাবি, মেজর জিয়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা। আর তামিম চৌধুরী নিউ জেএমবি’র নেতা।

আইজিপি বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার তদন্ত করতে গিয়ে তারা অনেক তথ্য পেয়েছেন। শেওড়াপাড়া, কল্যাণপুর ও মিরপুর এলাকায় আরেকটি গ্রুপ হামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে-এ তথ্য পেয়েই তারা ওইসব এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে কল্যাণপুরে যখন এই আস্তানার খবর পাওয়া যায় তখন তাদেরকে আত্মসমর্পণ করা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটা গ্রহণ না করে যুদ্ধ করে পুলিশকে হত্যা করার ঘোষণা দেয়। এরপর পুলিশ সেখানে সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত, একজন গ্রেফতার এবং একজন পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক (মূল) জেএমবি গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলায় জড়িত ছিল না। মেজর জিয়া ও তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে জেএমবির একটি নতুন ভার্সন এই হামলা চালিয়েছে। তারাই এই হামলার মাস্টার মাইন্ড। এ হামলাগুলো ওই দুজনের নির্দেশনায় হয়েছে।’

মেজর জিয়া ও তামিম চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, আইজিপি বলেন, ‘তারা দুজন কোথায় আছেন সে বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। সেজন্যই তাদের তথ্য পেতে জনগণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের বিষয়ে তথ্য দিলে বা ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ লাখ করে মোট ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্যদাতার পরিচয়ও গোপন রাখা হবে।’

জঙ্গি হামলার সঙ্গে হিজবুত তাহরীর-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নাশকতার সঙ্গে হিজবুত তাহরীরের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে জামায়াত শিবিরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।’

মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ড. জাবের পাটোয়ারীসহ শীর্ষ নেতারা।

প্রসঙ্গত, মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানের প্ররোচনা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক আছেন। তাকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

সূত্র জানায়, মেজর জিয়া আগে থেকেই উগ্রগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুফতি জসীমুদ্দিন রাহমানী গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ধরা পড়ার আগে তিনি একাধিকবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, জিয়া এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সামরিক শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি ব্লগার হত্যা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা এত বেশি নিখুঁতভাবে হয় যে ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন নেতৃত্ব আসার পর আনসারুল্লাহ ‘আনসার আল ইসলাম’ নাম ধারণ করেছে।

এফ/২২:০০/০২আগষ্ট

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments