৭শ বছরের ঐতিহ্য ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎস

002 সিলেটে ইসলামের বিজয় দিবসের কয়েক দিন আগে এক কাঠুরে াহজালাল (রহ.) এর কাছে একটি ফরিয়াদ নিয়ে আসেন। কাঠুরের ফরিয়াদ ছিল, ‘তার ঘরে বিবাহযোগ্য ৫ মেয়ে রয়েছে। কিন্তু তিনি মেয়েদের বিয়ে দিতে পারছেন না। তিনি কাঠুরে ও নিচু জাতের হওয়ায় কেউই তার মেয়েদের বিয়ে করতে চাইছে না।’

কাঠুরের ফরিয়াদ শুনে শাহজালাল (রহ.) বিজয় দিবসে দরগাহে আসার জন্য বলে দেন কাঠুরেকে। পরবর্তী সিলেট বিজয় দিবসে সঙ্গীয় আউলিয়া, ভক্ত ও আশেকানদের নিয়ে শাহজালাল (রহ.) লাক্কাতুড়া বাগানে গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করেন।

ফিরে এসে তিনি সকলের কাছে জানতে চান, তারা আজ কি কাজ করেছে। সবাই সমস্বরে জবাব দেন, তারা আজ কাঠুরিয়ার কাজ করেছেন। এরপর শাহজালাল (রহ.) সবাইকে ওই কাঠুরের কাহিনী বর্ণণা করলে অনেকেই কাঠুরের মেয়েদের বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পরে কাঠুরে তার মেয়েদের জন্য ওই জমায়েত থেকেই বর পছন্দ করেন। এ ঘটনার পর থেকে সাম্য ও শ্রেণী বৈষম্য বিরোধী দিবস হিসেবেও দিনটি পালন করেন শাহজালালের ভক্ত-আশেকানরা। এরপর থেকে দিনটিকে লাকড়ি তোড়া দিন পালন করা হয়।
আজ বুধবার ৭শ বছরের ধারাবাহিকতায় লাকড়ি তোড়া উৎসব পালিত হবে।
প্রতিবছর শাওয়াল মাসের ২৬ তারিখ শাহজালাল (রহ.) এর ভক্তরা এমনতর উৎসবের মাধ্যমেই লাক্কাতুড়া বাগান থেকে কাঠ সংগ্রহ করেন। স্থানীয়ভাবে এই উৎসব ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব বলেই পরিচিত। প্রায় ৭শ বছর ধরে এই উৎসব সিলেটে পালিত হয়ে আসছে। অনেকের কাছে এই দিনটি সিলেটে ইসলামের বিজয় দিন হিসেবেও খ্যাত।images

প্রতিবছরের মতো এবারও এই উৎসব পালিত হবে। আজ বুধবার, শাওয়াল মাসের ২৬ তারিখ এই উৎসবে ঢল নামবে হাজার হাজার মানুষের। শাহজালাল (রহ.) এর ওরসের তিন সপ্তাহ আগে এ উৎসব পালিত হয়ে থাকে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাহজালাল (রহ.) এর হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান এই উৎসবে যোগ দেন। প্রথা অনুযায়ী ভক্তরা লাক্কাতুড়া বাগানের নির্দিষ্ট টিলায় গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে আসরের পর ফিরে আসেন দরগাহে। তাদের সংগৃহিত কাঠ জ্বালানী হিসেবে হযরত শাহাজালাল (রহ.) এর ওরসের শিরণীতে ব্যবহৃত হয়। বছরের পর বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে।
শাহজালাল (রহ.) দরগাহের মোতাওয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান জানান, উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সংগৃহিত কাঠ ওরসের শিরণিতে কাজে লাগানো হবে।
সকাল থেকেই জনস্রোত ছুটে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার অভিমুখে। কারো পরনে থাকে লাল জামা, কারো বা মাথায় বাধা লালপট্টি। লাল ঝান্ডা থাকে একহাতে, অন্যহাতে লম্বা দা। খন্ড খন্ড জনস্রোত মিশে গিয়ে শাহজালাল (রহ.) এর দরগাহ শরীফে। একসময় সেই জনস্রোত পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জোহরের নামাজ শেষে দরগাহে বেজে ওঠে বিশেষ এক ধ্বনি (যাকে নাকাড়া বলা হয়)। ধ্বনি বেজে ওঠার সাথে সাথেই জনসমুদ্রে একযোগে ধ্বনিত হয় ‘শাহজালাল বা কি, জয়!’ ‘লালে লাল, বাবা শাহজালাল!’ ‘৩৬০ আউলিয়া কি, জয়!’। ধীরে ধীরে এই জনসমুদ্র শৃঙ্খলার সাথে হাঁটা ধরে সিলেট শহরতলির লাক্কাতুড়া চা বাগানের দিকে। বাগানের টিলা থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যেই তাদের সেই যাত্রা।

Developed by: