সরকার খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তার পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া।
শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দলীয় এক সভায় বলেছেন, কোনো বিশৃঙ্খলা হলে খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হবে। দলীয় সভা থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে থেকে তিনি যেভাবে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন, এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ওপর হস্তক্ষেপ।”
রফিকুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি বিচার বিভাগের ক্ষমতা হাতে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। তাহলে আমরা সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।”
গত ২০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা বলেন, “আমি কখনোই গ্রেপ্তারে ভয় পাই না। আমি সরকারকে বলব, আমাকে বন্দি করার আগে নিজের রাস্তা পরিষ্কার করে রাখুন। নিজেদের পাসপোর্টে ভিসা লাগিয়ে রাখুন।”
জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ধানের শীষ সমর্থক ফোরাম’ আয়োজিত আলোচনা সভায় রফিকুল ইসলাম মিয়া অভিযোগ করেন, বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে।
“এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে চায়।”
তত্ত্বাবধায়কের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৭ হাজার ১০৩টি মামলা শেখ হাসিনার সরকার তুলে নিলেও বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন তরে ‘মিথ্যা’ মামলা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রফিকুল।
২০ দলে ভাঙ্গন ধরিয়ে শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’ গঠনকেও ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখছেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, “এরশাদের আমলেও দল ভাঙার নানারকম চক্রান্ত হয়েছিল। একটি দলের সভাপতি আরেকটি দলের সাধারণ সম্পাদক ভাগিয়ে গতকাল একটি জোট হয়েছে। কোনো লাভ নেই।
“আমরা বলতে চাই, দলছুটদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে ২০ দলীয় জোটকে ভাঙা যাবে না। এই জোট অক্ষুণ্ন আছে।”
জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের বাণী সরকার প্রকাশ করেনি বলেও অভিযোগ করেন রফিকুল।
তিনি বলেন, “ওই বাণীতে বান কি-মুন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী দেশের চলমান সঙ্কটজনক অবস্থা নিরসনে আলাপ-আলোচনার পরামর্শ দেন। ওই পরামর্শের কারণে তার বাণী ক্রোড়পত্রে দেয়া হয়নি বলে পত্রিকায় খবর এসেছে। এ থেকে বোঝা যায় সরকার কতো অসহিষ্ণু। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।’’
‘ধানের শীষ সমর্থক ফোরাম’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মাওলানা শোয়েব আহমেদ, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, ব্যারিস্টার রুহিন ফারহানা বক্তব্য দেন।