খালেদার কৌশল নিয়ে অন্ধকারে স্থায়ী কমিটি!

01-6সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কৌশল সম্পর্কে অন্ধকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে ঈদের আগে হুংকার অনুযায়ী আন্দোলনের বিষয় তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। স্থায়ী কমিটিতে কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনা করলে তা ফাঁস হয়ে যায়-সে আশঙ্কায় খালেদা জিয়া তা বৈঠকে জানাননি বলে জানা গেছে।স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই জানা যায়। তবে তারা বলছেন, “দলকে সুসংগঠিত করে শিগগির জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”রোববার রাতে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়। তবে গাজায় ইসরাইলি হামলা, মাওয়ায় লঞ্চডুবি, তোবা গার্মেন্টসে পুলিশি হামলা, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনে জামিন বাতিল ও সম্প্রচার নীতিমালার নিন্দা জানানো হয়।

জানা গেছে, গাজায় হামলার প্রতিবাদে মৌন মিছিল ও সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদে সমাবেশের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও বিএনপি নেতাদের জেলা সফর নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এখনই কঠোর কোনো কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।

বৈঠকে নবগঠিত ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিবের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলে আসছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দিল বিএনপি। তবে রমজানে দলের ঢাকা মহানগর শাখার ইফতারে যোগ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি বলেন, “ঈদের পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে। ক্ষমতাসীনরা এ আন্দোলনে পুলিশ ও গুন্ডাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে পাল্টা জবাব দেয়া হবে। প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “ওইভাবে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাই হয়নি। তবে গাজা ও সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদে এবং দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে।”

কবে নাগাদ সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরালো করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওই নেতা বলেন, “আন্দোলন প্রশ্নে আমরা আগের অবস্থানেই আছি। দলকে সুসংগঠিত করে এবং জেলা সফরের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কর্মসূচি দেব। পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য সংলাপের দাবি তুলবো।”

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দলের একজন প্রবীণ নেতা মির্জা আব্বাসকে হাবিব উন নবী সোহেলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য বলেন। পরে আব্বাস সমন্বয়হীনতার কথা অস্বীকার করে এর প্রতিবাদ করেন। খালেদা জিয়া সবকিছু ভুলে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আব্বাসকে বলেন।

এ প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, “নিজেদের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে বলবে না তো কী করবে? আমরা তাদের মধ্যে সমন্বয় চাই।”

আলোচনার একপর্যায়ে আন্দোলনের প্রসঙ্গ এলে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হরতালের কথা বলেন। পরে খালেদা জিয়া এখনই হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির বিষয় কথা না বলার জন্য বলেন।

আন্দোলন নিয়ে দলের চেয়ারপারসন কৌশল করছেন কি না? এমন প্রশ্নে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “বুঝতেছি না। কৌশল হতেও পারে।”

রাত পৌনে ৯টায় শুরু হয়ে বৈঠক সাড়ে ১০টার দিকে শেষ হয়। বৈঠক শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নেতাদের একটি নামের তালিকা নিয়ে বসেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক সম্পর্কে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “বৈঠকে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জোটের সঙ্গে বৈঠকের পর বিস্তারিত জানতে পারবেন।”

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় দফা বৈঠক ছিল রোববার।

Developed by: