নার্সিং পেশার পাশাপাশি ধাত্রীপেশাকেও স্বীকৃতি দিতে একটি আইনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সেমাবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন, ২০১৪’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, ‘নার্সেস অ্যাক্ট-১৯৩৪’ এবং ‘নার্সিং কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৯৫২’ রহিত করে ‘বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অর্ডিনেন্স-১৯৮৩’ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেহেতু সামরিক শাসনামলের অর্ডিনেন্স পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করে বাংলায় করার জন্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ছিল, এজন্য ১৯৮৩ সালের অর্ডিনেন্স রহিত করে আইনটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
চিকিৎসক ও আইনজীবীদের মত মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল এবং বার কাউন্সিলে পেশাগত স্বীকৃতির প্রয়োজন হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই কাউন্সিল কোন সনদ বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি দেবে না। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ডিগ্রি দেবে সেগুলো কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। ডিগ্রি ব্যবহারের জন্য এ কাউসিলের প্রয়োজন হবে। আগেও এ আইন ছিল।
তবে আগে শুধু নার্সিংয়ের জন্য ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখন মিডওয়াইফারি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হিসেবে স্বাস্থ্যখাতে অবদান রাখছে, এজন্য মিডওয়াইফারি অন্তর্ভূক্ত করা হলো।
আগের আইনে ডিগ্রি স্বীকৃতির বিষয়টি না থাকলেও এখন আছে। স্বীকৃতির বিষয় কাউন্সিলের কার্যপরিধির মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসচিবকে সভাপতি করে এই কাউন্সিল গঠন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তরের প্রধান, শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এতে যুক্ত থাকবেন।
তবে কাউন্সিল অনেক বড় তাই স্বাস্থ্যসচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে।
আইনে নতুন তফসিলে বর্তমানে কোন কোন প্রতিষ্ঠান নার্সিং, মিডওয়াইফারি সনদ, ডিপ্লোমা ডিগ্রি দিয়ে থাকে, তারা কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বা সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানে অধিভূক্ত তার তালিকা আছে। শুধু তালিকাভূক্তদের ডিগ্রি কাউন্সিলে বিবেচিত হবে।
নতুন কোন প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বা আগ্রহী হলে আইনের সংশোধনের প্রয়োজন হবে না, কাউন্সিলে এ সংক্রান্ত ধারা আছে।
আইনে সরকারকে বিধি প্রণয়ন করার পাশাপাশি কাউন্সিলকে প্রবিধান তৈরী করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

