অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডেকে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। বিকেল চারটায় নিজ কার্যালয়ে ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দল ও জোটের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ‘নতুন বার্তা’ দেবেন। উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি সরকারের প্রতিও কিছু আহ্বান রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবরোধ বা হরতালের ক্ষেত্রে নাটকীয় কোনো সিদ্ধান্ত জানিয়ে আন্দোলনে নতুন বাঁক আনার কৌশল ঘোষণা করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ৫২ দিন পর আবার সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল ইত্তেফাককে বলেন ‘চলমান পরিস্থিতিতে দল ও জোটের অবস্থান ব্যাখ্যা করে খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরবেন। সেখানে চলমান আন্দোলনে জোটের নেতা-কর্মীদের হতাহত হওয়াসহ ব্যাপকহারে গ্রেফতার-নির্যাতনের বিস্তারিত চিত্রও তুলে ধরবেন তিনি। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে।’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। তার কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির জন্যও আদালতের নির্দেশ বহাল রয়েছে। এই অবস্থায় তাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়া হবে কি-না, তা নিয়ে অবশ্য এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে অবস্থানরত দলীয় নেতা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের। জানা গেছে, যদি সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়া না হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে লিখিত বক্তব্য বিবৃতি আকারে গণমাধ্যমকে বিতরণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় গত ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে পুলিশি বাধা পেয়ে গুলশান কার্যালয়ের ফটকের ভেতরেই দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন তিনি। এরপর কার্যালয়ের সামনে থেকে ইট-বালুর ট্রাক, ভ্যান ও জলকামানসহ অতিরিক্ত পুলিশ সরে যাওয়ার দিন, সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। ওইদিন জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীও ছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন।

