এক মাস সিয়াম সাধনার পর যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়েছে। এটি মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছিল বৃষ্টি। তাই বৃষ্টিতে ভিজেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে মুসল্লিদের।
জামাতে শরিক হন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। এ ছাড়া শরিক হন মুসলিম দেশগুলোর কূটনীতিকেরা।
ঈদের জামাতে দেশ ও দেশের জনগণের শান্তি, উন্নয়ন ও কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নামাজের পর মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছাবিনিময় করেন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও ঈদের কয়েকটি জামাত হয়। জাতীয় ঈদগাহ ও জাতীয় মসজিদে নারীদের নামাজের জন্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থা।
প্রতিবারের মতো এবারও দেশের ঈদুল ফিতরের বৃহত্তম জামাতের আয়োজন করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে।
‘সেমাইয়ের ঈদ’ নামে প্রচলিত এই ঈদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকছে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও-কোরমাসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। বিশেষ আয়োজন থেকে বাদ যাবেন না রোগী, বন্দী বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মীরাও।
ঈদ উপলক্ষে দেশের হাসপাতাল, এতিমখানা ও বন্দীদের জন্য কারাগারগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। সরকারি শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে কল্যাণকেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণকেন্দ্রেও রয়েছে বিশেষ খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা।
বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত অনুষ্ঠিত
গুড়িগুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৭টায় ঈদের প্রথম জামাত, সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত, সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাত, সকাল ১০টায় চতুর্থ এবং বেলা পৌনে ১১টায় সর্বশেষ জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্যে প্রথম জামাতে ইমামতি করেন- বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মহিব্বল্লাহিল বাকী নদভী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন- বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। তৃতীয় জামাতে ইমামতি করেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক হাফেজ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান। চতুর্থ জামাতে ইমামতি করেন- বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন কাশেম এবং সর্বশেষ জামাতে ইমামতি করেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
এদিকে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত শেষ হয়েছে সকাল সাড়ে ৮টায়।
এতে ইমামতি করেন- চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের খতিব অধ্যাপক মাওলানা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী।
সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, বিচারপতি, সচিবসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ ঈদের জামাতে শরিক হন।
নামাজ শেষে দেশ ও বিশ্বমুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও মোনাজাতে দেশে থেকে চিরতরে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হয়।
প্রতিবারের ন্যায় এবারো বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং জাতীয় ঈদগাহে নারী মুসল্লিদের নামাজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।
সর্বস্তরের মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের সকালে গণভবনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে গণভবনের ভেতরে তৈরি প্যান্ডেলের মঞ্চে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
তার সঙ্গে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, পুত্রবধূ ক্রিস্টিনা ওভারমায়ার, মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ ও মেয়েজামাই খন্দকার মাসরুর হোসেন রয়েছেন।
প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও তাদের শুভেচ্ছা জানান।
পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চ আদালতের বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম ও সহযোগী সংগঠনের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, এতিম-দুস্থ, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।
আওয়ামী লীগ নেতা সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, দীপু মনি, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, সাংসদ মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
গণভবনে অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

