স্টাফ রিপোর্টার ঃ সিলেটের সাহিত্য ক্রীড়া সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রিয় মুখ, সজ্জন বিন¤্র ব্যক্তিত্ব প্রবীণ আইনজীবী এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী আর নেই। গতকাল বুধবার রাত ৮টা ৪০মিনিটে নগরীর একটি ক্লিনিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি…. রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭০ বছর। ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে গত মঙ্গলবার নগরীর একটি ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জামে মসজিদে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এডভোকেট আজিজুল মালিক চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ এর এজলাসে আজ দুপুর সাড়ে ১১টায় ফুলকোর্ট রেফারেন্স ও বাদ মাগরিব কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে এক শোক সভার আয়োজন করা হয়েছে। এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিচিতজন. বন্ধুবান্ধব স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই তার বাসায় তারা ভিড় জমান। এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী ১৯৪৫ সালের ১৬ জানুয়ারী সিলাম ইউনিয়নের চর মোহাম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মদনমোহন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মরহুম আবদুল মালিক চৌধুরী ও মরহুমা আছিয়া খাতুন চৌধুরীর বড়ো ছেলে। আজিজুল মালীক চৌধুরী লালাবাজার হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ সালে মেট্রিক, মদনমোহন কলেজ থেকে ১৯৬৩ সালে আইএ, ১৯৬৫ সালে এমসি কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করেন। তিনি ১৯৬৮ সালের ৪ ডিসেম্বর সিলেট জেলাবারে যোগদান করেন। একই বছর ১৮ নভেম্বর বার কাউন্সিলের সদস্য হন। তিনি সিলেট জেলা বার এসোসিয়েশনে ১৯৭৩ সালে যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৮৫ ও ১৯৮৭ সালে সেক্রেটারী এবং ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে সভাপতি, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী আজিজুল মালীক চৌধুরী আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আজিজুল মালীক চৌধুরী ১৯৮৩-৮৪ সালে সিলেট পৌরসভার সর্বশেষ ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬-৭৭ সালে বাংলাদেশ রেডক্রস সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারী ও ১৯৯০-৯৬ সালে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ১৯৯৪-৯৮ সালে সিলেট জেলা কারাগারের বেসরকারী পরিদর্শক ছিলেন। ১৯৭৭ ও ১৯৮১ সালে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, ২০০১-২০০৬ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট, ১৯৯৭-৯৮ সালে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সদস্য, ২০০২-২০০৫ সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট, ২০০২-২০০৬সালে বাংলাদেশ রাইফেলস ক্লাব সিলেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ২০১১-২০১৩ সালে টেনিস ক্লাব সিলেটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে এপেক্স ক্লাবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সারে জেলা গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আজিজুল মালিক চৌধুরী ১৯৯৪-৯৮ সালে বেসরকারী জেল পরিদর্শক, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কমিটি সিলেটের সদস্য, বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স সিলেটের সদস্য, কবি নজরুল অডিটোরিয়াম সিলেটের পরিচালনা কমিটির সদস্য, পায়রা সমাজ কল্যাণ সংঘ সিলেটের উপদেষ্টা, চাঁদের হাট ও স্বদেশ ফোরামের সভাপতি, শহর সমাজসেবা প্রকল্প সিলেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট, নূপুর সংগীতালয় ও নাট্যলোকের উপদেষ্টা, নিরাপদ সড়ক চাই সিলেট জেলা শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষকসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। নগরীর দরগামহল্লার ৭৪/২ পায়রার বাসিন্দা এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরী মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান। তার দুই ছেলে আজিজুল কবীর চৌধুরী, আজিজুল রাব্বী চৌধুরী এবং মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী জহরত আরা চৌধুরী। বড় ছেলে কবীর আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মরত এবং ছোট ছেলে রাব্বী শাবিপ্রবি থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। বিশিষ্ট আইনজীবী আজিজুল মালিক চৌধুরীর মৃত্যুতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেছেন। সিলেট-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি একে এম শমিউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অশোক পুরকায়স্থ আজিজুল মালিক চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি প্রফেসর মো. আবদুল আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মানিক এক বিবৃতিতে সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি এডভোকেট আজিজুল মালীক চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

