বাংলাদেশ ও এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওর ইকো ট্যুরিস্টদের জন্য হতে পারে তীর্থস্থান। হাওরের সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি সৌন্দর্য্য পিপাসুদের জন্য নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার এবং বন্যপ্রাণী বিভাগের অফিস নজর কাড়বে যে কারো।
বন্যপ্রাণী বিভাগ সুত্রে জানাযায়, হাকালুকি হাওরের জাল্লা বিলের পাড়ে ৫৮ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে হাকালুকি হাওরে আসা সৌন্দর্য্য পিপাসুদের জন্য একটি ওয়াচ টাওয়ার এবং বন্য প্রাণী বিভাগের একটি অফিস নির্মাণ করা হচ্ছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সৌন্দর্য্য পিপাসুরা হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে পাবেন। বিশেষ করে শীতকালে বিকালের নরম রোদে হাওরে আসা অতিথি পাখিদের কলকাকলি উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বনবিভাগের একটি বিট অফিস ও স্টাফ ডরমেটরি নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বিট অফিসে একজন বিট অফিসার, বাগান মালি ও কয়েকজন ফরেস্ট গার্ড থাকবেন। বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পের কাজ চলতি অর্থ বছরে শেষ হবে বলে জানাযায়।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, হাকালুকি হাওর হতে পারে সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। কেননা বর্ষা মৌসুমে হাওরটি পরিণত হয় বিশাল সাগরে। বর্ষা মৌসুমে ট্যুরিস্ট বোটে করে বিশাল হাওর দর্শণ এবং হিজল করচের বাগান পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে হাওরে দেখা মিলবে অতিথি পাখিদের মিলন-মেলা। হিজল করচের বনে হারিয়ে যাওয়ার মজাই আলাদা। মাছ আহরণ, গরু মহিষের বাথান, সেই সাথে প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্য প্রকৃতি প্রেমীদের আকৃষ্ট না করে উপায় নেই।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ বিভাগ সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে এখানে একটি গেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া এতে বর্ষাকালে যাতায়াতের জন্য ইঞ্জিন নৌকা থাকবে। তবে এর পাশাপাশি একটি ট্যুরিস্ট বোট চালু করা হবে। যার ব্যবস্থাপনায় থাকবে স্থানীয় লোকজন। তবে কোনভাবে পরিবেশ বিপর্যয় যাতে না হয়, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা হবে।

