১১৬তম জন্মদিনে স্বজনদের সঙ্গে জেরালীন টালী (বামে)। ছবিটি শনিবার (২৩ মে ২০১৫) মিশিগানের ইঙ্কস্টার রেস্তোরাঁ থেকে তোলা। ছবি: রয়টার্সরাইট ভ্রাতৃদ্বয় (উইলবার রাইট ও অরভিল রাইট) প্রথম বিমানটি নিয়ে যখন আকাশে উড়াল দিলেন তখন জেরালিন টালির বয়স ছিল চার বছর। ১৩ বছর বয়সে শুনলেন, আটলান্টিকে টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার ভয়াবহ ঘটনার কথা। শুধু তাই নয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে আফগান-ইরাক যুদ্ধেরও সাক্ষী তিনি। সেই জেরালিন টালি এখন বিশ্বের প্রবীণতম নারী। গতকাল শনিবার ১১৭ বছরে পা দিয়েছেন তিনি।
এই ১১৭ বছরেও জেরালিন সচেতনভাবে আশপাশের খোঁজখবর রাখতে পারেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
দ্য ইউএস টুডে পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯৯ সালের ২৩ মে জর্জিয়াতে জন্ম নেওয়া জেরালিন ১৯৩৫ সাল থেকে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০০ সালের আগে জন্ম নিয়ে বেঁচে আছেন, বিশ্বের এমন তিনজনের মধ্যে জেরালিন একজন। ১৮০০ শতকে জন্ম নেওয়া অপর দুই জীবিত ব্যক্তি হলেন জর্জিয়ার সুসানা মুসহাত ও ইতালির এমা মোরাতো।
এবারে জেরালিন টালির জন্মদিনটি বেশ ঘটা করেই পালন করা হয়। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে নগরীর স্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ বিভাগ থেকে নগদ অর্থে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। নগরীর মেয়রসহ স্থানীয় আইনপ্রণেতারাও ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন শতায়ু এই নারীকে। দুই বছর আগে অবশ্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চিঠি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তাঁকে।
নিজের দীর্ঘায়ু হওয়া নিয়ে তেমন কিছু বলেন না জেরালিন টালি। ঈশ্বরের ইচ্ছাকেই দীর্ঘায়ুর কারণ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর স্বজনেরা জানান, জেরালিন সব সময় বলেন, অন্যের প্রতি তেমন আচরণ করো, ঠিক যেমন আচরণ তুমি অন্যের কাছ থেকে আশা করো।
মানুষের দীর্ঘায়ু নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও জেরেনটোলজী বিশেষজ্ঞদের মতে, ১১০ বছরের বেশি বেঁচে আছেন, বিশ্বে এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ৪৭ জন। এর মধ্যে ৪৫ জনই নারী। বিশ্বের জীবিত দুই প্রবীণতম পুরুষ হচ্ছেন জাপানের জাকারি মোমি ও ইয়াসুতরো কইডি। তাঁদের দুজনেরই বয়স এখন ১১২ বছর। ফ্রান্সের জেনি ক্যালমেন্ট সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে ছিলেন। ১৯৯৭ সালে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২২ বছর ১৬৪ দিন।

