মোবাইল আার্থিক সুবিধা প্রদানে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল বলে উল্লেখ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, গত এক বছরে এ খাতে ১৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সোমবার হোটেল র্যাডিসনে কমনওয়েলথ দেশগুলোর টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলোর (সিটিও) ফোরামের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। এসময় বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো সমান সহযোগিতা করার জন্য উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয় এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৬০ ভাগ মানুষরে হাতে ইন্টারনেট তুলে দেয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) ৫৪তম কাউন্সিল সভার সাফল্য কামনা করে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, অনেকদিন ধরেই দেশটাকে ঘিরে চক্রান্ত চলছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রিকভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। এসবের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলছি। এ আয়োজন আমাদের আরো এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
সুনীল কান্তি বোস বলেন, দেশে বর্তমানে টেলিঘনত্ব ৭৮ শতাংশ। মাত্র ৫ শতাংশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীসহ এখন দেশের ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তবে ২০২১ সালে দেশের ৬০ ভাগ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে যার ৩০ ভাগ হবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।
কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রায় ৩০০ প্রতিনিধির অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন, মোবাইল প্রযুক্তি, থ্রিজি, মোবাইল ই-কমার্স, আউটসোর্সিং, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস, ডেটা রিভোলিউশন, বিগ ডাটা ইত্যাদি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি)।
‘আইসিটিস ফর ডেভেলপমেন্ট- ফ্রম এক্সেস টু ইনক্লুসিভ অ্যান্ড ইনোভেটিভ সার্ভিস’ প্রতিপাদ্যে ফোরামে মোবাইল ব্রডব্যান্ড নীতিমালা, সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধদমন, নেক্সট জেনারেশন নেটওয়ার্ক, কনটেন্ট ও এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ক্লাইমেট চেঞ্জ, আইপি টেকনোলজি, স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড, টেলিকম রেগুলাটরি ফ্রেমওয়ার্ক, শিক্ষা-যুবসমাজ ও আইসিটি ব্যবহার এবং গ্রিন টেকনোলজিসহ টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিবিধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানসহ মালাউয়ি, তানজানিয়া, নাইজেরিয়ার মন্ত্রী এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দেশের মন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

