বিভাগ: বই পত্র

কৃষ্ণপক্ষের কবিতা ।। সুমন বনিক

করোনা নামক অতিমারি তাবৎ দুনিয়ায় বাসা বেঁধেছে প্রবল আক্রোশে। বুকের পাজরে, চোখের কোঠরে ভয় এসে দানা বাঁধে তিলে তিলে। এক আজানা ব্যাধির হিংস্র থাবায় অসহায় পৃথিবীর মানুষ। শ্লথ হয়ে পড়ে জীবনের গতিধারা, সভ্যতার রথ। ফিকে হয়ে যায় মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এরকম শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতেও কবি তাঁর কাব্য সুষমার বাতায়ন খুলে বসেন। ভয়-শংকাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে সৃষ্টির নিমগ্ন সাধনায় ব্রতী হন। এই করোনাকালে কাব্যরচনায় কবি এ কে শেরাম জীবন উদযাপনে মেতে ওঠেন চারদেয়ালের প্রকোষ্ঠে। জয় করেন প্রতিটি অপম্রিয়মাণ মুহূর্ত। তাঁর রচিত কৃষ্ণপক্ষের কবিতা বইটি করোনাকালের সময়কে ফ্রেমবন্দি করেছে। কবি অতিমারির বিষাদময়কালকে কবিতায় মলাটবদ্ধ করে মহাকালের হাতে তুলে দেয়ার প্রয়াস খুঁজেছেন।
কবি এ কে শেরাম কবিতাররাজ্যে অবিশ্রান্ত ও অভিজাত অভিযাত্রী। তাঁর কবিতা দিবালোকের মতো সহজ, চাক্ষুষ সুন্দর। তাঁর কবিতায় ভাবুক ধ্যানের প্রকাশ স্বচ্ছতা, কাল-যুক্ততা, নির্মাণকলার মুন্সিয়ানা তাঁকে বিশিষ্টতা এনে দিয়েছে।
তাঁর কৃষ্ণপক্ষের কবিতা বইয়ে হƒদয়ের গহিন থেকে খুঁড়ে খুঁড়ে এনেছেন বিষাদের নীলরং, ভালোবাসার আবির, আর বেঁচে থাকার শস্যদানা। বইটির ভূমিকায় তিনি লিখেছেন মহামারির করাল গ্রাসে পতিত হয় অসংখ্য জীবন। করালে মৃত্যু তার অশুভ ছায়া মেলে দেয় আমাদের ওপর; দুঃখ-কষ্ট, অসহায়তার আর্ত-হাহাকারে ভারি হয় আকাশ-বাতাস, পরিবেশ ও প্রতিবেশ। সবকিছু দেখে দেখে ক্লান্ত-বিষণœ মনে বেদনার হাহাকারগুলো বাণীবদ্ধ করি কবিতার আঙ্গিকে। কৃষ্ণপক্ষের এইসব চূর্ণক ভাবনা তাঁর কবিতায় কল্পনার আধার হয়ে উঠেছে। গ্রন্থাশ্রিত কবিতাসমূহ থেকে কয়েকটি কবিতা পড়ছি-
কোয়ারেন্টাইন জীবন
আমার এখন দিন শুরু হয় রৌদ্রদগ্ধ দুপুরে।/ সকাল দেখি না আমি,/ সকালের সোনালি রোদের স্নিগ্ধ রেণু/ শরীরে মাখিনি অনেকদিন,/ ভোরের বাতাসের সুশীতল ধারাজলে/ মুখ ধোয়া হয় না আমার।/ ঘুম থেকে উঠেই বসে যাই ক্লান্তির প্রাতরাশ নিয়ে,/ সামনে তখন টিভির নিউজ চ্যানেলে/ পপকর্ণের মতো ফটফট ফুটতে থাকে অসংখ্য শব্দ,/ প্রচারিত হতে থাকে চলমান সংকটের সচিত্র প্রতিবেদন।/ মনঃসংযোগ নেই কোনো কিছুতেই,/ মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া করি/ বেখেয়ালে ঘুরাঘুরি করি ফেবুর পাতায়;/ কতজন কতকিছু লিখে/ প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় নানা বিষয় নিয়ে;/ নিজেও অনেক হাবিজাবি লিখি।/ এইসব করে করে ক্লান্ত হই,/ এক বিপন্নতার বোধ কেবল কাজ করে যায় গোপনে গোপনে।/ রাতে, বিবমিষা জাগানো মন নিয়ে,/ বিরক্তির বিছানায় শুয়ে শুয়ে দুঃস্বপ্ন দেখি।/ ছটফট করি, নানা উল্টোপাল্টা ভাবি,/ ঠিকমতো ঘুমও আসে না,/ কেবল প্রতীক্ষায় থাকি/ কখন পোহাবে এই দুঃস্বপ্নের রাত।
কবি দুঃস্বপ্ন রাত পোহানোর অপেক্ষায় ছটফট করছেন। গোটা দুনিয়ায় মানুষের মনে আতঙ্কের যে ছটফটানি তা যেন কবির মনেও সঞ্চারিত হয়েছে। কবি ফররুখ আহমদের সেই পাঞ্জেরী কবিতার আকুতি ‘রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী।’ কবি তাই বিবমিষা জাগানো মন নিয়ে দুঃস্বপ্ন রাত কাটাচ্ছেন।
মানুষের মৃত্যু নেই
আমরা দেখেছি,/ মারিতে-মড়কে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে,/ অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয় বারংবার;/ তবু মরে না মানুষ।/ মৃত্যুকে অতিক্রম করে বেঁচে থাকে সে।/ পুরাণের ফিনিক্স পাখির মতো/ বারবার সে জেগে ওঠে ভস্মস্তূপ থেকে।/ আসলে,/ মানুষের মৃত্যু নেই;/ অজস্র অসংখ্য মৃত্যুতে বরং সে অমরতা পায়।
মানুষের মৃত্যু নেই এ যেন কবির দার্শনিক উক্তি। আদতে মানুষের মৃত্যু নেই। বরং মৃত্যু মানুষকে অমরতা দান করে। গীতার সেই বাণী জাতস্য হি ধ্রুবমৃত্যুর্ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ। অর্থাৎ, যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী এবং যার মৃত্যু হয়েছে তার জন্মও অবশ্যম্ভাবী। এই কবিতায় একটি আধ্যাত্মিক দর্শনের রসাস্বাদন করতে পারি। ব্রিটিশ কবি জর্জ হার্বার্টের কবিতায় আমরা আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে কাব্যের সংশ্লেষ পড়ে মুগ্ধ হই, প্রাণিত হই। আমাদের মন ভিজে যায়। কবি এ কে শেরাম তেমন করেই যেন তাঁর এই কবিতায় পাঠকের মন ছুঁয়েছেন।
আছি প্রতীক্ষায়
এখন আমার স্পর্শের যোগ্য কেউ নেই এ পৃথিবীতে,/ এমনকি তুমিও না।/ এখন সবাই অস্পৃশ্য, যেন অশুচি তারা;/ সবাই এখন দূরে দূরে থাকে/ দূর আকাশের তারার মতো।/ আমাদের মধ্যে সম্পর্কের এই নতুন মেরুকরণ/ সৃষ্টি করেছে এক অচেনা-অদেখা শত্রু।/ তাই কেবল প্রতীক্ষায় আছি/ সকলের সাথে/ তুমিও আবার কবে শুচি-শুভ্র সৌন্দর্যে জেগে উঠবে,/ কবে আবার তুমি স্পর্শযোগ্য হবে,/ হবে আগের মতো আবার একান্ত আপনার।
ধ্যানমগ্ন কোনো এক আর্য ঋষির মতো প্রতীক্ষায় আছেন কবি শুচি-শুভ্র দিনের জন্য। সুদিন ফিরে আসবে, পৃথিবীর ফুলেরা হেসে উঠবে। কবি স্পর্শ পাবেন প্রিয়মানুষের। কবি শুদ্ধতার অভিসারী। কবির হƒত হƒদয়ের আর্তনাদ এবং প্রণয়কাতর পাঠক হƒদয়ের হাহাকার; একাকার হয়ে আছে এখানে।
ভালো নেই
ভালো নেই।/ ভালো নেই মন/ ভালো নেই এ জীবন,/ ভালো নেই চেতনার সকাল/ ভালো নেই এই করোনারকাল।/ ভালো নেই এ-পৃথিবী আজ ভালো নেই/ ভালো নেই বিষাদে-বেদনায় তার মন ভালো নেই।/ ভালো নেই বিশ্বের তাবৎ মানুষ ভালো নেই।/ ভালো নেই বাতাস, এই সুনীল আকাশ,/ ভালো নেই গান, ফুলের বাগান,/ ভালো নেই কবিতা ও কবি/ ভালো নেই শিল্পীর ছবি,/ ভালো নেই কিছু,/ ভালো নেই।
কবির এই ভালো নেই কবিতাটি পড়লে, ব্রিটিশ কবি জর্জ হার্বাটের কবিতার শরীর কাঠামোর কথা মনে করিয়ে দেয়। ব্রিটেনের ওয়ালসে ১৫৯৩ সালে জন্ম নেয়া এই কবিকে ইংলিশ রিলিজিয়াস কবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর কবিতায় প্রভু যিশুর পুনরুত্থানের মহিমাবার্তা বিকশিত হয়েছে। কবি এ কে শেরাম তাঁর ভালো নেই কবিতায়, মানুষের ভালো না-থাকার নানান অনুষঙ্গ তুলে এনে সেই কষ্টে জর্জরিত মানুষের বার্তা ¯্রষ্টার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। কবিতার দৈহিক গঠনে হার্বাটের কবিতার সাযুজ্য কিছুটা খুঁজে পাই।
কবি এ কে শেরাম বইতে বিষাদের মাঝে জীবনের রং ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ভালোবাসার প্রণয়ের কৃষ্ণচূড়া রং মেখেছেন কিছু কিছু কবিতায়। চুম্বনের অধিকার, পরকীয়া, তবুও ভালোবাসা, বদলে যেও না তুমি ইত্যাদি কবিতা হƒদয় জুড়ে কেবলই মুগ্ধতা ছড়ায়। এই গ্রন্থে তাঁর কবিস্বরূপ নিন্দিষ্টতা ও স্বকীয়তা অর্জন করেছে বলে মনে করি। তাঁর কবিতা পরিশীলিত পাঠককুলের হƒদয় স্পর্শ করতে পারবে নিশ্চয়ই। কবির প্রজ্ঞাময় মঙ্গলপ্রত্যয়ী কবিতার পঙক্তি আমাদেরকে বেঁচে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
কৃষ্ণপক্ষের কবিতা বইতে সর্বমোট চৌষট্টিটি কবিতা ঠাঁই পেয়েছে। আশি পৃষ্ঠার বইটি বাসিয়া প্রকাশনী বের করেছে। মূল্য রাখা হয়েছে একশো পঞ্চাশ টাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন দেলোয়ার রিপন। কবি বইটি উৎসর্গকৃত করেছেন কবি আবিদ ফায়সালকে। কৃষ্ণপক্ষের কবিতা বইটি প্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হবে নিশ্চয়ই। জয় হোক কবি এবং কবিতার । পৃথিবী নিরাময় হোক।

স্মৃতির ডায়েরি।। রেজুয়ান চৌধুরী

কবিতা-গান যুগ যুগ ধরে মানুষের প্রেরণা, শক্তি-সাহস যুগিয়ে আসছে। নৈশব্দিক একাকিত্বে গান কবিতা নির্মল প্রশান্তির অমূল্য উপকরণ হয়ে একাকিত্বের অবসান ঘটায়।
সৃষ্টির মাঝে যারা জীবনের খোঁজ করে তাঁরাই কবি। প্রকৃতির নানান অপরূপ কারুকার্যের মাঝে মোহনীয় আবেশে দোলে ওঠে কবিমন, এই দোলা ছন্দ হয়ে ঝরে পড়ে এক একটা কবিতা হয়ে। কবিতায় কবিমনের ভাবের পাশাপাশি ফুটে উঠে জীবনমুখী শৈল্পিক আবেদন, তাই তো কবিরা ছন্দশিল্পী।
এমনই এক ছন্দশিল্পী কবি রেজুয়ান চৌধুরী। তাঁর ‘স্মৃতির ডায়েরি’ কাব্য গ্রন্থের প্রত্যেকটা কবিতায় অসাধারণ ছন্দ ও নান্দনিকতা লক্ষ করার মতো যা একজন গুণী কবির পক্ষেই সম্ভব এবং এ কাজটিই করে দেখিয়েছেন কবি রেজুয়ান চৌধুরী।
‘স্মৃতির ডায়েরি’ কাব্যগ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ৫৫ টি কবিতায় সহজ সরল পরিশীলিত প্রাঞ্জল ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে যা গুণে-মানে ও রসবোধে অনন্য বিধায় সব শ্রেণির কাব্যরসিক পাঠক মনের ক্ষুধা মেটাতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।
অসাধারণ এই রচনার জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে কবিবন্ধুকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন, সেই সাথে ‘স্মৃতির ডায়েরি’ কাব্যগ্রন্থের সফলতা কামনা করি।

আবু কওছর
সম্পাদক ও প্রকাশক
ত্রৈমাসিক সাহিত্য সাময়িকী ‘আলোকিত দাওরাই’।

বিশ্বনাথ উপজেলা : গ্রামের নামকরণ।। মো. খালেদ মিয়া

গ্রামপ্রধান বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে আমাদের গ্রাম আছে, গ্রামের নাম আছে, কিন্তু অধিকাংশ গ্রামের নামকরণের নেপথ্য কারণ-কাহিনি নেই এমনকি থাকলেও আমাদের অজানা। এ ব্যাপারে সম্যক ধারণা থাকা দরকার, কথাটি সত্য হলেও আমরা কজনে কতটুকু জানার আগ্রহ পোষণ করি? আমাদের আগ্রহের অভাব, সচেতনতার অভাব। মানব সভ্যতার সত্যিকার বিকাশের ক্ষেত্রে ওইসব নেতিবাচক প্রবণতা মূলত অন্তরায় স্বরূপ। আমাদের ইতিহাস আছে বাক্যটি যেরূপ সত্য, আমরা ইতিহাস সচেতন নই, বাক্যটিও সেরূপ সত্য মনে করি।

কীনব্রিজটি ধসে পড়ার মুহূর্তে।। কামরান ইবনে দিলওয়ার

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবিতার অন্যতম প্রধান জনক ‘গণমানুষের কবি’ দিলওয়ার-এর বিগত শতাব্দির ষাটের দশকে লেখা বিখ্যাত কবিতা ‘কীনব্রিজে সূর্যোদয়’।
সনেটটি আজও বহু কবি ও লেখককে আলোড়িত ও প্রভাবিত করে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই ‘কীনব্রিজ’ নিয়ে পদ্য ও গদ্য লিখেছেন এবং লিখে চলেছেন। আমিও সে দলে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান গ্রন্থ ‘কীনব্রিজটি ধ্বসে পড়ার মুহূর্তে’ সেই রকম প্রভাব থেকেই রচিত।
প্রকাশক মোহাম্মদ নওয়াব আলীকে গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গ্রন্থটি কবিতা পাঠকদের কাছে ভালো লাগলে শ্রম সার্থক হবে আশা করছি।

কামরান ইবনে দিলওয়ার

যে মাটি হৃদয় মাঝে।। জ্যোতিষ মজুমদার

ভ্রমণ মানেই ভালোবাসা। বেড়াতে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ভ্রমণ মানুষের এক সহজাত নেশা। এই নেশার টানে মানুষ ঘর ছেড়ে ঘুরে বেড়ায় পাহাড় থেকে বনে, বনভূমি থেকে সমুদ্র তীরে, উত্তরমেরু থেকে দক্ষিণমেরু, নায়েগ্রা জলপ্রপাত থেকে এভারেস্ট শৃঙ্গ পর্যন্ত।
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে বলা হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ। কারণ বাংলাদেশে রয়েছে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য, বিশ্বের দীর্ঘতম সমূদ্র সৈকত, বনভূমি, ষড়ঋতুর বৈচিত্র, সবুজ বনানী ঘেরা পার্বত্যভূমি, ঐতিহাসিক নিদর্শন। এসব নিদর্শনগুলির আকর্ষণে যুগে যুগে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে এসেছিলেন ইতিহাসবিদ ও পর্যটক ইবনে বতুতা, ইবনে খালদুন, হিউয়েন সাং ও ভাস্কো দা গামা। তাদের লেখনীতে আরও বিস্তৃত হয়েছে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা। ভ্রমণের উলে−­খযোগ্যতার দিক থেকে বিচার করলে বাংলাদেশে বেড়ানোর জায়গা প্রচুর। পর্যটন শিল্পের জন্য বাংলাদেশ একটি আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত। সুতরাং বিশ্বের অন্য দেশ ভ্রমণের পূর্বে বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের উচিত নিজেদের দেশের ভ্রমণস্পটগুলো দেখা এবং জানা।

জ্যোতিষ মজুমদার

 

সুর : শেখ মুজিবুর।। দিলওয়ার

দেশ যদি বৃক্ষ হয়, তুমি তার প্রণেতা শিকড়,
তোমাকে দমিয়ে রেখে তাই যারা ঋদ্ধ হতে চায়
বিভ্রান্ত বিশ্বাসে তারা হৃৎপিণ্ডে বিদ্ধ হতে চায়,
বড়ো মর্মান্তিক সেই বিচারক কালের আঁচড়!
-দিলওয়ার

বাংলা সাহিত্যের ‘আধুনিক কবিতার’ অন্যতম প্রধান কবি দিলওয়ার-এর রচনাবলি নতুন করে পাঠ করা দরকার যেমন নতুন প্রজন্মের, তেমনি দরকার রাষ্ট্রের প্রধান শাসক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ মহোদয়ের।

কেন দরকার? যদি শুধুমাত্র ‘সুর : শেখ মুজিবুর’ এই একটি সনেট-এর সারমর্ম, প্রতিটি ছত্রের ব্যাখ্যা এবং কবিতাটির দিকনির্দেশনা তাঁরা বুঝতে ও উপলব্ধি করতে পারেন; তাহলে তাঁরা যেমন তেমনি দেশবাসীও উপকৃত হবেন এবং অন্যরকম শক্তিও খুঁজে পাবেন চিন্তা-চেতনা ও কর্মে।

‘স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন মোদের বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে কাঁপে পাকিস্তানি শত্র“।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু আমাদের গৌরবময় ইতিহাস নির্মাতা ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশই নন, তিনি বাঙালির ধ্যান-জ্ঞান, চিন্তা-চেতনা, আদর্শ-দর্শন, রক্ত-মাংস, শিরা-উপশিরাসহ বাঙালির আত্মার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘গানে গানে জাতির পিতা’ গ্রন্থের গানগুলোতে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ, সংগ্রামী জীবন ও সাহসী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দক্ষতা, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, ক্যারিশমেটিক ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ব রাজনীতিবোধ প্রভৃতি বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকাণ্ড অত্যন্ত সহজ-সাবলীল ভাষায় চমৎকারভাবে ওঠে এসেছে। একটি গানে বলা হয়েছে ‘চলো চলোরে বাঙালি চলো টুঙ্গিপাড়া যাই, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু রয়েছেন ঘুমাই।’ গানটি মুজিবপ্রিয়দের মন জয়ে সাফল্য লাভে ধন্য হবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
‘গানে গানে জাতির পিতা’ বইটি যেকানো রুচিবান পাঠকের সংগ্রহে রাখার মতো।

মোহাম্মদ নওয়াব আলী
প্রকাশক

নাইনটিসিক্স আওয়ার্স ইন টর্চার সেল।। সুরাইয়া মঈন ফ্লোরা

সুরাইয়া মঈন ফ্লোরা নিজের আগ্রহ এবং ভালো লাগা থেকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসম্পর্কিত বিভিন্ন লেখা পড়েন এবং নিজেও লিখতে চান। বিভিন্ন লেখকের লেখায় মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, নিষ্ঠুরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের কাহিনি তার মনকে প্রবলভাবে আন্দোলিত করে, তাই নিজের লেখায়ও মুক্তিযুদ্ধ, স্বদেশ হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় বিষয়। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী ফ্লোরার লেখা ‘নাইনটিসিক্স আওয়ার্স ইন টর্চার সেল’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এক সংক্ষিপ্ত আখ্যান- যা পাঠক হিশেবে আমাদের মনে দাগ কাটে, ভাবনাকে উদ্বেলিত করে। নিরীহ মানুষের ওপর অসভ্য-বর্বর হানাদারদের নিষ্ঠুরতার এক সাবলীল বর্ণনায় প্রদীপ্ত এই আখ্যান-‘নাইনটিসিক্স আওয়ার্স ইন টর্চার সেল’। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এটি তার দ্বিতীয় গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ। সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার প্রথম গ্রন্থ ‘ঝাপসা দু’চোখ’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে। প্রচণ্ড দেশপ্রেমের আবহে লেখা গ্রন্থ দুটি ইতোমধ্যে পাঠককুলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার সন্তান এই লেখকের পিতা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মঈন উদ্দিন। বর্তমানে তিনি ব−ুমবার্গ ডাটা ফর হেলথ ইনিসিয়েটিভ-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর হিশাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার মাতার নাম মিসেস মেহতাব পারভিন খানম।
এই লেখকের গভীর চিন্তা ও মননপ্রসূত লেখা সমাজকে সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত করবে। কিশোরী ফ্লোরার লেখা পাঠোত্তর দীর্ঘ উপলব্ধির খোরাক জোগায়-যা প্রমাণ করে এক অগ্রসর লেখকের অস্তিত্বই তার মাঝে বিরাজমান।

নীল যমুনা।। ফেরদৌস শেরদিল

ফেরদৌস শেরদিল এক সময়ের রাজপথ কাঁপানো নির্ভীক ছাত্রনেতা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত পরিচ্ছন্ন একজন রাজনীতিবিদ। বিদেশ বিভুঁইয়ে এসেও অবহেলিত নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষ, মা, মাটি, এসব এক মুহূর্তের জন্য তিনি ভুলে থাকতে পারেন নি। সদালাপী বন্ধুবৎসল এই ব্যক্তিটি আপাদমস্তক একজন কবি। তাঁর কবি সত্তা সমাজের কোথাও কোনো অনিয়ম অনাচার দেখলেই গর্জে ওঠে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে তাঁর ক্ষুরধার লিখনী। রোমান্টিক মনের মানুষ তিনি। তাঁর লেখা কবিতায় প্রেম বিশেষভাবে দৃশ্যমান। ইতোমধ্যে তিনি গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল−াটফর্মে নিয়মিত লিখে আসছেন দুটি যৌথ কাব্যগ্রন্থেও তাঁর সরব অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।
ফেরদৌস শেরদিলের একক কাব্যগ্রন্থ ‘নীল যমুনা’ একুশে বইমেলা-২০২০ এ প্রকাশিত হচ্ছে। আমি গ্রন্থটির ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা আশা করছি।

মোহাম্মদ ইকবাল
নটিংহীল গেইট লন্ডন

তারুণ্যে।। আতাউর রহমান আফ্তাব

‘তারুণ্যে’ আমার একটি আধুনিক কাব্যগ্রন্থ। মোট ৫৬টি কবিতা নিয়ে সাজানো হয়েছে এ গ্রন্থ। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের লেখা কবিতাগুলোই এ বইতে স্থান লাভ করেছে।
এটি আমার ১০ম গ্রন্থ। কয়েকটি লিমেরিক ও দুটি সনেটসহ বিচিত্র চেতনার প্রতিফলন সন্নিবেশিত হয়েছে ‘তারুণ্যে’।
আজ পৃথিবীটা যেন মানুষের হাতের মুঠোয়। নতুন সভ্যতার স্পর্শ, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, ইন্টারনেট ভুবনের আলো, রোমাঞ্চ ইত্যাদির বিমূর্ত প্রতিফলন ঘটেছে।
তরুণ প্রকাশক মোহাম্মদ নওয়াব আলী এবারও আমার বই প্রকাশে সাহসিকতা দেখানোর জন্য ধন্যবাদ।
‘তারুণ্যে’ সর্বমহলে সমাদৃত হবে এ প্রত্যাশা করি।

আতাউর রহমান আফ্তাব

মায়াবী অন্ধকার ।। আহমদ আলী হিরণ

তরুণ প্রজন্মের কাছে আহমদ আলী হিরণ সুপরিচিত ও সমাদৃত একজন কবি। শৈশব হতেই কবিতার জগতে তাঁর বসবাস। তিনি আপাদমস্তক একজন কবি। তাকে শুধু কবি বললে আমার কাছে তার প্রকৃত মূল্যায়ণ হয় না। তিনি আদর্শিক, রোমান্টিক ও নান্দনিক কবি। তাঁর কবিতায় পত্রপুঞ্জে বর্ণিত থাকে সমাজ সনদের নন্দিত ঘটনা, থরে থরে সাজানো থাকে নন্দিত বারতা। অপরদিকে থাকে মা মাটি মানুষ আর প্রেম প্রণয়-প্রেয়সীর কথা। তাঁর মায়াবী অন্ধকার কবিতা গ্রন্থে গ্রন্থিত হয়েছে বিরহ-বেদনা আর ভালোবাসার অনবদ্য কথারমালা।
যে ভালোবাসার জাদুময়ী স্পর্শে বসুধায় জেগে উঠে সুন্দর, স্বপ্নীল ঝরনাধারা। ‘মায়াবী অন্ধকার’ কাব্যগ্রন্থে কবি আহমদ আলী হিরণ ভালোবাসার জয়গান গেয়েছেন সুমধুর কণ্ঠে, গীতার বীণায়। আশা ও দৃঢ় বিশ্বাস গ্রন্থটি সৃজনশীল পাঠকের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিবে বহুকাল। সাফল্যের সিঁড়ি পেরিয়ে তিনি পৌঁছে যাবেন পৃথিবী থেকে মঙ্গলগ্রহে এ কামনায়-

জাহাঙ্গীর আলম বিপ−­ব

Developed by: