বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকীর হত্যাকারীদের ধরতে সরকারকে আগামী শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দিয়েছে ইসলামী ছাত্র সেনা। তারা জানায়, ওই সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার না করলে আগামী রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে প্রথম আলোকে এ কথা জানান ইসলামী ছাত্র সেনার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন রব্বানি। দুপুরে প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ছাত্র সেনার পক্ষ থেকে তিনি খুনিদের ধরতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দেন। পরে আলটিমেটামের সময় আবার বাড়ানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করছেন কি না, জানতে চাইলে জামালউদ্দিন রব্বানি বলেন, শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ধারণা করছি যে তারাই তাঁকে হত্যা করতে পারে।
সকাল থেকেই প্রেসক্লাব ও এর আশপাশে ইসলামী ছাত্র সেনা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে। বিকেল চারটার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইসলামী ছাত্র সেনা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল।
সকালে সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম শহরে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ হয়েছে। মুরাদপুর মোড় এলাকায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও তাঁর অনুসারীরা এ কর্মসূচি পালন করে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী তারা ওই এলাকায় অবস্থান করে। এ সময় অর্ধশতাধিক টায়ারে আগুন ও সড়কে প্রতিবন্ধক ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় গতকাল বুধবার রাতে শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকী খুন হন। দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে হাত-পা বেঁধে তাঁকে গলা কেটে খুন করে।
ফারুকী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (মতিন) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও আহলে সুন্নাতের নেতা ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ইসলামিক মিডিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন।
এই হত্যার প্রতিবাদে রাত নয়টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ফারুকীর ভাড়া বাসার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন মোহাম্মদপুরের তৈয়বিয়া কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার কয়েক শ শিক্ষার্থী। তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে স্লোগান দেন।