নয়াদিল্লি, ২০ মে- কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে এবার ত্রিপুরা আগরতলা পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর অনুমতি দিতে চলেছে বাংলাদেশ।
দিল্লি সফররত বাংলাদেশের যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদসংস্থা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঢাকা সফরেই সম্ভবত এ নিয়ে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হবে। এ ছাড়াও মন্ত্রী জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে মেঘালয়ের শিলং হয়ে অসমের রাজধানী গুয়াহাটি পর্যন্ত একটি বাস সার্ভিসের একটি পরীক্ষা চালানো হবে ২২শে মে। বাসে সাধারণ যাত্রী ছাড়াও মি কাদের নিজে এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণও থাকবেন। পরীক্ষা সফল হলে, জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সফরের সময় এই পথে বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এই দুটো রুট ছাড়াও দুদেশের মধ্যে আরও চারটি নতুন বাস রুট চালু করার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে বলে ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত ট্রানজিট?
ভারতের মূল ভূখণ্ড দিয়ে সড়কপথে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে গেলে প্রায় তিন দিনের ধাক্কা। অথচ ঢাকা হয়ে যেতে পারলে সেই যাত্রার সময়টাই নেমে আসবে চব্বিশ ঘণ্টারও কমে। তবে এজন্য বাংলাদেশকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিতে হবে ভারতীয় বাসকে। কিন্তু সেই ট্রানজিটের দাবিটাই এতদিন আটকে ছিল কূটনীতির জটে, যা অবশেষে এখন খুলতে যাচ্ছে।
দিল্লিতে ভারতের পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গডকড়ির সঙ্গে গত সোমবার দীর্ঘ বৈঠকের পর বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন সেই কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস পরিষেবা অবশেষে সবুজ সংকেত পাচ্ছে।
বাংলাদেশ যোগাযোগমন্ত্রী কাদের আরও জানিয়েছেন, “কলকাতা-ঢাকা বাস চালু হয়েছিল ১৯৯৯তে, আর আগরতলা-ঢাকা বাস চালু হয় ২০০৩ সালে। দুটো রুটেই যাত্রীদের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখেই আমরা এবার কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস চালু করার কথা ভেবেছি। খুব শিগগিরি এর জন্য খসড়া বিবৃতি তৈরি হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি, এবং নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন সফরেই বোধহয় এ ব্যাপারে চুক্তি হয়ে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও এটাই চাইছিলেন।”
পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা, ভারতের এই দুটো রাজ্যই এই সরাসরি বাস পরিষেবায় সবচেয়ে লাভবান হবে।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার গত সপ্তাহেই দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঠিক এই দাবিটাই জানিয়েছিলেন – যাতে ত্রিপুরার মানুষ সরাসরি বাসে কলকাতা যেতে পারেন এবং ঢাকায় তাদের বাস বদলাতে না হয়।
ওবায়দুল কাদের অবশ্য রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ট্রানজিট শব্দটাকে সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছেন – তিনি এটাকে বর্ণনা করেছেন পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট বা দুদেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ হিসেবে। আর সেই সংযোগের আরও একটি নিদর্শন হিসেবে অচিরেই চালু হতে যাচ্ছে ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিসও।
নতুন নতুন বাস রুট
ভারত-বাংলাদেশের এই বাস-কূটনীতি এতেই থেমে থাকছে না, আরও নতুন নতুন রুটে তা সম্প্রসারিত করা যায় কি না তা নিয়েও ইতিমধ্যেই দুদেশের আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
মি কাদের বলেছেন, দুদেশের মধ্যে জনপ্রিয় হতে পারে – এমন আরও অন্তত চারটি রুট তাদের বিবেচনায় আছে।
নতুন এই রুটগুলো হল কলকাতা-চট্টগ্রাম, শিলং-চট্টগ্রাম, খুলনা-কলকাতা ও যশোর-কলকাতা।

