রাজন হত্যা: ওসি ক্লোজ, ২ এসআই বরখাস্ত

o-c-alomgir-and-s-i-zakir-250x300সিলেটে নির্মম নির্যাতনে শিশু সামিউল আলম রাজনের মৃত্যুর ঘটনার পর আসামিদের পালাতে সহযোগীতা করার দায়ে জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ও জাকির আহমদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে ওসি তদন্ত আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ও সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জড়িত পুলিশকে ছাড় দেওয়া হবে না মর্মে দেওয়া বক্তব্যের ৫ ঘন্টা পর পুলিশের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমত উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তে রাজন হত্যার ঘটনায় তাদের গাফিলতি পাওয়া গেছে। তাই ওসি আলমগীরকে প্রত্যাহার, এসআই আমিনুল ও জাকিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব পুলিশ সদস্যদের নাম এসেছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। শুক্রবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, সিলেটের শিশু রাজন হত্যায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে যে সব পুলিশ সদস্যদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তদন্ত কমিটি সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে ৪২৪ পৃষ্টার প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা ও উপ কমিশনার মুশফিকুর রহমান। রাজন হত্যার পর আসামিদের বাঁচানোর চেষ্টা, মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি ও নিহত রাজনের বাবার সঙ্গে পুলিশের খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১৪ জুলাই এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন এসএমপি পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান।
রাজন হত্যাকান্ডের পর তার বাবা আজিজুর রহমান ও স্বজনরা থানায় মামলা করতে যান। ওইদিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত ) আলমগীর হোসেন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের পরই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে এসআই আমিনুলকে জালালাবাদ থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
মুখ খুলতে নারাজ কমিটির সদস্যরা
শিশু রাজন হত্যার ৪২৪ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টে কি আছে-এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় এসএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকন উদ্দিন তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তবে, রিপোর্টের ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ তদন্ত কমিটির প্রধানসহ কমিটির অপর দুই সদস্য। তদন্ত কমিটির প্রধান এসএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকন উদ্দিন বলেন, ২য় দফা সময় বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার রাতেই তারা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন। এর বাইরে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই বুধবার সকালে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের শিশু রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। নিহত সামিউল আলম রাজনের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামে। রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান পেশায় একজন প্রাইভেট কার চালক। তার দুই ছেলের মধ্যে রাজন বড়। অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা সামিউল সবজি বিক্রি করত।

Developed by: