কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের বেশ কিছু উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকার ফলে প্রতিদিন নতুন করে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বর্তমানে সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন, ধলাই ও চেলানদীসহ জেলার বড় বড় নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক গ্রামে পানি প্রবেশ করায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আকস্মিক বন্যার ফলে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন নিচু এলাকার মানুষ। বন্যার কারণে বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তাঘাট, ফসলি ও কৃষি জমিতে পানি প্রবেশ করায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কোনো ধরণের সহযোগিতা পৌছায়নি। এদিকে, বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার আশংকা রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ২০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত শনিবার থেকে উপজেলাজুড়ে ভারী বর্ষণ শুরু হলে বন্যার পানি বাড়তে থাকে। গতকাল রোববার উপজেলার ধলাই নদীতে বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে উপজেলার আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যার পানিতে উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এতে বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ। কিন্তু এখন পর্যন্ত বন্যাদুর্গত এসব লোকজনের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণের নেই কোনো উদ্যোগ। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ এখন খাদ্য, বাসস্থান, ওষুধ এবং জ্বালানি তেলের সংকটে রয়েছেন। খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে বহু অসহায় মানুষ। রোববার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এ অবস্থায় উপজেলার অনেক সড়ক তলিয়ে গেছে । সেসব জায়গায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে নৌকা ও ভেলা। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার কমপক্ষে ২০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কানাইঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে কানাইঘাটের নিম্নাঞ্চল ক্রমশঃ প্ল¬াবিত হচ্ছে। গতকাল কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৩৯ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩শ’ হেক্টর আবাদি রোপা-আমন ফসলের মধ্যে প্রায় ১৪’শ হেক্টর রোপা-আমন এবং ১০ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ৬শ’ হেক্টর আবাদী জমির শাক-সবজি সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সুরমা নদীর উভয় তীরের ডাইকে ভাঙন দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। কোথাও ভাঙন দেখা দিলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গোয়াইনঘাট থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, পঞ্চম দফা বন্যায় আবারও প্ল¬াবিত হয়েছে উপজেলা। বন্যার পানিতে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলী জমি পানির নীচে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে মানুষ গৃহবন্দী হয়ে পড়ায় কৃষক ও শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে সব ধরণের যানবাহন রাস্তা দিয়ে উপজেলা সদরে প্রবেশ করতে পারছেনা। তাই, সাধারণ মানুষের ভুগান্তি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বৃহত্তম জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী দু‘টি প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ বন্ধ রয়েছে। এতে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বোনা আমন ও আমনের বীজতলা এবং পাকা আউশ ও ইরি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা ঢলে উপজেলার সবক‘টি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল রোববার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই বাড়ী থেকে লোকজন হাট বাজারেও বের হতে পারছেনা। এছাড়া, অফিস আদালতে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিলো কম। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী জানান, এবারের বন্যায় উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ সামগ্রীর জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জে বন্যার পানি বাড়ছে। গতকাল রোববার সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৭৫ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ও বুগলা ইউনিয়নে আড়াই হাজার হেক্টর রোপা, ৪০ হেক্টর পাকা ধান ও ৫০ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে গেছে। ফসলীর জমির মতো বন্যার কারণে শতাধিক বাড়ি ঘরও তলিয়ে গেছে। এদিকে গতকাল বিকেলে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভার মাধ্যমে ৫শ’ টন চাউলের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, পৌর মেয়র আইয়ুব বখত জগলু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবজিত সিংহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, পুলিশ সুপার হারুণ অর রশিদ, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা বেগম, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরশেদ জামান, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনুর আক্তার পান্না, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, এডভোকেট মতিউর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রবিউল লেইস রোকেস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ। সভায় বক্তারা বন্যা নিয়ে মানুষের মধ্যে যাতে কোনো ধরণের আতঙ্ক না ছড়ায় সেদিকে খেয়াল রেখে বন্যাকবলিত মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়ার জন্য জানানো হয়। ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ছাতকে আবারো বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দু’দিন বিরতির পর গত শনিবার রাত থেকে আবারো দ্রুত গতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন-নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুরমা ৩০ সে:মি:, চেলা ৫০ সে:মি: ও পিয়াইন নদীর পানি ৬০ সে:মি: বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের একাধিক গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ছাতক শহরের ছোরাবনগর এলাকায় পানি প্রবেশ করায় শতাধিক পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় রোপা আমন, ধানের চারা ও ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে পানিতে। এদিকে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় সুরমা নদীর দু’পারে অর্ধশতাধিক স্টোন ক্রাশার মিল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এফআইভিডিবি’র বাহাদুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংপাড় নোয়াকোট প্রাথমিক বিদ্যালয়, লুবিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিজগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াকোট মাদ্রাসা ও মুক্তিরগাঁও মাদ্রাসায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইছামতি ও ছনবাড়ি বাজারের কাঁচা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ছনবাড়ি সড়কের একটি কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন শাক-সবজির বাগান ও রোপা আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলার ভটেরখাল, বোকা নদী ও ডাউকি নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাতগাঁও, দোলারবাজার, জাউয়া, চরমহল্লা, কালারুকা, ছৈলা-আফজলাবাদ প্রভৃতি ইউনিয়নের ঘর-বাড়ি, কাঁচা রাস্তা ও ফসলাধির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, রোপা আমনের ৩শ’ ১৪হেক্টর বীজতলা ও ৩শ’ ৬৭হেক্টর ফসলী ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তাহিরপুর(সুনামগজ্ঞ) থেকে নিজস্ব সংবাদাতা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার উত্তর বড়দল ও বাদাঘাট ইউনিয়নে বিন্নাকুলি বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে দু‘শতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। নি¤œাঞ্চলের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। জানা যায়, বৈরী আবহাওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দফায় দফায় নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সীমান্ত নদী যাদুকাটা ও মাহারাম নদীতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সেইসাথে স্থানীয় অন্যান্য নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তাহিরপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া গ্রামগুলো হলো, বাদাঘাট ইউনিয়নের লামাশ্রম, রাজারগাঁও, লোহাজুড়ি ছড়ারপাড়,বিন্নাকুলিবাজার,উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চানপুর হাইস্কুল, জনতা হাইস্কুল, আমতৈল, রামেশ্বরপুর। প্লাবিত হয়েছে সদর লামাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,নতুন বাজার, জয়নাল আবেদীন কলেজ, পন্ডুপ বাজার, লামাগাও বাজার, এছাড়াও গ্রামীন রাস্তাঘাট,বক্স কালভার্ট ভেঙ্গে গ্রামীন যোগাযোগ বিনষ্ট হয়ে পেড়েছে। অপরদিকে হাওরাঞ্চলে দৈনন্দিন আয়ের মৎস্যজীবি জেলেরাও হাওর ও নদীতে মাছ ধরতে পারছে না। ফলে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলার হাটবাজার,স্কুল কলেজ অফিস আদালত ও ব্যাংকগুলোতে উপস্থিতি নেই বললেই চলে। দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, দোয়ারাবাজারে দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি হ্রাস পেতে না পেতেই আবারও প্লাবিত হয়ে পড়েছে লক্ষীপুর, নরসিংপুর, বগুলা, সুরমা ও দোয়ারা সদরসহ কয়েকটি ইউনিয়ন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সুরমা ইউনিয়নবাসীকে। পরপর দু’দফা বন্যার রেষ কাটতে না কাটতে আবারও গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর রোপা আমন ফসল, বীজতলা ও পাকা ইরি ক্ষেত বিনষ্ট হওয়ায় চোখে সর্ষেফুল দেখছেন কৃষকরা। এদিকে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ (ছাতক) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ প্রবল বর্ষণে ছাতকের দক্ষিণাঞ্চল আবারো প্লাবিত হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে আবারো দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি ইউনিয়নের নতুন-নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার কালারুকা, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছৈলা-আফজলাবাদ, ভাতগাঁও, সিংচাপইড়, দোলারবাজার, দক্ষিণ খুরমা, চরমহল্লা, উক্তর খুরমা ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব ইউনিয়নের একাধিক গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্কুল-মাদ্রাসায় পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রোপা আমন ধানের চারা ও ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। শাক-সবজির বাগান ও রোপা আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। মিত্রগাঁও সড়ক, চানপুর সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কের উপর পানি উঠে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ইউনিয়নের সাথে জেলা ও উপজেলার সড়ক যোগাযোগ যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য্য জানান, রোপা আমনের ৩শ’ ১৪ হেক্টর বীজতলা ও ৩শ’ ৬৭হেক্টর ফসলী ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

