সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুর পর শোকের রেশ কাটতে না কাটতেই আসনটিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ওই আসনে অভিভাবকের দায়িত্ব নিতে প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও গোপনে অনেকেই চালিয়ে যাচ্ছেন লবিং। উপ-নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও নিয়েছেন হাফ ডজন নেতা। এমনকি এ নিয়ে পুরো মৌলভীবাজারে আলোচনা-সমালোচনা ঝড় ওঠেছে। শহরের চায়ের দোকান থেকে বাসা-বাড়ি পর্যন্ত একই আলোচনা- কে হবেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের পরবর্তী এমপি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাকে দিচ্ছেন মনোনয়ন?
জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুর পর মৌলভীবাজার-৩ আসন শূণ্য হয়ে যায়। নিয়ম অনুয়ায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার আওয়ামী পরিবারের শীর্ষ নেতারা শুরু করেছেন দৌঁড়ঝাপ।
উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়র প্রত্যাশীরা হলেন- মরহুম সৈয়দ মহসীন আলীর সহধর্মিনী সৈয়দা সায়রা মহসিন, বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক হুইপ আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার মিয়া, জেলা যুবলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ফজলু, পুলিশের সাবেক এআইজি সৈয়দ বজলুল করীম (বি করিম), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের বাদ দিয়ে মনোনয়ন পেতে পারেন সৈয়দ মহসিন আলীর স্ত্রী সায়রা মহসিন। সায়রা মহসিন রাজনীতির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না থাকলেও নেতাকর্মীদের সাথে রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্ক। স্বামী মহসিন আলীর সুবাদে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে রয়েছে তার সুসম্পর্ক।
সৈয়দ মহসিন আলী মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর তাকে দলীয় কাজে সহযোগিতা করেছেন স্নাতক ডিগ্রিধারী সায়রা। সায়রা মহসিনের জন্মও একটি রাজনৈতিক পরিবারে। তার দাদা কাপ্তান মিয়া ছিলেন ব্রিটিশ আমলের শিক্ষামন্ত্রী।
রাজনৈতিক পরিবার থেকে ওঠে আসা সায়রা মহসিনকেই এ আসনে প্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের বেশি পছন্দ বলে সিলেটভিউ২৪ডটকমকে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রব।
এদিকে দলীয় সূত্রে জানা যায়- আজিজুর রহমান, নেছার মিয়া, ফজলুর রহমান, সৈয়দ বজলুল করীম, কামাল হোসেন ও সুব্রত পুরকায়স্থের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান।
১৯৯৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও সম্মেলনের পর থেকে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন দলের নেতাকর্মীরা। শুরুতে সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ মহসিন আলীর নেতৃত্বে (সদ্য প্রয়াত) দু’ভাগে বিভক্ত ছিল জেলা আওয়ামী লীগ।
পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান আজিজুর রহমান। জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বভার পেয়ে ফের রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন তিনি। জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব থাকায় মনোনয়নের দৌঁড়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ছিটকে পড়ার আশঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সৈয়দ মহসিন আলীর সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক হুইপ উপাধক্ষ্য আব্দুস শহীদ এমপি।
এ সময় নেছার মিয়া, কামাল হোসেন, ফজলুর রহমান ফজলু প্রকাশ্যে সাবেক হুইপ উপাধক্ষ্য আব্দুস শহীদের পক্ষ নেন। এর মধ্যে উপাধ্যক্ষ শহীদের সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ফজলুর রহমান। ফজলুর রহমান জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন ছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
দলের নেতাকর্মীদের ধারণা উপাধ্যক্ষ শহীদ বলয় থেকে এ আসনে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে যুবলীগ সভাপতি ফজলুর রহমানেরই পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এছাড়াও মনোনয়র প্রত্যাশী বাকিরা দলীয় কর্মকান্ডে পিছিয়ে থাকায় তাদের মনোনয়ন পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ মহসিন আলী চারদলীয় জোট প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ মহসিন আলী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

