কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতিতে সিলেটী ছাত্র নেতাদের পদচারণা অনেক আগে থেকেই। এবার কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতিতে সিলেটী আরো এক নাম যুক্ত হল জাকীর হোসেন। ডাকসুর সাবেক ভিপি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর পর রোববার সারা দেশের কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন কান্ডারি নির্বাচিত করলেন সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার জাকির হোসেন কে।
দেশের শীর্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে প্রথমে সিলেটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। তারপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ঢাকার রাজপথে কাঁপান এম ইলিয়াস আলী। এখন আবার নতুন প্রজন্মের নেতা হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন আরেক সিলেটি জাকির হোসেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেয়া সিলেটের সাবেক দু’নেতা ছাত্র রাজনীতির পর হাল ধরেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ পদে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ছাত্র রাজনীতির পরবর্তীতে মৌলভীবাজার- ২ (কুলাউড়া) হয়েছেন সংসদ সদস্য। এম ইলিয়াস আলী সিলেট- ২ আসন (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ) এর এমপি পদেও দু বার নির্বাচিত হন।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের নতুন সাধারণ সম্পাদক পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হতে পারেন কিনা ভবিষ্যতে সেটিই দেখার বিষয়।
তবে ছাত্রলীগের সাবেক কান্ডরি ঢাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বর্তমানে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অনেকাটা কোন ঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম ইলিয়াস আলী গত ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
রোববার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি ও জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তারা আগামী দু’বছর মেয়াদে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনটির নেতৃত্ব দেবেন।
নতুন সভাপতি সোহাগ ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও নতুন সাধারণ সম্পাদক জাকির সহ সম্পাদক ছিলেন। দু’জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী ও হল শাখা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। সোহাগ ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের এবং জাকির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সোহাগের বাড়ি মাদারীপুর ও জাকিরের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়।
রোববার সারা দেশের কাউন্সিলাররা ভোটের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ কান্ডারি এ দু’জনকে নির্বাচিত করেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে দিনভর শীর্ষ দুই পদে এ ভোটগ্রহণ করা হয়।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর শেষ পর্যন্ত সভাপতি পদে ১০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৮ জন সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ছাত্রলীগের সারা দেশের ১১১টি ইউনিটের কাউন্সিলাররা শীর্ষ দুই পদে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেন। সব মিলিয়ে ভোটার ছিলেন তিন হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে দুই হাজার ৮১৯ জন দিনভর স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সকাল দশটায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরুর পর ভোটগ্রহণ শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দ্বিতীয় অধিবেশনের পুরোটা সময় ধরে ভোট গ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে বিদায়ী সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের বক্তব্যের পর সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় শুরু হয় ভোট গণনা।
গণনা শেষে রাত আটটা ৯ মিনিটে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুন্ড।
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পর সভাপতি পদে ৮০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছিলেন। বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন সভাপতি পদে ৬৪ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪২ জন। তবে তাদের বেশিরভাগই ভোট শুরুর আগেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ভোটগ্রহণ চলাকালেও অনেকে মৌখিক ঘোষণায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর সর্বশেষ হিসেবে সভাপতি পদে ১০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।
নির্বাচন পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুমন কুন্ড, নির্বাচন কমিশনার মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও শেখ রাসেল। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিদায়ী সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাবু, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, ইকবালুর রহিম, ইসহাক আলী খান পান্না, মাহফুজুল হায়দার রোটন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল দশটায় দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাচন কমিশনাররা। শুরুতেই সভাপতি পদে ৬৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৯ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪২ জনের মধ্যে ১০৯ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ভোটগ্রহণ চলাকালে আরও ৫ জন সভাপতি পদে এবং ১৫ জন সাধারণ সম্পাদক পদে মৌখিক ঘোষণায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

