বিভাগ: খেলাধুলা

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফের বিদেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখাল টাইগাররা

২০ জুলাই – প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে পাত্তাই পায়নি। দ্বিতীয়টিতে দারুণ লড়াই করেছিল। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২৯৯ রানের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল স্বাগতিকরা।

কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জিম্বাবুয়েকে স্বান্ত্বনার জয়ও পেতে দিল না তামিম ইকবালের দল। হারারেতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বড় লক্ষ্য হেসেখেলেই পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ, জিতেছে ৫ উইকেট আর ২ ওভার হাতে রেখে।

এই জয়ে ‘মিশন হোয়াইটওয়াশ’ও পূর্ণ করেছে টাইগাররা। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাঠে হারানোর এক যুগ পর আবারও বিদেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখাল তারা।

২৯৯ রানের বড় লক্ষ্য। শুরুটা যেমন ভালো হওয়া চাই, তেমনই দিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর লিটন দাস। প্রথমে দেখেশুনে খেললেও (৬ ওভারে ২৬ রান) পরে আস্তে আস্তে রানের গতি বাড়িয়েছেন এই যুগল।

আরও পড়ুন ::

ওভারপ্রতি ছয়ের ওপর নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। এরই মধ্যে তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৫২তম হাফসেঞ্চুরি, ৪৬ বলে। কিন্তু তামিমের ফিফটি ছোঁয়া ওভারেই উইকেট হারিয়ে বসেন লিটন।

ওয়েসলে মাদভেরে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই সাজঘরে ফিরিয়েছেন লিটনকে, তাতে ভাঙে ৮৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ হন এই ওপেনার। ৩৭ বলে ৩ বাউন্ডারিতে করেন ৩২ রান।

তারপর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৬৯ রানের আরেকটি জুটি তামিমের। সেই জুুটিটি ভেঙেছেন লুক জঙউই। জিম্বাবুইয়ান পেসারের স্লোয়ার এক ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ সাকিব। ৪২ বলে একটি করে চার-ছক্কায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান।

৩৪ ওভার শেষে ২ উইকেটে ২০৪ রান ছিল বাংলাদেশের। ৯৬ বলে দরকার ৯৫। পানি পানের বিরতিতে যাওয়ার সময় সহজ জয়ের পথেই ছিল টাইগাররা।

কিন্তু বিরতির পরই জোড়া আঘাত ডোনাল্ড তিরিপানোর। টানা দুই বলে সেঞ্চুরিয়ান তামিম আর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ে ফেরান ডানহাতি এই পেসার।

৯৭ বলে ৮ চার আর ৩ ছক্কায় ১১২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা তামিম উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হওয়ার পর প্রায় একইভাবে আউট হন মাহমুদউল্লাহ (০)। হ্যাটট্রিক বল খেলতে উইকেটে আসেন সিরিজে প্রথমবারের মতো একাদশে সুযোগ পাওয়া নুরুল হাসান সোহান।

সোহান অবশ্য ওই বলটিতে একটুও নার্ভাস হননি। বরং বাউন্ডারিতে দূর করেন হ্যাটট্রিকের শঙ্কা। চোখ ধাঁধানো কিছু শট খেলে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন এরপরও।

পঞ্চম উইকেটে মিঠুনের সঙ্গে গড়েন ৫৪ বলে ৬৪ রানের জুটি। যাতে মূল অবদান সোহানেরই (৩৯)। মিঠুন খেলেছেন ভীষণ ধীরগতিতে। একের পর এক শট খেলতে গিয়ে মিস করেছেন। একদমই আত্মবিশ্বাসহীন মনে হচ্ছিল তাকে।

শেষ পর্যন্ত নিজেই যেন নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে যান মিঠুন। জিম্বাবুইয়ান স্পিনার মাদভেরেকে বড় শট খেলতে ডাউন দ্য উইকেটে এসেছিলেন, এবারও ঠিকমত ব্যাটে বলে করতে পারেননি। লংঅফে ক্যাচ হয়েছেন চাতারার।

তবে এরপর আর দলকে কোনো বিপদে পড়তে দেননি সোহান-আফিফ। ৩৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছেড়েছেন তারা। সোহান ৩৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৪৫ আর আফিফ হোসেন ধ্রুব ১৭ বলে ৩ চার, এক ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে ২৯৮ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে। রেগিস চাকাভা ওপেনিংয়ে নেমে ৮৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দিয়েছেন। তারপরও অনেকটা সময় জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন বাংলাদেশি বোলাররা।

সেই নিয়ন্ত্রণ ছুটে যায় সিকান্দার রাজা আর রায়ান বার্লের এক জুটিতে। ষষ্ঠ উইকেটে ঝড়ো গতিতে ৮০ বলে ১১২ রান যোগ করেন এই যুগল। যাতে ভর করেই প্রায় তিনশোর কাছাকাছি স্কোর দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকরা।

তবে শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (৩/৮৭) আর মোস্তাফিজুর রহমানের (৩/৫৭) ঝলকে বেশ কয়েকটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাতেই ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয়েছে ২৯৮ রানে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে পাঁচ নম্বরে নেমে দলের পক্ষে একমাত্র ফিফটি করেছিলেন রেগিস চাকাভা। দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে নামানো হয় তিন নম্বরে। আর আজ প্রমোশন পেয়ে ইনিংস সূচনার দায়িত্বই বর্তায় এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের কাঁধে।

ওপেনিংয়ে নেমে প্রথম ওভারটা দেখেশুনেই খেলেন চাকাভা। তবে সাইফউদ্দিনের করা দ্বিতীয় ওভারে আত্মবিশ্বাসী শটে জোড়া বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। এরপর মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের বিপক্ষেও সাবলীল ব্যাটিং করেন তিনি। যার সুবাদে জিম্বাবুয়ের শুরুটাও হয়েছিল বেশ ভালো। প্রথম ৮ ওভারে কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ।

মনে হচ্ছিল, প্রায় তিন বছর পর প্রথম উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়তে পারবে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু নবম ওভারে আক্রমণে এসে তা আর হতে দেননি সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে এনে দেন প্রথম সাফল্য।

শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন চাকাভা। অপরপ্রান্তে মারুমানি ছিলেন খানিক নড়বড়ে। যার ফায়দাই নিয়েছেন সাকিব। তিনি হালকা ঝুলিয়ে দেয়া ডেলিভারিতে সুইপ শটে প্রলুব্ধ করেন মারুমানিকে। আর সেই ফাঁদে পা দিয়ে লেগ বিফোর আউট হয়েছেন জিম্বাবুইয়ান বাঁহাতি ওপেনার।

আউট হওয়ার আগে খেলা ১৯ বলে ৮ রান করতে পেরেছেন মারুমানি। এরপর যখন মনে হচ্ছিল প্রাথমিক চাপ সামাল দিয়ে ফেলেছেন চাকাভা ও টেলর, তখনই আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ।

দ্বিতীয় উইকেটে ৯ ওভারে চাকাভা-টেলর তুলেন ৪২ রান। টেলরকে (২৮) তামিম ইকবালের ক্যাচ বানিয়ে এই জুটিটি ভাঙেন ক্যারিয়ারের দুইশতম ম্যাচ খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ।

এরপর ডিয়ন মায়ার্সকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন চাকাভা। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৭১ রানের জুটিটিও ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৪ রান করা মায়ার্সকে করেন বোল্ড।

বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ওয়েসলে মাদভেরে (৩)। মোস্তাফিজুর রহমানের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে ব্যাট পেতে দিয়ে মিডউইকেটে সাকিবের ক্যাচ হন তিনি।

এর তিন ওভার পর পথের কাঁটা চাকাভাকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে হাসি ফোটান তাসকিন আহমেদ। সেঞ্চুরির কাছাকাছি এসে তাসকিনের দারুণ এক ডেলিভারি ফ্লিক করতে গিয়ে লাইন মিস করে বসেন চাকাভা, ওপরে যায় অফস্ট্যাম্প। ৯১ বলে ৭ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় তিনি তখন ৮৪ রানে।

১৭২ রানে ৫ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে আরও একবার অল্পতেই আটকে যাবে, মনে হচ্ছিল তখন। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে সব হিসেব বদলে দেন রাজা আর বার্ল। চার-ছক্কায় মাঠ মাতিয়ে দলকে এগিয়ে নেন তারা অনেকদূর।

শেষ পর্যন্ত ৪৮তম ওভারে এসে ১২০ রানের জুটিটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। কাটার মাস্টারের সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ তুলে দেন ৫৪ বলে ৭ চার আর ১ ছক্কায় ৫৭ রান করা রাজা।

৪৯তম ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তুলে নেন সফরকারি দলের তিন-তিনটি উইকেট। তাতেই জিম্বাবুয়ের তিনশো ছোঁয়া সম্ভব হয়নি।

ওভারের দ্বিতীয় বলে রায়ান বার্লকে (৪৩ বলে ৪টি করে চার-ছক্কায় ৫৯) ক্যাচ আর তৃতীয় বলে ডোনাল্ড তিরিপানোকে (০) বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন সাইফউদ্দিন। সেটা না হলেও ওভারের শেষ বলে তেন্দাই চাতারাকে (১) বোল্ড করেন এই পেসার। পরের ওভারের তৃতীয় বলে ব্লেসিং মুজারবানিকে (০) বোল্ড করে জিম্বাবুয়েকে তিনশোর আগে আটকান মোস্তাফিজ।

তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ

স্বপ্নের ট্রফিটা আর্জেন্টিনার

কত দীর্ঘ রাতের অপেক্ষা, কত হতাশা-আক্ষেপে পোড়া শেষে একটা ট্রফি। আর্জেন্টিনার হাতে একটা ট্রফি। বিশ্বসেরা লিওনেল মেসির হাতে একটা ট্রফি।

১৯৯৩ সালের পর ৭টি ফাইনালে হার। আর্জেন্টিনা জানে ক্ষতটা কতো বড়! একটা ট্রফির জন্য যার বিশ্বসেরার তকমায় ছেদ পড়ে, প্রশ্ন উঠে যায়, সেই লিওনেল মেসি জানেন এই ট্রফিটার মহাত্ম্য কত!

অবশেষে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই মারাকানায় এলো চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। সেই মারাকানা, যেখানে বিশ্বকাপের ফাইনাল হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিলো মেসিদের।

ম্যাচের একমাত্র গোলটা আনহেল দি মারিয়ার। রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে ম্যাচের ২১ মিনিটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন এই তারকা।

পুরো ম্যাচের সারসংক্ষেপ ওই একটি গোলই। আর ওই এক গোলে ঘুচলো দীর্ঘ ২৮ বছরের আক্ষেপ।

পেরুকে হারিয়ে ফাইনালে ব্রাজিল

ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ফর্মে নেই। তাতেও অবশ্য ব্রাজিলের কোপা আমেরিকার ফাইনালে যাওয়া রুখতে পারেনি পেরু। নেইমারের দারুণ নৈপুণ্যে ব্রাজিলকে লিড এনে দেন লুুকাস পাকুয়েতা। সেই লিড ধরে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠা। গত আসরে পেরুকে হারিয়েই শিরোপা জেতে ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালেও ব্রাজিলের ত্রাতা ছিলেন পাকুয়েতা। তার একমাত্র গোলেই চিলিকে হারিয়েছিল দশ জনের ব্রাজিল।

১৪ বছর পর সম্ভাবনা জেগেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনালের।

আগামীকাল দ্বিতীয় সেমিতে কলম্বিয়াকে আর্জেন্টিনা হারালেই দেখা মিলবে কাঙ্ক্ষিত দ্বৈরথের। আগামী রোববার মারাকানায় হবে ফাইনাল। কোপা আমেরিকার ফাইনালে শেষবার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৭ সালে। সেবার ৩-০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল।

বলতে গেলে ব্রাজিলকে একাই টানছেন নেইমার। আসরে ব্রাজিল করেছে ১২ গোল। যার ৫টিতেই অবদান নেইমারের। ২ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট। জিতেছেন তিনটি ম্যাচসেরার পুরস্কার। ২০১৯ কোপা আমেরিকায় শিরোপাজয়ী ব্রাজিল দলে ছিলেন না নেইমার। ইনজুরি ছিটকে দিয়েছিল তাকে। তাই এখনো কোপার শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়া হয়নি নেইমারের। ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত ফর্ম ব্রাজিলকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে দশম কোপা আমেরিকা জয়ের।

রিও ডি জেনিরোর নিলতন সান্তোস স্টেডিয়ামে দুই অর্ধে দুইরকম খেলেছে ব্রাজিল। প্রথম ৪৫ মিনিট দাপুটে খেললেও বিরতির পর মনযোগী হয় লিড ধরে রাখায়। ম্যাচের শুরু থেকেই গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ২০ মিনিটের মধ্যেই গোলমুখে পাঁচটি শট নেয় সেলেসাওরা। সবগুলোই ছিল লক্ষ্যে। পেরু গোলরক্ষক পেদ্রো গাইয়েসে একাই ঠেকিয়েছেন সব শট। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন তিনটি। গোলবঞ্চিত করেছেন নেইমার, কাসেমিরো ও রিচার্লিসনকে। ব্রাজিল লিড নেয় নেইমার জাদুতে । বামপ্রান্ত দিয়ে দারুণভাবে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন নেইমার। তিন ডিফেন্ডারকে পায়ের কারুকাজে পরাস্ত করে মাইনাস বাড়ান লুকাস পাকুয়েতার উদ্দেশ্যে। অরক্ষিত পাকুয়েতা লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেননি। জাতীয় দলের হয়ে পঞ্চম গোল অলিম্পিক লিঁও মিডফিল্ডারের। ব্রাজিলের জার্সিতে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন তিনি। আসরে তৃতীয় অ্যাসিস্ট করেন নেইমার। চিলির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের জয়সূচক গোলটি এসেছিল পাকুয়েতার পা থেকেই।

বিরতির পর খোলস ছেড়ে বেরোয় পেরু। দেশের মাটিতে কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের সর্বশেষ পরাজয় এই পেরুর বিপক্ষেই, তা সেই ১৯৭৫ সালে। দ্বিতীয়ার্ধে পেরু সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনার কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছিল। পেরুর দারুণ দুটি প্রচেষ্টা থামিয়েছেন ব্রাজিল গোলরক্ষক এডারসন। ব্রাজিলের হয়ে আগের ছয় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অরক্ষিত রেখেছিলেন গোলপোস্ট। সপ্তম ম্যাচে দারুণ দুটি সেভে ব্রাজিলের ফাইনাল নিশ্চিতে বড় অবদান ম্যানচেস্টার সিটি গোলরক্ষকের।

উরুগুয়েকে বিদায় করে সেমিফাইনালে কলম্বিয়া

কোপা আমেরিকায় কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে গোলশুন্য ড্র করে উরুগুয়ে। কিন্তু টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের জয়ে উরুগুয়েকে বিদায় করে সেমিফাইনালে স্থান করে নিয়েছে কলম্বিয়া।

বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোরে এ জয় পায় কলম্বিয়া। গোলকিপার ডেভিড ওসপিনা কলম্বিয়ার টাইব্রেকার জয়ের নায়ক। উরুগুয়ের দুটি শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। মাতিয়াস ভিনা ও হোসে হিমিনেজকে লক্ষ্যভেদ করতে দেননি তিনি।

ডেভিড ওসপিনা আজকের ম্যাচটি দিয়ে কার্লোস ভালদেরামাকে টপকে কলম্বিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও (১১২ ম্যাচ) গড়লেন।

মাঠে দুই দল প্রচুর পাস খেললেও গোলের সুযোগ সেভাবে তৈরি করতে পারেনি। উরুগুয়ে তারকা লুইস সুয়ারেজ প্রথমার্ধে মোটেও ভালো খেলতে পারেননি। বক্সের মধ্যে সহজাত দক্ষতায় গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।

তবে দুই দল যে গোলপোস্ট তাক করে শট নেওয়ার চেষ্টা করেছে। উরুগুয়ে ৭টি শট নিয়ে ৩টি গোলপোস্টে রাখতে পেরেছে। কলম্বিয়ার ৩টি শট গোলপোস্টে রাখতে ৯টি শট নিতে হয়েছে।

বিরতির পর কলম্বিয়া ৫১ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে। আর ৪৯ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে উরুগুয়ে।

ইত্তেফাক/এএএম

মেসির জাদুতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

এক লিওনেল মেসি ছাড়া নাকি আর্জেন্টিনা দলে কিচ্ছু নেই। আর্জেন্টিনার সমালোচকরা বলেন এমন কথা। কথাটা যে একেবারে ভিত্তিহীন তাও কিন্তু না। ইকুয়েডরকে আর্জেন্টিনা হারালো ৩ গোলে, সবগুলোতেই অবদান ওই এক মেসির।

মেসির জাদুতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনাপ্রথমার্ধ্বে ডি পলকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। পাস দিয়েছিলেন নিকো গঞ্জালেসকে। তাকে ঠেকাতে ছুটে আসেন ইকুয়েডর গোলকিপার। বল চলে যায় মেসির পায়ে। চাইলে নিজেই শট নিতে পারতেন। ফাঁকায় দাঁড়ানো দি পলের দিকে বলটা বাড়িয়ে দিলেন ক্ষুদে জাদুকর। ঠান্ডা মাথায় জালে জড়ান দি পল।

শেষমুহুর্তে লওতারো মার্টিনেজের গোলটাও এসেছে মেসির পাস থেকেই। একেবারে শেষ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে নিজেও তুলে নিলেন একটি গোল।

ডি পলের প্রথম গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

এর আগে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন নিকো গঞ্জালেস, লওতারো মার্টিনেজরা। গোলকিপারকে ওয়ান টু ওয়ান পেয়েও গোল করতে পারেননি মেসিও। তবে শেষপর্যন্ত বড় জয় নিয়েই সেমিফাইনালে পা রাখলো আলবিসেলেস্তারা।

নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে চেক রিপাবলিক

পুসকাস অ্যারেনায় কমলা উৎসব হয়নি। সব আলো কেড়ে নিয়েছে চেকরা। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে চেক রিপাবলিক।

রোববার (২৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া এই খেলায় চেক রিপাবলিক ২-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

কোয়ার্টার ফাইনালে চেক রিপাবলিক মুখোমুখি হবে ডেনমার্কের। প্রথমার্ধে গোল শূন্য ড্র-তে খেলার ইতি ঘটে। দ্বিতীয়ার্ধ আসতেই খেলার অন্য রং নেয়। চেকরা চেপে ধরে ডাচদের। লাল কার্ড দেখে ডি লিট মাঠের বাইরে গেলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ডাচরা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ডি লিট মাঠের বাইরে যাওয়ার ১৩ মিনিট না যেতেই গোল খেয়ে বসে নেদারল্যান্ডস। ফ্রি কিক থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে চেকদের এগিয়ে দেন হোলস।

এর মিনিট ১২ পর আবারো গোল পেয়ে যায় চেকরা। মাঝ মাঠে হোলস বল দখলে নিয়ে বাড়ান উইনালডামের কাছে। উইনালডাম ডি বক্স পর্যন্ত নিয়ে এসে ঠেলে দেন দৌড়ে আসতে থাকা শ্রিকের দিকে। দারুণ দক্ষতায় গোল দিতে ভুল করেননি শ্রিক।

সর্বশেষ ৭ ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই জিতেছে চেক রিপাবলিক। তার মধ্যে ২০০৮ সালের ইউরোর ম্যাচও রয়েছে। সেবার ৩-২ গোলে জিতেছিল চেকরা। এবার জয় ২-০ গোলে।

সূত্র : রাইজিংবিডি

জন্মদিনে মেসিকে নিয়ে গান, সতীর্থদের উদযাপন

৩৪-এ পা রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। পৃথিবীব্যাপী কোটি ভক্ত নানা মাধ্যমে এ দিনে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাকে। বাদ যান নি তার সতীর্থরাও। জন্মদিনের শুরুর ক্ষণে তাকে ঘুম থেকে তুলে চমকে দিয়েছেন অ্যাগুয়েরো-ডি মারিয়ারা। ওদিকে, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ব্যান্ড লস পালমেরাস মেসিকে নিয়ে বানিয়েছেন গান। সেটি আবার নিজের ভেরিফাইড পেইজে শেয়ারও দিয়েছেন লিও। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অগণিত সমর্থকদের প্রতি।

বর্তমানে আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা খেলছেন মেসিরা। থাকছেন ব্রাজিলে নিজেদের টিম হোটেলে। রাতে হুট করেই তার রুমে ডি মারিয়া, পারেদেসদের হানা। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম তারকাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হন সবাই। সঙ্গে নানান উপহার সামগ্রী। সবাইকে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন মেসি। এমনই একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বত্র।

এদিকে, মেসির জন্মদিনে তাকে নিয়ে একটি গান বানিয়েছে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ব্যান্ড লস পালমেরাস। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ব্যান্ডটি বানিয়েছে একটি মিউজিক ভিডিও। সেটি আবার পৌঁছানো হয়েছে মেসির কাছে। নিজের পেইজে সেটি শেয়ারও দিয়েছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

মেসি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সবার প্রতি। নিজের পোস্টে লিখেছেন, ধন্যবাদ জানাতে চাই লস পালমেরাস এবং সেই সব বন্ধুদের যারা দারুণ এই ভিডিওটিতে যোগ দিয়েছেন। ধন্যবাদ তাদের অভিনন্দন বার্তার জন্য। এটি দেখে বেশ অবাক হয়েছি, অনেক ভালো লেগেছে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ!

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন রোনালদো

এবারের ইউরো কাপে যেন রেকর্ড গড়ার খেলায় মেতেছেন পর্তুগালের সবচেয়ে বড় তারকা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রতি ম্যাচেই গড়ছেন একের পর এক রেকর্ড। যার ধারাবাহিকতায় গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জোড়া গোলের মাধ্যমে করলেন বিশ্ব রেকর্ড।

মঙ্গলবার রাতে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে নকআউটের টিকিট পাইয়ে দিয়েছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনালদো। এর আগে হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও করেছিলেন জোড়া গোল। পরে জার্মানির সঙ্গে স্কোরশিটে নাম তুলেছেন একবার।

টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচেই পাঁচ গোলের সুবাদে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ১০৯টি। তিনিই এখন যুগ্মভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইরানের আলি দাইয়ের করা ১০৯ গোলের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে এ দুজনের চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি আর কেউ।

আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। সেই ম্যাচে মাত্র একটি গোল করতে পারলেই এককভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে একশর বেশি গোল করা ফুটবলার এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র আলি দাই এবং রোনালদো।

সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড ছাড়াও ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলে ২০ গোলের রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের পর ইউরো কাপে তার গোলসংখ্যা ১৪টি, পাশাপাশি বিশ্বকাপে করেছেন ৭টি গোল।

এ দুই টুর্নামেন্ট মিলে এতদিন ধরে সর্বোচ্চ ১৯ গোলের রেকর্ড ছিল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজার। ইউরো কাপের এবারের আসরে প্রথম তিন ম্যাচেই ৫ গোল করে সেই রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন রোনালদো।

এদিকে ফ্রান্সের বিপক্ষে রোনালদোর করা দুইটি গোলই ছিল পেনাল্টি থেকে। যার সুবাদে ইউরো কাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে জোড়া পেনাল্টি গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হয়ে গেছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের ঝলকে গ্রুপ সেরা বেলজিয়াম

অধিকাংশ সময়ে খেলা হলো ফিনল্যান্ডের সীমানায়। সেই অনুযায়ী বেলজিয়ামের হেসে-খেলে ম্যাচ জেতার কথা। কিন্তু ফিনিশরা তা সহজে হতে দেয়নি। রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ানদের আটকে রেখে ড্রয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে লুকাকু-হেজার্ডরা ঠিকই একপর্যায়ে গোল পেলো। দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের ঝলকে ফিনিশরা এলোমেলো!

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ‘বি’ গ্রুপে সোমবার (২১ জুন) রাতে নিজেদের শেষ ম্যাচে ফিনল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম।

একই সময়ে হওয়া অন্য ম্যাচে ডেনমার্ক ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়াকে। গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম ৯ ও ডেনমার্ক, রাশিয়া এবং ফিনল্যান্ড তিন পয়েন্ট করে পেয়েছে। তবে গোল পার্থক্যে (+১) ডেনমার্ক গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে বেলজিয়াম শুরু থেকে বল দখলে এগিয়ে। আক্রমণও কম হয়নি। কিন্তু প্রথমার্ধে কিছুতেই লক্ষ্যভেদ করা যায়নি। কোনও সময় ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায়। আবার কোনও সময় ফিনিশদের জমাট রক্ষণের কারণে। এ ছাড়া গোলকিপার রাদেখিও খেলেছেন দুর্দান্ত।

২২ মিনিটে ব্রুইনার ক্রসে লুকাকু শট নেওয়ার আগেই ক্লিয়ার করেন এক ডিফেন্ডার। ৩৩ মিনিটে ত্রোসার্ডের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। চার মিনিটে লুকাকুর হেড গোলকিপার তালুবন্দি করেন।

৪২ মিনিটে তুখোড় শট গোলকিপার বা দিকে ঝাঁপিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন।

বিরতির পরও বেলজিয়ামের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। ৬২ মিনিটে হেজার্ডের শট গোলকিপার ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন। তিন মিনিট পর ডি ব্রুইনার দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাড়ানো পাসে লুকাকু গোলকিপারকে হারিয়ে দেন। ভিএআর দেখে অফসাইডের কারণে গোলের বাঁশি বাজেনি। তবে বেলজিয়ানদের অপেক্ষার প্রহর কেটেছে। ৬ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল পেয়েছে।

৭৪ মিনিটে বেলজিয়াম ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। সতীর্থের কর্নার থেকে ভারমেলনের হেড পোস্টে লেগে গোলকিপারের রাদেখির হাত ছুঁয়ে গোললাইন অতিক্রম করে।

৮১ মিনিটে বেলজিয়ামের স্কোরলাইন ২-০ হয়। রোমেরো লুকাকু ডান পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান। এতেই ছিটকে যায় প্রথমবারের মতো ইউরোতে খেলতে আসা ফিনিশরা।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এম এউ, ২২ জুন

আর্জেন্টিনার জয়ে মেসির রেকর্ডআর্জেন্টিনার জয়ে মেসির রেকর্ড

দক্ষতার সবটুকু উজাড় করে দিয়ে কীভাবে ম্যাচ জিততে হয় তা বোধহয় লিওনেল মেসির জানা আছে। তাই হয়তো কোপা আমেরিকা মেসির জন্য আলাদা একটি মঞ্চ। গোল করো, গোল করাও, ম্যাচ জেতাও, দলকে এগিয়ে নাও, নিজে রেকর্ড গড়ো। মেসি যেন সে পথেই হাঁটছে। দেবদূতের মতোই খেলছেন এলএমটেন। কোপা আমেরিকার মঞ্চে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন মেসি। সঙ্গে নিজেও রেকর্ড গড়েছেন।

গতকাল ভোরে বাংলাদেশ সময় ৬টায় ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে আলেহান্দ্রো গোমেজের গোলে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে প্যারাগুয়েকে। মেসি গোল করেননি। কিন্তু এলএমটেন গোলের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন। দারুণ এক লড়াই হয়েছে। বেশি ব্যবধানে ম্যাচ জিততে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু গোল বাতিল করেন রেফারি।

মেসি নিজে গোলের খাতায় নাম না লিখলেও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোলের আর্কিটেক্ট তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন এই তারকা এলএমটেন। ১৪৭টি ম্যাচ খেলার গৌরব মাথায় তুলেছেন। এতদিন যেটি ছিল মাসচেরানোর নামে। তিনিও ১৪৭টি ম্যাচ খেলেছেন। আগামী মঙ্গলবার কোপার ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলে মেসি এককভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সবেচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিক হবেন। যদি আরো একটু এগিয়ে বলা যায় কোপায় আর্জেন্টিনা ফাইনাল পর্যন্ত উঠলে এবং মেসিও যদি খেলেন তাহলে মেসির হবে ১৫০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড।

চিলি বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের খেলা এত ঊষালগ্নে যারা দেখেছেন তারা মেসিকে আলাদা করে রেখেছেন। উচ্চ আসনে বসিয়ে আর্জেন্টিনার বাকি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিচার করেছেন। কাল ভোরেও মেসিই ছিলেন সব আকর্ষণ। মেসিকে কীভাবে আটকাবে তা নিয়ে প্যারগুয়ের নানা পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। হাত ধরে টেনে ফেলে দেওয়া, পায়ের গুঁতাগুঁতিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ফাঁদ তৈরি করা, সবই ছিল। তার পরও মেসি যেন দেবদূতের মতোই ক্ষিপ্রগতিতে ছুটছেনে। প্যারাগুয়ের গোল মুখে ডান দিক দিয়ে আক্রমণের সূত্র তৈরি করেন মেসি। বামপায়ে ডি মারিয়াকে নিখুঁত একটা পাস ঠেলে দেন। ডি মারিয়া বলটাকে নিয়েই থ্রু ঠেলেন গোমজেকে, ব্যস। গোমেজ আর কোথাও না তাকিয়ে প্যারাগুয়ের জালে জাড়িয়ে দেন ১-০।

প্যারাগুয়ে শপথ করে নেমে ছিল কোনোভাবেই আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দেবে না। যে দলে মেসি, ডি মারিয়াদের মতো আক্রমণভাগ থাকে সেখানে একটা কৌশলেই প্রতিপক্ষ কুপোকাত হতে পারে। বাকি ৮০ মিনিটে প্যারাগুয়ে আর সমতা আনার সুযোগ পায়নি। বরং বলতে হয় প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল ভার দেখে। অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

ডি মারিয়ার পাওয়ারফুলশট ফিরিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অ্যান্থনি সিলভা। ফিরতি বল পেয়ে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো প্যারাদেস গোমেজকে ঠেলে দেন। গোমেজ সেই বল ধরে গোল করলেও সেটি অফসাইডের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তবে আর্জেন্টিনার দর্শক সেটি মেনে নেবেন না। অনেকেই এই সিদ্ধান্তটাকে বিতর্কিত মনে করছেন। এবার নিয়ে শেষ ২৩ বারের মুখোমুখিতে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি প্যারাগুয়ে।

Developed by: