বিভাগ: খেলাধুলা

উরুগুয়েকে বিদায় করে সেমিফাইনালে কলম্বিয়া

কোপা আমেরিকায় কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে গোলশুন্য ড্র করে উরুগুয়ে। কিন্তু টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের জয়ে উরুগুয়েকে বিদায় করে সেমিফাইনালে স্থান করে নিয়েছে কলম্বিয়া।

বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোরে এ জয় পায় কলম্বিয়া। গোলকিপার ডেভিড ওসপিনা কলম্বিয়ার টাইব্রেকার জয়ের নায়ক। উরুগুয়ের দুটি শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। মাতিয়াস ভিনা ও হোসে হিমিনেজকে লক্ষ্যভেদ করতে দেননি তিনি।

ডেভিড ওসপিনা আজকের ম্যাচটি দিয়ে কার্লোস ভালদেরামাকে টপকে কলম্বিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও (১১২ ম্যাচ) গড়লেন।

মাঠে দুই দল প্রচুর পাস খেললেও গোলের সুযোগ সেভাবে তৈরি করতে পারেনি। উরুগুয়ে তারকা লুইস সুয়ারেজ প্রথমার্ধে মোটেও ভালো খেলতে পারেননি। বক্সের মধ্যে সহজাত দক্ষতায় গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।

তবে দুই দল যে গোলপোস্ট তাক করে শট নেওয়ার চেষ্টা করেছে। উরুগুয়ে ৭টি শট নিয়ে ৩টি গোলপোস্টে রাখতে পেরেছে। কলম্বিয়ার ৩টি শট গোলপোস্টে রাখতে ৯টি শট নিতে হয়েছে।

বিরতির পর কলম্বিয়া ৫১ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে। আর ৪৯ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে উরুগুয়ে।

ইত্তেফাক/এএএম

মেসির জাদুতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

এক লিওনেল মেসি ছাড়া নাকি আর্জেন্টিনা দলে কিচ্ছু নেই। আর্জেন্টিনার সমালোচকরা বলেন এমন কথা। কথাটা যে একেবারে ভিত্তিহীন তাও কিন্তু না। ইকুয়েডরকে আর্জেন্টিনা হারালো ৩ গোলে, সবগুলোতেই অবদান ওই এক মেসির।

মেসির জাদুতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনাপ্রথমার্ধ্বে ডি পলকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। পাস দিয়েছিলেন নিকো গঞ্জালেসকে। তাকে ঠেকাতে ছুটে আসেন ইকুয়েডর গোলকিপার। বল চলে যায় মেসির পায়ে। চাইলে নিজেই শট নিতে পারতেন। ফাঁকায় দাঁড়ানো দি পলের দিকে বলটা বাড়িয়ে দিলেন ক্ষুদে জাদুকর। ঠান্ডা মাথায় জালে জড়ান দি পল।

শেষমুহুর্তে লওতারো মার্টিনেজের গোলটাও এসেছে মেসির পাস থেকেই। একেবারে শেষ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে নিজেও তুলে নিলেন একটি গোল।

ডি পলের প্রথম গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা

এর আগে বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন নিকো গঞ্জালেস, লওতারো মার্টিনেজরা। গোলকিপারকে ওয়ান টু ওয়ান পেয়েও গোল করতে পারেননি মেসিও। তবে শেষপর্যন্ত বড় জয় নিয়েই সেমিফাইনালে পা রাখলো আলবিসেলেস্তারা।

নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে চেক রিপাবলিক

পুসকাস অ্যারেনায় কমলা উৎসব হয়নি। সব আলো কেড়ে নিয়েছে চেকরা। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে চেক রিপাবলিক।

রোববার (২৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া এই খেলায় চেক রিপাবলিক ২-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

কোয়ার্টার ফাইনালে চেক রিপাবলিক মুখোমুখি হবে ডেনমার্কের। প্রথমার্ধে গোল শূন্য ড্র-তে খেলার ইতি ঘটে। দ্বিতীয়ার্ধ আসতেই খেলার অন্য রং নেয়। চেকরা চেপে ধরে ডাচদের। লাল কার্ড দেখে ডি লিট মাঠের বাইরে গেলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ডাচরা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ডি লিট মাঠের বাইরে যাওয়ার ১৩ মিনিট না যেতেই গোল খেয়ে বসে নেদারল্যান্ডস। ফ্রি কিক থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে চেকদের এগিয়ে দেন হোলস।

এর মিনিট ১২ পর আবারো গোল পেয়ে যায় চেকরা। মাঝ মাঠে হোলস বল দখলে নিয়ে বাড়ান উইনালডামের কাছে। উইনালডাম ডি বক্স পর্যন্ত নিয়ে এসে ঠেলে দেন দৌড়ে আসতে থাকা শ্রিকের দিকে। দারুণ দক্ষতায় গোল দিতে ভুল করেননি শ্রিক।

সর্বশেষ ৭ ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই জিতেছে চেক রিপাবলিক। তার মধ্যে ২০০৮ সালের ইউরোর ম্যাচও রয়েছে। সেবার ৩-২ গোলে জিতেছিল চেকরা। এবার জয় ২-০ গোলে।

সূত্র : রাইজিংবিডি

জন্মদিনে মেসিকে নিয়ে গান, সতীর্থদের উদযাপন

৩৪-এ পা রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। পৃথিবীব্যাপী কোটি ভক্ত নানা মাধ্যমে এ দিনে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাকে। বাদ যান নি তার সতীর্থরাও। জন্মদিনের শুরুর ক্ষণে তাকে ঘুম থেকে তুলে চমকে দিয়েছেন অ্যাগুয়েরো-ডি মারিয়ারা। ওদিকে, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ব্যান্ড লস পালমেরাস মেসিকে নিয়ে বানিয়েছেন গান। সেটি আবার নিজের ভেরিফাইড পেইজে শেয়ারও দিয়েছেন লিও। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অগণিত সমর্থকদের প্রতি।

বর্তমানে আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা খেলছেন মেসিরা। থাকছেন ব্রাজিলে নিজেদের টিম হোটেলে। রাতে হুট করেই তার রুমে ডি মারিয়া, পারেদেসদের হানা। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম তারকাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হন সবাই। সঙ্গে নানান উপহার সামগ্রী। সবাইকে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন মেসি। এমনই একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বত্র।

এদিকে, মেসির জন্মদিনে তাকে নিয়ে একটি গান বানিয়েছে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ব্যান্ড লস পালমেরাস। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ব্যান্ডটি বানিয়েছে একটি মিউজিক ভিডিও। সেটি আবার পৌঁছানো হয়েছে মেসির কাছে। নিজের পেইজে সেটি শেয়ারও দিয়েছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

মেসি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সবার প্রতি। নিজের পোস্টে লিখেছেন, ধন্যবাদ জানাতে চাই লস পালমেরাস এবং সেই সব বন্ধুদের যারা দারুণ এই ভিডিওটিতে যোগ দিয়েছেন। ধন্যবাদ তাদের অভিনন্দন বার্তার জন্য। এটি দেখে বেশ অবাক হয়েছি, অনেক ভালো লেগেছে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ!

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন রোনালদো

এবারের ইউরো কাপে যেন রেকর্ড গড়ার খেলায় মেতেছেন পর্তুগালের সবচেয়ে বড় তারকা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রতি ম্যাচেই গড়ছেন একের পর এক রেকর্ড। যার ধারাবাহিকতায় গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জোড়া গোলের মাধ্যমে করলেন বিশ্ব রেকর্ড।

মঙ্গলবার রাতে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে নকআউটের টিকিট পাইয়ে দিয়েছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনালদো। এর আগে হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও করেছিলেন জোড়া গোল। পরে জার্মানির সঙ্গে স্কোরশিটে নাম তুলেছেন একবার।

টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচেই পাঁচ গোলের সুবাদে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ১০৯টি। তিনিই এখন যুগ্মভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ইরানের আলি দাইয়ের করা ১০৯ গোলের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে এ দুজনের চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি আর কেউ।

আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। সেই ম্যাচে মাত্র একটি গোল করতে পারলেই এককভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে একশর বেশি গোল করা ফুটবলার এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র আলি দাই এবং রোনালদো।

সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড ছাড়াও ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলে ২০ গোলের রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের পর ইউরো কাপে তার গোলসংখ্যা ১৪টি, পাশাপাশি বিশ্বকাপে করেছেন ৭টি গোল।

এ দুই টুর্নামেন্ট মিলে এতদিন ধরে সর্বোচ্চ ১৯ গোলের রেকর্ড ছিল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজার। ইউরো কাপের এবারের আসরে প্রথম তিন ম্যাচেই ৫ গোল করে সেই রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন রোনালদো।

এদিকে ফ্রান্সের বিপক্ষে রোনালদোর করা দুইটি গোলই ছিল পেনাল্টি থেকে। যার সুবাদে ইউরো কাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে জোড়া পেনাল্টি গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হয়ে গেছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের ঝলকে গ্রুপ সেরা বেলজিয়াম

অধিকাংশ সময়ে খেলা হলো ফিনল্যান্ডের সীমানায়। সেই অনুযায়ী বেলজিয়ামের হেসে-খেলে ম্যাচ জেতার কথা। কিন্তু ফিনিশরা তা সহজে হতে দেয়নি। রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ানদের আটকে রেখে ড্রয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে লুকাকু-হেজার্ডরা ঠিকই একপর্যায়ে গোল পেলো। দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের ঝলকে ফিনিশরা এলোমেলো!

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ‘বি’ গ্রুপে সোমবার (২১ জুন) রাতে নিজেদের শেষ ম্যাচে ফিনল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম।

একই সময়ে হওয়া অন্য ম্যাচে ডেনমার্ক ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়াকে। গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম ৯ ও ডেনমার্ক, রাশিয়া এবং ফিনল্যান্ড তিন পয়েন্ট করে পেয়েছে। তবে গোল পার্থক্যে (+১) ডেনমার্ক গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে বেলজিয়াম শুরু থেকে বল দখলে এগিয়ে। আক্রমণও কম হয়নি। কিন্তু প্রথমার্ধে কিছুতেই লক্ষ্যভেদ করা যায়নি। কোনও সময় ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায়। আবার কোনও সময় ফিনিশদের জমাট রক্ষণের কারণে। এ ছাড়া গোলকিপার রাদেখিও খেলেছেন দুর্দান্ত।

২২ মিনিটে ব্রুইনার ক্রসে লুকাকু শট নেওয়ার আগেই ক্লিয়ার করেন এক ডিফেন্ডার। ৩৩ মিনিটে ত্রোসার্ডের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। চার মিনিটে লুকাকুর হেড গোলকিপার তালুবন্দি করেন।

৪২ মিনিটে তুখোড় শট গোলকিপার বা দিকে ঝাঁপিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন।

বিরতির পরও বেলজিয়ামের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। ৬২ মিনিটে হেজার্ডের শট গোলকিপার ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন। তিন মিনিট পর ডি ব্রুইনার দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাড়ানো পাসে লুকাকু গোলকিপারকে হারিয়ে দেন। ভিএআর দেখে অফসাইডের কারণে গোলের বাঁশি বাজেনি। তবে বেলজিয়ানদের অপেক্ষার প্রহর কেটেছে। ৬ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল পেয়েছে।

৭৪ মিনিটে বেলজিয়াম ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। সতীর্থের কর্নার থেকে ভারমেলনের হেড পোস্টে লেগে গোলকিপারের রাদেখির হাত ছুঁয়ে গোললাইন অতিক্রম করে।

৮১ মিনিটে বেলজিয়ামের স্কোরলাইন ২-০ হয়। রোমেরো লুকাকু ডান পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান। এতেই ছিটকে যায় প্রথমবারের মতো ইউরোতে খেলতে আসা ফিনিশরা।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এম এউ, ২২ জুন

আর্জেন্টিনার জয়ে মেসির রেকর্ডআর্জেন্টিনার জয়ে মেসির রেকর্ড

দক্ষতার সবটুকু উজাড় করে দিয়ে কীভাবে ম্যাচ জিততে হয় তা বোধহয় লিওনেল মেসির জানা আছে। তাই হয়তো কোপা আমেরিকা মেসির জন্য আলাদা একটি মঞ্চ। গোল করো, গোল করাও, ম্যাচ জেতাও, দলকে এগিয়ে নাও, নিজে রেকর্ড গড়ো। মেসি যেন সে পথেই হাঁটছে। দেবদূতের মতোই খেলছেন এলএমটেন। কোপা আমেরিকার মঞ্চে আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন মেসি। সঙ্গে নিজেও রেকর্ড গড়েছেন।

গতকাল ভোরে বাংলাদেশ সময় ৬টায় ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে আলেহান্দ্রো গোমেজের গোলে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে প্যারাগুয়েকে। মেসি গোল করেননি। কিন্তু এলএমটেন গোলের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন। দারুণ এক লড়াই হয়েছে। বেশি ব্যবধানে ম্যাচ জিততে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু গোল বাতিল করেন রেফারি।

মেসি নিজে গোলের খাতায় নাম না লিখলেও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোলের আর্কিটেক্ট তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন এই তারকা এলএমটেন। ১৪৭টি ম্যাচ খেলার গৌরব মাথায় তুলেছেন। এতদিন যেটি ছিল মাসচেরানোর নামে। তিনিও ১৪৭টি ম্যাচ খেলেছেন। আগামী মঙ্গলবার কোপার ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলে মেসি এককভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সবেচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিক হবেন। যদি আরো একটু এগিয়ে বলা যায় কোপায় আর্জেন্টিনা ফাইনাল পর্যন্ত উঠলে এবং মেসিও যদি খেলেন তাহলে মেসির হবে ১৫০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড।

চিলি বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের খেলা এত ঊষালগ্নে যারা দেখেছেন তারা মেসিকে আলাদা করে রেখেছেন। উচ্চ আসনে বসিয়ে আর্জেন্টিনার বাকি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিচার করেছেন। কাল ভোরেও মেসিই ছিলেন সব আকর্ষণ। মেসিকে কীভাবে আটকাবে তা নিয়ে প্যারগুয়ের নানা পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। হাত ধরে টেনে ফেলে দেওয়া, পায়ের গুঁতাগুঁতিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ফাঁদ তৈরি করা, সবই ছিল। তার পরও মেসি যেন দেবদূতের মতোই ক্ষিপ্রগতিতে ছুটছেনে। প্যারাগুয়ের গোল মুখে ডান দিক দিয়ে আক্রমণের সূত্র তৈরি করেন মেসি। বামপায়ে ডি মারিয়াকে নিখুঁত একটা পাস ঠেলে দেন। ডি মারিয়া বলটাকে নিয়েই থ্রু ঠেলেন গোমজেকে, ব্যস। গোমেজ আর কোথাও না তাকিয়ে প্যারাগুয়ের জালে জাড়িয়ে দেন ১-০।

প্যারাগুয়ে শপথ করে নেমে ছিল কোনোভাবেই আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দেবে না। যে দলে মেসি, ডি মারিয়াদের মতো আক্রমণভাগ থাকে সেখানে একটা কৌশলেই প্রতিপক্ষ কুপোকাত হতে পারে। বাকি ৮০ মিনিটে প্যারাগুয়ে আর সমতা আনার সুযোগ পায়নি। বরং বলতে হয় প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল ভার দেখে। অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

ডি মারিয়ার পাওয়ারফুলশট ফিরিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অ্যান্থনি সিলভা। ফিরতি বল পেয়ে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো প্যারাদেস গোমেজকে ঠেলে দেন। গোমেজ সেই বল ধরে গোল করলেও সেটি অফসাইডের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তবে আর্জেন্টিনার দর্শক সেটি মেনে নেবেন না। অনেকেই এই সিদ্ধান্তটাকে বিতর্কিত মনে করছেন। এবার নিয়ে শেষ ২৩ বারের মুখোমুখিতে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি প্যারাগুয়ে।

দক্ষিণ সুরমায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম হবে: ইউএনও

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল হক বলেছেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় শীঘ্রই শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের কার্যক্রম শুরু করতে উপজেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। মোগলাবাজার হাই স্কুল খেলার মাঠে আমরা স্থায়ী সংস্কার কাজের ব্যবস্থা নেব যাতে সব সময় উপজেলার পক্ষ থেকে এই মাঠ রক্ষার্থে উন্নয়ন বরাদ্দ পায়। উপজেলার খেলাধুলায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মেম্বার সহ পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। খেলাধুলার প্রতি আমাদের আন্তরিকতা অব্যাহত থাকবে।
 
তিনি মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকেলে মোগলাবাজার ইউপি মিলনায়তনে সিলেটে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাল ফুটবল টুর্নামেন্ট (অনু: ১৭-২০২১) উপজেলা পর্যায়ে মোগলাবাজার ইউনিয়ন দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৮নং মোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম সাইস্তার সভাপতিত্বে ও সচিব রঙ্গেশ কুমার দাসের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক শমশের জামাল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক শমশের জামাল বলেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের যারা খেলাধুলায় জড়িত তাদের পাশে আমি আছি, আমি থাকবো। আমার সামর্থ অনুযায়ী সব সময় খেলাধুলায় পৃষ্টপোষকতা করে যাবো। এই উপজেলার যাদের বিত্ত এবং চিত্ত আছে তাদের সবার উচিত অতীতের মতো সব সময় খেলাধুলায় পৃষ্টপোষকতা করে যাওয়া। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় আজকে যারা সংবর্ধিত হচ্ছেন তাদের প্রতি সব সময় আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব হোসেন, ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার  জুয়েল আহমদ, ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মকবুল হোসেন, ১নং ওয়ার্ড মেম্বার সমস উদ্দিন, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার জয়মনা বেগম, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড মেম্বা জ্যোৎন্সা রানী দাশ, ৮নং মোগলাবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহনুর মিয়া, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আলী আহমদ, ক্রীড়া সংগঠক লায়েক আহমদ,টিম ম্যানেজার রুহুল ইসলাম, আবু বক্কর, কোচ রুমেল আহমদ, সহকারি কোচ নাইম আহমদ প্রমুখ।

সংবর্ধিত যে খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন- আবু হানিফ, নাসিম আহমদ, আল আমিন তানভীর, জাবেদ, লিমন, মিজান, মিনহাজ, সামাদ, মঞ্জুর, রাহিম, সালাম, খালেদ, জাহেদ, রায়হান, সাহিদ, আমিনুল, মিনাজ, সাজু প্রমুখ।

খেলায় সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য, সিলেট ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতি ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ শমশের জামাল সংবর্ধিত দলের সবাইকে জার্সি প্রদান করেন।

পর্তুগালকে উড়িয়ে দিলো জার্মানি

হাঙ্গেরিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এবারের ইউরো শুরু করেছিলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। অন্যদিকে ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ০-১ গোলে হেরে শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি জার্মানদের। শেষ ষোলোয় খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ জিততেই হতো মুলারদের। মিউনিখে ঘরের মাঠে পর্তুগালকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ইউরোতে নিজেদের টিকিয়ে রাখলো জোয়াকিম লোর শিষ্যরা।

আজ রাতে ইউরোতে হাইভোল্টেজ ম্যাচে জার্মানির মুখোমুখি হয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় মুখোমুখি লড়াইয়ে নামে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। খেলা শুরুর ১৫ মিনিটের মাথায় পর্তুগালকে প্রথম লিড এনে দেন রোনালদো। এর আগে ৪বারের বিশ্বকাপজয়ী জার্মানির বিপক্ষে রোনালদো খেলেছেন ৪টি ম্যাচ। এই প্রথম গোলের দেখা পেলেন তিনি।

এরপর প্রথমার্ধের ৩৫ ও ৩৯ মিনিটে ২টি আত্মঘাতী গোল হজম করে বসে পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও ২ গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন হাভার্টজ ও গোজেনস। পরে ৬৭ মিনিটে রোনালদোর পাস থেকে ১টি গোল করে হারের ব্যবধান কমান পর্তুগালের দিয়েগো হোতা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হারের পর এই ম্যাচটা জার্মানির জন্য ছিলো প্রত্যাবর্তনের। ২৫ বছর আগে সবশেষ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল জার্মানরা। এরপর ২০০৮ সালে একবারই ফাইনাল খেলতে পেরেছিল তারা। এবার আবারো ট্রফির খোঁজে তারা।

অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় নেদারল্যান্ডস

গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল নেদারল্যান্ডস। ম্যাচে মেমফিস ডিপাই দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান ডেনজেল ডামফ্রিস।

বৃহস্পতিবার রাতে আমস্টারডামের ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনায় ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নেয় নেদারল্যান্ডস।
১১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন ডিপাই। অস্ট্রিয়ার ডাভিড আলাবা ডি-বক্সে ডামফ্রিসকে ফাউল করলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। আর সেখান থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি এই ফরোয়ার্ড।

বিরতির পর ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ডামফ্রিস। মাঝমাঠে ডিপাই বল বাড়ান ডোনিয়েল মালেনকে। এগিয়ে গিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে তিনি ডান দিকে পাস দেন ডামফ্রিসকে। কাছ থেকে তার নেওয়া শট গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।

আগামী সোমবার নর্থ মেসিডোনিয়ার মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস। একই সময়ে ইউক্রেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে অস্ট্রিয়া।

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

Developed by: